সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের। আল-বায়ান
স্ব-দ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ- (এটা সত্য)। তাইসিরুল
সা‘দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! মুজিবুর রহমান
Sad. By the Qur'an containing reminder... Sahih International
১. সোয়াদ(১), শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের!
(১) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, এই সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো কাফের-মুশরিক ও তাদের সেই মজলিসের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ আবু তালিব ও আবু জাহলসহ কুরাইশ কাফেরদের অন্যান্য নেতৃবর্গের প্রস্তাব সম্পর্কিত ঘটনা। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪৩২] এ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিতব্য আবু তালেব ইসলাম গ্ৰহণ না করা সত্বেও ভ্রাতুস্পপুত্রের পূর্ণ দেখা-শোনা ও হেফাযত করে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন কোরাইশ সরদাররা এক পরামর্শসভায় মিলিত হল।
এতে আবু জাহল, আস ইবনে ওয়ায়েল, আসওয়াদ ইবনে মুত্তালিব, আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুস ও অন্যান্য সরদার যোগদান করল। তারা পরামর্শ করল যে, আবু তালেব রোগাক্রান্ত। যদি তিনি মারা যান এবং তার অবর্তমানে আমরা মুহাম্মদ-এর বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করি, তবে আরবের লোকেরা আমাদেরকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে। বলবে: আবু তালেবের জীবদ্দশায় তো তারা মুহাম্মদ-এর কেশগ্রও স্পর্শ করতে পারল না, এখন তার মৃত্যুর পর তাকে উৎপীড়নের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তাই আমরা আবু তালেব জীবিত থাকতেই তার সাথে মুহাম্মদ এর ব্যাপারে একটা মীমাংসায় উপনীত হতে চাই, যাতে সে আমাদের দেব-দেবীর নিন্দাবাদ পরিত্যাগ করে। সেমতে তারা আবু তালেবের কাছে গিয়ে বললঃ আপনার ভ্রাতুস্পপুত্র আমাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা করে।
আবু তালেব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মজলিসে ডেকে এনে বললেনঃ ভ্রাতুস্পপুত্র, এ কোরাইশ সরদাররা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে, তুমি নাকি তাদের উপাস্য দেব-দেবীর নিন্দা কর। তাদেরকে তাদের ধর্মে ছেড়ে দাও এবং তুমি আল্লাহর ইবাদত করে যাও। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ চাচাজন, “আমি কি তাদেরকে এমনি বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেবো না, যাতে তাদের মঙ্গল রয়েছে?” আবু তালেব বললেনঃ সে বিষয়টি কি? তিনি বললেনঃ আমি তাদেরকে এমন একটি কালেমা বলতে চাই, যার বদৌলতে সমগ্র আরব তাদের সামনে মাথা নত করবে এবং তারা সমগ্ৰ অনারবদের অধীশ্বর হয়ে যাবে। একথা শুনে আবু জাহল বলে উঠল: বল, সে কলেমা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ”। একথা শুনে সবাই পরিধেয় বস্ত্র ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং বললঃ আমরা কি সমস্ত দেব-দেবীকে পরিত্যাগ করে মাত্র একজনকে অবলম্বন করব? এ যে, বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার! এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সূরা ছোয়াদের আলোচ্য আয়াতগুলো নাযিল হয়। [দেখুন: তিরমিযী: ৩২৩২. আত-তাফসীরুস সহীহ ৪/২১৭]
তাফসীরে জাকারিয়া(১) স্বা-দ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের![1] (তুমি অবশ্যই সত্যবাদী)।
[1] যাতে তোমাদের জন্য সর্ব প্রকার নসীহত এবং এমন কথা আলোচনা হয়েছে, যার দ্বারা তোমাদের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই শুধরে যাবে। অনেকে ذِي الذِّكر -এর অর্থঃ মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী করেছেন। ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, দুটি অর্থই ঠিক। কারণ কুরআন মর্যাদারও অধিকারী এবং মু’মিন ও মুত্তাক্বীদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষণীয় গ্রন্থও বটে। এখানে শপথের উত্তর ঊহ্য আছে, আর তা হল, আসল কথা তা নয় যা মক্কার কাফেররা বলে; তারা বলে মুহাম্মাদ জাদুকর, কবি বা মিথ্যুক। বরং তিনি আল্লাহর সত্য রসূল; যাঁর উপর এই মর্যাদাময় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানবস্তুত কাফিররা আত্মম্ভরিতা ও বিরোধিতায় রয়েছে। আল-বায়ান
কিন্তু কাফিররা আত্মম্ভরিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত। তাইসিরুল
কিন্তু কাফিরেরা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে। মুজিবুর রহমান
But those who disbelieve are in pride and dissension. Sahih International
২. বরং কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় নিপতিত আছে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২) কিন্তু অবিশ্বাসীরা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবে আছে। [1]
[1] অর্থাৎ, এই কুরআন অবশ্যই সন্দেহমুক্ত এবং এর দ্বারা যারা শিক্ষা অর্জন করতে চায় তাদের জন্য নসীহত। তবে এর দ্বারা কাফেরদের কোন উপকার হয় না। কারণ তাদের মনে অহংকার ও গর্ব আছে এবং অন্তরে আছে শত্রুতা ও বিরোধিতা। عِزَّة -শব্দটির অর্থ হয়ঃ সত্যের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোন সময় ছিল না। আল-বায়ান
তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, অবশেষে তারা (ক্ষমা লাভের জন্য) আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পরিত্রাণ লাভের আর কোন অবকাশই ছিল না। তাইসিরুল
এদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন তারা আর্ত চিৎকার করেছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোনই উপায় ছিলনা। মুজিবুর রহমান
How many a generation have We destroyed before them, and they [then] called out; but it was not a time for escape. Sahih International
৩. এদের আগে আমরা বহু জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্ত চীৎকার করেছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোনই সময় ছিল না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৩) এদের পূর্বে আমি কত জনপদ ধ্বংস করেছি;[1] তখন ওরা সাহায্যের জন্য চীৎকার করেছিল। কিন্তু ওদের পরিত্রাণের কোনই উপায় ছিল না।[2]
[1] যারা এদের থেকে অনেক পরাক্রমশালী ও শক্তিশালী ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস ও অস্বীকার করার জন্য তাদেরকে মন্দ ফল ভোগ করতে হয়।
[2] অর্থাৎ, তারা আল্লাহর শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর সাহায্যের জন্য ডেকেছিল এবং তওবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তখন না ছিল তওবা কবুল হওয়ার সময়, আর না ছিল পালানোর কোন পথ। ফলে না তাদের ঈমান উপকারে আসে, আর না পালিয়ে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়। لات শব্দটি আসলে কেবল لا এখানে ت অক্ষরটি বাড়তি সংযুক্ত হয়েছে; যেমন ثَمَّ তে যুক্ত হয়ে ثَمَّةَ বলা হয়। مَنَاص - نَاصَ يَنُوْصُ এর ক্রিয়ামূল, যার অর্থ হল পলায়ন করা ও পিছে হটা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তারা বিস্মিত হল যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী’। আল-বায়ান
আর তারা (এ ব্যাপারে) বিস্ময়বোধ করল যে, তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিরগণ বলল- ’এটা একটা যাদুকর, মিথ্যুক। তাইসিরুল
তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদের নিকট তাদেরই মধ্য হতে একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিরেরা বলেঃ এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী, মুজিবুর রহমান
And they wonder that there has come to them a warner from among themselves. And the disbelievers say, "This is a magician and a liar. Sahih International
৪. আর তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের কাছে এদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী আসল এবং কাফিররা বলে, এ তো এক জাদুকর(১), মিথ্যাবাদী৷
(১) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য জাদুকর শব্দটি তারা যে অর্থে ব্যবহার করতো তা হচ্ছে এই যে, তিনি মানুষকে এমন কিছু জাদু করতেন যার ফলে তারা পাগলের মতো তাঁর পেছনে লেগে থাকতো। কোন সম্পর্কচ্ছেদ করার বা কোন প্রকার ক্ষতির মুখোমুখি হবার কোন পরোয়াই তারা করতো না। পিতা পুত্ৰকে এবং পুত্র পিতাকে ত্যাগ করতো। স্ত্রী স্বামীকে ত্যাগ করতো এবং স্বামী স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে যেতো। হিজরাত করার প্রয়োজন দেখা দিলে একেবারে সবকিছু সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বদেশভূমি থেকে বের হয়ে পড়তো। কারবার শিকেয় উঠুক এবং সমস্ত জ্ঞাতিভাইরা বয়কট করুক কোনদিকেই দৃষ্টিপাত করতো না। কঠিন থেকে কঠিনতর শারীরিক কষ্টও বরদাশত করে নিতো কিন্তু ঐ ব্যক্তির পেছনে চলা থেকে বিরত হতো না। [দেখুন: কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪) এদের নিকট এদেরই মধ্য হতে একজন সতর্ককারী এল;[1] এতে এরা বিস্ময়বোধ করল এবং অবিশ্বাসীরা বলল, ‘এ তো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী!
[1] অর্থাৎ, তাদের মতই একজন মানুষ কিভাবে রসূল হয়ে গেলেন!
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘সে কি সকল উপাস্যকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্য বিষয়’! আল-বায়ান
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে ফেলেছে? এটা বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার তো!’ তাইসিরুল
সে কি অনেক মা‘বূদের পরিবর্তে এক মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! মুজিবুর রহমান
Has he made the gods [only] one God? Indeed, this is a curious thing." Sahih International
৫. সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটা তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার!
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৫) সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার।’[1]
[1] অর্থাৎ, এক আল্লাহই সারা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকারী, তাঁর কোন অংশীদার নেই। অনুরূপ প্রার্থনা, কুরবানী, নযর-নিয়ায প্রভৃতি ইবাদতেরও অধিকারী একমাত্র তিনিই -এসব তাদের জন্য অতি আশ্চর্যের বিষয় ছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তাদের প্রধানরা চলে গেল একথা বলে যে, ‘যাও এবং তোমাদের উপাস্যগুলোর উপর অবিচল থাক। নিশ্চয় এ বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত’। আল-বায়ান
তাদের প্রধানরা প্রস্থান করে এই ব’লে যে, ‘তোমরা চলে যাও আর অবিচলিত চিত্তে তোমাদের ইলাহ্দের পূজায় লেগে থাক। অবশ্যই এ ব্যাপারটির পিছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। তাইসিরুল
তাদের প্রধানরা সরে পড়ে এই বলেঃ তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলির পূজায় তোমরা অটল থাক। নিশ্চয়ই এ ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। মুজিবুর রহমান
And the eminent among them went forth, [saying], "Continue, and be patient over [the defense of] your gods. Indeed, this is a thing intended. Sahih International
৬. আর তাদের নেতারা এ বলে সরে পড়ে যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় তোমরা অবিচলিত থাক। নিশ্চয় এ ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৬) ওদের প্রধানেরা এ বলে সরে পড়ল, ‘তোমরা চল এবং তোমাদের দেবতাগুলির পূজায় তোমরা অবিচলিত থাক।[1] নিশ্চয়ই এটি কোন উদ্দেশ্যমূলক। [2]
[1] অর্থাৎ, নিজের ধর্মের উপর অটল থাক এবং মূর্তিপূজা করতে থাক, মুহাম্মাদের কথায় কান দিয়ো না!
[2] অর্থাৎ, সে আসলে আমাদেরকে আমাদের উপাস্য থেকে দূরে সরিয়ে তাঁর অনুসারী বানাতে এবং নিজের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব মানাতে চাচ্ছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআমরা তো সর্বশেষ ধর্মে এমন কথা শুনিনি*। এটা তো বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়। আল-বায়ান
এমন কথা তো আমাদের নিকট অতীতের মিল্লাতগুলো থেকে শুনিনি। এটা শুধু একটা মন-গড়া কথা। তাইসিরুল
আমরাতো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি; এটা এক মনগড়া উক্তি মাত্র। মুজিবুর রহমান
We have not heard of this in the latest religion. This is not but a fabrication. Sahih International
* তাদের জন্য সর্বশেষ ধর্ম ছিল খৃস্টধর্ম। কারো কারো মতে তা ছিল কুরাইশদের ধর্ম।
৭. আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে(১) এরূপ কথা শুনিনি; এটা এক মনগড়া উক্তি মাত্র।
(১) অন্য ধর্মদর্শ বলে কি বুঝানো হয়েছে এ ব্যাপারে মতভেদ আছে। ইবনে আব্বাস থেকে এক বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, এখানে সর্বশেষ মিল্লাত নাসারাদের দ্বীনকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। অপর বর্ণনা মতে এখানে কুরাইশদের পুর্বপুরুষদের দ্বান বুঝানো হয়েছে। [কুরতুবী, বাগভী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৭) আমরা শেষ ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি;[1] এটি এক মনগড়া উক্তি। [2]
[1] শেষ বা পূর্ব ধর্মাদর্শ বলতে তাদেরই কুরাইশী ধর্মাদর্শ অথবা খ্রিষ্টান ধর্মকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, মুহাম্মাদ যে তাওহীদের দাওয়াত দিচ্ছে, সে সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে অন্য কোন ধর্মে শ্রবণ করিনি।
[2] অর্থাৎ, এই প্রকার তাওহীদ তাঁর নিজের মনগড়া, তাছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মেও আল্লাহর সাথে অন্যকে উপাস্য হওয়াতে অংশীদার মানা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আমাদের মধ্য থেকে তার উপরই কি কুরআন নাযিল করা হল’? বরং তারা আমার কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার আযাব আস্বাদন করেনি। আল-বায়ান
আমাদের মধ্যে তার কাছেই কি বাণী পাঠানো হয়েছে?’ আসলে তারা আমার বাণীতে সন্দিহান, (তার কারণ) তারা এখনও আমার শাস্তির স্বাদ পায়নি। তাইসিরুল
আমাদের মধ্য হতে কি তারই উপর কুরআন অবতীর্ণ হল? প্রকৃত পক্ষে তারা আমার কুরআনে সন্দিহান, তারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি। মুজিবুর রহমান
Has the message been revealed to him out of [all of] us?" Rather, they are in doubt about My message. Rather, they have not yet tasted My punishment. Sahih International
৮. আমাদের মধ্যে কি তারই উপর যিকর (বাণী) নাযিল হল? প্রকৃতপক্ষে তারা তো আমার বাণীতে (কুরআনে) সন্দিহান। বরং তারা এখনো আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮) আমরা এত লোক থাকতে কি তারই ওপর কুরআন অবতীর্ণ করা হল?’[1] ওরা তো প্রকৃতপক্ষে আমার কুরআনে সন্দিহান,[2] ওরা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি। [3]
[1] অর্থাৎ, মক্কাতে অনেক বড় বড় সর্দার ও নেতাগণ আছেন, যদি আল্লাহ কাউকে নবী বানাতে চাইতেন তবে তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নিয়ে বানাতেন। তাঁদেরকে বাদ দিয়ে অহী ও রিসালাতের জন্য মুহাম্মাদকে চয়ন করা আশ্চর্যের ব্যাপার! ঠিক যেন তারা আল্লাহর চয়নে ভুল বের করল। এটা সত্য যে, কাজের ইচ্ছা না থাকলে বিভিন্ন বাহানা দেওয়া হয়। অন্য স্থানেও এই বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন দেখুনঃ সূরা যুখরুফের ৩১-৩২ আয়াত।
[2] অর্থাৎ, তাদের অস্বীকার এই জন্য নয় যে, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সত্যবাদিতার জ্ঞান তাদের নিকটে ছিল না অথবা তাঁর সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির ব্যাপারে তারা সন্দিহান ছিল। বরং আসলে তারা সেই অহীর উপরে সন্দেহ পোষণ করত, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল, যার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল তাওহীদের দাওয়াত।
[3] কারণ শাস্তি আস্বাদন করলে এমন স্পষ্ট বস্তুকে অস্বীকার ও মিথ্যা মনে করত না। আর যখন তারা সেই অস্বীকারের শাস্তি সত্যই আস্বাদন করবে, তখন এমন সময় হবে যে, না তাদের সবীকারোক্তি কাজে আসবে, আর না ঈমান কোন উপকারে আসবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতাদের কাছে কি তোমার রবের রহমতের ভান্ডার রয়েছে যিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম দাতা। আল-বায়ান
(রহমতের ভান্ডার আছে আমার কাছে, তাত্থেকে যাকে যতখানি ইচ্ছে আমি দেই) তাদের কাছে কি তোমার প্রতিপালকের রহমতের ভান্ডার আছে যিনি মহা প্রতাপশালী, অসীম দাতা? তাইসিরুল
তাদের নিকট কি রয়েছে অনুগ্রহের ভান্ডার তোমার রবের, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা? মুজিবুর রহমান
Or do they have the depositories of the mercy of your Lord, the Exalted in Might, the Bestower? Sahih International
৯. নাকি তাদের কাছে আছে আপনার রবের অনুগ্রহের ভাণ্ডার, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৯) ওদের নিকট কি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভান্ডার আছে, যিনি পরাক্রমশালী, মহাদাতা?[1]
[1] অতএব তারা যাকে ইচ্ছা দেবে, আর যাকে ইচ্ছা দেবে না, আর সেই ভান্ডারের একটি সম্পদ নবুঅতও? পক্ষান্তরে যদি তা না হয়, বরং প্রভুর অনুগ্রহের ভান্ডারের মালিক সেই মহাদাতা হন; যিনি অতি দানশীল, তাহলে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতকে তারা অস্বীকার করে কেন? যা সেই মহাদাতা প্রভু তাঁর বিশেষ অনুগ্রহে তাঁকে দান করেছেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানঅথবা আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার মালিকানা কি তাদের? তাহলে তারা আরোহণ করুক (আসমানে উঠার) কোন উপায় অবলম্বন করে। আল-বায়ান
কিংবা আকাশ ও পৃথিবী- এ দু’ এর মাঝে যা আছে তার সর্বময় ক্ষমতা কি তাদের আছে? তাহলে তারা বিশ্ব পরিচালনার উচ্চস্থানে উঠে পড়ুক। তাইসিরুল
তাদের কি সার্বভৌমত্ব আছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছুর উপর? থাকলে তারা সিড়ি বেয়ে আরোহণ করুক। মুজিবুর রহমান
Or is theirs the dominion of the heavens and the earth and what is between them? Then let them ascend through [any] ways of access. Sahih International
১০. নাকি তাদের কর্তৃত্ব আছে আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দুয়ের অন্তর্বতী সমস্ত কিছুর উপর? থাকলে, তারা কোন উপায় অবলম্বন করে আরোহণ করুক!
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১০) ওদের কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর (উপর) সার্বভৌমত্ব আছে? থাকলে, ওরা মাধ্যমযোগে (আকাশে) আরোহণ করুক! [1]
[1] অর্থাৎ, আকাশে উঠে সেই অহী বন্ধ করে দিক, যা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়। أسباب শব্দটি سَبَب এর বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ হলঃ ঐ সকল বস্তু যার মাধ্যমে নিজ অভীষ্ট পর্যন্ত পৌঁছনো যায়, তাতে সে যে কোন বস্তুই হোক। যার ফলে তার বিভিন্ন অর্থ করা হয়েছে। (এর ব্যাপক অর্থঃ মাধ্যম।) রশি ছাড়া আর একটি দ্বিতীয় অর্থ ‘দরজা’ও করা হয়েছে। যে দরজা দিয়ে ফিরিশতাগণ পৃথিবীতে অবতরণ করেন। অর্থাৎ সিঁড়ির সাহায্যে আকাশের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যাও এবং অহী আসা বন্ধ করে দাও। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানএ বাহিনী তো সেখানে* পরাজিত হবে (পূর্ববর্তী) দলসমূহের মত। আল-বায়ান
(আরবের কাফিরদের) সম্মিলিত বাহিনীর এই দলটি এখানেই (অর্থাৎ এই মক্কা নগরীতেই একদিন) পরাজিত হবে। তাইসিরুল
বহু দলের এই বাহিনীও সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হবে। মুজিবুর রহমান
[They are but] soldiers [who will be] defeated there among the companies [of disbelievers]. Sahih International
* هناك দ্বারা মক্কার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারো কারো মতে বদর দিবসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১১. এ বাহিনী সেখানে অবশ্যই পরাজিত হবে, পূর্ববর্তী দলসমূহের মত।(১)
(১) অর্থাৎ যেভাবে পূর্ববর্তী সময়ের লোকেরা তাদের নবীর উপর মিথ্যারোপ করার কারণে পরাজিত হয়েছে, তেমনি এ মিথ্যারোপকারী কাফের বাহিনীও পরাজিত হবে। এখন তাদেরকে কখন পরাজিত করা হয়েছে সে ব্যাপারে কারও কারও মত হচ্ছে, বদরের যুদ্ধে। [মুয়াসসার, কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১১) (ওরা বড় বড়) বাহিনীর নিকটে পরাজিত একটি (ছোট) সেনাদল। [1]
[1] جُنْدٌ শব্দটি ঊহ্য মুবতাদা (উদ্দেশ্য) هم এর খবর (বিধেয়) এবং ما তাকীদ স্বরূপ অসামান্য বা সামান্য বুঝাবার জন্য ব্যবহার হয়েছে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী (সাঃ)-কে সাহায্য এবং কাফেরদের পরাজয়ের প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ কাফেরদের এই দল বাতিলপন্থী দল, এই দল বড় হোক বা ছোট আদৌ তার পরোয়া করবে না এবং তাদেরকে ভয়ও করবে না। পরাজয়ই তাদের ভাগ্যে আছে। هُنَالِكَ দ্বারা দূর স্থানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা বদরের যুদ্ধ ও মক্কা বিজয়ের দিনও হতে পারে, যেখানে কাফেররা শিক্ষামূলক পরাজয়ের শিকার হয়েছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতাদের পূর্বেও অস্বীকার করেছিল নূহের কওম, আদ ও বহু অট্টালিকার অধিপতি ফির‘আউন, আল-বায়ান
তাদের পূর্বে নূহের জাতি, ‘আদ ও বহু সেনা শিবিরের অধিপতি ফেরাউনও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল। তাইসিরুল
তাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ, বহু শিবিরের অধিপতি ফির‘আউন – মুজিবুর রহমান
The people of Noah denied before them, and [the tribe of] 'Aad and Pharaoh, the owner of stakes, Sahih International
১২. এদের আগেও রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ ও কীলকওয়ালা ফিরআউন(১),
(১) এর শাব্দিক অৰ্থ-“কীলকওয়ালা ফেরাউন”। এর তাফসীরে তাফসীরবিদদের উক্তি বিভিন্নরূপ। কেউ কেউ বলেনঃ এতে তার সাম্রাজ্যের দৃঢ়তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ সে মানুষকে চিৎ করে শুইয়ে তার চার হাত-পায়ে কীলক এটে দিত এবং তার উপরে সাপ-বিছু ছেড়ে দিত। এটাই কি ছিল তার শাস্তি দানের পদ্ধতি। কেউ কেউ বলেনঃ সে রশি ও কীলক দ্বারা বিশেষ এক প্রকার খেলা খেলত। কেউ কেউ আরও বলেনঃ এখানে কীলক বলে অট্রালিকা বোঝানো হয়েছে। সে সুদৃঢ় অট্টালিকা নির্মাণ করেছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, এখানে সে যে বহু সেনাদলের অধিপতি ছিল এবং তাদের ছাউনির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আবার সম্ভবত কীলক বলতে মিসরের পিরামিডও বুঝানো যেতে পারে, কেননা এগুলো যমীনের মধ্যে কীলকের মতো গাঁথা রয়েছে। [দেখুন: কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১২) এদের পূর্বেও রসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, নূহ, আ’দ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফিরআউন সম্প্রদায়। [1]
[1] ذو الأوتاد এর আসল অর্থঃ গোঁজ বা কীলক-ওয়ালা। এর মর্মার্থ এই যে, ফিরআউন বিশাল সংখ্যক সেনাবাহিনীর অধিপতি ছিল। যার ছিল অনেক অনেক শিবির বা তাঁবু; যা মাটিতে কীলক গেড়ে টাঙ্গানো হত। অথবা তাকে কীলকওয়ালা এই জন্য বলা হয়েছে যে, যালেম যখন কোন ব্যক্তির উপর অসন্তুষ্ট হত, তখন তার হাত-পা এবং মাথায় কীলক এঁটে দিত। অথবা এর দ্বারা তার শক্তি ও সাম্রাজ্যের সুদৃঢ়তা প্রকাশ করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, যেমন কীলক দ্বারা কোন বস্তুকে দৃঢ় করা হয় অনুরূপ তার অনুসারীরা তার সাম্রাজ্যকে শক্ত ও দৃঢ় করতে সাহায্য করত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানসামূদ, কওমে লূত ও আইকার অধিবাসীরা। এরাই ছিল (নবীদের বিরুদ্ধাচরণকারী) দলসমূহ । আল-বায়ান
আর সামূদ, লূতের জাতি ও আইকাবাসী- এরা ছিল বিরাট বিরাট দল। তাইসিরুল
আর সামূদ, লূত সম্প্রদায় ও আইকা’র অধিবাসী। তারা ছিল এক একটি বিশাল বাহিনী। মুজিবুর রহমান
And [the tribe of] Thamud and the people of Lot and the companions of the thicket. Those are the companies. Sahih International
১৩. সামূদ, লুত সম্প্রদায় ও আইকা'র অধিবাসী; ওরা ছিল এক-একটি বিশাল বাহিনী।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৩) সামূদ, লূত ও আইকাবাসী (শুআইব সম্প্রদায়),[1] ওরাও ছিল এক একটি বিশাল বাহিনী।
[1] আইকাবাসী কারা ছিল, তা জানার জন্য দেখুন সূরা শুআরার ১৭৬নং আয়াতের টীকা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানপ্রত্যেকেই তো রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমার আযাব অবধারিত হয়েছিল। আল-বায়ান
এদের কেউই এমন নয় যারা রসূলদেরকে অস্বীকার করেনি। ফলে (তাদের উপর) আমার শাস্তি হয়েছিল অবধারিত। তাইসিরুল
তাদের প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে আমার শাস্তি হয়েছে যথার্থ। মুজিবুর রহমান
Each of them denied the messengers, so My penalty was justified. Sahih International
১৪. তাদের প্রত্যেকেই রাসূলগণের প্ৰতি মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে তাদের ক্ষেত্রে আমার শান্তি ছিল যথার্থ।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৪) ওদের প্রত্যেকেই রসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে। ফলে, ওদের ক্ষেত্রে আমার শাস্তি বাস্তব হয়েছে।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর এরা তো কেবল একটি বিকট আওয়াজের অপেক্ষা করছে যাতে কোন বিরাম থাকবে না। আল-বায়ান
(আজ) এই লোকেরা তো প্রচন্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। তাইসিরুল
তারাতো অপেক্ষা করছে একটি মাত্র প্রচন্ড নিনাদের যাতে কোন বিরাম থাকবেনা। মুজিবুর রহমান
And these [disbelievers] await not but one blast [of the Horn]; for it there will be no delay. Sahih International
১৫. আর এরা তো কেবল অপেক্ষা করছে একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দের, যাতে কোন বিরাম থাকবে না।(১)
(১) আরবীতে فواق এর একাধিক অর্থ হয়। (এক) একবার দুগ্ধ দোহনের পর পুনরায় স্তনে দুগ্ধ আসার মধ্যবর্তী সময়কে فواق বলা হয়। (দুই) সুখ-শান্তি। উদ্দেশ্য এই যে, ইসরাফিলের শিঙ্গার ফুক অনবরত চলতে থাকবে এতে কোন বিরতি হবে না। [দেখুন- বাগভী, কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৫) এরা তো অপেক্ষা করছে এক মহাগর্জনের,[1] যাতে কোন বিরতি থাকবে না।[2]
[1] অর্থাৎ, শিঙ্গায় ফুৎকারের, যাতে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।
[2] দুধ দোহনকারী একবার দুধ দোহনের পর বাছুরকে উটনী, গাই বা মহিষের (অর্থাৎ তার মায়ের) নিকট ছেড়ে দেয়, যাতে তার দুধ পান করার ফলে পুনরায় স্তনে অধিক পরিমাণে দুধ এসে জমা হয়। সুতরাং কিছুক্ষণ পরে বাছুরকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে পুনরায় দুধ দোহন করতে আরম্ভ করে। উক্ত দুইবার দুধ দোহনের মধ্যবর্তী সময়কে فَوَاق বলা হয়। অর্থাৎ শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার পর এতটুকুও সময় পাওয়া যাবে না, বরং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই কিয়ামতের ভূমিকম্প আরম্ভ হয়ে যাবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তারা বলে, হে ‘আমাদের রব, হিসাব দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন’। আল-বায়ান
এরা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! হিসাবের দিনের আগেই আমাদের প্রাপ্য (শাস্তি) আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন। তাইসিরুল
তারা বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! বিচার দিনের পূর্বেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে শীঘ্র দিয়ে দাও। মুজিবুর রহমান
And they say, "Our Lord, hasten for us our share [of the punishment] before the Day of Account" Sahih International
১৬. আর তারা বলে, হে আমাদের রব! হিসাব দিবসের আগেই আমাদের প্ৰাপ্য(১) আমাদেরকে শীঘ্রই দিয়ে দিন!
(১) আসলে কাউকে পুরস্কার দানের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত দলীল দস্তাবেজকে قط বলা হয়। কিন্তু পরে শব্দটি “অংশ” অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। এখানে তা-ই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তি ও প্রতিদানে আমাদের যা অংশ রয়েছে, তা এখানেই আমাদেরকে দিয়ে দিন। [তাবারী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৬) এরা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! বিচার দিনের পূর্বেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে সত্বর দিয়ে দাও!’ [1]
[1] قِطٌ এর অর্থ হলঃ প্রাপ্য অংশ বা ভাগ। এখানে উদ্দেশ্য হল আমলনামা বা প্রাপ্য অংশ। অর্থাৎ, আমাদের আমলনামা অনুযায়ী শাস্তি ও পুরস্কারে আমাদের যা অংশ রয়েছে, তা কিয়ামত আসার পূর্বে এখানেই আমাদেরকে দিয়ে দাও। এটা সত্যই يَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ‘তারা তোমাকে শাস্তি তরান্বিত করতে বলে’এর মত কথা। এই কথাটি তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া অসম্ভব ভেবে ঠাট্টা ও বিদ্রূপ স্বরূপ বলে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতারা যা বলে সে ব্যাপারে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদকে স্মরণ কর; সে ছিল অধিক আল্লাহ অভিমুখী। আল-বায়ান
এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর, আর আমার বান্দাহ দাঊদের কথা স্মরণ কর, সে ছিল শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারী আর বড়ই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাইসিরুল
তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আর স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় আল্লাহর অভিমুখী। মুজিবুর রহমান
Be patient over what they say and remember Our servant, David, the possessor of strength; indeed, he was one who repeatedly turned back [to Allah]. Sahih International
১৭. তারা যা বলে তাতে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং স্মরণ করুন আমাদের শক্তিশালী বান্দা দাউদের কথা; তিনি ছিলেন খুব বেশী আল্লাহ অভিমুখী।(১)
(১) এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় সালাত ছিল দাউদ আলাইহিস সালাম এর সালাত এবং সর্বাধিক পছন্দনীয় সাওম ছিল দাউদ আলাইহিস সালাম-এর সাওম। তিনি অর্ধারাত্রি নিদ্রা যেতেন, এক তৃতীয়াংশ ইবাদত করতেন এবং পুনরায় রাত্রির ষষ্ঠাংশে নিদ্রা যেতেন এবং তিনি একদিন পর পর রোযা রাখতেন। [বুখারী: ১১৩১, মুসলিম: ১১৫৯] অন্য বর্ণনায় এসেছে, শক্রর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না। [বুখারী: ১৯৭৭, মুসলিম: ১১৫৯] অন্য বর্ণনায় এসেছে, “তিনি কখনো ওয়াদা খেলাফ করতেন না, শক্রর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না।’ [মুসনাদে আহমাদ:২/২০০]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৭) এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বলবান[1] দাস দাঊদের কথা; নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় আল্লাহ-অভিমুখী।
[1] এখানে أَيْدٍ - يَدٌ (হাত) এর বহুবচন নয়। বরং এটা آدَ يَئِيْدُ এর মাসদার (ক্রিয়ামূল) যার অর্থ ‘শক্তি ও প্রবলতা’। এ থেকেই تأييد - تقويت অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এখানে শক্তির অর্থ হল দ্বীনি শক্তি ও সুদৃঢ়তা। যেমন হাদীসে বর্ণনা হয়েছে যে, ‘‘আল্লাহর তাআলার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় (রাতের) নামায হল, দাউদ (আঃ)-এর নামায এবং সর্বাধিক পছন্দনীয় রোযা হল দাউদ (আঃ)-এর রোযা। তিনি অর্ধরাত্রি নিদ্রা যেতেন, অতঃপর এক তৃতীয়াংশ নামায পড়তেন এবং পুনরায় রাত্রির ষষ্ঠাংশে নিদ্রা যেতেন। আর তিনি একদিন পর পর রোযা রাখতেন এবং যুদ্ধে গিয়ে কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না। (বুখারী)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআমি পর্বতমালাকে অনুগত করেছিলাম, তার সাথে এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবীহ পাঠ করত। আল-বায়ান
আমি পর্বতমালাকে কাজে নিয়োজিত করেছিলাম, তারা তার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। তাইসিরুল
আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, ওরা সকাল সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। মুজিবুর রহমান
Indeed, We subjected the mountains [to praise] with him, exalting [Allah] in the [late] afternoon and [after] sunrise. Sahih International
১৮. নিশ্চয় আমরা অনুগত করেছিলাম পর্বতমালাকে, যেন এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৮) আমি পর্বতমালাকে তার বশীভূত করেছিলাম; ঐগুলি সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর সমবেত পাখীদেরকেও (অনুগত করেছিলাম); প্রত্যেকেই ছিল অধিক আল্লাহ অভিমুখী। আল-বায়ান
আর পাখীরা সমবেত হত, সকলেই তার সঙ্গে আল্লাহ অভিমুখী হত (তাসবীহ করার মাধ্যমে)। তাইসিরুল
এবং সমবেত বিহংকুলকেও, সবাই ছিল তার অভিমুখী। মুজিবুর রহমান
And the birds were assembled, all with him repeating [praises]. Sahih International
১৯. এবং সমবেত পাখীদেরকেও; সবাই ছিল তার অভিমুখী।(১)
(১) এ আয়াতে দাউদ আলাইহিসসালাম-এর সাথে পর্বতমালা ও পক্ষীকুলের ইবাদতের তাসবীহে শরীক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এর ব্যাখ্যা সূরা আম্বিয়া ও সূরা সাবায় বর্ণিত হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, পর্বতমালা ও পক্ষীকুলের তাসবীহ পাঠকে আল্লাহ তা’আলা এখানে দাউদ আলাইহিস সালাম-এর প্রতি নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ, এতে দাউদ আলাইহিস সালাম-এর একটি মু'জিযা প্রকাশ পেয়েছে। বলাবাহুল্য, মু'জিযা এক বড় নেয়ামত। [দেখুন: কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৯) এবং (বশীভূত করেছিলাম) পক্ষীকুলকেও সমবেত অবস্থায়, সকলেই ছিল তার অনুসারী।[1]
[1] অর্থাৎ, এগুলি সবই দাঊদের অনুসারী ছিল। অথবা এগুলি সবই আল্লাহ-অভিমুখী। অর্থাৎ, সকাল-সন্ধ্যায় পর্বতমালা দাউদ (আঃ) এর সাথে তসবীহ পাঠে রত হত এবং উড়ন্ত পক্ষীকুলও যবুর পড়া শুনে শূন্যে জমায়েত হত এবং তাঁর সাথে তসবীহ পাঠ করত। ‘مَحْشُوْرَة ’ অর্থ ‘জমায়েত অবস্থায়’।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দিয়েছিলাম। আল-বায়ান
আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম, আর তাকে দিয়েছিলাম জ্ঞান-বুদ্ধি-বিচক্ষণতা আর বিচারকার্য ও কথাবার্তায় উত্তম সিদ্ধান্ত দানের যোগ্যতা। তাইসিরুল
আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফাইসালাকারী বাগ্মিতা। মুজিবুর রহমান
And We strengthened his kingdom and gave him wisdom and discernment in speech. Sahih International
২০. আর আমরা তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে দিয়েছিলাম হিকমত ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা।(১)
(১) হিকমত অর্থ প্রজ্ঞা। অর্থাৎ আমি তাকে অসাধারণ বিবেকবুদ্ধি দান করেছিলাম। কেউ কেউ হিকমতের অর্থ নিয়েছেন নবুওয়াত। (وَفَصْلَ الْخِطَابِ) এর বিভিন্ন তাফসীর করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, এর ভাবাৰ্থ অসাধারণ বাগ্মিতা। দাউদ আলাইহিস সালাম উচ্চস্তরের বক্তা ছিলেন। বক্তৃতায় হামদ ও সালাতের পর اما بعد শব্দ সর্বপ্রথম তিনিই বলেছিলেন। তার বক্তব্য জটিল ও অস্পষ্ট হতো না। সমগ্ৰ ভাষণ শোনার পর শ্রোতা একথা বলতে পারতো না যে তিনি কি বলতে চান তা বোধগম্য নয়। বরং তিনি যে বিষয়ে কথা বলতেন তার সমস্ত মূল কথাগুলো পরিষ্কার করে তুলে ধরতেন এবং আসল সিদ্ধান্ত প্ৰত্যাশী বিষয়টি যথাযথভাবে নির্ধারণ করে দিয়ে তার দ্ব্যর্থহীন জবাব দিয়ে দিতেন। কোন ব্যক্তি জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা বিচার-বিবেচনা ও বাকচাতুর্যের উচ্চতম পর্যায়ে অবস্থান না করলে এ যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। কেউ কেউ বলেন, এর ভাবাৰ্থ সর্বোত্তম বিচারশক্তি। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে ঝগড়া-বিবাদ মেটানো ও বাদানুবাদ মীমাংসা করার শক্তি দান করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে শব্দের মধ্যে একই সময়ে উভয় অর্থের পুরোপুরি অবকাশ রয়েছে। [তাবারী]
তাফসীরে জাকারিয়া(২০) আমি তার রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম[1] এবং তাকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা[2] ও বাগ্মিতা। [3]
[1] সর্বপ্রকার বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক মাধ্যম দ্বারা।
[2] অর্থাৎ, নবুঅত, প্রজ্ঞা, সঠিক কথা ও কর্ম।
[3] অর্থাৎ, বিচার ও ফায়সালা করার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বুঝ শক্তি এবং প্রমাণ উপস্থাপনা করার ক্ষমতা ও বর্ণনা শক্তি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান