সূরাঃ ৪৬/ আল-আহকাফ | Al-Ahqaf | ٱلْأَحْقَاف আয়াতঃ ৩৫ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়ার শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
আহসানুল বায়ানের শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৪৬ : ১ حٰمٓ ۚ﴿۱﴾
حمٓ ﴿۱﴾

হা-মীম। আল-বায়ান

হা-মীম। তাইসিরুল

হা মীম। মুজিবুর রহমান

Ha, Meem. Sahih International

১. হা-মীম।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) হা- মীম।[1]

[1] সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন এই অক্ষরগুলো সেই অস্পষ্ট আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার জ্ঞান কেবল আল্লাহই রাখেন। কাজেই এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য জানার পশ্চাতে পড়ার কোন প্রয়োজন নেই। তথাপি কোন কোন মুফাসসির এগুলোর দু’টি উপকারিতার কথা বর্ণনা করেছেন; যা সূরা লুকমানের শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ২ تَنۡزِیۡلُ الۡكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَكِیۡمِ ﴿۲﴾
تنزیل الكتب من الله العزیز الحكیم ﴿۲﴾

এই কিতাব মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট থেকে নাযিলকৃত। আল-বায়ান

কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে। তাইসিরুল

এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। মুজিবুর রহমান

The revelation of the Book is from Allah, the Exalted in Might, the Wise. Sahih International

২. এ কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে নাযিলকৃত;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) এ কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৩ مَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَ اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا عَمَّاۤ اُنۡذِرُوۡا مُعۡرِضُوۡنَ ﴿۳﴾
ما خلقنا السموت و الارض و ما بینهما الا بالحق و اجل مسمی و الذین كفروا عما انذروا معرضون ﴿۳﴾

আমি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তা যথাযথভাবে ও একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। আর যারা কুফরী করে, তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে তা থেকে তারা বিমুখ। আল-বায়ান

আমি আকাশ, যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তা প্রকৃত উদ্দেশে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। কিন্তু কাফিরগণ, যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয় তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাইসিরুল

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সব কিছুই আমি যথাযথভাবে নির্দিষ্ট কালের জন্য সৃষ্টি করেছি; কিন্তু কাফিরদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মুজিবুর রহমান

We did not create the heavens and earth and what is between them except in truth and [for] a specified term. But those who disbelieve, from that of which they are warned, are turning away. Sahih International

৩. আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু'য়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুই আমরা যথাযথ ভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছি। আর যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে যে বিষয়ে ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং উভয়ের মধ্যস্থিত সব কিছুই আমি যথাযথভাবে নির্দিষ্টকালের জন্য সৃষ্টি করেছি; [1] কিন্তু অবিশ্বাসীরা তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [2]

[1] অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার পিছনে রয়েছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য। আর তা হল, মানুষকে পরীক্ষা করা। দ্বিতীয়তঃ তার একটি নির্দিষ্ট সময়ও রয়েছে। প্রতিশ্রুত সে সময় যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আকাশ ও পৃথিবীর বর্তমান এ সকল নিয়ম-শৃঙ্খলা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। তখন না এই আকাশ থাকবে, আর না এই পৃথিবী। (দেখুনঃ সূরা ইবরাহীম ৪৮ আয়াত) يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ  (ابراهيم: ৪৮)

[2] অর্থাৎ ঈমান না আনার কারণে যখন তাদেরকে পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের ব্যাপারে ভয় দেখানো হয়, তখন তারা তার কোন পরোয়াই করে না। না তারা তার উপর ঈমান আনে, আর না পারলৌকিক শাস্তি হতে বাঁচার কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৪ قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَهُمۡ شِرۡكٌ فِی السَّمٰوٰتِ ؕ اِیۡتُوۡنِیۡ بِكِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ هٰذَاۤ اَوۡ اَثٰرَۃٍ مِّنۡ عِلۡمٍ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۴﴾
قل ارءیتم ما تدعون من دون الله ارونی ماذا خلقوا من الارض ام لهم شرك فی السموت ایتونی بكتب من قبل هذا او اثرۃ من علم ان كنتم صدقین ﴿۴﴾

বল, ‘তোমরা আমাকে সংবাদ দাও তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক আমাকে দেখাও তো তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছে? অথবা আসমানসমূহে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। আল-বায়ান

বল- তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তাদের বিষয়ে চিন্তা করে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছে অথবা আকাশমন্ডলে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? এর আগের কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তাইসিরুল

বলঃ তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও অথবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোন অংশীদারীত্ব আছে কি? পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান থাকলে তা তোমরা আমার নিকট উপস্থিত কর - যদি তোমরা সত্যবাদী হও। মুজিবুর রহমান

Say, [O Muhammad], "Have you considered that which you invoke besides Allah? Show me what they have created of the earth; or did they have partnership in [creation of] the heavens? Bring me a scripture [revealed] before this or a [remaining] trace of knowledge, if you should be truthful." Sahih International

৪. বলুন, তোমরা আমাকে সংবাদ দাও, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক আমাকে দেখাও তো তারা যমীনে কী সৃষ্টি করেছে অথবা আসমানসমূহে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোন জ্ঞান থাকলে তা তোমরা আমার কাছে নিয়ে আস যদি তোমরা সত্যবাদী হও।(১)

(১) এ আয়াতে মুশরেকদের শির্ক এর দাবি বাতিল করার জন্য তাদের দাবীর সপক্ষে দলিল চাওয়া হয়েছে। কেননা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত কোন দাবি গ্ৰহণীয় হয় না। দলিলের যত প্রকার রয়েছে, সবগুলো আয়াতে উল্লেখ করে প্রমাণ করা হয়েছে যে, মুশরেকদের দাবির পক্ষে কোন দলিল নেই। তাই এহেন দলিলবিহীন দাবিতে অটল থাকা নিরেট পথভ্রষ্টতা। আয়াতে দলিলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম: যুক্তিভিত্তিক দলিল। এর খণ্ডন বলা হয়েছে (أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ) “এরা যমীনে কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও অথবা আসমানসমূহে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি?” দ্বিতীয় প্রকার ইতিহাসভিত্তিক দলিল। বলাবাহুল্য আল্লাহর ব্যাপারে কেবল সেই ইতিহাসভিত্তিক দলিল গ্রহণীয় হতে পারে; যা স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। যেমন তাওরাত, ইঞ্জীল; কুরআন ইত্যাদি কিতাব অথবা আল্লাহ মনোনীত নবী ও রাসূলগণের উক্তি। এই দুই প্রকারের মধ্যে প্রথম প্রকারের খণ্ডনে বলা হয়েছে (ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَٰذَا) অর্থাৎ তোমাদের মূর্তি পূজার কোন দলিল থাকলে কোন ইলাহী কিতাব পেশ কর, যাতে মূর্তি পূজার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এর পর দ্বিতীয় প্রকার ঐতিহাসিক দলীল পেশ করার আহবান জানিয়ে বলা হয়েছে, (أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ) অর্থাৎ কিতাব আনতে না পারলে কমপক্ষে রাসূলগণের পরম্পরাগত কোন উক্তি পেশ কর। তাও পেশ করতে না পারলে তোমাদের কথা ও কাজ পথ ভ্ৰষ্টতা বৈ কিছুই নয়। এর পরবর্তী আয়াতে তাদের শির্কের তৃতীয় প্রকার দলীল পেশ করে তা খণ্ডন করা হয়েছে। কারণ, তারা হয়ত বলতে পারে যে, তাদেরকে আমরা আল্লাহর শরীক এজন্যই সাব্যস্ত করি যে, তারা আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের কোন উপকার সাধন কিংবা অপকার থেকে আমাদের বাঁচাতে পারবে। তাদের সে দলিল পেশের সম্ভাবনাকে নাকচ করে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে আহবান করছে তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের আহবানে সাড়া দিতে পারবে না। সুতরাং তাদের শির্কের সপক্ষে কোন যুক্তি বা দলিলই অবশিষ্ট রইল না। [দেখুন: ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) বল, ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তাদের কথা ভেবে দেখছ কি? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও অথবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে কি?[1] এর পূর্ববর্তী কোন কিতাবে অথবা পরম্পরাগত জ্ঞান থাকলে তা তোমরা আমার নিকট উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’[2]

[1] أرَأَيْتُمْ এর অর্থ أَخْبِرُوْنِيْ অথবা أَرُوْنِيْ অর্থাৎ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব প্রতিমাগুলোর অথবা ব্যক্তিত্বের তোমরা উপাসনা কর, আমাকে বল বা দেখাও দেখি, আকাশ-পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারে তাদের কি কোন অংশ রয়েছে? অর্থাৎ আকাশ-পৃথিবী সৃষ্টির কাজে তাদের কোনই অংশ নেই, বরং পরিপূর্ণরূপে এই সমস্ত কিছুর স্রষ্টা হলেন একমাত্র মহান আল্লাহ। (ব্যাপার যখন এই) তখন তোমরা অসত্য এই উপাস্যগুলোকে আল্লাহর ইবাদতে শরীক কেন কর?

[2] অর্থাৎ কোন নবীর প্রতি অবতীর্ণ করা কিতাবে অথবা বর্ণিত কোন বর্ণনায় এ কথা লেখা থাকলে তা নিয়ে এসে দেখাও, যাতে তোমাদের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায়। কেউ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ এর অর্থ করেছেন, জ্ঞানভিত্তিক স্পষ্ট দলীল। এ ক্ষেত্রে কিতাব অর্থ হবে, বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণ, এবং أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ এর অর্থ হবে, জ্ঞানভিত্তিক দলীল। অর্থাৎ কোন যুক্তিসংগত অথবা বর্ণনাগত প্রমাণ পেশ কর। أثر ধাতু হতে গঠিত হওয়ার কারণে তার প্রথম অর্থ রেওয়ায়াত বা বর্ণনা করা হয়েছে অথবা بَقِيَّةٍ مِّنْ عِلْمٍ অর্থাৎ পূর্বের নবীদের শিক্ষার অবশিষ্ট অংশ যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাতে (তোমাদের) এ কথার উল্লেখ থাকলে (তা আমার কাছে নিয়ে এস)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৫ وَ مَنۡ اَضَلُّ مِمَّنۡ یَّدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَنۡ لَّا یَسۡتَجِیۡبُ لَهٗۤ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ وَ هُمۡ عَنۡ دُعَآئِهِمۡ غٰفِلُوۡنَ ﴿۵﴾
و من اضل ممن یدعوا من دون الله من لا یستجیب لهٗ الی یوم القیمۃ و هم عن دعآئهم غفلون ﴿۵﴾

তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের আহবান সম্পর্কে উদাসীন। আল-বায়ান

তার চেয়ে অধিক গুমরাহ কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না, আর তাদের ডাকাডাকি সম্পর্কেও তারা (একদম) বেখবর? তাইসিরুল

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামাতের দিন পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিবেনা? এবং ওগুলি তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধে অবহিত নয়। মুজিবুর রহমান

And who is more astray than he who invokes besides Allah those who will not respond to him until the Day of Resurrection, and they, of their invocation, are unaware. Sahih International

৫. আর সে ব্যক্তির চেয়ে বেশী বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না? এবং এগুলো তাদের আহবান সম্বন্ধেও গাফেল।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের ডাক সম্বন্ধে অবহিতও নয়। [1]

[1] অর্থাৎ, এরাই সব চেয়ে বড় ভ্রষ্ট, যারা পাথরের মূর্তিগুলোকে অথবা মৃত ব্যক্তিদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকে। তারা তো কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ডাকে সাড়া দিতে অক্ষম। আর কেবল অক্ষমই নয়; বরং একেবারে বেখবরও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৬ وَ اِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوۡا لَهُمۡ اَعۡدَآءً وَّ كَانُوۡا بِعِبَادَتِهِمۡ كٰفِرِیۡنَ ﴿۶﴾
و اذا حشر الناس كانوا لهم اعدآء و كانوا بعبادتهم كفرین ﴿۶﴾

আর যখন মানুষকে একত্র করা হবে, তখন এ উপাস্যগুলো তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে। আল-বায়ান

ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে যখন একত্রিত করা হবে, তখন ঐগুলো (অর্থাৎ উপাস্যরা) হবে মানুষের শত্রু আর মানুষ যে তাদের ‘ইবাদাত করেছিল তা তারা অস্বীকার করবে। তাইসিরুল

যখন কিয়ামাত দিবসে মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন ঐগুলো হবে তাদের শত্রু, ঐগুলো তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে। মুজিবুর রহমান

And when the people are gathered [that Day], they [who were invoked] will be enemies to them, and they will be deniers of their worship. Sahih International

৬. আর যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন সেগুলো হবে এদের শত্রু এবং এরা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করবে। [1]

[1] এই বিষয়টি কুরআনের একাধিক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। যেমন, সূরা ইউনুসের ২৯নং আয়াতে, সূরা মারয়্যামের ৮১-৮২নং আয়াতে এবং সূরা আনকাবুতের ২৫নং আয়াত সহ আরো অন্য আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়াতে দু’ প্রকারের উপাস্য বিদ্যমান রয়েছে। এক তো হল, নিষ্প্রাণ জড়পদার্থ, উদ্ভিদ এবং মহান আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শনাবলী (সূর্য, আগুন প্রভৃতি)। আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্যে প্রাণ এবং বাকশক্তি দান করবেন। ফলে এ জিনিসগুলো মুখের ভাষায় ব্যক্ত করবে যে, এ কথা আমরা আদৌ জানতাম না যে, এরা আমাদের পূজা করত এবং তোমার উপাস্যত্বে আমাদেরকে শরীক করত। কেউ কেউ বলেছেন, বাচনিক জবানে নয়, বরং অবস্থার জবানে তারা নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। দ্বিতীয় প্রকার উপাস্য হল, নবী, ফিরিশতা ও নেক লোক বা সৎব্যক্তিদের মধ্য থেকে। যেমন, ঈসা, উযাইর (আলাইহিমাস্ সালাম) এবং আল্লাহর অন্যান্য নেক বান্দাগণ। এঁরাও আল্লাহর সমীপে সেইরূপই উত্তর দেবেন, যেমন ঈসা (আঃ)-এর উত্তর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। এ ছাড়া শয়তানও অস্বীকার করবে। যেমন সকল শরীকদের উক্তি কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। ﴿ تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ﴾ (القصص:৬৩) ‘‘আমরা তোমার সম্মুখে (আমাদের পূজারীদের সাথে) সম্পর্ক ছিন্নতার কথা ঘোষণা করছি, এরা আমাদের পূজা করত না।’’ (সূরা কাসাসঃ ৬৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৭ وَ اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمۡ ۙ هٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ﴿۷﴾
و اذا تتلی علیهم ایتنا بینت قال الذین كفروا للحق لما جآءهم هذا سحر مبین ﴿۷﴾

যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়। তখন যারা কুফরী করে তাদের নিকট সত্য আসার পর বলে, ‘এটাতো প্রকাশ্য যাদু’। আল-বায়ান

তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করা হয় আর সত্য যখন তাদের কাছে উপস্থিত হয়, তখন কাফিররা বলে- এটাতো প্রকাশ্য যাদু। তাইসিরুল

যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করা হয় এবং তাদের নিকট সত্য উপস্থিত হয় তখন কাফিরেরা বলেঃ এটাতো সুস্পষ্ট যাদু। মুজিবুর রহমান

And when Our verses are recited to them as clear evidences, those who disbelieve say of the truth when it has come to them, "This is obvious magic." Sahih International

৭. আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয় তখন যারা কুফরী করেছে তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা বলে, এ তো সুস্পষ্ট জাদু।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন যারা সত্য উপস্থিত হওয়ার পর তা অস্বীকার করে, তারা বলে, ‘এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।’

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৮ اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىهُ ؕ قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُهٗ فَلَا تَمۡلِكُوۡنَ لِیۡ مِنَ اللّٰهِ شَیۡئًا ؕ هُوَ اَعۡلَمُ بِمَا تُفِیۡضُوۡنَ فِیۡهِ ؕ كَفٰی بِهٖ شَهِیۡدًۢا بَیۡنِیۡ وَ بَیۡنَكُمۡ ؕ وَ هُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ﴿۸﴾
ام یقولون افترىه قل ان افتریتهٗ فلا تملكون لی من الله شیئا هو اعلم بما تفیضون فیه كفی بهٖ شهیدا بینی و بینكم و هو الغفور الرحیم ﴿۸﴾

তবে কি তারা বলে যে, ‘সে এটা নিজে উদ্ভাবন করেছে’? বল, ‘যদি আমি এটা উদ্ভাবন করে থাকি, তবে তোমরা আমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে বাঁচাতে সামান্য কিছুরও মালিক নও। তোমরা যে বিষয়ে আলোচনায় মত্ত আছ, তিনি সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। আল-বায়ান

তারা কি বলতে চায় যে, রসূল নিজেই তা রচনা করেছে? বল, তা যদি আমি রচনা করে থাকি তাহলে তোমরা আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কিছুতেই বাঁচাতে পারবে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন যে বিষয়ে তোমরা মত্ত আছ। আমার আর তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট, আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু। তাইসিরুল

তারা কি তাহলে বলে যে, সে এটা উদ্ভাবন করেছে? বলঃ যদি আমি উদ্ভাবন করে থাকি তাহলে তোমরা আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কিছুতেই রক্ষা করতে পারবেনা। তোমরা যে বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত আছ সেই সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে তিনিই যথেষ্ট এবং তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। মুজিবুর রহমান

Or do they say, "He has invented it?" Say, "If I have invented it, you will not possess for me [the power of protection] from Allah at all. He is most knowing of that in which you are involved. Sufficient is He as Witness between me and you, and He is the Forgiving the Merciful." Sahih International

৮. নাকি তারা বলে যে, সে এটা উদ্ভাবন করেছে। বলুন, যদি আমি এটা উদ্ভাবন করে থাকি, তবে তোমরা আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে কিছুরই মালিক নও। তোমরা যে বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত আছ, সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট এবং তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) তবে কি তারা বলে যে, ‘সে (মুহাম্মাদ) এটা (কুরআন) উদ্ভাবন করেছে?’ [1] তুমি বল, ‘যদি আমি এটা উদ্ভাবন করে থাকি, তাহলে তোমরা তো আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না।[2] তোমরা যে বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত আছ, সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত। [3] আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে তিনিই যথেষ্ট[4] এবং তিনিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [5]

[1] এখানে তাদের কাছে আগত ‘হক’ বা ‘সত্য’ হল কুরআন। তারা তার অলৌকিকতা ও আকর্ষণ শক্তি দেখে তাকে ‘যাদু’ বলে আখ্যায়িত করত। আবার এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অথবা যখন এ কথায় কোন ফল বুঝত না বা কোন কাজ হত না, তখন তারা বলত, এটা তো মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নিজের উদ্ভাবন করা (স্বরচিত) বাণী।

[2] অর্থাৎ, তোমাদের এ কথা যদি সঠিক হয় যে, আমি আল্লাহ-প্রেরিত রসূল নই এবং এ বাণী আমারই রচনা করা, তাহলে তো নিশ্চয় আমি এক বড় অপরাধী। এত বড় মিথ্যা অপরাধে মহান আল্লাহ আমাকে পাকড়াও না করে কিছুতেই ছেড়ে দেবেন না। আর এ ধরনের কোন ধর-পাকড় যদি হয়, তাহলে জেনে নিও যে, আমি মিথ্যুক এবং তোমরা আমার কোন সাহায্যও করো না। বরং এমতাবস্থায় আল্লাহর শাস্তি হতে আমাকে রক্ষা করার তোমাদের কোন এখতিয়ারই থাকবে না। এই বিষয়টিকে অন্যত্র এইভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ﴿وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ﴾ (الحاقة:৪৪-৪৭) অর্থাৎ, সে যদি আমার নামে কিছু রচনা করে চালাতে চেষ্টা করত। তবে অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তাকে রক্ষা করতে পারত। (সূরা হাক্কাহ ৪৪-৪৭)

[3] অর্থাৎ, যত রকম ভাবেই তোমরা এ কুরআনকে মিথ্যাজ্ঞান করছ; কখনো যাদু বলে, কখনো জ্যোতিষীর বাণী বলে, আবার কখনো মস্তিস্ক-প্রসূত (স্বকপোলকল্পিত) বলে, আল্লাহ এসব খুব ভালোভাবেই জানেন। অর্থাৎ, তিনিই তোমাদেরকে তোমাদের এসব জঘন্য কার্যকলাপের বদলা দেবেন।

[4] এই কুরআন যে তাঁরই পক্ষ হতে অবতীর্ণ এ কথার উপর সাক্ষীর জন্য তিনি নিজেই যথেষ্ট এবং তোমাদের মিথ্যাজ্ঞান ও বিরোধিতা করার উপর সাক্ষীও তিনিই। এ কথায় তাদের জন্য কঠিন হুমকি ও ধমক রয়েছে।

[5] তার জন্য, যে তাওবা করে ঈমান আনবে এবং কুরআনকে আল্লাহর সত্য বাণী বলে বিশ্বাস করে নিবে। অর্থাৎ, সময় এখনও আছে। কাজেই তাওবা করে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার অধিকারী হয়ে যাও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ৯ قُلۡ مَا كُنۡتُ بِدۡعًا مِّنَ الرُّسُلِ وَ مَاۤ اَدۡرِیۡ مَا یُفۡعَلُ بِیۡ وَ لَا بِكُمۡ ؕ اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ وَ مَاۤ اَنَا اِلَّا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۹﴾
قل ما كنت بدعا من الرسل و ما ادری ما یفعل بی و لا بكم ان اتبع الا ما یوحی الی و ما انا الا نذیر مبین ﴿۹﴾

বল, ‘আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন নই। আর আমি জানি না আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হবে। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আর আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’। আল-বায়ান

বল, আমি রসূলদের মধ্যে নতুন নই, আর আমি এও জানি না যে, আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে আর তোমাদের সঙ্গেইবা কেমন (ব্যবহার করা হবে), আমি কেবল তাই মেনে চলি যা আমার প্রতি ওয়াহী করা হয়। আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। তাইসিরুল

বলঃ আমি এমন কোন প্রথম ও নতুন নাবী নই। আমি জানিনা, আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কি করা হবে; আমি আমার প্রতি যা অহী করা হয় শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। মুজিবুর রহমান

Say, "I am not something original among the messengers, nor do I know what will be done with me or with you. I only follow that which is revealed to me, and I am not but a clear warner." Sahih International

৯. বলুন, রাসূলদের মধ্যে আমিই প্রথম নই। আর আমি জানি না, আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হবে; আমি আমার প্রতি যা ওহী করা হয় শুধু তারই অনুসরণ করি। আর আমি তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্ৰ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) বল, ‘আমি তো কোন নতুন রসূল নই।[1] আর আমি জানি না যে, আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হবে;[2] আমি আমার প্রতি যা অহী (প্রত্যাদেশ) করা হয় শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি এক স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’

[1] অর্থাৎ, আমি তো কোন প্রথম ও নতুন রসূল নই। বরং আমার পূর্বেও অনেক রসূল এসেছেন।

[2] অর্থাৎ, দুনিয়াতে কী করা হবে, তা আমার অজানা। আমি মক্কাতেই থাকব, না এখান থেকে বহিষ্কার হতে আমাকে বাধ্য হতে হবে, আমার সাধারণ ও স্বাভাবিক মরণ হবে, না তোমাদের হাতে আমাকে হত্যা হতে হবে? তোমরা শীঘ্রই শাস্তির সম্মুখীন হবে, নাকি দীর্ঘকাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেওয়া হবে? এ সবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর নিকটেই আছে। আমার এটা জানা নেই যে, আগামী কাল আমার অথবা তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে? তবে পরকাল সম্পর্কে আমি নিশ্চিত রূপে বিদিত যে, মু’মিনরা জান্নাতে এবং কাফেররা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর হাদীসে যে বর্ণিত হয়েছে, কোন সাহাবীর মৃত্যুর সময় তাঁর ব্যাপারে সুধারণা প্রকাশ করা হলে নবী (সাঃ) বলতেন, (وَاللهِ مَا أَدْرِيْ- وأَنَا رَسُوْلُ اللهِ- مَا يُفْعَلُ بِيْ وَلاَ بِكُمْ) ‘‘আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রসূল হওয়া সত্ত্বেও এ কথা জানি না যে, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে?’’ (সহীহ বুখারী, মানাক্বিবুল আনসার) তো এখানে কোন এক নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুনিশ্চিত পরিণাম সম্বন্ধে অজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। হ্যাঁ! যাঁদের (জান্নাতী হওয়ার) কথা সুস্পষ্ট দলীল দ্বারা সুসাব্যস্ত, তাঁদের ব্যাপার ভিন্ন। যেমন, সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রমুখ সাহাবীগণ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১০ قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ كَانَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰهِ وَ كَفَرۡتُمۡ بِهٖ وَ شَهِدَ شَاهِدٌ مِّنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَلٰی مِثۡلِهٖ فَاٰمَنَ وَ اسۡتَكۡبَرۡتُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۱۰﴾
قل ارءیتم ان كان من عند الله و كفرتم بهٖ و شهد شاهد من بنی اسرآءیل علی مثلهٖ فامن و استكبرتم ان الله لا یهدی القوم الظلمین ﴿۱۰﴾

বল, তোমরা আমাকে জানাও, যদি এ কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে এসে থাকে, আর তোমরা এটাকে অস্বীকার করলে, অথচ বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এ ব্যাপারে অনুরূপ সাক্ষ্য দিল। অতঃপর সে ঈমান আনল আর তোমরা অহঙ্কার করলে। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হেদায়াত করেন না। আল-বায়ান

বল- তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এ (কুরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তা তোমরা প্রত্যাখ্যান কর অথচ এ ধরনের কালাম সম্পর্কে বানী ইসরাঈলের একজন [‘আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাযি.)] সাক্ষ্যও দিয়েছে। সে ঈমান আনল আর তোমরা অহঙ্কার করলে? আল্লাহ যালিম লোকদেরকে সঠিক পথ দেখান না। তাইসিরুল

বলঃ তোমরা ভেবে দেখেছ কি যে, এই কুরআন আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ হয়ে থাকে, আর তোমরা এতে অবিশ্বাস কর, উপরন্ত বানী ইসরাঈলের একজন এর অনুরূপ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করল অথচ তোমরা কর ঔদ্ধত্য প্রকাশ, তাহলে তোমাদের পরিণাম কি হবে? আল্লাহ যালিমদেরকে সৎ পথে চালিত করেননা। মুজিবুর রহমান

Say, "Have you considered: if the Qur'an was from Allah, and you disbelieved in it while a witness from the Children of Israel has testified to something similar and believed while you were arrogant...?" Indeed, Allah does not guide the wrongdoing people. Sahih International

১০. বলুন, তোমরা আমাকে জানাও, যদি এ কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল হয়ে থাকে এবং তোমরা তার সাথে কুফরী কর, আর বনী ইসরাঈলের একজন অনুরূপ কিতাবের আয়াতের উপর সাক্ষ্য দিয়ে তাতে ঈমান আনল; আর তোমরা ঔদ্ধত্য প্ৰকাশ করলে, (তাহলে তোমাদের পরিণাম কি হবে?) নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।(১)

(১) এ আয়াত এবং সূরা আশ-শু'আরার ১৯৬ ও ১৯৭ নং আয়াতের অর্থ একই রকম। সারমর্ম এই যে, যেসব ইহুদী ও নাসারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রেসালাত ও কুরআন অমান্য করে, তারা স্বয়ং তাদের কিতাব সম্পর্কেও অজ্ঞ। ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুওয়াত ও নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। সে আলেমগণের সাক্ষ্য কি এই মূর্খদের জন্যে যথেষ্ট নয়? এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, তোমরা আমার নবুওয়াত দাবিকে ভ্রান্ত এবং কুরআনকে আমার রচনা বল। এর এক জওয়াব পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেউ বাস্তবে নবী না হয়ে নিজেকে নবী বলে মিথ্যা দাবি করলে তার দুনিয়াতে নিপাত হয়ে যাওয়া জরুরি, যাতে জনসাধারণ প্রতারিত না হয়।

এ জওয়াবই যথেষ্ট, কিন্তু তোমরা যদি না মান তবে এ সম্ভাবনার প্রতিও লক্ষ্য কর যে, আমার দাবি যদি সত্য হয় এবং কুরআন আল্লাহর কিতাব হয়। আর তোমরা একে অমান্য করেই যাও, তবে তোমাদের পরিণতি কি হবে, বিশেষত যখন তোমাদের বনী ইসরাঈলেরই কোন মান্যবার ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, এটা আল্লাহর কিতাব, অতঃপর সে নিজেও মুসলিম হয়ে যায়? এ জ্ঞান লাভের পরও যদি তোমরা জেদ ও অহংকারে অটল থাক, তবে তোমরা গুরুতর শাস্তির যোগ্য হয়ে যাবে। আয়াতে বনী ইসরাঈলের কোন বিশেষ আলেমের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং এটাও নির্দিষ্ট করা হয়নি যে, এ সাক্ষ্য আয়াত অবতরণের পূর্বেই জনসমক্ষে এসে গেছে, না ভবিষ্যতে আসবে। তাই বনী ইসরাঈলের কোন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করার ওপর আয়াতের অর্থ নির্ভরশীল নয়।

আল্লাহর বাণীর প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, কুরআন তোমাদের সামনে যে শিক্ষা পেশ করছে তা কোন অভিনব জিনিস নয়। পৃথিবীতে প্রথমবারের মত শুধুমাত্র তোমাদের সামনেই তা পেশ করা হয়নি যে, তোমরা ওজর পেশ করে বলবেঃ এ ধরনের কথা তো ইতোপূর্বে মানব জাতির কাছে আর আসেনি। তাই আমরা কি করে তা মানতে পারি। ইতোপূর্বেও এসব শিক্ষা এভাবেই অহীর মাধ্যমে বনী ইসরাঈলদের কাছে তাওরাত ও অন্যান্য আসমানী কিতাব রূপে এসেছিলো। বনী ইসরাঈলদের একজন সাধারণ মানুষও তা মেনে নিয়েছিলো এবং একথা স্বীকার করে নিয়োছিলো যে অহীই হচ্ছে এসব শিক্ষা নাযিল হওয়ার মাধ্যম। তাই অহী এবং এই শিক্ষা দুর্বোধ্য জিনিস তোমরা সে দাবী করতে পার না।

আসল কথা হলো, তোমাদের গর্ব, অহংকার এবং ভিত্তিহীন আত্মম্ভরিতা ঈমানের পথে অন্তরায়। খ্যাতনামা ইহুদী আলেম আবদুল্লাহ ইবন সালামসহ যত ইহুদী ও নাসারা ইসলাম গ্ৰহণ করেছেন, তারা সবাই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, এ আয়াত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, দাহহাক প্রমুখ তাফসীরবিদগণ তাই বলেছেন। যদিও আবদুল্লাহ ইবনে সালাম এই আয়াত নাযিল হওয়ার পরে মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপরও এ আয়াতটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার পরিপন্থি নয়। এমতাবস্থায় আয়াতটি ভবিষ্যদ্বনি হিসেবে গণ্য হবে। [দেখুন: তাবারী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যে, যদি এ (কুরআন) আল্লাহর নিকট হতে (অবতীর্ণ) হয়ে থাকে, আর তোমরা এতে অবিশ্বাস কর, অথচ বানী ইস্রাঈলের একজন এর অনুরূপ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করল, আর তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে,[1] (তাহলে তোমাদের পরিণাম কী হবে?) নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’

[1] বানী-ইস্রাঈলের এই সাক্ষী থেকে কাকে বুঝানো হয়েছে? কেউ বলেন যে, এই শব্দটি জাতি বা সম্প্রদায় অর্থে প্রয়োগ হয়েছে। বানী-ইস্রাঈলের সকল ঈমান আনয়নকারী এর অন্তর্ভুক্ত। কারো মতে সূরাটি মক্কী হওয়ার ফলে মক্কায় অবস্থানকারী কোন এক বানী-ইস্রাঈলী উদ্দিষ্ট হবে। আবার কারো কারো নিকট এ থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে সালামকে বুঝানো হয়েছে এবং তাঁরা এই আয়াতকে মাদানী বলে গণ্য করেন। বুখারী-মুসলিমের বর্ণনা থেকেও এ উক্তির সমর্থন মেলে। (দেখুনঃ সহীহ বুখারী, মানাক্বিবুল আনসার, মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবা) এই কারণে ইমাম শাওকানী এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। عَلَى مِثْلِهِ (এর অনুরূপ সম্পর্কে সাক্ষ্য) এর অর্থ হল, তাওরাতের সাক্ষ্য দেওয়া যা আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআনের অবতীর্ণ হওয়ার কথা একান্ত ভাবে প্রমাণ করে। কেননা, কুরআনও তাওহীদ (একত্ব) ও পরকাল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে তাওরাতের মতনই। অর্থাৎ, কিতাবধারীদের সাক্ষ্য দেওয়া ও তাদের ঈমান আনার পর এই কুরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাতে সন্দেহ অবশিষ্ট থাকে না। সুতরাং এরপর আর তোমাদের অস্বীকার ও অহংকার করার কোন বৈধতা থাকে না। তোমাদেরকে তোমাদের এই আচরণের পরিণাম সম্পর্কে ভেবে দেখা উচিত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১১ وَ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَوۡ كَانَ خَیۡرًا مَّا سَبَقُوۡنَاۤ اِلَیۡهِ ؕ وَ اِذۡ لَمۡ یَهۡتَدُوۡا بِهٖ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ هٰذَاۤ اِفۡكٌ قَدِیۡمٌ ﴿۱۱﴾
و قال الذین كفروا للذین امنوا لو كان خیرا ما سبقونا الیه و اذ لم یهتدوا بهٖ فسیقولون هذا افك قدیم ﴿۱۱﴾

আর যারা কুফরী করেছে তারা যারা ঈমান এনেছে তাদের সম্পর্কে বলে, ‘যদি এটা ভাল হত তবে তারা আমাদের থেকে অগ্রণী হতে পারত না’। আর যখন তারা এর দ্বারা হেদায়াত প্রাপ্ত হয়নি, তখন তারা অচিরেই বলবে, ‘এটা তো এক পুরাতন মিথ্যা’। আল-বায়ান

কাফিররা মু’মিনদের সম্পর্কে বলে, তা (অর্থাৎ কুরআন) যদি ভাল হত তাহলে তারা আমাদেরকে পেছনে ফেলে ওটার দিকে এগিয়ে যেতে পারত না (আমরাই কুরআনকে আগে গ্রহণ করে নিতাম) আর যেহেতু তারা এর দ্বারা (অর্থাৎ কাফিররা এ কুরআন দ্বারা) সঠিক পথ পায়নি, সে কারণে তারা অবশ্যই বলবে- এটা এক পুরনো মিথ্যে। তাইসিরুল

মু’মিনদের সম্পর্কে কাফিরেরা বলেঃ এটা ভাল হলে তারা এর দিকে আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হতনা। তারা এর দ্বারা পরিচালিত নয় বলে, বলেঃ এটাতো এক পুরাতন মিথ্যা। মুজিবুর রহমান

And those who disbelieve say of those who believe, "If it had [truly] been good, they would not have preceded us to it." And when they are not guided by it, they will say, "This is an ancient falsehood." Sahih International

১১. আর যারা কুফরী করেছে তারা যারা ঈমান এনেছে তাদের সম্পর্কে বলে, যদি এটা ভাল হত তবে তারা এর দিকে আমাদেরকে অতিক্রম করে যেতে পারত না।(১) আর যখন তারা এটা দ্বারা হেদায়াত পায়নি তখন তারা অচিরেই বলবে, এ এক পুরোনো মিথ্যা।

(১) কুরাইশ নেতারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য যেসব যুক্তি কাজে লাগাতো এটা তার একটা। তারা বলতো, এ কুরআন যদি সত্য হতো এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি একটি সঠিক জিনিসের দাওয়াত দিতেন তাহলে কওমের নেতারা, গোত্ৰসমূহের অধিপতিরা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অগ্রসর হয়ে তা গ্ৰহণ করতো। এটা কি করে হতে পারে যে, কতিপয় অনভিজ্ঞ বালক এবং কিছু সংখ্যক নীচু পর্যায়ের ক্রীতদাস যেমন বিলাল, আম্মার, সুহাইব, খাব্বাব প্রমূখ সর্বাগ্রে ঈমান আনবে অথচ কওমের গণ্যমান্য ব্যক্তি যারা জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ এবং আজ পর্যন্ত কওম যাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে আসছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করবে? নতুন এই ধর্মে মন্দ কিছু অবশ্যই আছে। তাই কওমের গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তা মানছে না। অতএব, তোমরাও তা থেকে দূরে সরে যাও, এই প্রতারণামূলক যুক্তি খাড়া করে তারা সাধারণ মানুষকে শান্ত করে রাখার চেষ্টা করতো। তারা মূলত: অহংকারবশেই উপরোক্ত ধরনের কূটতর্কের অবতারণা করত। অহংকার ও গর্ব মানুষের জ্ঞান বুদ্ধিকেও বিকৃত করে দেয়। অহংকারী ব্যক্তি নিজের বুদ্ধিকেই ভালমন্দের মাপকাঠি বলে মনে করতে থাকে। সে যা পছন্দ করে না, অন্যেরা তা পছন্দ করলে সে সবাইকে বোকা মনে করে, অথচ বাস্তবে সে নিজেই বোকা। সূরা আল-আন’আমের ৫৩ নং আয়াতেও কাফেরদের এ ধরনের উক্তি বর্ণিত হয়েছে। [দেখুন: তাবারী, ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) বিশ্বাসীদের সম্পর্কে অবিশ্বাসীরা বলে, ‘এটা ভাল হলে তারা এর দিকে আমাদের অগ্রগামী হত না।’ আর যখন তারা এ (কুরআন) দ্বারা পরিচালিত নয়, তখন তারা বলবে যে, ‘এটা তো এক পুরাতন মিথ্যা।’[1]

[1] বিলাল, আম্মার, সুহাইব ও খাব্বাব (রাযিবয়াল্লাহু আনহুম)-এর মত মুসলিমরা ছিলেন মক্কার মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতার সৌভাগ্য লাভে তাঁরাই ধন্য হন। এ দেখে মক্কার কাফেররা বলত যে, এই দ্বীনে যদি কোন কল্যাণ থাকত, তবে আমাদের মত সম্মানী ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সর্বপ্রথম তা গ্রহণ করত, ওরা আমাদের আগে ঈমান আনতে পারত না। (অর্থাৎ তারা নিজেরাই নিজেদের ব্যাপারে ভেবে নিল যে, আল্লাহর নিকট তাদের বিরাট মর্যাদা রয়েছে।) এই দ্বীন যদি আল্লাহর পক্ষ হতে হত, তবে তিনি তা গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাদেরকে পিছনে ফেলে রাখতেন না। আর আমাদের তা গ্রহণ না করার অর্থই হল যে, এটা একটি পুরাতন মিথ্যা। অর্থাৎ, কুরআনকে তারা ‘পুরাতন মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করল। যেমন এটাকে তারা أَسَاطِيْرُ الأَوَّلِيْنَ (পূর্ববর্তীদের কেচ্ছা-কাহিনী)ও বলত। অথচ দুনিয়াতে কারো ধন-মালের মালিক হওয়া আল্লাহর নিকট গণ্য ব্যক্তি হওয়ার দলীল নয়। (যেমন তাদের ভুল ধারণা ছিল বা শয়তান তাদেরকে এই ভুল ধারণায় ফেলে রেখেছিল।) আল্লাহর নিকট গণ্য হওয়ার জন্য তো ঈমান ও ইখলাসের প্রয়োজন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে এই ঈমান ও ইখলাসের ধন দানে ধন্য করেন। যেমন তিনি পরীক্ষার জন্য যাকে ইচ্ছা তাকে মাল-ধন দিয়ে থাকেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১২ وَ مِنۡ قَبۡلِهٖ كِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّ رَحۡمَۃً ؕ وَ هٰذَا كِتٰبٌ مُّصَدِّقٌ لِّسَانًا عَرَبِیًّا لِّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ٭ۖ وَ بُشۡرٰی لِلۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿ۚ۱۲﴾
و من قبلهٖ كتب موسی اماما و رحمۃ و هذا كتب مصدق لسانا عربیا لینذر الذین ظلموا ٭ و بشری للمحسنین ﴿۱۲﴾

আর এর পূর্বে এসেছিল মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এটি তার সত্যায়নকারী কিতাব, আরবী ভাষায়; যাতে এটা যালিমদেরকে সতর্ক করতে পারে এবং তা ইনসাফকারীদের জন্য এক সুসংবাদ। আল-বায়ান

অথচ ইতোপূর্বে মূসার কিতাব এসেছিল পথপ্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ। আর (এখন অবতীর্ণ) এ কিতাব তার সমর্থক, আরবী ভাষায়, যালিমদেরকে সতর্ক করার জন্য আর সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য। তাইসিরুল

এর পূর্বে ছিল মূসার কিতাব - আদর্শ ও অনুগ্রহ স্বরূপ এই কিতাব - এর সমর্থক, আরাবী ভাষায়, যেন এটা যালিমদেরকে সতর্ক করে এবং যারা সৎ কাজ করে তাদেরকে সুসংবাদ দেয়। মুজিবুর রহমান

And before it was the scripture of Moses to lead and as a mercy. And this is a confirming Book in an Arabic tongue to warn those who have wronged and as good tidings to the doers of good. Sahih International

১২. আর এর আগে ছিল মূসার কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এ কিতাব (তার) সত্যায়নকারী, আরবী ভাষায়, যেন তা যালিমদেরকে সতর্ক করে, আর তা মুহসিনদের জন্য সুসংবাদ।(১)

(১) এ আয়াত থেকে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন অভিনব রাসূল এবং কুরআন কোন অভিনব কিতাব নয় যে, এতে ঈমান আনতে আপত্তি হবে। বরং এর আগে মূসা আলাইহিস সালাম রাসূলররূপে আগমন করেছেন এবং তার প্রতি তাওরাত নাযিল হয়েছিল। ইহুদী ও নাসারা এমনকি কাফেরদের অনেকেই তা স্বীকার করে। [দেখুন: তাবারী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) এর পূর্বে ছিল মূসার গ্রন্থ আদর্শ ও করুণাস্বরূপ। আর এই সমর্থক গ্রন্থ আরবী ভাষায়, যাতে এটা সীমালংঘনকারীদেরকে সতর্ক করে এবং তা সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদবাহক।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৩ اِنَّ الَّذِیۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿ۚ۱۳﴾
ان الذین قالوا ربنا الله ثم استقاموا فلا خوف علیهم و لا هم یحزنون ﴿۱۳﴾

নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’ অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আল-বায়ান

যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’, অতঃপর (তাদের কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, তাহলে তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা দুঃখিত হবে না। তাইসিরুল

যারা বলেঃ আমাদের রাব্বতো আল্লাহ এবং এই বিশ্বাসে অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবেনা। মুজিবুর রহমান

Indeed, those who have said, "Our Lord is Allah," and then remained on a right course - there will be no fear concerning them, nor will they grieve. Sahih International

১৩. নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ্‌, তারপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’ অতঃপর এই বিশ্বাসে অবিচলিত থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৪ اُولٰٓئِكَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۴﴾
اولٓئك اصحب الجنۃ خلدین فیها جزآء بما كانوا یعملون ﴿۱۴﴾

তারাই জান্নাতের অধিবাসী, তাতে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে, তারা যা আমল করত তার পুরস্কারস্বরূপ। আল-বায়ান

তারাই জান্নাতের অধিবাসী, তাতে তারা চিরকাল থাকবে, তারা যে কাজ করত তার পুরস্কার স্বরূপ। তাইসিরুল

এরাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে এরা স্থায়ী হবে, এটাই তাদের কর্মফল। মুজিবুর রহমান

Those are the companions of Paradise, abiding eternally therein as reward for what they used to do. Sahih International

১৪. তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে, তারা যা আমল করত তার পুরস্কার স্বরূপ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) তারাই জান্নাতের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। --এটাই তাদের কর্মফল।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৫ وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡهِ اِحۡسٰنًا ؕ حَمَلَتۡهُ اُمُّهٗ كُرۡهًا وَّ وَضَعَتۡهُ كُرۡهًا ؕ وَ حَمۡلُهٗ وَ فِصٰلُهٗ ثَلٰثُوۡنَ شَهۡرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ اَشُدَّهٗ وَ بَلَغَ اَرۡبَعِیۡنَ سَنَۃً ۙ قَالَ رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡكُرَ نِعۡمَتَكَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰهُ وَ اَصۡلِحۡ لِیۡ فِیۡ ذُرِّیَّتِیۡ ۚؕ اِنِّیۡ تُبۡتُ اِلَیۡكَ وَ اِنِّیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۵﴾
و وصینا الانسان بوالدیه احسنا حملته امهٗ كرها و وضعته كرها و حملهٗ و فصلهٗ ثلثون شهرا حتی اذا بلغ اشدهٗ و بلغ اربعین سنۃ قال رب اوزعنی ان اشكر نعمتك التی انعمت علی و علی والدی و ان اعمل صالحا ترضه و اصلح لی فی ذریتی انی تبت الیك و انی من المسلمین ﴿۱۵﴾

আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার উপর ও আমার মাতা-পিতার উপর যে নিআমত দান করেছ, তোমার সে নিআমতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’। আল-বায়ান

আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতামাতার প্রতি সদয় আচরণের। তার মা তাকে বহন করেছে কষ্টের সাথে, আর তাকে প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তাকে গর্ভে ধারণ ও দুধপান ছাড়ানোয় সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন পূর্ণ শক্তি লাভ করে এবং চল্লিশ বছরে পৌঁছে যায়, তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে আর আমার পিতা-মাতাকে যে নি‘মাত দান করেছ তজ্জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি আমাকে দান কর, আর আমাকে এমন সৎকর্ম করার সামর্থ দাও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ ক’রে আমার প্রতি অনুগ্রহ কর, আমি অনুশোচনাভরে তোমার দিকে ফিরে আসছি, আর আমি অনুগত বান্দাহদের অন্তর্ভুক্ত। তাইসিরুল

আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তার গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর সময়কাল ত্রিশ মাস, ক্রমে সে পূর্ণ শক্তি প্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হওয়ার পর বলেঃ হে আমার রাব্ব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য এবং যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আমার জন্য আমার সন্তান সন্ততিদেরকে সৎকর্মপরায়ণ করুন, আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং আত্মসমর্পণ করলাম। মুজিবুর রহমান

And We have enjoined upon man, to his parents, good treatment. His mother carried him with hardship and gave birth to him with hardship, and his gestation and weaning [period] is thirty months. [He grows] until, when he reaches maturity and reaches [the age of] forty years, he says, "My Lord, enable me to be grateful for Your favor which You have bestowed upon me and upon my parents and to work righteousness of which You will approve and make righteous for me my offspring. Indeed, I have repented to You, and indeed, I am of the Muslims." Sahih International

১৫. আর আমরা মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে, তাকে গৰ্ভে ধারণ করতে(১) ও তার স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্রিশ মাস(২) অবশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তিপ্রাপ্ত হয়(৩) এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন, তার জন্য এবং যাতে আমি এমন সৎকাজ করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন, আর আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদেরকে সংশোধন করে দিন, নিশ্চয় আমি আপনারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

(১) অর্থাৎ পিতা-মাতার সেবা যত্ন ও আনুগত্য জরুরি হওয়ার এক কারণ এই যে, তারা তোমাদের জন্যে অনেক কষ্টই সহ্য করেন। বিশেষত মাতার কষ্ট অনেক বেশি হয়ে থাকে। এখানে কেবল মাতার কষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। মাতা দীর্ঘ নয় মাস তোমাদেরকে গর্ভে ধারণ করে। এছাড়া এ সময়ে তাকে অনেক দুঃখকষ্ট সহ্য করতে হয়। এরপর প্রসবকালে অসহনীয় প্রসব বেদনার পর তোমরা ভূমিষ্ঠ হও।

আয়াতের শুরুতেই পিতা-মাতা উভয়ের সাথে সদ্ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এ স্থলে কেবল মাতার কষ্টের কথা উল্লেখ করার তাৎপর্য এই যে, মাতার পরিশ্রম ও কষ্ট অপরিহার্য ও জরুরী। গর্ভধারণের সময় কষ্ট, প্রসব বেদনার কষ্ট সর্বাবস্থায় ও সব সন্তানের ক্ষেত্রে মাতাকেই সহ্য করতে হয়। পিতার জন্যে লালন পালনের কষ্ট সহ্য করা সর্বাবস্থায় জরুরি হয় না। পিতা ধনাঢ্য হলে এবং তার চাকর বাকর থাকলে অপরের মাধ্যমে সন্তান দেখাশোনা করতে পারে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সন্তানের ওপর মাতার হক বেশি রেখেছেন। এক হাদীসে তিনি বলেন, ‘মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর, অতঃপর মাতার সাথে, অতঃপর মাতার সাথে, অতঃপর পিতার সাথে, অতঃপর নিকট আত্মীয়ের সাথে”। [মুসলিম ২৫৪৮]

(২) সন্তানদের যদিও মা-বাপ উভয়েরই সেবা করতে হবে কিন্তু গুরুত্বের দিক দিয়া মায়ের অধিকার এ কারণে বেশী যে, সে সন্তানের জন্য বেশী কষ্ট স্বীকার করে। এ আয়াত এ দিকেই ইংগিত করে। বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকেও এ বিষয়টি জানা যায়। আয়াতেও মায়ের তিনগুণ বেশী অধিকারের প্রতি ইংগিত দেয়া হয়েছেঃ (১) কষ্ট করে মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছে। (২) কষ্ট করেই তাকে প্রসব করেছে এবং (৩) গৰ্ভধারণ ও দুধ পান করাতে ৩০ মাস লেগেছে। সন্তানকে গর্ভে ধারণ ও প্রসবের কষ্টের পরও মাতা রেহাই পায় না। এর পরে সন্তানের খাদ্যও আল্লাহ তা'আলা মাতার স্তনে রেখে দিয়েছেন। মাতা তাকে স্তন্যদান করে। আয়াতে বলা হয়েছে যে, সন্তানকে গর্ভে ধারণ এবং স্তন্য ছাড়ানো ত্ৰিশ মাসে হয়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াত দৃষ্টি বলেন যে, গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়কাল ছয় মাস।

কেননা সূরা আল বাকারাহ এর ২৩৩ নং আয়াতে স্তন্যদানের সর্বোচ্চ সময়কাল পূর্ণ দু’বছর নির্দিষ্ট করা হয়েছে অথচ এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, সন্তানকে গর্ভে ধারণ এবং স্তন্যদান ছাড়ানো ত্ৰিশ মাসে হয়। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খেলাফতকালে জনৈকা মহিলার গর্ভ থেকে ছয় মাসে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে গেলে তিনি একে অবৈধ গর্ভ সাব্যস্ত করে শাস্তির আদেশ জারি করেন। কেননা, এটা সাধারণ নিয়ম বহির্ভূত ছিল। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সংবাদ অবগত হয়ে খলিফাকে শাস্তি কার্যকর করতে বারণ করলেন এবং আলোচ্য আয়াত দ্বারা প্রমাণ করে দিলেন যে, গৰ্ভধারণের সর্বনিম সময়কাল ছয় মাস। খলিফা তার যুক্তিপ্রমাণ কবুল করে শাস্তির আদেশ প্রত্যাহার করেন।

এ কারণেই সমস্ত আলেমগণ একমত যে, গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়কাল ছয় মাস হওয়া সম্ভবপর। এর কম সময়ে সন্তান সুস্থ ও পূর্ণাঙ্গ জন্মগ্রহণ করতে পারে না। তবে সর্বোচ্চ কতদিন সন্তান গর্ভে থাকতে পারে, এ সম্পর্কে অভ্যাস বিভিন্নরূপ। এমনিভাবে স্তন্যদানের সর্বোচ্চ সময়কাল দু’বছর নির্ধারিত। কিন্তু সর্বনিম্ন সময়কাল নির্দিষ্ট নেই। কোন কোন নারীর দুধই হয় না এবং কারও কারও দুধ কয়েক মাসেই শুকিয়ে যায়। কতক শিশু মায়ের দুধ পান করে না। ফলে অন্য দুধ পান করাতে হয়। [দেখুন: ইবনে কাসীর]

(৩) أشد এর শাব্দিক অৰ্থ শক্তি সামর্থ্য। পবিত্র কুরআনের মোট ছয়টি স্থানে এ শব্দটি এসেছে। তন্মধ্যে সূরা আল-আন’আমের ১৫২, সূরা ইউসুফের ১২, সূরা আল ইসরার ৩৪, সূরা আল-কাহফ এর ৮২, সূরা আল-কাসাসের ১৪ নং আয়াতে এর তাফসীর করা হয়েছে, প্রাপ্ত বয়স বলে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে,[1] তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার জন্য স্তন্য ছাড়াতে লাগে ত্রিশ মাস,[2] পরিশেষে যখন সে পূর্ণ শক্তি প্রাপ্ত হয় এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়[3] তখন বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও,[4] যাতে আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি; আমার প্রতি আমার পিতা-মাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করেছ, তার জন্য এবং যাতে আমি সৎকার্য করতে পারি যা তুমি পছন্দ কর; আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর। নিশ্চয় আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং নিশ্চয় আমি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দের অন্তর্ভুক্ত।’

[1] পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশটিকে আরো বেশী জোরদার করার লক্ষ্যে এই দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকে এও প্রতীয়মান হয় যে, সদ্ব্যবহারের এই আদেশে মা, বাপের উপর প্রাধান্য পাওয়ার দাবী রাখে। তার কারণ, একটানা দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত গর্ভধারণের কষ্ট এবং প্রসব বেদনা একমাত্র জননী একাই সহ্য করে থাকে। পিতার এতে কোন অংশ থাকে না। তাই হাদীসেও সন্তানের সদ্ব্যবহারের শীর্ষে মাকে রাখা হয়েছে এবং বাপকে রাখা হয়েছে তিন ধাপ নিচে। একদা জনৈক সাহাবী নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, ‘আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকারী কে?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘‘তোমার মা।’’ সাহাবী আবার একই প্রশ্ন করলেন এবং তিনিও একই উত্তর দিলেন। তৃতীয় দফায় আবার সাহাবী অনুরূপ জিজ্ঞাসা করলে নবী (সাঃ)ও একই জবাব দিয়ে বললেন, তোমার মা। পুনরায় চতুর্থবারে একই প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘তোমার বাপ।’’ (মুসলিমঃ কিতাবুল বির্র্ অসসিলাহ)

[2] فِصَالٌ এর অর্থ দুধ ছাড়ানো। এ থেকে কোন কোন সাহাবী প্রমাণ করেছেন যে, গর্ভধারণের কমসে কম সময়কাল হল ছয় মাস। অর্থাৎ ছয়মাস গর্ভ থাকার পরে কোন নারীর যদি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে সে ছেলে বৈধ বলেই গণ্য হবে, অবৈধ নয়। কারণ, কুরআনে দুধ পানের সময়কাল বলা হয়েছে দু’ বছর (২৪ মাস)। (দেখুনঃ সূরা লুকমান ১৪, বাক্বারাহ ২৩৩ আয়াত) এই হিসাবে গর্ভধারণের সময়কাল ছয় মাসই অবশিষ্ট থাকে।

[3] (أَشُدَّهُ) পূর্ণ শক্তির কাল বলতে, যৌবন কালকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ এটাকে ১৮ বছর বয়স বলেছেন। এইভাবে বাড়তে বাড়তে সে চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয়। এ বয়স হল জ্ঞান ও বিবেক শক্তির পূর্ণতা ও পক্বতার বয়স। এ জন্যেই মুফাসসিরগণের মতে প্রতিটি নবীকে চল্লিশ বছর বয়সের পরেই নবুঅত দানে ধন্য করা হয়। (ফাতহুল ক্বাদীর)

[4] أَوْزِعِنِيْ অর্থ হল, أَلْهِمْنِيْ (আমাকে তাওফীক, সামর্থ্য বা প্রেরণা দাও)। এটাকেই দলীল বানিয়ে উলামাগণ বলেছেন যে, এই বয়সের পর থেকে মানুষের উচিত, এই দু’আটি অধিকহারে পড়তে থাকা। অর্থাৎ, رَبِّ أَوْزِعِنِيْ থেকে منَ الْمُسْلِمِيْنَ পর্যন্ত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৬ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ نَتَقَبَّلُ عَنۡهُمۡ اَحۡسَنَ مَا عَمِلُوۡا وَ نَتَجَاوَزُ عَنۡ سَیِّاٰتِهِمۡ فِیۡۤ اَصۡحٰبِ الۡجَنَّۃِ ؕ وَعۡدَ الصِّدۡقِ الَّذِیۡ كَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ﴿۱۶﴾
اولٓئك الذین نتقبل عنهم احسن ما عملوا و نتجاوز عن سیاتهم فی اصحب الجنۃ وعد الصدق الذی كانوا یوعدون ﴿۱۶﴾

এরাই, যাদের উৎকৃষ্ট আমলগুলো আমি কবূল করি এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেই। তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তা সত্য ওয়াদা। আল-বায়ান

এই লোকদের হতে আমি তাদের সর্বোত্তম ‘আমালগুলো গ্রহণ করি আর তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেই, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যে ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা সত্য ও‘য়াদা। তাইসিরুল

আমি এদের সৎকাজগুলি গ্রহণ করে থাকি এবং মন্দ কাজগুলি ক্ষমা করি, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা সত্য প্রমাণিত হবে। মুজিবুর রহমান

Those are the ones from whom We will accept the best of what they did and overlook their misdeeds, [their being] among the companions of Paradise. [That is] the promise of truth which they had been promised. Sahih International

১৬. ওরাই তারা, আমরা যাদের সৎ আমলগুলো কবুল করি এবং মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করি, তারা জান্নাতবাসীদের মধ্যে হবে।(১) এদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা সত্য ওয়াদা।

(১) এ আয়াতের বিধান অত্যন্ত ব্যাপক। এমনকি সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এক উক্তি থেকে আয়াতের ব্যাপকতা বোঝা যায়। মুহাম্মদ ইবনে হাতেম বর্ণনা করেন, একবার আমি আমীরুল মুমেনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তার কাছে আরও কিছু লোক উপস্থিত ছিল। তারা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর চরিত্রে কিছু দোষ আরোপ করলে তিনি বললেনঃ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সে লোকদের অন্যতম ছিলেন, যাদের কথা আল্লাহ তা'আলা (أُولَٰئِكَ الَّذِينَ نَتَقَبَّلُ عَنْهُمْ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَنَتَجَاوَزُ عَنْ سَيِّئَاتِهِمْ فِي أَصْحَابِ الْجَنَّةِ) আয়াতে ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহর কসম। উসমান ও তার সঙ্গীদের ক্ষেত্রেই এই আয়াত প্রযোজ্য। এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন। [দেখুন: ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) আমি এদেরই সর্বোৎকৃষ্ট কর্মগুলো গ্রহণ করে থাকি এবং তাদের মন্দ কর্মগুলো ক্ষমা করে দিই, তারা জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সত্য প্রমাণিত হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৭ وَ الَّذِیۡ قَالَ لِوَالِدَیۡهِ اُفٍّ لَّكُمَاۤ اَتَعِدٰنِنِیۡۤ اَنۡ اُخۡرَجَ وَ قَدۡ خَلَتِ الۡقُرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلِیۡ ۚ وَ هُمَا یَسۡتَغِیۡثٰنِ اللّٰهَ وَیۡلَكَ اٰمِنۡ ٭ۖ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰهِ حَقٌّ ۚۖ فَیَقُوۡلُ مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿۱۷﴾
و الذی قال لوالدیه اف لكما اتعدننی ان اخرج و قد خلت القرون من قبلی و هما یستغیثن الله ویلك امن ٭ ان وعد الله حق فیقول ما هذا الا اساطیر الاولین ﴿۱۷﴾

আর যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস’! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব’ অথচ আমার পূর্বে অনেক প্রজন্ম গত হয়ে গেছে’? আর তারা দু’জন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি ঈমান আন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য’। তখন সে বলে, ‘এটা কেবল অতীতকালের কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছু নয়’। আল-বায়ান

আর যে নিজ পিতামাতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাও যে, (মৃতুর পর) আমাকে উঠানো হবে অথচ আমার পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠী অতীত হয়ে গেছে (কই, কেউ তো উঠে আসল না)। বাপ-মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে (সন্তানকে তিরস্কার করে) বলে- দুর্ভোগ তোমার জন্য, তুমি ঈমান আন, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য।’ তখন সে বলে- ‘এ সব পুরান কালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।’ তাইসিরুল

আর এমন লোক আছে, যে তার মাতা-পিতাকে বলেঃ আফসোস তোমাদের জন্য। তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে! তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলেঃ দুর্ভোগ তোমার জন্য! বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলেঃ এটাতো অতীত কালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়। মুজিবুর রহমান

But one who says to his parents, "Uff to you; do you promise me that I will be brought forth [from the earth] when generations before me have already passed on [into oblivion]?" while they call to Allah for help [and to their son], "Woe to you! Believe! Indeed, the promise of Allah is truth." But he says, "This is not but legends of the former people" - Sahih International

১৭. আর যে তার মাতা-পিতাকে বলে, আফসোস তোমাদের জন্য তোমরা কি আমাকে এ ওয়াদা দাও যে, আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে অথচ আমার আগে বহু প্ৰজন্ম গত হয়েছে?(১) তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি ঈমান আনয়ন কর, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এ তো অতীত কালের উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।

(১) পূর্বের আয়াতসমূহে মাতা-পিতার সেবাযত্ন ও আনুগত্য সম্পর্কিত নির্দেশ ব্যক্ত হয়েছিল। এ আয়াতে সে ব্যক্তির আযাব ও শাস্তি উল্লেখিত হয়েছে, যে পিতা-মাতার সাথে অসদ্ব্যবহার ও কটুক্তি করে। বিশেষতঃ পিতা-মাতা যখন তাকে ইসলাম ও সৎকর্মের দিকে দাওয়াত দেয়, তখন তাদের কথা অমান্য করা দ্বিগুণ পাপ। ইবনে কাসীর বলেন, যে কোন লোক পিতা-মাতার সাথে অসদ্ব্যবহার করবে, তার ক্ষেত্রেই এ আয়াত প্রযোজ্য হবে। এ আয়াতটি কোন অবস্থাতেই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট করা যাবে না (যেমনটি শীয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা করার চেষ্টা চালায়)। [দেখুন: ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) আর যে তার মাতা-পিতাকে বলল, ‘আফসোস তোমাদের জন্য![1] তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে; অথচ আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়ে গেছে?’[2] তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।’ কিন্তু সে বলে, ‘এটা তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।’ [3]

[1] উপরোক্ত আয়াতে সৌভাগ্যবান সন্তানদের আলোচনা ছিল। যারা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারও করে এবং তাদের জন্য কল্যাণের দু’আও করে। এখানে তাদের বিপরীত দুর্ভাগা ও অবাধ্য সন্তানদের কথা আলোচনা করা হচ্ছে। যারা পিতা-মাতার সাথে অভদ্র আচরণ করে। أُفٍّ لَّكُمَا আক্ষেপ তোমাদের উপর। أف (উঃ) শব্দটি বিরক্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অবাধ্য সন্তানরা পিতার উপদেশমূলক বাণী বা ঈমান ও সৎকর্মের প্রতি আহবানের দাওয়াতে বিরক্তি ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। অথচ সন্তানদের জন্য এ রকম করার মোটেই কোন অনুমতি নেই। এই আয়াতটি ব্যাপক; সকল অবাধ্য সন্তান এই নির্দেশের আওতাধীন।

[2] উদ্দেশ্য হলো, তারা তো পুনরায় জীবিত হয়ে দ্বিতীয়বার দুনিয়াতে ফিরে আসেনি। অথচ দ্বিতীয়বার জীবিত হওয়ার অর্থ কিয়ামতের দিন জীবিত হওয়া, যার পর হিসাব হবে।

[3] মা-বাপ মুসলিম এবং সন্তান কাফের হলে, সেখানে এই ধরনের বাদানুবাদ হয়ে থাকে। যার একটি দৃষ্টান্ত এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৮ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ حَقَّ عَلَیۡهِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ ؕ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ ﴿۱۸﴾
اولٓئك الذین حق علیهم القول فی امم قد خلت من قبلهم من الجن و الانس انهم كانوا خسرین ﴿۱۸﴾

তাদের পূর্বে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়ে গেছে, তাদের মত এদের প্রতিও আল্লাহর বাণী সত্য হয়েছে। নিশ্চয় এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। আল-বায়ান

এরা হল তারাই যাদের প্রতি আল্লাহর ‘আযাবের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, তাদের মত জ্বিন ও মানুষের মধ্যে হতে যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে। এরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাইসিরুল

এদের পূর্বে যে জিন ও মানুষ সম্প্রদায় গত হয়েছে তাদের মত এদের প্রতিও আল্লাহর উক্তি সত্য হয়েছে। এরাই ক্ষতিগ্রস্ত। মুজিবুর রহমান

Those are the ones upon whom the word has come into effect, [who will be] among nations which had passed on before them of jinn and men. Indeed, they [all] were losers. Sahih International

১৮. এরা তো তারা, যাদের উপর সত্য হয়েছে আযাবের সে ফয়সালা, যা সত্য হয়েছিল সে সব উম্মতের জন্য যারা গত হয়ে গেছে এদের আগে, জিন ও ইনসান থেকে। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্ৰস্ত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) এদের পূর্বে জ্বিন ও মানুষ সম্প্রদায় গত হয়েছে,[1] তাদের মত এদের প্রতিও আল্লাহর উক্তি সত্য হয়েছে।[2] নিশ্চয় এরা ক্ষতিগ্রস্ত।

[1] অর্থাৎ, এরাও সেই কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মানুষ ও জ্বিনদের মধ্য থেকে কিয়ামতের দিন যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

[2] যা পূর্ব থেকেই আল্লাহর জ্ঞানে ছিল। অথবা শয়তানের জবাবে আল্লাহ যে উক্তি করেছিলেন, لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ (ص:৮৫) (তোমার দ্বারা ও ওদের মধ্যে তোমার সকল অনুসারীদের দ্বারা আমি অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।) তা সত্য হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ১৯ وَ لِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡا ۚ وَ لِیُوَفِّیَهُمۡ اَعۡمَالَهُمۡ وَ هُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ﴿۱۹﴾
و لكل درجت مما عملوا و لیوفیهم اعمالهم و هم لا یظلمون ﴿۱۹﴾

আর সকলের জন্যই তাদের আমল অনুসারে মর্যাদা রয়েছে। আর আল্লাহ যেন তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না। আল-বায়ান

প্রত্যেকের জন্য মর্যাদা আছে তার কৃতকর্ম অনুসারে, যেন আল্লাহ তাদের কর্মের পুরোপুরি প্রতিফল দেন। তাদের উপর কক্ষনো যুলম করা হবে না। তাইসিরুল

প্রত্যেকের মর্যাদা তার কাজ অনুযায়ী; এটা এ জন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেকের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং তার প্রতি অবিচার করা হবেনা। মুজিবুর রহমান

And for all there are degrees [of reward and punishment] for what they have done, and [it is] so that He may fully compensate them for their deeds, and they will not be wronged. Sahih International

১৯. আর প্রত্যেকের জন্য তাদের আমল অনুসারে মর্যাদা রয়েছে; এবং যাতে আল্লাহ প্রত্যেকের কাজের পূর্ণ প্ৰতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।(১)

(১) অর্থাৎ না ভাল লোকদের ত্যাগ ও কুরবানী নষ্ট হবে না মন্দ লোকদেরকে তাদের প্রকৃত অপরাধের অধিক শাস্তি দেয়া হবে। সৎ ব্যক্তি যদি তার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত থাকে কিংবা প্রকৃত প্ৰাপ্যের চেয়ে কম পুরস্কার পায় তাহলে তা যুলুম। আবার খারাপ লোক যদি তার কৃত অপরাধের চেয়ে বেশী শাস্তি পায় তাহলে সেটাও যুলুম। [দেখুন: তাবারী, মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী।[1] তা এই জন্য যে, আল্লাহ সকলের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দান করবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না। [2]

[1] মু’মিন ও কাফের উভয়েরই নিজ নিজ আমল অনুযায়ী আল্লাহর নিকট মর্যাদা নির্ধারিত হবে। মু’মিন উচ্চ মর্যাদা লাভে ধন্য হবে। পক্ষান্তরে কাফের জাহান্নামে স্থান লাভ করবে।

[2] পাপীদেরকে তাদের অপরাধের বেশি শাস্তি দেওয়া হবে না এবং নেককারদের প্রতিদানে কমতি করা হবে না। বরং প্রত্যেককে সুখ ও শাস্তি থেকে ততটুকুই দেওয়া হবে, যতটুকু পাওয়ার সে যোগ্য হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪৬ : ২০ وَ یَوۡمَ یُعۡرَضُ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا عَلَی النَّارِ ؕ اَذۡهَبۡتُمۡ طَیِّبٰتِكُمۡ فِیۡ حَیَاتِكُمُ الدُّنۡیَا وَ اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِهَا ۚ فَالۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡهُوۡنِ بِمَا كُنۡتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَ بِمَا كُنۡتُمۡ تَفۡسُقُوۡنَ ﴿۲۰﴾
و یوم یعرض الذین كفروا علی النار اذهبتم طیبتكم فی حیاتكم الدنیا و استمتعتم بها فالیوم تجزون عذاب الهون بما كنتم تستكبرون فی الارض بغیر الحق و بما كنتم تفسقون ﴿۲۰﴾

আর যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে (তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা তোমাদের দুনিয়ার জীবনে তোমাদের সুখ সামগ্রীগুলো নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ। তোমরা যেহেতু অন্যায়ভাবে যমীনে অহঙ্কার করতে এবং তোমরা যেহেতু নাফরমানী করতে, সেহেতু তার প্রতিফলস্বরূপ আজ তোমাদেরকে অপমানজনক আযাব প্রদান করা হবে’। আল-বায়ান

যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হবে, (তাদেরকে বলা হবে)- ‘তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের অংশের নি‘মাতগুলো নিঃশেষ করেছ আর তা ভোগ করেছ। কাজেই আজ তোমাদেরকে অপমানজনক শাস্তি দ্বারা প্রতিফল দেয়া হবে, কেননা তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে অহঙ্কার করেছিলে আর না-ফরমানী করেছিলে। তাইসিরুল

যেদিন কাফিরদেরকে জাহান্নামের সন্নিকটে উপস্থিত করা হবে সেদিন তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরাতো পার্থিব জীবনে সুখ-সম্ভোগ ভোগ করে নিঃশেষ করেছ, সুতরাং আজ তোমাদেরকে দেয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি; কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে সত্যদ্রোহী। মুজিবুর রহমান

And the Day those who disbelieved are exposed to the Fire [it will be said], "You exhausted your pleasures during your worldly life and enjoyed them, so this Day you will be awarded the punishment of [extreme] humiliation because you were arrogant upon the earth without right and because you were defiantly disobedient." Sahih International

২০. আর যারা কুফরী করেছে যেদিন তাদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে (সেদিন তাদেরকে বলা হবে) তোমরা তোমাদের দুনিয়ার জীবনেই যাবতীয় সুখ-সম্ভার নিয়ে গেছ এবং সেগুলো উপভোগও করেছ। সুতরাং আজ তোমাদেরকে দেয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি(১); কারণ তোমরা যমীনে অন্যায়ভাবে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে এবং তোমরা নাফরমানী করতে।

(১) অর্থাৎ কাফেরদেরকে বলা হবে, তোমরা কিছু ভাল কাজ দুনিয়াতে করে থাকলে তার প্রতিদানও তোমাদেরকে পার্থিব আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসের আকারে দেয়া হয়েছে। এখন আখেরাতে তোমাদের কোন প্ৰাপ্য নেই। এ থেকে জানা যায় যে, কাফেরদের যেসব সৎকাজ ঈমানের অনুপস্থিতিতে আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় নয়; আখেরাতে সেগুলো মূল্যহীন; কিন্তু দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সেগুলোর প্রতিদান দিয়ে দেন। কাজেই কাফেররা দুনিয়াতে যেসব বিষয় বৈভব, ধন-দৌলত, মান-সম্রম, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদি লাভ করে, সেগুলো তাদের দানশীলতা, সহানুভূতি, সততা ইত্যাদি সৎকর্মের প্রতিফল হয়ে থাকে। মুমিনদের জন্যে এরূপ নয়। তারা দুনিয়াতে ধন-সম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদি নেয়ামত লাভ করলেও আখেরাতের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হবে না।

আলোচ্য আয়াতে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মগ্ন থাকার কারণে কাফেরদের উদ্দেশ্যে শাস্তিবাণী উচ্চারিত হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বর্জন করার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। তাদের জীবনালেখ্য এর সাক্ষ্য দেয়। [দেখুন: ইবনে কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সন্নিকটে উপস্থিত করা হবে।[1] (সেদিন তাদেরকে বলা হবে,) ‘তোমরা তো তোমাদের পার্থিব জীবনেই পুণ্যরাশি ভোগ করে নিঃশেষ করেছ। সুতরাং আজ তোমাদেরকে দেওয়া হবে অবমাননাকর শাস্তি;[2] কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে পাপাচারী। [3]

[1] অর্থাৎ, সেই সময়কে স্মরণ কর যখন কাফেরদের চোখ থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তারা জাহান্নামের আগুন অবলোকন করবে অথবা তার নিকটে অবস্থান করবে। কেউ يُعْرَضُوْنَ এর অর্থ করেছেন, يُعَذِّبُوْنَ (অর্থাৎ, জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।) আবার কেউ কেউ বলেছেন, বাক্যের মধ্যে قلب (আগাপিছা) রয়েছে। অর্থাৎ, تُعْرَضُ النَّارُ عَلَيْهِمْ যখন আগুন তাদের উপর পেশ করা হবে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

[2] طَيِّبَاتٍ থেকে বুঝানো হয়েছে সেই সব নিয়ামত, যা মানুষ খুব রুচির সাথে খেয়ে, পান করে এবং ব্যবহার করে তৃপ্তি ও আনন্দ বোধ করে। তবে পরকালের চিন্তা মাথায় নিয়ে এগুলো ব্যবহার করলে ব্যাপার ভিন্ন হয়। যেমন একজন মু’মিন করে থাকে। সে এর সাথে আল্লাহর বিধি-বিধান অনুসরণ করে তাঁর কৃতজ্ঞতার প্রতিও যত্ন নেয়। কিন্তু আখেরাতের চিন্তা-ফিকির মুক্ত অবস্থায় এই নিয়ামতগুলোর ব্যবহার মানুষকে অবাধ্য ও উচ্ছৃঙ্খল বানিয়ে ফেলে। যেমন একজন কাফেরের হয়ে থাকে। আর এইভাবে সে আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করে। সুতরাং মু’মিন বান্দা তো তাঁর কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের ফলে এই নিয়ামতগুলো বরং এর চেয়ে আরো উত্তম নিয়ামতসমূহ আখেরাতে পুনরায় পেয়ে যাবে। পক্ষান্তরে কাফেরদেরকে তা-ই বলা হবে, যা এখানে আয়াতে বর্ণিত হয়েছে ﴿ أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ﴾ (অর্থাৎ, তোমরা তো তোমাদের পার্থিব জীবনেই পুণ্যরাশি ভোগ করে নিঃশেষ করেছ।) এর দ্বিতীয় অনুবাদ হল, ‘‘পার্থিব জীবনে তোমরা সুখভোগ করে নিয়েছ এবং খুব উপকৃত হয়েছ।’’

[3] তাদের শাস্তির দু’টি কারণ বর্ণনা করেছেন। আর তা হল, অন্যায়ভাবে অহংকার। যার ফলে মানুষ সত্যকে মেনে না নিয়ে তা থেকে পলায়ন করে। আর দ্বিতীয় হল, ফিস্‌ক তথা নির্ভীকতার সাথে পাপকাজ সম্পাদন। এ দু’টি জিনিস প্রত্যেক কাফেরের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। ঈমানদারদের উচিত, এ আচরণ দু’টি থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখা।

বিঃদ্রঃ- সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-দের ব্যাপারে এসেছে যে, তাঁদের সামনে ভাল কিছু আসলে এই আয়াত তাঁদের মনে পড়ে যেত এবং এই ভয়ে তা বর্জন করে দিতেন যে, যাতে পরকালে আমাদেরকেও যেন এ রকম বলা না হয়, ‘তোমরা তো দুনিয়াতেই সুখ ভোগ করে নিয়েছ।’ এ ছিল তাঁদের অবস্থা; যা তাঁদের সীমাহীন আল্লাহভীরুতা, বিষয়-বিতৃষ্ণা ও পরহেযগারীর বাস্তব চিত্র। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভাল জিনিস ব্যবহার তাঁরা বৈধ মনে করতেন না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন