বল, ‘আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শুনেছে। অতঃপর বলেছে, ‘আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, আল-বায়ান
বল, ‘‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি তাইসিরুল
বলঃ আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছে এবং বলেছে, আমরাতো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি – মুজিবুর রহমান
Say, [O Muhammad], "It has been revealed to me that a group of the jinn listened and said, 'Indeed, we have heard an amazing Qur'an. Sahih International
১. বলুন(১), ‘আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে যে, জিনদের(২) একটি দল মনোযোগের সাথে শুনেছে(৩) অতঃপর বলেছে, আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি(৪),
(১) হাদীসের বিভিন্ন গ্রন্থে এসেছে যে, এই ঘটনা তখনকার যখন শয়তানদেরকে আকাশে খবর শোনা থেকে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে প্ৰতিহত করা হয়েছিল। এ সময়ে জিন্নরা পরস্পরে পরামর্শ করল যে আকাশের খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাধাদানের এই ব্যাপারটি কোন আকস্মিক ঘটনা মনে হয় না। পৃথিবীতে অবশ্যই কোন নতুন ব্যাপার সংঘটিত হয়েছে। অতঃপর তারা স্থির করল যে, পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম ও আনাচে-কানাচে জিন্নদের প্রতিনিধিদল প্রেরণ করতে হবে। যথাযথ খোঁজাখুঁজি করে এই নতুন ব্যাপারটি কি তা জেনে আসবে। হেজাযে প্রেরিত তাদের প্রতিনিধিদল যখন 'নাখলাহ' নামক স্থানে উপস্থিত হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে সাথে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন।
জিন্নদের এই প্রতিনিধিদল সালাতে কুরআন পাঠ শুনে পরস্পরে শপথ করে বলতে লাগলঃ এই কালামই আমাদের ও আকাশের খবরাদির মধ্যে অন্তরায় হয়েছে। তারা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে স্বজাতির কাছে ঘটনা বিবৃত করল। আল্লাহ্ তা'আলা এসব আয়াতে সমস্ত ঘটনা সম্পর্কে তাঁর রাসূলকে অবহিত করেছেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বর্ণনা করেন এই ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিন্নদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন শোনাননি এবং তিনি তাদেরকে দর্শনও করেননি বরং তার কাছে জিন্নদের কথা ওহী করে শোনানো হয়েছিল মাত্ৰ।” [বুখারী: ৪৯২১, মুসলিম: ৪৪৯]
(২) জিন্ন আল্লাহ তা'আলার এক প্রকার শরীরী আত্মাধারী ও মানুষের ন্যায় জ্ঞান এবং চেতনাশীল সৃষ্টজীব। জিন এর শাব্দিক অর্থ গুপ্ত। তারা মানুষের দৃষ্টিগোচর নয়। এ কারণেই তাদেরকে জিন বলা হয়। জিন ও ফেরেশতাদের অস্তিত্ব কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। এটা অস্বীকার করা কুফর। মানব সৃষ্টির প্রধান উপকরন যেমন মৃত্তিকা তেমনি জিন সৃষ্টির প্রধান উপকরণ অগ্নি। এই জাতির মধ্যেও মানুষের ন্যায় নর ও নারী আছে এবং সন্তান প্রজননের ধারা বিদ্যমান আছে।
পবিত্র কুরআনে যাদেরকে শয়তান বলা হয়েছে, তারা জিন্নদের দুষ্ট শ্রেনীর নাম। অধিকাংশ আলেমের মতে, সমস্ত জিনই শয়তানের বংশধর। তাদের মধ্যে কাফের ও মুমিন দু’শ্রেণী বিদ্যমান। যারা ঈমানদার তাদেরকে জিন বলা হলেও তাদের মধ্যে যারা কাফির তাদেরকে শয়তান বলা হয়। তবে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, জিন্নরা ভিন্ন প্ৰজাতি, তারা শয়তানের বংশধর নয়। তারা মারা যায়। তাদের মধ্যে ঈমানদার ও কাফির দু শ্রেণী রয়েছে। পক্ষান্তরে ইবলীসের সন্তানদেরকে শয়তান বলা হয়, তারা ইবলীসের সাথেই মারা যাবে, তার আগে নয়। [দেখুন: কুরতুবী; ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার: আলামুল জিন্ন ওয়াশ শায়াতীন]
(৩) এ থেকে জানা যায় যে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে সময় জিন্নদের দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং তারা যে কুরআন শুনছে একথাও তার জানা ছিল না। পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তা'আলা তাকে অহীর মাধ্যমে এ ঘটনা জানিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনাটি বর্ণনা প্রসংগে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস স্পষ্টভাবে বলেছেন যে; সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিন্নদের উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করেননি এবং তিনি তাদের দেখেনওনি। [মুসলিম ৪৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান: ৬৫২৬, তিরমিযী: ৩৩২৩, মুসনাদে আহমাদ: ১/২৫২]
(৪) জিন্নদের উক্তির অর্থ হলো, আমরা এমন একটি বাণী শুনে এসেছি যা ভাষাগত উৎকর্ষতা, বিষয়বস্তু, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, বিধান ইত্যাদিতে বিস্ময়কর ও অতুলনীয়। [মুয়াস্সার]
তাফসীরে জাকারিয়া(১) বল, আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল[1] মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে বলেছে, ‘আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। [2]
[1] এই ঘটনা সূরা আহক্বাফের ২৯নং আয়াতের টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা হল নবী (সাঃ) ওয়াদীয়ে নাখলাহ নামক স্থানে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-দেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়াচ্ছিলেন। এই সময় কয়েকজন জ্বিন সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল। তারা নবী (সাঃ)-এর কুরআন পাঠ শুনে প্রভাবিত হয়। এখানে বলা হচ্ছে যে, সেই সময় জ্বিনদের কুরআন শোনার ব্যাপারটা নবী (সাঃ) জানতেন না। বরং অহীর মাধ্যমে তাঁকে এ খবর জানানো হয়।
[2] عَجَبًا ‘আ’জাবান’ হল মাসদার (ক্রিয়ামূল, বা ক্রিয়া-বিশেষ্য) মুবালাগা (অতিরিক্ত বুঝানোর) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অথবা সম্বন্ধপদের যাকে সম্বন্ধ করা হয় সে শব্দ ঊহ্য আছে; অর্থাৎ, ذَا عَجَبٍ । কিংবা মাসদার (ক্রিয়া বিশেষ্য) ব্যবহার হয়েছে ইসম ফায়েল (কর্তৃকারক)এর অর্থে مُعْجِبًا। অর্থ হল, আমরা এমন কুরআন শুনেছি যা ভাষার চমৎকারিত্ব ও সাহিত্য-শৈলীর দিক দিয়ে বড়ই বিস্ময়কর অথবা ওয়ায-নসীহতের দিক দিয়ে বিস্ময়কর কিংবা বর্কতের দিক দিয়ে অতি আশ্চর্যজনক। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানযা সত্যের দিকে হিদায়াত করে; অতঃপর আমরা তাতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না’। আল-বায়ান
যা সত্য-সঠিক পথ প্রদর্শন করে, যার কারণে আমরা তাতে ঈমান এনেছি, আমরা কক্ষনো কাউকে আমাদের প্রতিপালকের অংশীদার গণ্য করব না। তাইসিরুল
যা সঠিক পথ নির্দেশ করে; ফলে আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের রবের সাথে কোন শরীক স্থির করবনা। মুজিবুর রহমান
It guides to the right course, and we have believed in it. And we will never associate with our Lord anyone. Sahih International
২. যা সত্যের দিকে হেদায়াত করে; ফলে আমরা এতে ঈমান এনেছি। আর আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করব না,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২) যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে;[1] ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।[2] আর আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থাপন করব না। [3]
[1] এটা কুরআনের দ্বিতীয় গুণ। তা সঠিক পথ অর্থাৎ, সত্য ও সরল পথ স্পষ্ট করে। অথবা আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।
[2] অর্থাৎ, আমরা তা শুনে সত্য বলে মেনে নিয়েছি যে, বাস্তবিকই তা আল্লাহর কালাম। এটা কোন মানুষের কালাম নয়। এতে কাফেরদের প্রতি ধমক ও তিরস্কার রয়েছে যে, জ্বিনরা তো একবার শুনেই এই কুরআনের প্রতি ঈমান আনল। স্বল্প কিছু সংখ্যক আয়াত শুনেই তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটল এবং তারা বুঝে নিল যে, এটা কোন মানুষের রচিত কথা নয়। কিন্তু মানুষের, বিশেষ করে তাদের সর্দারদের এই কুরআন দ্বারা কোন লাভ হয়নি। অথচ তারা নবী (সাঃ)-এর মুখে একাধিকবার কুরআন শুনেছে। এ ছাড়া তিনি নিজেও তাদেরই একজন ছিলেন এবং তাদেরই ভাষাতে তিনি তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন।
[3] না তাঁর সৃষ্টির কাউকে, আর না অন্য কোন উপাস্যকে। কারণ, তিনি তাঁর প্রতিপালকত্বে একক।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন সংগিনী গ্রহণ করেননি এবং না কোন সন্তান’। আল-বায়ান
আর আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা অতি উচ্চ, তিনি গ্রহণ করেননি কোন স্ত্রী আর কোন সন্তান। তাইসিরুল
এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদের রবের মর্যাদা; তিনি গ্রহণ করেননি কোন পত্নী এবং না কোন সন্তান। মুজিবুর রহমান
And [it teaches] that exalted is the nobleness of our Lord; He has not taken a wife or a son Sahih International
৩. আর নিশ্চয়ই আমাদের রবের মর্যাদা সমুচ্চ(১); তিনি গ্ৰহণ করেননি কোন সঙ্গিনী এবং না কোন সন্তান।
(১) جدّ শব্দের অর্থ শান অবস্থা, মান-মর্যাদা। আল্লাহ তা'আলার জন্যে বলা হয় وتعالى جدّه অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার শান, মান-মর্যাদা, অনেক ঊর্ধ্বে। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৩) এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা; তিনি গ্রহণ করেননি কোন পত্নী এবং না কোন সন্তান। [1]
[1] جَدٌّ এর অর্থ হল, মর্যাদা, মাহাত্ম্য, ঐশ্বর্য। অর্থাৎ, আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যে, তাঁর সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রী থাকবে। অর্থাৎ, জ্বিনরা সেই মুশরিকদের কথাকে ভুল সাব্যস্ত করল, যারা আল্লাহর সাথে স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততির সম্পর্ক স্থাপন করত। জ্বিনরা এই উভয় দুর্বলতা থেকে প্রতিপালকের পবিত্রতার ঘোষণা করল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহর ব্যাপারে অবাস্তব কথা- বার্তা বলত’। আল-বায়ান
আর আমাদের মধ্যেকার নির্বোধেরা তাঁর সম্পর্কে সীমাতিরিক্ত কথাবার্তা বলত। তাইসিরুল
এবং আমাদের মধ্যকার নির্বোধরা আল্লাহ সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করত। মুজিবুর রহমান
And that our foolish one has been saying about Allah an excessive transgression. Sahih International
৪. এও যে, আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহ্ সম্বন্ধে খুবই অবান্তর উক্তি করত।(১)
(১) شطط শব্দের অর্থ অবান্তর কথা, অতি-অন্যায় ও যুলুম। উদ্দেশ্য এই যে মুমিন জিনরা এ পর্যন্ত কুফার ও শির্কে লিপ্ত থাকার অজুহাত বৰ্ণনা করে বলেছে, আমাদের সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা আল্লাহ্ তা'আলার শানে অবান্তর কথাবার্তা বলত। অথচ আমরা মনে করতাম না যে কোন মানব অথবা জিন আল্লাহ্ তা'আলা সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলতে পারে। তাই বোকাদের কথায় আমরা আজ পর্যন্ত কুফার ও শির্কে লিপ্ত ছিলাম। এখন কুরআন শুনে আমাদের চক্ষু খুলেছে। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪) এবং আমাদের মধ্যকার নির্বোধরা আল্লাহর সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করত। [1]
[1] سَفِيْهُنَا (আমাদের নির্বোধেরা) বলতে কেউ কেউ শয়তান অর্থ নিয়েছেন। আর কেউ কেউ তাদের সঙ্গী জ্বিনদেরকে বুঝিয়েছেন। আর কেউ বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য এমন সকল ব্যক্তি যার এই বাতিল বিশ্বাস আছে যে, আল্লাহর সন্তান আছে। شَطَطًا এর কয়েকটি অর্থ করা হয়েছে। যেমন, যুলুম, মিথ্যা, বাতিল এবং কুফরীতে অতিরঞ্জন করা প্রভৃতি। উদ্দেশ্য মধ্যমপন্থা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সীমালঙ্ঘন করা। অর্থ এই দাঁড়াল যে, ‘আল্লাহর সন্তান আছে’ এই কথা সেই নির্বোধ ও বেওকুফদের, যারা মধ্যপন্থা ও সরল-সঠিক পথ থেকে দূরে আছে এবং তারা সীমালংঘনকারী, মিথ্যুক ও অপবাদ আরোপকারীও বটে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘অথচ আমরা তো ধারণা করতাম যে, মানুষ ও জিন কখনো আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করবে না’। আল-বায়ান
আর আমরা ধারণা করতাম যে, মানুষ ও জ্বিন আল্লাহ সম্পর্কে কক্ষনো মিথ্যে কথা বলবে না। তাইসিরুল
অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ এবং জিন, আল্লাহ সম্বন্ধে কখনও মিথ্যা আরোপ করবেনা। মুজিবুর রহমান
And we had thought that mankind and the jinn would never speak about Allah a lie. Sahih International
৫. অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ এবং জিন আল্লাহ সম্পর্কে কখনো মিথ্যা বলবে না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৫) অথচ আমরা মনে করতাম যে, মানুষ এবং জ্বিন আল্লাহ সম্বন্ধে কখনো মিথ্যা আরোপ করবে না। [1]
[1] এই জন্যই আমরা তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করে এসেছি এবং আল্লাহর ব্যাপারে এই আকীদা পোষণ করেছি। অতঃপর যখন আমরা কুরআন শুনলাম, তখন আমাদের কাছে এই আকীদা ও বিশ্বাসের ভ্রান্ত হওয়ার কথা পরিষ্কার হয়ে গেল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর নিশ্চয় কতিপয় মানুষ কতিপয় জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছিল। আল-বায়ান
আরো এই যে, কতক মানুষ কতক জ্বিনের আশ্রয় নিত, এর দ্বারা তারা জ্বিনদের গর্ব অহঙ্কার বাড়িয়ে দিয়েছে। তাইসিরুল
আর যে কতিপয় মানুষ কতক জিনের স্মরণ নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। মুজিবুর রহমান
And there were men from mankind who sought refuge in men from the jinn, so they [only] increased them in burden. Sahih International
৬. এও যে, কিছু কিছু মানুষ কিছু জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।(১)
(১) জাহেলী যুগে আরবরা যখন কোন জনহীন প্ৰান্তরে রাত্রি যাপন করতো তখন উচ্চস্বরে বলতো, আমরা এ প্রান্তরের অধিপতি জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এভাবে ভয় পেলে মানুষরা জিনের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করত। ফলে জিনের আত্মম্ভরিতা বেড়ে যায়। আয়াতটির আরেকটি অর্থও হতে পারে, এভাবে আশ্রয়-গ্রহণের চেষ্টা করার পরও জিনরা মানুষদের উল্টো ভয় দেখাত। [সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬) আর কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত,[1] ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার[2] বাড়িয়ে দিত।
[1] জাহেলিয়াতের যুগে একটি প্রচলন এও ছিল যে, যখন তারা সফরে কোথাও যেত, তখন যে উপত্যকায় তারা অবস্থান করত, সেখানকার জ্বিনদের কাছে আশ্রয় কামনা করত; যেমন, অঞ্চলের বিশেষ ব্যক্তি এবং সরদারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। ইসলাম এ প্রচলন বাতিল ঘোষণা করে কেবলমাত্র এক আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার উপর তাকীদ করেছে।
[2] অর্থাৎ, যখন জ্বিনরা লক্ষ্য করল যে, মানুষ আমাদেরকে ভয় পায় এবং আমাদের কাছে আশ্রয় কামনা করে, তখন তাদের ঔদ্ধত্য ও অহংকার আরো বেড়ে গেল। এখানে رَهَقًا এর অর্থ হল ঔদ্ধত্য, অবাধ্যতা এবং অহংকার। এর আসল অর্থ হল, (ঢাকা) পাপ এবং হারাম কাজ সম্পাদন করা। (এর এক অর্থ ভয় করাও হয়। অর্থাৎ, মানুষরা জ্বিনদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে, জ্বিনরা মানুষদের ভয় বৃদ্ধি করত। দ্রঃ ফাতহুল ক্বাদীর -সম্পাদক)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর নিশ্চয় তারা ধারণা করেছিল যেমন তোমরা ধারণা করেছ যে, আল্লাহ কাউকে কখনই পুনরুত্থিত করবেন না। আল-বায়ান
আরো এই যে (জ্বিনেরা বলেছিল) তোমরা (জ্বিনেরা) যেমন ধারণা করতে তেমনি মানুষেরা ধারণা করত যে, (মৃত্যুর পর) আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবে না। তাইসিরুল
আর জিনরা বলেছিলঃ তোমাদের মত মানুষও মনে করে যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ কেহকেও পুনরুত্থিত করবেননা। মুজিবুর রহমান
And they had thought, as you thought, that Allah would never send anyone [as a messenger]. Sahih International
৭. এও যে, তারা ধারণা করেছিল যেমন তোমরা ধারণা কর(১) যে, আল্লাহ কাউকেও কখনো পুনরুত্থিত করবেন না।(২)
(১) আয়াতাংশের দু'টি অর্থ হতে পারে। এক. মানুষেরা ধারণা করেছিল, যেমন হে জিন্ন সম্প্রদায় তোমরা ধারণা করেছিলে’। [মুয়াস্সার] দুই. জিন্নরা ধারণা করেছিল, যেমন হে মানব সম্প্রদায় তোমরা ধারণা করেছিলে। [কুরতুবী] উভয় অর্থের মূল কথা হলো, মানুষ ও জিন্ন উভয় সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্টদের ধারণার বিপরীতে এ কুরআন এক স্বচ্ছ হিদায়াত নিয়ে এসেছে।
(২) এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হলো, “মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা কাউকে আর জীবিত করে উঠবেন না।” যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অপরটি হলো, ‘আল্লাহ কাউকে রাসূল বানিয়ে পাঠাবেন না।” [কুরতুবী] যেহেতু কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক তাই তার এ অৰ্থও গ্রহণ করা যেতে পারে যে, মানুষের মত জিনদের মধ্যে একদল আখেরাতকে অস্বীকার করতো। কিন্তু পরবর্তী বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যের দিক থেকে দ্বিতীয় অর্থটিই অধিক অগ্ৰাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
তাফসীরে জাকারিয়া(৭) আর তারা (মানুষরা)ও ধারণা করে; যেমন তোমরা ধারণা কর যে, আল্লাহ কখনই কাউকেও (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থিত করবেন না।[1]
[1] بَعْثٌ এর দু’টি অর্থ হতে পারে, আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না অথবা তিনি কাউকে নবীরূপে প্রেরিত করবেন না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমরা আকাশ স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম*, কিন্তু আমরা সেটাকে পেলাম যে, তা কঠোর প্রহরী এবং উল্কাপিন্ড দ্বারা পরিপূর্ণ’। আল-বায়ান
আর আমরা আকাশের খবর নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা সেটাকে পেলাম কঠোর প্রহরী বেষ্টিত ও জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডে পরিপূর্ণ। তাইসিরুল
এবং আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। মুজিবুর রহমান
And we have sought [to reach] the heaven but found it filled with powerful guards and burning flames. Sahih International
*আকাশের সংবাদ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছিলাম।
৮. এও যে, আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্ৰহ করতে কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ;
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮) এবং আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা তা পরিপূর্ণ। [1]
[1] حَرَسٌ হল حَارِس (প্রহরী)এর এবং شُهُبٌ হল شِهَابٌ (উল্কাপিন্ড)এর বহুবচন। অর্থাৎ, আসমানের উপর ফিরিশতারা পাহারা দিতে থাকেন। যাতে আসমানের কোন কথা অন্য কেউ শুনতে না পায়। আর এই তারাগুলো শয়তানের উপর উল্কাপিন্ড হয়ে উৎক্ষিপ্ত হয়।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর আমরা তো সংবাদ শোনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে বসতাম, কিন্তু এখন যে শুনতে চাইবে, সে তার জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড পাবে’। আল-বায়ান
আমরা (আগে) সংবাদ শুনার জন্য আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বসতাম, কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে তার উপর নিক্ষেপের জন্য সে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডকে লুকিয়ে থাকতে দেখে। তাইসিরুল
আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শোনার জন্য বসতাম। কিন্তু এখন কেহ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়। মুজিবুর রহমান
And we used to sit therein in positions for hearing, but whoever listens now will find a burning flame lying in wait for him. Sahih International
৯. এও যে, আমরা আগে আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শুনার জন্য বসতাম।(১) কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কাপিণ্ডের সম্মুখীন হয়।
(১) জিন্নরা আসমানের সংবাদ শোনার জন্যে উপরের দিকে যেত। হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্ তা'আলা যখন আকাশে কোন হুকুম জারি করেন তখন সব ফেরেশতা আনুগত্যসূচক পাখা নাড়া দেয়। এরপর তারা পরস্পর সে বিষয়ে আলোচনা করে। শয়তানরা এখান থেকে এগুলো চুরি করে অতীন্দ্ৰিয়বাদীদের কাছে পৌছিয়ে দেয় এবং তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে শত শত মিথ্যা বিষয় সংযোজন করে দেয়।” [বুখারী: ৪৭০১, ৪৮০০]
সারকথা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে আকাশের খবর চুরির ধারা বিনা বাধায় অব্যাহত ছিল। শয়তানরা নির্বিঘ্নে উপরে আরোহন করে ফেরেশতাগণের কাছে শুনে নিত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত লাভের সময় তার ওহীর হেফাযতের উদ্দেশ্যে চুরির সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হল এবং কোন শয়তান খবর চুরির জন্য উপরে গেলে তাকে লক্ষ্য করে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। চোর বিতাড়নের এই নতুন উদ্যোগ দেখেই শয়তান ও জিন্নরা চিন্তিত হয়ে পড়ে; কারণ অনুসন্ধানের জন্যে পৃথিবীর কোণে কোণে সন্ধানকারী দল প্রেরণ করেছিল, অতঃপর ‘নাখলাহ’ নামক স্থানে একদল জিন্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে কুরআন শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিল যা আলোচ্য সূরায় বর্ণিত হয়েছে। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৯) আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে (সংবাদ) শুনবার জন্য বসতাম,[1] কিন্তু এখন কেউ (সংবাদ) শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের সম্মুখীন হয়।[2]
[1] আসমানী কথার সামান্য কিছু শুনে জ্যোতিষীদের বলে দিতাম। তাতে তারা শত মিথ্যা মিশ্রিত করে প্রচার করত।
[2] তবে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রেরিত হওয়ার পর এ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন যে-ই এই (কথা শোনার) উদ্দেশ্যে উপরে আরোহণ করে, উল্কা তার অপেক্ষায় থাকে এবং ছুটে তার উপর আপতিত হয়।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমরা জানি না, যমীনে যারা রয়েছে তাদের জন্য অকল্যাণ চাওয়া হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের ব্যাপারে মঙ্গল চেয়েছেন’। আল-বায়ান
আমরা জানি না (এই পরিবর্তিত অবস্থার মাধ্যমে) পৃথিবীবাসীর অকল্যাণই চাওয়া হচ্ছে, না তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখাতে চান। তাইসিরুল
আমরা জানিনা, জগতবাসীর অমংগলই অভিপ্রেত, না কি তাদের রাব্ব তাদের মংগল করার ইচ্ছা রাখেন। মুজিবুর রহমান
And we do not know [therefore] whether evil is intended for those on earth or whether their Lord intends for them a right course. Sahih International
১০. এও যে, আমরা জানি না যমীনের অধিবাসীদের অমঙ্গলই অভিপ্রেত, না তাদের রব তাদের মঙ্গল চান।(১)
(১) বলা হয়েছে, “আমরা জানি না জগদ্বাসীর অমংগলই অভিপ্ৰেত, না তাদের রব তাদের মংগল চান”। এ আয়াতে একটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হলো, যখন অকল্যাণের কথা বলা হয়েছে তখন তার সম্পর্ক সরাসরি আল্লাহর দিকে করা হয় নি, পক্ষান্তরে যখন কল্যাণের কথা বলা হয়েছে তখন তার সম্পর্ক করা হয়েছে সরাসরি আল্লাহর সাথে। এর কারণ হচ্ছে, খারাপ ও অমঙ্গলের সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করা বেআদবী। অকল্যাণ আল্লাহর সৃষ্ট বিষয় হলেও তা মানুষের হাতের অর্জন। আর যত কল্যাণ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিছক অনুগ্রহ। হাদীসেও বলা হয়েছে, “আর যাবতীয় কল্যাণ সবই আপনার হাতে পক্ষান্তরে কোন অকল্যাণকেই আপনার দিকে সম্পর্কযুক্ত করা যায় না”। [মুসলিম: ৭৭১] [ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(১০) আমরা জানি না যে, জগদ্বাসীর অমঙ্গল অভিপ্রেত, না তাদের প্রতিপালক তাদের মঙ্গল চান। [1]
[1] অর্থাৎ, আসমানের এই পাহারার উদ্দেশ্য দুনিয়াবাসীদের জন্য কোন অমঙ্গলকে পূর্ণতা দান করা অর্থাৎ, তাদের উপর আযাব অবতীর্ণ করার ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের ব্যাপারে মঙ্গলের অর্থাৎ, রসূল প্রেরণের ইচ্ছা করা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমাদের কতিপয় সৎকর্মশীল এবং কতিপয় এর ব্যতিক্রম। আমরা ছিলাম বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত’। আল-বায়ান
আর আমাদের কিছু সংখ্যক সৎকর্মশীল, আর কতক এমন নয়, আমরা ছিলাম বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত। তাইসিরুল
এবং আমাদের কতক সৎ কর্মপরায়ণ এবং কতক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী; মুজিবুর রহমান
And among us are the righteous, and among us are [others] not so; we were [of] divided ways. Sahih International
১১. এও যে, আমাদের কিছু সংখ্যক সৎকর্মপরায়ণ এবং কিছু সংখ্যক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী(১);
(১) অর্থাৎ আমাদের মধ্যে নৈতিক চরিত্রের দিক থেকেও ভাল ও মন্দ দু' প্রকারের জিন আছে এবং আকীদা-বিশ্বাসের দিক থেকেও মত ও পথ একটি নয়। এ ক্ষেত্রেও আমরা বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত। [সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১১) এবং আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী। [1]
[1] قِدَدٌ অর্থ কোন বস্তুর খন্ড। صَارَ القَوْمُ قِدَدًا ঐ সময় বলা হয়, যখন তাদের অবস্থা এক অপর থেকে ভিন্ন (খন্ড-খন্ড) হয়। অর্থাৎ, আমরা বিভিন্ন দলে এবং বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত হয়ে আছি। অর্থাৎ, জ্বিনদের মধ্যেও মুসলিম, কাফের, ইয়াহুদী ও অগ্নিপূজক ইত্যাদি রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এদের মধ্যেও মুসলিমদের মত ক্বাদারিয়াহ, মুরজিয়াহ, এবং রাফেযাহ ইত্যাদি ফির্কা রয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর আমরা তো বুঝতে পেরেছি যে, আমরা কিছুতেই যমীনের মধ্যে আল্লাহকে অপারগ করতে পারব না এবং পালিয়েও কখনো তাকে অপারগ করতে পারব না’। আল-বায়ান
আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাস্ত করতে পারব না, আর পালিয়েও তাঁকে অপারগ করতে পারব না। তাইসিরুল
এখন আমরা বুঝেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবনা এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারবনা। মুজিবুর রহমান
And we have become certain that we will never cause failure to Allah upon earth, nor can we escape Him by flight. Sahih International
১২. এও যে, আমরা বুঝেছি, আমরা যমীনে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পালিয়েও তাকে ব্যর্থ করতে পারব না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১২) (এখন) আমরা বুঝেছি[1] যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারব না।
[1] ظَنَّ এর অর্থ এখানে জানা, বুঝা ও দৃঢ় বিশ্বাস করার অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। যেমন, আরো বহু স্থানে এসেছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমরা যখন হিদায়াতের বাণী শুনলাম, তখন তার প্রতি ঈমান আনলাম। আর যে তার রবের প্রতি ঈমান আনে, সে না কোন ক্ষতির আশংকা করবে এবং না কোন অন্যায়ের’। আল-বায়ান
আরো এই যে, আমরা যখন হিদায়াতের বাণী শুনতে পেলাম, তখন তার উপর ঈমান আনলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর ঈমান আনে তার কোন ক্ষতি বা যুলমের ভয় থাকবে না। তাইসিরুল
আমরা যখন পথ নির্দেশক বাণী শুনলাম তখন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে তার কোন ক্ষতি কিংবা জোর জবরদস্তির আশংকা থাকবেনা। মুজিবুর রহমান
And when we heard the guidance, we believed in it. And whoever believes in his Lord will not fear deprivation or burden. Sahih International
১৩. এও যে, আমরা যখন হিদায়াতের বাণী শুনলাম তাতে ঈমান আনলাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না।(১)
(১) بخس শব্দের অর্থ প্রাপ্য অপেক্ষা কম দেয়া এবং رهق শব্দের অর্থ যুলুম করা, অত্যাচার করা। উদ্দেশ্য এই যে মুমিনের প্রতিদান কম দেয়া হবে না এবং আখেরাতে তার উপর যুলুম করে কিছু বাড়িয়ে দেওয়াও হবে না। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৩) আমরা যখন পথ-নির্দেশক বাণী শুনলাম, তখন তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না। [1]
[1] অর্থাৎ, না এই আশঙ্কা আছে যে, তাদের সৎকর্মসমূহের প্রতিদানে কোন কমি করা হবে, আর না এই ভয় আছে যে, তাদের অসৎকর্মসমূহকে বর্ধিত করা হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর নিশ্চয় আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে আত্মসমর্পণকারী এবং আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সীমালংঘনকারী। কাজেই যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারাই সঠিক পথ বেছে নিয়েছে’। আল-বায়ান
আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক (আল্লাহর প্রতি) আত্মসমর্পণকারী আর কিছু সংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সঠিক পথ বেছে নিয়েছে। তাইসিরুল
আমাদের কতক আত্মসমপর্ণকারী এবং কতক সীমা লংঘনকারী; যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বেছে নেয়। মুজিবুর রহমান
And among us are Muslims [in submission to Allah], and among us are the unjust. And whoever has become Muslim - those have sought out the right course. Sahih International
১৪. এও যে, আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে মুসলিম আর কিছু সংখ্যক আছে সীমালঙ্ঘনকারী; অতঃপর যারা ইসলাম গ্ৰহণ করেছে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বেছে নিয়েছে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৪) আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) এবং কতক সীমালংঘনকারী;[1] সুতরাং যারা আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়), তারা নিঃসন্দেহে সত্য পথ বেছে নেয়।
[1] অর্থাৎ, যে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতের উপর ঈমান এনেছে সে মুসলিম এবং যে তা অস্বীকার করে সে সীমালংঘনকারী। قَاسِطٌ অর্থ, অত্যাচারী, অনাচারী, সীমালংঘনকারী ও অবিচারকারী। আর مُقْسِطٌ অর্থ, ন্যায়পরায়ণ। অর্থাৎ, قسط ধাতু থেকে গঠিত শব্দ যদি ‘সুলাসী মুজাররাদ’ (কেবল তিন অক্ষরবিশিষ্ট) বাব থেকে হয়, তাহলে অর্থ হবে, অবিচার করা। আর যদি ‘মাযীদ ফীহ’ (তিন অক্ষরের অধিক বর্ধিত ‘ইফআল’) বাব থেকে হয়, তবে অর্থ হবে, সুবিচার করা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আর যারা সীমালঙ্ঘনকারী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন’। আল-বায়ান
আর যারা অন্যায়কারী তারা জাহান্নামের ইন্ধন। তাইসিরুল
অপর পক্ষে সীমা লংঘনকারীতো জাহান্নামেরই ইন্ধন। মুজিবুর রহমান
But as for the unjust, they will be, for Hell, firewood.' Sahih International
১৫. আর যারা সীমালঙ্ঘনকারী তারা তো হয়েছে জাহান্নামের ইন্ধন৷
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৫) অপরপক্ষে সীমালংঘনকারীরা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।’[1]
[1] এ থেকে জানা গেল যে, মানুষের মত জ্বিনরাও জাহান্নাম এবং জান্নাত দু’টিতেই প্রবেশকারী হবে। এদের মধ্যে যে কাফের সে জাহান্নামে যাবে এবং মুসলিম জান্নাতে যাবে। (মাটির সৃষ্টি মানুষ যেমন মাটির আঘাতে কষ্ট পায়, তেমনি আগুনের সৃষ্টি জ্বিন জাহান্নামের আগুনে কষ্ট পাবে।) এখান থেকে জ্বিনদের কথা শেষ হল। এবার আল্লাহর কথা শুরু হচ্ছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তারা যদি সঠিক পথে অবিচল থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতাম। আল-বায়ান
আরো (আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে এই) যে, তারা যদি সত্য-সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে আমি তাদেরকে প্রচুর পানি পান করাতাম। তাইসিরুল
তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাদেরকে আমি প্রচুর বারি বর্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতাম – মুজিবুর রহমান
And [Allah revealed] that if they had remained straight on the way, We would have given them abundant provision Sahih International
১৬. আর তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত তবে অবশ্যই তাদেরকে আমরা প্রচুর বারি বর্ষণে সিক্ত করতাম,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৬) আর এই যে, তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে তাদেরকে আমি অবশ্যই প্রচুর পানি পান করাতাম।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানযাতে আমি তা দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি। আর যে তার রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাকে তিনি কঠিন আযাবে প্রবেশ করাবেন। আল-বায়ান
যেন আমি তা দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি (যে নি‘মাত পাওয়ার পর তারা শুকর-গুজার হয়, না না-ফরমান হয়)। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে কঠিন ‘আযাবে প্রবেশ করাবেন। তাইসিরুল
যদ্বারা আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। মুজিবুর রহমান
So We might test them therein. And whoever turns away from the remembrance of his Lord He will put into arduous punishment. Sahih International
১৭. যা দ্বারা আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি। আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৭) যার মাধ্যমে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। [1] আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ হতে বিমুখ হয়, তিনি তাকে কঠিন শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। [2]
[1]أَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا (আর এই যে---) আয়াতটির সংযোগ হল أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ (আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে---) আয়াতের সাথে। অর্থাৎ, আর এ কথাও আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে,---। الطَّرِيْقَةِ অর্থ, সত্য-সরল পথ। অর্থাৎ, ইসলাম। غَدَقٌ অর্থ, প্রচুর। প্রচুর পানি বলতে পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, পৃথিবীতে মাল-ধন এবং বহু উপায়-উপকরণ দিয়ে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ} অর্থাৎ, আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নিয়ামতসমূহের (দ্বার) উন্মুক্ত করে দিতাম।’’ (সূরা আ’রাফ ৯৬ আয়াত) আহলে কিতাবদের আলোচনায়ও এই কথাই বলা হয়েছে। (সূরা মায়িদাহ ৬৬ আয়াত) আবার কেউ কেউ বলেন, এই আয়াত সেই সময় অবতীর্ণ হয়, যখন কাফের কুরাইশদের উপর দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছিল। الطَّرِيْقَةِ এর দ্বিতীয় অর্থ করা হয়েছে, ভ্রান্ত পথ। এই অর্থের দিক দিয়ে পার্থিব বরকত বা প্রাচুর্যের কথা ‘ইস্তিদরাজ’ (ক্রমান্বয়ে কিছু দিয়ে আবার কেড়ে নেওয়ার) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ} অর্থাৎ, তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। (সূরা আনআম ৪৪ আয়াত) {أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ، نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ অর্থাৎ, তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দান করি তার দ্বারা তাদের জন্যে সর্বপ্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? (সূরা মু’মিনূন ৫৫-৫৬ আয়াত) ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট لِنَفْتِنَهُمْ (যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করি) এর দিকে লক্ষ্য করে এই দ্বিতীয় অর্থটাই বেশী সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে ঈমাম শাওকানীর নিকট প্রথম অর্থটাই অধিক সঠিক।
[2] صَعَدًا، أي: عَذَابًا شَاقًّا شَدِيْدًا مُوْجِعًا مُؤْلِمًا অর্থাৎ, অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক আযাব বা শাস্তি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না। আল-বায়ান
আরো এই যে, মাসজিদগুলো কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য আর কাউকে ডেকো না। তাইসিরুল
এবং এই যে মাসজিদসমূহ, আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কেহকেও ডেকনা। মুজিবুর রহমান
And [He revealed] that the masjids are for Allah, so do not invoke with Allah anyone. Sahih International
১৮. আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।(১)
(১) مساجد শব্দটি مسجد এর বহুবচন। মুফাসসিরগণ শব্দটি সাধারণভাবে ইবাদাতখানা বা উপাসনালয় অর্থে গ্রহণ করেছেন। তখন আয়াতের এক অর্থ এই যে, মসজিদসমূহ কেবল আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের জন্যে নির্মিত হয়েছে। অতএব, তোমরা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাহায্যের জন্যে ডেকো না। সেগুলোতে আল্লাহর ইবাদাতের সাথে সাথে আর কারো ইবাদত করো না। যেমন ইহুদী ও নাসারারা তাদের উপাসনালয়সমূহে এ ধরনের শির্ক করে থাকে। অনুরূপভাবে মসজিদসমূহকে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস ও মিথ্যা কর্মকাণ্ড থেকেও পবিত্র রাখতে হবে। হাসান বাসরী বলেন, সমস্ত পৃথিবীটাই ইবাদাতখানা বা উপাসনালয়। তাই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো আল্লাহর এ পৃথিবীতে কোথাও যেন শিরক করা না হয়। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমার জন্য সমগ্ৰ পৃথিবীকে ইবাদাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানিয়ে দেয়া হয়েছে।” [বুখারী: ৩৩৫, তিরমিযী: ৩১৭]
সাঈদ ইবনে জুবাইর এর মতে, মসজিদ বলতে যেসব অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে মানুষ সিজদা করে সেগুলো অর্থাৎ হাত, হাঁটু, পা ও কপাল বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতটির অর্থ হলো, সমস্ত অংগ-প্রত্যংগ আল্লাহর তৈরী। এগুলোর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা যাবে না। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৮) আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।[1]
[1] মসজিদের অর্থ সিজদা করার জায়গা। সিজদাও নামাযের একটি রুকন। এই জন্য নামায পড়ার স্থানকে মসজিদ বলা হয়। আয়াতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে, মসজিদগুলোর উদ্দেশ্য হল, কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা। তাই মসজিদগুলোতে অন্য কারো ইবাদত করা, অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা এবং অন্য কারো নিকট ফরিয়াদ করা ও সাহায্য চাওয়া জায়েয নয়। এই বিষয়গুলো তো এমনিতেই নিষেধ। কোথাও গায়রুল্লাহর ইবাদত করা জায়েয নয়। তবে মসজিদের কথা বিশেষ করে এই জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এগুলোর নির্মাণ করার উদ্দেশ্যই হল এক আল্লাহর ইবাদত করা। যদি এখানেও গায়রুল্লাহর আহবান আরম্ভ হয়ে যায়, তাহলে এটা অতি জঘন্য এবং অন্যায় আচরণ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বর্তমানে অনেক অজ্ঞ মুসলমান মসজিদগুলোতেও আল্লাহর সাথে অন্যকেও সাহায্যের জন্য আহবান করে। বরং মসজিদগুলোতে এমন এমন বাক্য লিপিবদ্ধ থাকে, যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নিকট ফরিয়াদ করা হয়। فَلْيَبْكِ عَلَى الإِسْلاَمِ مَنْ كَانَ بَاكِيًا
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর নিশ্চয় আল্লাহর বান্দা* যখন তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা** তার নিকট ভিড় জমাল। আল-বায়ান
আরো এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা [রসূলুল্লাহ (সা.)] যখন তাঁকে আহবান করার জন্য দাঁড়াল তখন তারা (অর্থাৎ কাফিররা) তার চারপাশে ভিড় জমাল। তাইসিরুল
আর এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দন্ডায়মান হল তখন তারা তার নিকট ভিড় জমালো। মুজিবুর রহমান
And that when the Servant of Allah stood up supplicating Him, they almost became about him a compacted mass." Sahih International
*রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
**কাফিরগণ।
১৯. আর নিশ্চয় যখন আল্লাহর বান্দা(১) তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা তার কাছে ভিড় জমাল।
(১) এখানে ‘আল্লাহর বান্দা' বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৯) আর এই যে, যখন আল্লাহর দাস তাঁকে ডাকবার জন্য দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় জমাল। [1]
[1] عَبْدُ اللهِ (আল্লাহর বান্দা বা দাস) বলতে রসূল (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। আর এর অর্থ হল, মানুষ ও জ্বিন মিলিত হয়ে আল্লাহর জ্যোতিকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়। এর আরো অর্থ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট এই অর্থই প্রাধান্য পেয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানবল, ‘নিশ্চয় আমি আমার রবকে ডাকি এবং তার সাথে কাউকে শরীক করি না’। আল-বায়ান
বল: আমি শুধু আমার প্রতিপালককেই ডাকি, আর অন্য কাউকে তাঁর অংশীদার গণ্য করি না। তাইসিরুল
বলঃ আমি আমার রাব্বকে ডাকি এবং তাঁর সাথে কেহকে শরীক করিনা। মুজিবুর রহমান
Say, [O Muhammad], "I only invoke my Lord and do not associate with Him anyone." Sahih International
২০. বলুন, আমি তো কেবল আমার রবকেই ডাকি এবং তার সঙ্গে কাউকেও শরীক করি না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২০) বল, ‘আমি কেবল আমার প্রতিপালককেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকেও শরীক করি না।’ [1]
[1] অর্থাৎ, যখন সকলেই তোমার সাথে শত্রুতা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং উঠে পড়ে লেগেছে, তখন তুমি তাদেরকে বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি, তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান