সূরাঃ ৭৫/ আল-ক্বিয়ামাহ | Al-Qiyama | ٱلْقِيَامَة আয়াতঃ ৪০ মাক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭৫ : ১ لَاۤ اُقۡسِمُ بِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ﴿۱﴾

আমি কসম করছি কিয়ামতের দিনের! আল-বায়ান

আমি কসম করছি ক্বিয়ামতের দিনের, তাইসিরুল

আমি শপথ করছি কিয়ামাত দিবসের। মুজিবুর রহমান

I swear by the Day of Resurrection Sahih International

১. আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের(১),

(১) কারও বিরোধী মনোভাব খন্ডন করার জন্যে শপথ করা হলে শপথের পূর্বে لا ব্যবহৃত হয়। আরবী বাক-পদ্ধতিতে এই ব্যবহার প্রসিদ্ধ ও সুবিদিত। এ শব্দ দ্বারা বক্তব্য শুরু করাই প্রমাণ করে যে, আগে থেকে কোন বিষয়ে আলোচনা চলছিল যার প্রতিবাদ করার জন্য এ সূরা নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ তোমরা যা বলছে তা ঠিক নয়। আমি কসম করে বলছি, প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এটি। অর্থাৎ কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী। [দেখুন: ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের। [1]

[1] لاَ أُقْسِمُ তে لاَ হরফটি অতিরিক্ত। আর এটা আরবী বাকপদ্ধতির বিশেষ রীতি। যেমন,{ مَا مَنَعَكَ أَلاَّ تَسْجُدَ} (সূরা আ’রাফ ১২ আয়াত) {لِئَلاَّ يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ} (সূরা হাদীদ ২৯ আয়াত) আরো অন্যান্য সূরাতেও এইরূপ ব্যবহার হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এই শপথের পূর্বে কাফেরদের কথার খন্ডন করা হয়েছে। তারা বলত যে, মরণের পর আর কোন জীবন নেই। لاَ এর দ্বারা বলা হল যে, তোমরা যেমন বলছ, ব্যাপারটা তেমন নয়। আমি কিয়ামতের দিনের কসম খেয়ে বলছি। আর কিয়ামতের দিনের কসম খাওয়ার উদ্দেশ্য তার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যকে স্পষ্ট করা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ২ وَ لَاۤ اُقۡسِمُ بِالنَّفۡسِ اللَّوَّامَۃِ ؕ﴿۲﴾

আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার! আল-বায়ান

আমি আরো কসম করছি সেই মনের যে (অন্যায় কাজ ক’রে বসলে) নিজেকে ধিক্কার দেয় (যে তোমাদেরকে অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে)। তাইসিরুল

আরও শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার। মুজিবুর রহমান

And I swear by the reproaching soul [to the certainty of resurrection]. Sahih International

২. আমি আরও শপথ করছি ভর্ৎসনাকারী আত্মার।(১)

(১) لوامة শব্দটি لوم থেকে উদ্ভুত। অর্থ তিরস্কার ও ধিক্কার দেয়া। ‘নাফসে লাওয়ামা’ বলে এমন নফস বোঝানো হয়েছে, যে নিজের কাজকর্মের হিসাব নিয়ে নিজেকে ধিক্কার দেয়। অর্থাৎ কৃত গোনাহ অথবা ওয়াজিব কর্মে ত্রুটির কারণে নিজেকে ভর্ৎসনা করে বলে যে, তুই এমন করলি কেন? সৎকর্ম সম্পর্কেও নিজেকে এই বলে তিরস্কার করে যে, আরও বেশী সৎকাজ সম্পাদন করে উচ্চমর্যাদা লাভ করলে না কেন? সারকথা, কামেল মুমিন ব্যক্তি সর্বদাই তার প্রত্যেক সৎ ও অসৎ কাজের জন্যে নিজেকে তিরস্কারই করে। গোনাহ অথবা ওয়াজিব কর্মে ত্রুটির কারণে তিরস্কার করার হেতু স্পষ্ট। সৎকাজে তিরস্কার করার কারণ এই যে, নফস ইচ্ছা করলে আরও বেশী সৎকাজ করতে পারত। সে বেশী সৎকাজ করল না কেন?

এই অর্থের ভিত্তিতেই হাসান বাসরী রাহেমাহুল্লাহ নফসে-লাওয়ামার তফসীর করেছেন নফসে মুমিনাহ। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহর কসম, মুমিন তো সর্বদা সর্বাবস্থায় নিজেকে ধিক্কারই দেয়। সৎকর্মসমুহেও সে আল্লাহর শানের মোকাবেলায় আপন কর্মে অভাব ও ত্রুটি অনুভব করে। [কুরতুবী] কেননা, আল্লাহর শানের হক পুরোপুরি আদায় করা সাধ্যাতীত ব্যাপার। ফলে তার দৃষ্টিতে ত্রুটি থাকে এবং তজ্জন্যে নিজেকে ধিক্কার দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ কাজ হলে মুমিনের কাছে এটা অত্যন্ত কঠোর হয়ে দেখা দেয় ফলে সে নিজেকে ধিক্কার দেয়। [বাগভী]

মূলতঃ নফস তিনটি গুণে গুণান্বিত হয়। নফসে আম্মারা, লাওয়ামা ও মুতমায়িন্নাহ। সাধারণত নাফসে আম্মারা বা খারাপ কাজে উদগ্ৰীবকারী আত্মা প্রতিটি মানুষেরই মজ্জগত ও স্বভাবগত। সে মানুষকে মন্দ কাজে লিপ্ত হতে জোরদার আদেশ করে। কিন্তু ঈমান, সৎকর্ম ও সাধনার বলে সে নফসে-লাওয়ামা হয়ে যায় এবং মন্দ কাজ ও ত্রুটির কারণে অনুতপ্ত হতে শুরু করে। এটাকেই অনেকে বিবেক বলে। কিন্তু মন্দ কাজ থেকে সে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয় না। অতঃপর সৎকর্মে উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্যলাভে চেষ্টা করতে করতে যখন শরীয়তের আদেশ-নিষেধ প্রতিপালন তার মজ্জাগত ব্যাপার হয়ে যায় এবং শরীয়তবিরোধী কাজের প্রতি স্বভাবগত ঘৃণা অনুভব করতে থাকে, তখন এই নফসই মুতমায়িন্নাহ বা সন্তুষ্টচিত্ত উপাধি প্ৰাপ্ত হয়।

এ ধরনের নাফস যাদের অর্জিত হয় তারা দ্বীনী ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ বা প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত হয়ে ‘কালবে সালীম’ বা সুস্থ হৃদয়ের অধিকারী হয়। আর এ সমস্ত লোকদের প্রশংসায় আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেছেন, “যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না; সে দিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে।” [সূরা আশ-শু'আরা: ৮৮–৮৯]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী আত্মার। [1]

[1] অর্থাৎ, ন্যায় ও ভালো কাজ করলেও তিরস্কার করে যে, তা বেশী করে কেন করেনি। আর অন্যায় ও মন্দ কাজ করলেও তিরস্কার করে যে, তা থেকে কেন বিরত থাকেনি? দুনিয়াতেও যাদের বিবেক সচেতন, তাদের আত্মাও তাদেরকে তিরস্কার করে। নচেৎ আখেরাতে তো সকলের আত্মাই তিরস্কার করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৩ اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَهٗ ؕ﴿۳﴾

মানুষ কি মনে করে যে, আমি কখনই তার অস্থিসমূহ একত্র করব না? আল-বায়ান

মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলোকে একত্রিত করতে পারব না। তাইসিরুল

মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারবনা? মুজিবুর রহমান

Does man think that We will not assemble his bones? Sahih International

৩. মানুষ কি মনে করে যে, আমরা কখনোই তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না? [1]

[1] এটা কসমের জওয়াব। এখানে ‘ইনসান’ বলতে কাফের ও নাস্তিককে বুঝানো হয়েছে, যারা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। মহান আল্লাহ অবশ্যই মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে একত্রিত করবেন। এখানে বিশেষ করে অস্থি বা হাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, অস্থিই হল (মানবদেহ) সৃষ্টির মৌলিক কাঠামো।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৪ بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَهٗ ﴿۴﴾

হ্যাঁ, আমি তার আংগুলের অগ্রভাগসমূহও পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম। আল-বায়ান

কেন নয়, আমি তার আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত সঠিকভাবে বানিয়ে দিতে সক্ষম তাইসিরুল

বস্তুতঃ আমি তার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনঃ বিন্যস্ত করতে সক্ষম। মুজিবুর রহমান

Yes. [We are] Able [even] to proportion his fingertips. Sahih International

৪. অবশ্যই হ্যাঁ, আমরা তার আঙ্গুলের আগা পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।(১)

(১) অর্থাৎ বড় বড় হাড়গুলো একত্রিত করে পুনরায় তোমার দেহের কাঠামো প্ৰস্তুত করা এমন কিছুই নয়। আমি তো তোমার দেহের সূক্ষ্মতম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি তোমার আঙ্গুলের জোড়গুলোও পুনরায় ঠিক তেমন করে বানাতে সক্ষম। যেমন তা এর আগে ছিল, তবে তোমাদের পুনরুত্থিত করতে অসক্ষম হওয়ার কোন কারণ নেই। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) অবশ্যই। আমি ওর আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম।[1]

[1] بَنَانٌ হাত-পায়ের (আঙ্গুলের) অগ্রভাগকে বলা হয়; যা জোড়, নখ, সূক্ষ্ম উপশিরা এবং পাতলা হাড় (চামড়ার উপর সূক্ষ্ম রেখা) ইত্যাদি সমন্বিত থাকে। এত সূক্ষ্ম জিনিসগুলোকে তো আমি ঠিক ঠিকভাবে জুড়ে দেব। তাহলে বড় বড় অংশগুলোকে জোড়া দেওয়া কি আমার জন্য কোন কঠিন কাজ হবে? (আঙ্গুলের অগ্রভাগে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রেখা আছে এবং তা এমন সূক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত আছে যে, একজনের আঙ্গুলের ছাপ অন্যজনের সাথে মিলে না। সুতরাং কী আজব কুদরত সেই মহান স্রষ্টার! -সম্পাদক)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৫ بَلۡ یُرِیۡدُ الۡاِنۡسَانُ لِیَفۡجُرَ اَمَامَهٗ ۚ﴿۵﴾

বরং মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে। আল-বায়ান

কিন্তু মানুষ তার আগামী দিনগুলোতেও পাপাচার করতে চায়। তাইসিরুল

তবুও মানুষ তার সম্মুখে যা আছে তা অস্বীকার করতে চায়; মুজিবুর রহমান

But man desires to continue in sin. Sahih International

৫. বরং মানুষ তার ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে চায়।(১)

(১) তারা যে কিয়ামত ও আখেরাতকে অস্বীকার করে তার মূল কারণ হলো, তারা চায় আজ পর্যন্ত তারা পৃথিবীতে যেরূপ লাগামহীন জীবন যাপন করে এসেছে ভবিষ্যতেও ঠিক তেমনি করতে পারে। আজ পর্যন্ত তারা যে ধরনের জুলুম-অত্যাচার, বেঈমানী, পাপাচার ও দুষ্কর্ম করে এসেছে। ভবিষ্যতেও তা করার অবাধ স্বাধীনতা যেন তাদের থাকে। এভাবে সে অসৎকাজ করতেই থাকে, সৎপথে ফিরে আসতে চায় না। [মুয়াস্‌সার, ফাতহুল কাদীর] কোন কোন মুফাসসির বলেন, আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, “বরং সে তার সম্মুখস্থ বস্তু অর্থাৎ কিয়ামতকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চায়।” কারণ, এর পরই বলা হয়েছে, “সে প্রশ্ন করে কখন কিয়ামত আসবে” এ তাফসীরটি ইবনে কাসীর প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) বরং মানুষ তার আগামীতেও পাপ করতে চায়; [1]

[1] অর্থাৎ, এই বিশ্বাসে পাপাচরণ এবং সত্যকে অস্বীকার করে যে, কিয়ামত আসবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৬ یَسۡـَٔلُ اَیَّانَ یَوۡمُ الۡقِیٰمَۃِ ؕ﴿۶﴾

সে প্রশ্ন করে, ‘কবে কিয়ামতের দিন’? আল-বায়ান

সে জিজ্ঞেস করে, ‘ক্বিয়ামত দিবস কবে?’ তাইসিরুল

সে প্রশ্ন করেঃ কখন কিয়ামাত দিবস আসবে? মুজিবুর রহমান

He asks, "When is the Day of Resurrection?" Sahih International

৬. সে প্রশ্ন করে, কখন কিয়ামতের দিন আসবে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) সে প্রশ্ন করে, কখন কিয়ামত দিবস আসবে? [1]

[1] তারা এ প্রশ্ন এই জন্য করে না যে, কৃতপাপ হতে তওবা করবে। বরং কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে তারা অসম্ভব মনে করে। আর এই কারণেই তারা অন্যায়-অনাচার থেকে ফিরে আসে না। পরের আয়াতে মহান আল্লাহ কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় বর্ণনা করছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৭ فَاِذَا بَرِقَ الۡبَصَرُ ۙ﴿۷﴾

যখন চক্ষু হতচকিত হবে। আল-বায়ান

যখন চোখ ধাঁধিয়ে যাবে, তাইসিরুল

যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। মুজিবুর রহমান

So when vision is dazzled Sahih International

৭. যখন চোখ স্থির হয়ে যাবে(১),

(১) برق এর আভিধানিক অর্থ হলো বিদ্যুতের ঝলকে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া। কিন্তু প্রচলিত আরবী বাকরীতিতে কথাটি শুধু এ একটি অর্থ জ্ঞাপকই নয় বরং ভীতি-বিহবলতা, বিস্ময় অথবা কোন দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় যদি কেউ হতবুদ্ধি হয়ে যায় এবং সে ভীতিকর দৃশ্যের প্রতি তার চক্ষু স্থির-নিবদ্ধ হয়ে যায় যা সে দেখতে পাচ্ছে তাহলে এ অবস্থা বুঝাতেও একথাটি বলা হয়ে থাকে। [দেখুন: ইবন কাসীর] একথাটিই কুরআন মাজীদের আরেক জায়গায় এভাবে বলা হগয়েছে, “আল্লাহ্‌ তো তাদের অবকাশ দিচ্ছেন সেদিন পর্যন্ত যেদিন চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে যাবে।”

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) সুতরাং যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে [1]

[1] ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে। بَرِقَ، تَحَيَّرَ وَانْدَهَشَ যা মৃত্যুর সময় সাধারণতঃ হয়ে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৮ وَ خَسَفَ الۡقَمَرُ ۙ﴿۸﴾

আর চাঁদ কিরণহীন হবে, আল-বায়ান

চাঁদ হয়ে যাবে আলোকহীন তাইসিরুল

এবং চক্ষু হয়ে পড়বে জ্যোতিহীন। মুজিবুর রহমান

And the moon darkens Sahih International

৮. এবং চাঁদ হয়ে পড়বে কিরণহীন(১),

(১) এখানে কেয়ামতের পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যখন চক্ষুতে ধাঁধা লেগে গেল— কেয়ামতের দিন সবার দৃষ্টিতে ধাঁধা লেগে যাবে। ফলে চক্ষু স্থির কোন বস্তু দেখতে পারবে না এবং চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে। [ইবন কাসীর] তাছাড়া আরেকটি অনুবাদ হচ্ছে, চন্দ্র গায়েব হয়ে যাবে, চন্দ্র বলতে কিছু আর থাকবে না। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) এবং চন্দ্র জ্যোতিবিহীন হয়ে পড়বে। [1]

[1] যখন চাঁদে গ্রহণ লাগে, তখনও সে (চাঁদ) জ্যোতিবিহীন হয়ে যায়। কিন্তু যে চাঁদ কিয়ামতের নিদর্শন স্বরূপ জ্যোতিবিহীন হবে তাতে পুনরায় আর জ্যোতি ফিরে আসবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ৯ وَ جُمِعَ الشَّمۡسُ وَ الۡقَمَرُ ۙ﴿۹﴾

আর চাঁদ ও সূর্যকে একত্র করা হবে। আল-বায়ান

সুরুজ আর চাঁদকে একত্রে জুড়ে দেয়া হবে, তাইসিরুল

যখন সূর্য ও চাঁদকে একত্র করা হবে। মুজিবুর রহমান

And the sun and the moon are joined, Sahih International

৯. আর যখন সূর্য ও চাঁদকে একত্র করা হবে(১)—

(১) চাঁদের আলোহীন হয়ে যাওয়া এবং চাঁদ ও সূর্যের পরস্পর একাকার হয়ে যাওয়ার অর্থ, মুজাহিদ বলেন, দু'টিকে একত্রে পেচানো হবে। [আত-তাফসীরুস সহীহ]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, জ্যোতিবিহীন হওয়াতে একরকম করা হবে। অর্থাৎ, চাঁদের মত সূর্যের জ্যোতিও শেষ হয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১০ یَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍ اَیۡنَ الۡمَفَرُّ ﴿ۚ۱۰﴾

সেদিন মানুষ বলবে, ‘পালাবার স্থান কোথায়’? আল-বায়ান

সেদিন মানুষ বলবে- ‘আজ পালানোর জায়গা কোথায়?’ তাইসিরুল

সেদিন মানুষ বলবেঃ আজ পালানোর স্থান কোথায়? মুজিবুর রহমান

Man will say on that Day, "Where is the [place of] escape?" Sahih International

১০. সে-দিন মানুষ বলবে, আজ পালাবার স্থান কোথায়?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) সেদিন মানুষ বলবে, আজ পালাবার স্থান কোথায়? [1]

[1] অর্থাৎ, যখন এ সব ঘটনাবলী ঘটবে, তখন মানুষ আল্লাহ অথবা জাহান্নামের আযাব থেকে পলায়নের পথ খুঁজবে, কিন্তু তখন পলায়নের পথ কোথায় পাবে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১১ كَلَّا لَا وَزَرَ ﴿ؕ۱۱﴾

না, কোন আশ্রয়স্থল নেই। আল-বায়ান

মোটেই না, আশ্রয়ের কোন জায়গা নেই। তাইসিরুল

না, কোন আশ্রয়স্থল নেই। মুজিবুর রহমান

No! There is no refuge. Sahih International

১১. কখনোই নয়, কোন আশ্রয়স্থল নেই।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) না, কোন আশ্রয়স্থল নেই। [1]

[1] وَزَرَ এমন পাহাড় বা দুর্গকে বলা হয়, যেখানে মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করে। তখন কিন্তু এ রকম কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১২ اِلٰی رَبِّكَ یَوۡمَئِذِۣ الۡمُسۡتَقَرُّ ﴿ؕ۱۲﴾

ঠাঁই শুধু সেদিন তোমার রবের নিকট। আল-বায়ান

সেদিন ঠাঁই হবে (একমাত্র) তোমার প্রতিপালকেরই নিকট। তাইসিরুল

সেদিন ঠাঁই হবে তোমার রবের নিকট। মুজিবুর রহমান

To your Lord, that Day, is the [place of] permanence. Sahih International

১২. সেদিন ঠাঁই হবে আপনার রবেরই কাছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) সেদিন ঠাঁই হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট। [1]

[1] যেখানে তিনি বান্দার মাঝে বিচার-ফায়সালা করবেন। এ সম্ভব হবে না যে, কেউ আল্লাহর এই আদালত থেকে নিজেকে গোপন করে নেবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৩ یُنَبَّؤُا الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍۭ بِمَا قَدَّمَ وَ اَخَّرَ ﴿ؕ۱۳﴾

সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে কী সে অগ্রে পাঠিয়েছিল এবং পশ্চাতে পাঠিয়েছিল। আল-বায়ান

সেদিন মানুষকে জানিয়ে দেয়া হবে সে কী (‘আমাল) আগে পাঠিয়েছে আর কী পেছনে ছেড়ে এসেছে। তাইসিরুল

সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কি অগ্রে পাঠিয়েছে এবং কি পশ্চাতে রেখে গেছে। মুজিবুর রহমান

Man will be informed that Day of what he sent ahead and kept back. Sahih International

১৩. সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে কী আগে পাঠিয়েছে ও কী পিছনে রেখে গেছে।(১)

(১) মূল বাক্যটি হলো (بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ) অর্থাৎ মানুষকে সেদিন অবহিত করা হবে যা সে অগ্রে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে। এটা একটা ব্যাপক অর্থব্যঞ্জক বাক্য। এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে এবং সম্ভবত সবগুলোই এখানে প্রযোজ্য। এর একটি অর্থ হলো, দুনিয়ার জীবনে মানুষ মৃত্যুর পূর্বে কি কি নেক কাজ বা বাদ কাজ করে আখেরাতের জন্য আগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছিল সেদিন তাকে তা জানিয়ে দেয়া হবে। আর দুনিয়াতে সে নিজের ভাল এবং মন্দ কাজের কি ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে এসেছিল যা তার দুনিয়া ছেড়ে চলে আসার পরও পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলেছিল সে হিসেবও তার সামনে পেশ করা হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, মানুষ মৃত্যুর পূর্বে যে সৎকাজ করে নেয়, তা সে অগ্ৰে প্রেরণ করে এবং যে সৎ অথবা অসৎ উপকারী অথবা অপকারী কাজ ও প্রথা এমন ছেড়ে যায়, যা তার মৃত্যুর পর মানুষ বাস্তবায়িত করে, তা সে পশ্চাতে রেখে আসে। (এর সওয়াব অথবা শাস্তি সে পেতে থাকবে।) [দেখুন: বাগাভী; কুরতুবী]

দ্বিতীয় অর্থ হলো, যেসব কাজ সে আগে করেছে এবং যেসব কাজ সে পরে করেছে দিন তারিখ সহ তার পুরো হিসেব তার সামনে পেশ করা হবে। কাতাদা রাহেমাহুল্লাহ বলেন, قَدَّمَ বলে এমন সৎকাজ বোঝানো হয়েছে, যা মানুষ জীবদ্দশায় করে নেয় এবং أَخَّرَ বলে এমন সৎকাজ বোঝানো হয়েছে, যা সে করতে পারত, কিন্তু করেনি এবং সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে যে, সে কী অগ্রে পাঠিয়েছে ও কী পশ্চাতে রেখে গেছে। [1]

[1] অর্থাৎ, তাকে তার সমস্ত আমল সম্পর্কে অবগত করানো হবে। সে আমলগুলো পুরাতন হোক বা নতুন, পূর্বে কৃত হোক বা পরে, ছোট হোক বা বড়।  وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا (কাহফঃ ৪৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৪ بَلِ الۡاِنۡسَانُ عَلٰی نَفۡسِهٖ بَصِیۡرَۃٌ ﴿ۙ۱۴﴾

বরং মানুষ তার নিজের উপর দৃষ্টিমান। আল-বায়ান

আসলে মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে চাক্ষুসভাবে অবগত। তাইসিরুল

বস্তুতঃ মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত। মুজিবুর রহমান

Rather, man, against himself, will be a witness, Sahih International

১৪. বরং মানুষ নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত (১),

(১) আয়াতে بَصِيرَةٌ শব্দটির অর্থ যদি ‘চক্ষুম্মান’ ধরা হয়, তখন আয়াতের অর্থ এই যে, যদিও ন্যায়বিচারের বিধি অনুযায়ী মানুষকে তার প্রত্যেকটি কর্ম সম্পর্কে হাশরের মাঠে অবহিত করা হবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর প্রয়োজন নেই। কেননা, মানুষ তার কর্ম সম্পর্কে খুব জ্ঞাত। সে কি করেছে, তা সে নিজেই জানে। তাই আখেরাতের আদালতে হাজির করার সময় প্রত্যেক কাফের, মুনাফিক, পাপী ও অপরাধী নিজেই বুঝতে পারবে যে, সে কি কাজ করে এসেছে এবং কোন অবস্থায় নিজ প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে; সে যতই অস্বীকার করুক বা ওযর পেশ করুক। [ইবন কাসীর] এছাড়া হাশরের মাঠে প্ৰত্যেকে তার সৎ কর্ম স্বচক্ষে দেখতেও পাবে। অন্য আয়াতে আছে, (وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا) অর্থাৎ “দুনিয়াতে মানুষ যা করেছে, হাশরের মাঠে তাকে উপস্থিত পাবে” [সূরা আল-কাহাফ: ৪৯] সুতরাং তারা তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করবে। এখানে মানুষকে নিজের সম্পর্কে চক্ষুন্মান বলার অর্থ তাই।

পক্ষান্তরে যদি بَصِيرَةٌ শব্দের অর্থ ‘প্রমাণ’ হয় তখন আয়াতের অর্থ হবে এই যে, মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে প্রমাণস্বরূপ হবে। সে অস্বীকার করলেও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বীকার করবে। [দেখুন, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) বস্তুতঃ মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত। [1]

[1] অর্থাৎ, তার হাত, পা, জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে। অথবা এর অর্থ হল, মানুষ নিজের দোষগুলো খোদ জানে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৫ وَّ لَوۡ اَلۡقٰی مَعَاذِیۡرَهٗ ﴿ؕ۱۵﴾

যদিও সে নানা অজুহাত পেশ করে থাকে। আল-বায়ান

যদিও সে নানান অজুহাত পেশ করে। তাইসিরুল

যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে। মুজিবুর রহমান

Even if he presents his excuses. Sahih International

১৫. যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে। [1]

[1] অর্থাৎ লড়াই করুক, ঝগড়া করুক, আর যত অপব্যাখ্যা করবে করুক; এ রকম করে তার না কোন লাভ হবে, আর না সে নিজ বিবেককে সন্তুষ্ট করতে পারবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৬ لَا تُحَرِّكۡ بِهٖ لِسَانَكَ لِتَعۡجَلَ بِهٖ ﴿ؕ۱۶﴾

কুরআন তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করার উদ্দেশ্যে তুমি তোমার জিহবাকে দ্রুত আন্দোলিত করো না। আল-বায়ান

(এ সূরাহ অবতীর্ণ হওয়ার সময় আল্লাহর রসূল তা মুখস্থ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে আল্লাহ অভয় দিয়ে বললেন) তুমি তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিভ নাড়াবে না। তাইসিরুল

তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত্ব করার জন্য তুমি তোমার জিহবা দ্রুততার সাথে সঞ্চালন করনা। মুজিবুর রহমান

Move not your tongue with it, [O Muhammad], to hasten with recitation of the Qur'an. Sahih International

১৬. তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করার জন্য আপনি তা নিয়ে আপনার জিহ্‌বাকে দ্রুত সঞ্চালন করবেন না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) তাড়াতাড়ি অহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা ওর সাথে সঞ্চালন করো না। [1]

[1] জিবরীল (আঃ) যখন অহী নিয়ে আসতেন, তখন নবী (সাঃ)ও তাঁর সাথে সাথে তাড়াতাড়ি করে পড়ে যেতেন। যাতে কোন শব্দ যেন ভুলে না যান। আল্লাহ তাঁকে ফিরিশতার সাথে এইভাবে পড়তে নিষেধ করলেন। (বুখারীঃ সূরা কিয়ামার তফসীর) এ বিষয় পূর্বেও আলোচিত হয়েছে।  وَلَا تَعْجَلْ بِِالقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ  (সূরা ত্বাহা ১১৪ আয়াত দ্রঃ) সুতরাং এই নির্দেশের পর রসূল (সাঃ) চুপ করে কেবল শুনতেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৭ اِنَّ عَلَیۡنَا جَمۡعَهٗ وَ قُرۡاٰنَهٗ ﴿ۚۖ۱۷﴾

নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমার দায়িত্বে। আল-বায়ান

এর সংরক্ষণ ও পড়ানোর দায়িত্ব আমারই। তাইসিরুল

ইহা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। মুজিবুর রহমান

Indeed, upon Us is its collection [in your heart] and [to make possible] its recitation. Sahih International

১৭. নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমাদেরই।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) নিশ্চয় এটার সংরক্ষণ ও পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমার বক্ষে তা সংরক্ষণ করে দেওয়া এবং জবানে তার পঠন কাজ চালু করে দেওয়া হল আমার দায়িত্ব। যাতে তার কোন অংশ তোমার স্মরণচ্যুত না হয় এবং কোন কিছু তোমার স্মৃতি থেকে মুছে না যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৮ فَاِذَا قَرَاۡنٰهُ فَاتَّبِعۡ قُرۡاٰنَهٗ ﴿ۚ۱۸﴾

অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি তখন তুমি তার পাঠের অনুসরণ কর। আল-বায়ান

কাজেই আমি যখন তা পাঠ করি, তখন তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর। তাইসিরুল

সুতরাং যখন আমি উহা পাঠ করাই তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর। মুজিবুর রহমান

So when We have recited it [through Gabriel], then follow its recitation. Sahih International

১৮. কাজেই যখন আমরা তা পাঠ করি আপনি সে পাঠের অনুসরণ করুন,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) সুতরাং যখন আমি ওটা (জিব্রাঈলের মাধ্যমে) পাঠ করি,[1] তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর।[2]

[1] অর্থাৎ, ফিরিশতা [জিবরীল (আঃ)] এর দ্বারা যখন আমি তোমার উপর এর পঠন কাজ সম্পূর্ণ করে নিই।

[2] অর্থাৎ, তার যাবতীয় বিধি-বিধান লোকদেরকে পাঠ করে শুনাও এবং তার অনুসরণও কর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ১৯ ثُمَّ اِنَّ عَلَیۡنَا بَیَانَهٗ ﴿ؕ۱۹﴾

তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব আমারই। আল-বায়ান

অতঃপর তা (ওয়াহীয়ে খফী বা প্রচ্ছন্ন ওয়াহীর মাধ্যমে) বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আমারই দায়িত্ব। তাইসিরুল

অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। মুজিবুর রহমান

Then upon Us is its clarification [to you]. Sahih International

১৯. তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে আমাদেরই।(১)

(১) এ আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একটি বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা ওহী নাযিল হওয়ার সময় অবতীর্ণ আয়াতগুলো সম্পর্কিত। নির্দেশ এই যে, যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম কুরআনের কিছু আয়াত নিয়ে আগমন করতেন, তখন তা পাঠ করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিবিধ চিন্তায় জড়িত হয়ে পড়তেন যেন কোথায়ও এর শ্রবণ ও তদনুযায়ী পাঠে কোন পার্থক্য না হয়ে যায় বা কোথাও এর কোন অংশ, কোন বাক্য স্মৃতি থেকে উধাও না হয়ে যায়। এই চিন্তার কারণে যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম কোন আয়াত শোনাতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে পাঠ করতেন এবং জিহবা নেড়ে দ্রুত আবৃত্তি করতেন, যাতে বার বার পড়ে তা মুখস্থ করে নেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই পরিশ্রম ও কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তা’আলা কুরআন পাঠ করানো, মুখস্থ করানো ও মুসলিমদের কাছে হুবহু পেশ করানোর দায়িত্ব নিজেই গ্রহণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলে দিয়েছেন যে, আপনি এই উদ্দেশ্যে জিহবাকে দ্রুত নাড়া দেয়ার কষ্ট করবেন না।

আয়াতসমুহকে আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করা এবং হুবহু আপনার দ্বারা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব। কাজেই আপনি এ চিন্তা পরিত্যাগ করুন। সুতরাং যখন আমি অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে জিবরীল আলাইহিস সালাম কুরআন পাঠ করে, তখন আপনি সাথে সাথে পাঠ করবেন না; বরং চুপ করে শুনবেন এবং আমার পাঠের পর পাঠ করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই করতেন। তিনি জিবরীল থেকে শুনতেন তারপর জিবরীল চলে গেলে তা অনুরূপ পড়তেন যেমন জিবরীল পড়েছেন। [দেখুন: বুখারী: ৫, মুসলিম, ৪৪৮] এখানে কুরআন অনুসরণ করান মানে চুপ করে জিবরীলের পাঠ শ্রবণ করা। অবশেষে বলা হয়েছে আপনি এ চিন্তাও করবেন না যে, অবতীর্ণ আয়াতসমূহের সঠিক মর্ম ও উদ্দেশ্য কি? এটা বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব। আমি কুরআনের প্রতিটি শব্দ ও তার উদ্দেশ্য আপনার কাছে ফুটিয়ে তুলব। [দেখুন: ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) অতঃপর নিশ্চয় এর বিবৃতির দায়িত্ব আমারই। [1]

[1] অর্থাৎ, তার জটিল ব্যাপারগুলোর ব্যাখ্যা এবং হালাল ও হারামের বিশদ বিবরণ দেওয়ার দায়িত্বও আমারই। এর পরিষ্কার অর্থ হল, কুরআনের সংক্ষিপ্ত আয়াতগুলোর যে ব্যাখ্যা, অস্পষ্ট আয়াতগুলোর যে বিশদ বিবরণ (ভাব-সম্প্রসারণ) এবং তার সাধারণ ও ব্যাপকার্থবোধক আয়াতগুলোকে নির্দিষ্টীকরণের কাজ নবী (সাঃ) যে করেছেন -- যাকে হাদীস বলা হয়, এটাও আল্লাহর পক্ষ হতে (অহী ও) ইলহামের মাধ্যমে তাঁরই বুঝানোর আলোকে হয়েছে। কাজেই এটাকেও কুরআনের মত মেনে নেওয়া জরুরী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৫ : ২০ كَلَّا بَلۡ تُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ ﴿ۙ۲۰﴾

কখনো না, বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাস। আল-বায়ান

(আবার পূর্বের প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে আল্লাহ বলছেন) না, প্রকৃতপক্ষে তোমরা ইহজীবনকেই ভালবাস, তাইসিরুল

না, তোমরা প্রকৃত পক্ষে পার্থিব জীবনকে ভালবাস। মুজিবুর রহমান

No! But you love the immediate Sahih International

২০. কখনো না, বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাস;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) না, তোমরা বরং ত্বরান্বিত (পার্থিব) জীবনকে ভালবাস।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন