সূরাঃ ৪১/ হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) | Fussilat | فُصِّلَت আয়াতঃ ৫৪ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়ার শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
আহসানুল বায়ানের শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৪১ : ২১ وَ قَالُوۡا لِجُلُوۡدِهِمۡ لِمَ شَهِدۡتُّمۡ عَلَیۡنَا ؕ قَالُوۡۤا اَنۡطَقَنَا اللّٰهُ الَّذِیۡۤ اَنۡطَقَ كُلَّ شَیۡءٍ وَّ هُوَ خَلَقَكُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۱﴾
و قالوا لجلودهم لم شهدتم علینا قالوا انطقنا الله الذی انطق كل شیء و هو خلقكم اول مرۃ و الیه ترجعون ﴿۲۱﴾

আর তারা তাদের চামড়াগুলোকে বলবে, ‘কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে’? তারা বলবে, ‘আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ আল-বায়ান

তারা তাদের চামড়াকে বলবে- আমাদের বিরুদ্ধে কেন সাক্ষ্য দিচ্ছ? তারা উত্তর দিবে- আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকেই (আজ) কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তাইসিরুল

জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবেঃ তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তারা বলবেঃ আল্লাহ! যিনি সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। মুজিবুর রহমান

And they will say to their skins, "Why have you testified against us?" They will say, "We were made to speak by Allah, who has made everything speak; and He created you the first time, and to Him you are returned. Sahih International

২১. আর তারা (জাহান্নামীরা) তাদের ত্বককে বলবে, কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে? তারা বলবে, আল্লাহ্‌ আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্ৰত্যাবর্তিত হবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২১) জাহান্নামীরা ওদের চামড়াকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন?’[1] উত্তরে চামড়া বলবে, ‘আল্লাহ যিনি সমস্ত কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরও বাকশক্তি দিয়েছেন।’ তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [2]

[1] অর্থাৎ, মুশরিক ও কাফেররা যখন দেখবে যে, তাদেরই অঙ্গগুলো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে, তখন বিস্মিত অথবা ক্ষুব্ধ হয়ে ধমকের স্বরে এ কথা বলবে।

[2] কেউ কেউ وَهُوَ (তিনি তোমাদেরকে) থেকে আল্লাহর উক্তি বলেছেন। এই দিক দিয়ে এটা হবে ‘জুমলাহ মুস্তা’নিফাহ’ (বিচ্ছিন্ন নতুন বাক্য)। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটা মানুষের চামড়ারই কথা। এই দিক দিয়ে এটা হবে সেই কথার অবশিষ্ট অংশ। কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ইতিপূর্বে সূরা নূরের ২৪নং আয়াতে এবং সূরা ইয়াসীনের ৬৫নং আয়াতেও উল্লিখিত হয়েছে। অনুরূপ সহীহ হাদীসসমূহে এ কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, যখন আল্লাহর নির্দেশে মানুষের অঙ্গগুলো বাক্যালাপে সব কিছু বলে দেবে, তখন বান্দা বলবে, بُعْدًا لَّكُنَّ وَسُحْقًا، فَعَنْكُنَّ كُنْتُ أُنَاضِلُ ‘‘তোমরা ধ্বংস হও, দূর হও। আমি তোমাদের জন্যই ঝগড়া ও দোষখন্ডন করছিলাম।’’ (মুসলিমঃ কিতাবুয্ যুহদ) এই বর্ণনাতেই এসেছে যে, বান্দা বলবে, ‘আমি আমার নিজের দেহ ব্যতীত অন্য কারো সাক্ষ্য মানব না।’ তখন মহান আল্লাহ বলবেন, ‘আমি এবং আমার সম্মানিত লেখক ফিরিশতাগণ কি সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট নই?’ অতঃপর তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের অঙ্গগুলোকে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হবে। (ঐ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২২ وَ مَا كُنۡتُمۡ تَسۡتَتِرُوۡنَ اَنۡ یَّشۡهَدَ عَلَیۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَ لَاۤ اَبۡصَارُكُمۡ وَ لَا جُلُوۡدُكُمۡ وَ لٰكِنۡ ظَنَنۡتُمۡ اَنَّ اللّٰهَ لَا یَعۡلَمُ كَثِیۡرًا مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۲﴾
و ما كنتم تستترون ان یشهد علیكم سمعكم و لا ابصاركم و لا جلودكم و لكن ظننتم ان الله لا یعلم كثیرا مما تعملون ﴿۲۲﴾

তোমরা কিছুই গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখসমূহ ও চামড়াসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না, বরং তোমরা মনে করেছিলে যে, তোমরা যা কিছু করতে আল্লাহ তার অনেক কিছুই জানেন না। আল-বায়ান

(দুনিয়ায় নিজেদের শরীরের অংশগুলোকে তোমরা) এই ভেবে গোপন করতে না যে, না তোমাদের কান, না তোমাদের চোখ আর না তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা কর তার অধিকাংশই আল্লাহ জানেন না। তাইসিরুল

তোমরা কিছু গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেনা; উপরন্ত তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেননা। মুজিবুর রহমান

And you were not covering yourselves, lest your hearing testify against you or your sight or your skins, but you assumed that Allah does not know much of what you do. Sahih International

২২. আর তোমরা কিছুই গোপন করতে না এ বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখ ও ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না—বরং তোমরা মনে করেছিলে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২২) তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না --এ বিশ্বাসে তোমরা এদের নিকট কিছু গোপন করতে না;[1] উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে, তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না! [2]

[1] এর অর্থ হল, তোমরা পাপকাজ করার সময় মানুষকে গোপন করার চেষ্টা তো করেছিলে, কিন্তু এ ব্যাপারে তোমাদের কোনই আশঙ্কা ছিল না যে, তোমাদের বিরুদ্ধে স্বয়ং তোমাদের অঙ্গগুলো সাক্ষ্য দেবে। তাই তাদের নিকট থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করার কোনই প্রয়োজন তোমরা অনুভব করনি। আর এর কারণ ছিল, তোমাদের পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা এবং তার উপর বিশ্বাস না রাখা।

[2] এই জন্য তোমরা আল্লাহর সীমা উল্লংঘন এবং তাঁর অবাধ্যাচরণ করতে ভয়শূন্য ছিলে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৩ وَ ذٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ الَّذِیۡ ظَنَنۡتُمۡ بِرَبِّكُمۡ اَرۡدٰىكُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۲۳﴾
و ذلكم ظنكم الذی ظننتم بربكم اردىكم فاصبحتم من الخسرین ﴿۲۳﴾

আর তোমাদের এ ধারণা যা তোমরা তোমাদের রব সম্পর্কে পোষণ করতে, তাই তোমাদের ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে। আল-বায়ান

তোমাদের এই (ভুল) ধারণাই- যা তোমরা তোমাদের প্রতিপালক সম্পর্কে পোষণ করতে- তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে, ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হয়ে গেছ। তাইসিরুল

তোমাদের রাব্ব সম্বন্ধে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছ ক্ষতিগ্রস্ত। মুজিবুর রহমান

And that was your assumption which you assumed about your Lord. It has brought you to ruin, and you have become among the losers." Sahih International

২৩. আর তোমাদের রব সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদের ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা হয়েছ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৩) তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংসে ফেলেছে।[1] ফলে, তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ।

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদের অনেক কার্যকলাপের খবর রাখেন না, এই ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং বাতিল ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংসের মধ্যে পতিত করেছে। কেননা, এর কারণে তোমরা নির্ভয়ে সর্বপ্রকার পাপকাজ করতে সাহস করেছিলে। এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি বর্ণনা এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, কা’বা শরীফের পাশে দু’জন কুরাইশী এবং একজন সাক্বাফী অথবা দু’জন সাক্বাফী এবং একজন কুরাইশী একত্রিত হয়। তাদের মধ্যে মোটা শরীর এবং অল্প বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তিটি বলল, ‘তোমরা কি মনে কর যে, আমাদের কথা আল্লাহ শুনেন?’ দ্বিতীয়জন বলল, ‘আমাদের জোরে বলা কথাগুলো শুনেন এবং আস্তে বলা কথাগুলো শুনেন না।’ অপর আর একজন বলল, ‘তিনি যদি আমাদের উঁচু আওয়াজে বলা কথাগুলো শুনেন, তবে চুপি চুপি বলা কথাগুলো অবশ্যই শুনেন।’ এরই উপর আল্লাহ {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ} আয়াত অবতীর্ণ হল। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা হা-মীম সাজদাহ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৪ فَاِنۡ یَّصۡبِرُوۡا فَالنَّارُ مَثۡوًی لَّهُمۡ ۚ وَ اِنۡ یَّسۡتَعۡتِبُوۡا فَمَا هُمۡ مِّنَ الۡمُعۡتَبِیۡنَ ﴿۲۴﴾
فان یصبروا فالنار مثوی لهم و ان یستعتبوا فما هم من المعتبین ﴿۲۴﴾

অতঃপর যদি তারা ধৈর্যধারণ করে তবে আগুনই হবে তাদের আবাস এবং যদি তারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, তবুও তারা আল্লাহর সন্তোষপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আল-বায়ান

এখন যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে তবুও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস, আর যদি তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তবুও তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না। তাইসিরুল

এখন তারা ধৈর্য ধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস স্থল এবং তারা অনুগ্রহ চাইলেও অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবেনা। মুজিবুর রহমান

So [even] if they are patient, the Fire is a residence for them; and if they ask to appease [Allah], they will not be of those who are allowed to appease. Sahih International

২৪. অতঃপর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে তবে আগুনই হবে তাদের আবাস। আর যদি তারা সস্তুষ্টি বিধান করতে চায় তবে তারা সন্তুষ্টিপ্ৰাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৪) এখন ওরা ধৈর্যশীল হলেও জাহান্নামই হবে ওদের আবাস এবং ওরা ক্ষমাপ্রার্থী হলেও ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে না। [1]

[1] এর আর একটি অর্থ এও করা হয়েছে যে, যদি তারা মানাতে (সন্তুষ্ট করতে) চায়, যাতে তারা জান্নাতে যেতে পারে, তবে (আল্লাহর) সন্তুষ্টি তারা কখনও লাভ করতে পারবে না। (আয়সারুত্ তাফাসীর, ফাতহুল ক্বাদীর) কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, তারা পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে, যা মঞ্জুর করা হবে না। (তফসীর ত্বাবারী) অর্থাৎ, তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হল জাহান্নাম, তাতে ধৈর্য ধারণ করলে (তবুও রহম করা হবে না। যেমন, দুনিয়াতে কোন কোন সময় ধৈর্য ধারণকারীদের প্রতি মায়া-মমতা আসে) অথবা অন্য কোনভাবে সেখান থেকে বের হওয়ার প্রচেষ্টা করলেও, তাদেরকে ব্যর্থই হতে হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৫ وَ قَیَّضۡنَا لَهُمۡ قُرَنَآءَ فَزَیَّنُوۡا لَهُمۡ مَّا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ وَ حَقَّ عَلَیۡهِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ ۚ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ ﴿۲۵﴾
و قیضنا لهم قرنآء فزینوا لهم ما بین ایدیهم و ما خلفهم و حق علیهم القول فی امم قد خلت من قبلهم من الجن و الانس انهم كانوا خسرین ﴿۲۵﴾

আর আমি তাদের জন্য মন্দ সহচরবৃন্দ নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যারা তাদের সামনে ও পিছনে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে চাকচিক্যময় করে দিয়েছিল। আর তাদের উপরে আযাবের বাণী সত্যে পরিণত হল, তাদের পূর্বে গত হওয়া জিন ও মানুষের বিভিন্ন জাতির ন্যায়, নিশ্চয় এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। আল-বায়ান

আমি তাদেরকে প্রাণের বন্ধু জুটিয়ে দিয়েছিলাম, যারা তাদেরকে তাদের সামনের আর পিছনের প্রত্যেকটি জিনিসকে চাকচিক্যময় করে দেখাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের উপরও তেমনি ‘আযাবের ফয়সালা কার্যকর হল, যা তাদের পূর্ববর্তী জ্বিন ও মানব দলের উপর কার্যকর হয়েছিল। বাস্তবিকই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। তাইসিরুল

আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচর যারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল এবং তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানবদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। তারাতো ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। মুজিবুর রহমান

And We appointed for them companions who made attractive to them what was before them and what was behind them [of sin], and the word has come into effect upon them among nations which had passed on before them of jinn and men. Indeed, they [all] were losers. Sahih International

২৫. আর আমরা তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম মন্দ সহচরসমূহ যারা তাদের সামনে ও পিছনে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল। আর তাদের উপর শাস্তির বাণী সত্য হয়েছে, তাদের পূর্বে চলে যাওয়া জিন ও মানুষের বিভিন্ন জাতির ন্যায়। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৫) আমি ওদের সঙ্গী দিয়েছিলাম, যারা ওদের অতীত ও ভবিষ্যৎকে ওদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল।[1] ওদের ব্যাপারে ওদের পূর্ববর্তী জ্বিন এবং মানুষদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। নিশ্চয় ওরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

[1] এ থেকে সেই শয়তান প্রকৃতির মানুষ ও জ্বিনদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা বাতিলপন্থীদের পশ্চাতে লেগে থাকে। তারা তাদের সামনে কুফরী ও অন্যায়কে সুন্দর ও সুশোভিত করে পেশ করে। ফলে তারা ভ্রষ্টতার ঘূর্ণাবর্তে ফেঁসে যায়। পরিশেষে এই অবস্থায় তাদের মৃত্যু আসে এবং তার ফলে তারা চিরদিনকার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিগণিত হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৬ وَ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لَا تَسۡمَعُوۡا لِهٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَ الۡغَوۡا فِیۡهِ لَعَلَّكُمۡ تَغۡلِبُوۡنَ ﴿۲۶﴾
و قال الذین كفروا لا تسمعوا لهذا القران و الغوا فیه لعلكم تغلبون ﴿۲۶﴾

আর কাফিররা বলে, ‘তোমরা এ কুরআনের নির্দেশ শুন না এবং এর আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর, যেন তোমরা জয়ী হতে পার।’ আল-বায়ান

কাফিররা বলে- এ কুরআন শুনো না, আর তা পড়ার কালে শোরগোল কর যাতে তোমরা বিজয়ী হতে পার। তাইসিরুল

কাফিরেরা বলেঃ তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করনা এবং তা আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর যাতে তোমরা জয়ী হতে পার। মুজিবুর রহমান

And those who disbelieve say, "Do not listen to this Qur'an and speak noisily during [the recitation of] it that perhaps you will overcome." Sahih International

২৬. আর কাফিররা বলে, তোমরা এ কুরআনের নির্দেশ শোন না এবং তা আবৃত্তির সময় শোরগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৬) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘তোমরা এ কুরআন শ্রবণ করো না[1] এবং তা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর;[2] যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।’[3]

[1] এ কথা তারা আপোসে বলাবলি করে। কেউ কেউ لاَ تَسْمَعُوْا (এ কুরআন শুনো না) এর অর্থ করেছেন, তার অনুসরণ করো না। তার কথা মেনো না।

[2] অর্থাৎ, চেঁচামেচি কর, তালি বাজাও, শিস্ দাও এবং চিৎকার করে কথা বল, যাতে উপস্থিত জনগণের কানে কুরআনের আওয়াজ না পৌঁছে এবং তাদের অন্তর কুরআনের লালিত্যময় ভাষা ও তার চমৎকারিত্বে যেন প্রভাবিত না হয়ে যায়।

[3] অর্থাৎ, সম্ভবতঃ এইভাবে চিৎকার করার কারণে মুহাম্মাদ কুরআন পাঠ করাই ছেড়ে দেবে; যা শুনে মানুষ প্রভাবিত হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৭ فَلَنُذِیۡقَنَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا عَذَابًا شَدِیۡدًا ۙ وَّ لَنَجۡزِیَنَّهُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۷﴾
فلنذیقن الذین كفروا عذابا شدیدا و لنجزینهم اسوا الذی كانوا یعملون ﴿۲۷﴾

সুতরাং আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদের কাজের নিকৃষ্টতম প্রতিদান দেব। আল-বায়ান

ফলতঃ আমি কাফিরদেরকে অবশ্য অবশ্যই কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব, আর আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে তাদের নিকৃষ্টতম কাজের অনুসারে প্রতিফল দিব। তাইসিরুল

আমি অবশ্যই কাফিরদের কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের প্রতিফল দিব – মুজিবুর রহমান

But We will surely cause those who disbelieve to taste a severe punishment, and We will surely recompense them for the worst of what they had been doing. Sahih International

২৭. সুতরাং আমরা অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং অবশ্যই আমরা তাদেরকে তাদের নিকৃষ্ট কার্যকলাপের প্রতিফল দেব।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৭) আমি অবশ্যই সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব এবং নিশ্চয়ই আমি ওদের নিকৃষ্ট কার্যকলাপের সাজা দেব। [1]

[1] অর্থাৎ, কিছু ভাল আমল থাকলেও তার কোনই মূল্য হবে না। যেমন, অতিথিসেবাপরায়ণতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইত্যাদি। কেননা, ঈমান ধন থেকে তারা বঞ্চিত। অবশ্য পাপ কাজের বদলা তারা পাবে। যার মধ্যে পাকেপ্রকারে পবিত্র কুরআন শুনতে বাধা দেওয়ার মত পাপের বদলাও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৮ ذٰلِكَ جَزَآءُ اَعۡدَآءِ اللّٰهِ النَّارُ ۚ لَهُمۡ فِیۡهَا دَارُ الۡخُلۡدِ ؕ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ ﴿۲۸﴾
ذلك جزآء اعدآء الله النار لهم فیها دار الخلد جزآء بما كانوا بایتنا یجحدون ﴿۲۸﴾

এই আগুন, আল্লাহর দুশমনদের প্রতিদান। সেখানে থাকবে তাদের জন্য স্থায়ী নিবাস তারা যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত তারই প্রতিফলস্বরূপ। আল-বায়ান

আল্লাহর দুশমনদের জন্য প্রতিফল হল এ জাহান্নাম। তাতে আছে তাদের জন্য চিরস্থায়ী আবাস। (এ হল তাদের) প্রতিফল, কারণ তারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করত। তাইসিরুল

জাহান্নাম; এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকৃতির প্রতিফল স্বরূপ। মুজিবুর রহমান

That is the recompense of the enemies of Allah - the Fire. For them therein is the home of eternity as recompense for what they, of Our verses, were rejecting. Sahih International

২৮. এই আগুন, আল্লাহর দুশমনদের প্রতিদান; সেখানে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমাদের নিদর্শনাবলীর প্রতি তাদের অস্বীকৃতির প্রতিফলস্বরূপ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৮) এ হল আল্লাহর শত্রুদের সাজা; জাহান্নাম। আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ সেখানে ওদের জন্য স্থায়ী আবাস রয়েছে। [1]

[1] নিদর্শনাবলী বলতে যেমন পূর্বেও বলা হয়েছে সেইসব সুস্পষ্ট প্রমাণাদি, যা মহান আল্লাহ আম্বিয়াগণের উপর অবতীর্ণ করেন অথবা সেইসব মু’জিযা, যা তিনি তাঁদেরকে দান করেন কিংবা সকল প্রকার সৃষ্টিগত প্রমাণপুঞ্জ ও সকল প্রাণীর মাঝে বিস্তৃত নিদর্শনাবলী। কাফেররা এ সব অস্বীকার করে। যার ফলে তারা ঈমান আনার সৌভাগ্য লাভ হতে বঞ্চিত থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ২৯ وَ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا رَبَّنَاۤ اَرِنَا الَّذَیۡنِ اَضَلّٰنَا مِنَ الۡجِنِّ وَ الۡاِنۡسِ نَجۡعَلۡهُمَا تَحۡتَ اَقۡدَامِنَا لِیَكُوۡنَا مِنَ الۡاَسۡفَلِیۡنَ ﴿۲۹﴾
و قال الذین كفروا ربنا ارنا الذین اضلنا من الجن و الانس نجعلهما تحت اقدامنا لیكونا من الاسفلین ﴿۲۹﴾

আর কাফিররা বলবে, ‘হে আমাদের রব, জিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নীচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আল-বায়ান

কাফিররা বলবে- হে আমাদের প্রতিপালক! জ্বিন ও মানুষদের মধ্যেকার যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, তাদের উভয়কে পায়ের তলায় পিষ্ট করব, যাতে তারা নিকৃষ্ট অধমদের মধ্যে গণ্য হয়। তাইসিরুল

কাফিরেরা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! যে সব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদের উভয়কে দেখিয়ে দিন, আমরা উভয়কে পদদলিত করব, যাতে তারা লাঞ্ছিত হয়। মুজিবুর রহমান

And those who disbelieved will [then] say, "Our Lord, show us those who misled us of the jinn and men [so] we may put them under our feet that they will be among the lowest." Sahih International

২৯. আর কাফিররা বলবে, হে আমাদের রব! জিন ও মানুষের মধ্য থেকে যে দু’জন আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদেরকে দেখিয়ে দিন, আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নিচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৯) সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীরা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যে সব জ্বিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল তাদেরকে দেখিয়ে দাও,[1] আমরা তাদেরকে পদদলিত করব, যাতে ওরা লাঞ্ছিত হয়।’ [2]

[1] এর অর্থ পরিষ্কার যে, ভ্রষ্টকারী কেবল শয়তানরাই হয় না, বরং অনেক সংখ্যক মানুষও শয়তানের প্রভাবে লোকদেরকে ভ্রষ্ট করার কাজে ব্যস্ত থাকে। পক্ষান্তরে কেউ কেউ জ্বিন বলতে ইবলীস এবং ইনসান বলতে ক্বাবীলকে বুঝিয়েছেন; যে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম নিজের ভাই হাবীলকে হত্যা করে যুলুম এবং মহাপাপ সম্পাদন করে। হাদীস অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত অন্যায়ভাবে সংঘটিত সমস্ত হত্যার পাপের একটি অংশ তার ঘাড়ে চাপবে। কারণ সেই হল মানুষের ইতিহাসে হত্যা-অপরাধের পথিকৃৎ। আমাদের মতে প্রথম অর্থই সর্বাধিক সঠিক।

[2] অর্থাৎ, আমাদের পা দিয়ে তাদেরকে পদদলিত করে খুব লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করি। জাহান্নামীদের অনুসৃত নেতাদের উপর যে রাগ হবে তা মিটানোর জন্য তারা এ কথা বলবে। অথচ তারা সকলেই অপরাধী এবং সকলেই এক সাথে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। যেমন মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, لِكُلِّ ضِعْفٌ وَلَكِنْ لاَ تَعْلَمُوْنَ অর্থাৎ, প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ (শাস্তি) রয়েছে; কিন্তু তোমরা জান না। (আ’রাফঃ ৩৮) জাহান্নামীদের কথা আলোচনা করার পর মহান আল্লাহ ঈমানদার জান্নাতীদের কথা আলোচনা করছেন। আর এটাই হলো সাধারণতঃ কুরআনের বাক্য-বিন্যাস-পদ্ধতি। যাতে ভয়ের সাথে আশা এবং আশার সাথে ভয়ের কথা উল্লেখ করার প্রতিও যত্ন নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভীতি প্রদর্শনের পর এবার সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩০ اِنَّ الَّذِیۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا تَتَنَزَّلُ عَلَیۡهِمُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ اَلَّا تَخَافُوۡا وَ لَا تَحۡزَنُوۡا وَ اَبۡشِرُوۡا بِالۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ كُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ﴿۳۰﴾
ان الذین قالوا ربنا الله ثم استقاموا تتنزل علیهم الملٓئكۃ الا تخافوا و لا تحزنوا و ابشروا بالجنۃ التی كنتم توعدون ﴿۳۰﴾

নিশ্চয় যারা বলে, ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাযিল হয় (এবং বলে,) ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর তোমাদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল’। আল-বায়ান

যারা বলে- আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না, আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। তাইসিরুল

যারা বলেঃ আমাদের রাব্ব আল্লাহ! অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় মালাইকা (ফেরেশতা) এবং বলেঃ তোমরা ভীত হয়োনা, চিন্তিত হয়োনা এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও। মুজিবুর রহমান

Indeed, those who have said, "Our Lord is Allah " and then remained on a right course - the angels will descend upon them, [saying], "Do not fear and do not grieve but receive good tidings of Paradise, which you were promised. Sahih International

৩০. নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ্‌, তারপর অবিচলিত থাকে, তাদের কাছে নাযিল হয় ফেরেশতা (এ বলে) যে, তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩০) নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’[1] তারপর তাতে অবিচলিত থাকে,[2] তাদের নিকট ফিরিশতা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে),[3] ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না[4] এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ নাও।[5]

[1] অর্থাৎ, এক আল্লাহ তাঁর কোন শরীক নেই। প্রতিপালকও তিনিই এবং উপাস্যও তিনিই। এ রকম নয় যে, তাঁর প্রতিপালকত্বকে কেবল স্বীকার করবে এবং উপাস্যত্বের ব্যাপারে অন্যকেও শরীক করবে।

[2] অর্থাৎ, কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থাতেও ঈমান ও তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং তা থেকে আদৌ বিমুখ হয় না। কেউ কেউ এখানে এই ‘ইস্তিক্বামাত’এর অর্থ করেছেন, ইখলাস। অর্থাৎ, বিশুদ্ধচিত্তে কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত ও আনুগত্য করে। যেমন, হাদীসেও এসেছে যে, এক ব্যক্তি রসূল (সাঃ)-কে বলল, আমাকে এমন কথা বলে দিন যে, আপনার পর যেন আমার অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়। তখন রসূল (সাঃ) তাকে বললেন, (قُلْ آمَنْتُ بِاللهِ ثُمَّ اسْتَقِمْ) ‘‘তুমি বল, আমি আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। অতঃপর তারই উপর অবিচল থাক।’’ (মুসলিমঃ কিতাবুল ঈমান)

[3] অর্থাৎ, মৃত্যুর সময় বলে। কেউ কেউ বলেছেন, ফিরিশতাগণ এই সুসংবাদ তিন সময়ে দেন; মৃত্যুর সময়, কবরে এবং কবর থেকে পুনরায় উঠানোর সময়।

[4] আখেরাতে যে সকল অবস্থার সম্মুখীন হবে, তার ব্যাপারে কোন আশঙ্কা করো না এবং দুনিয়াতে ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততি যে ছেড়ে এসেছ, সে ব্যাপারেও কোন দুঃখ করো না।

[5] অর্থাৎ, দুনিয়াতে যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩১ نَحۡنُ اَوۡلِیٰٓؤُكُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَ فِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ وَ لَكُمۡ فِیۡهَا مَا تَشۡتَهِیۡۤ اَنۡفُسُكُمۡ وَ لَكُمۡ فِیۡهَا مَا تَدَّعُوۡنَ ﴿ؕ۳۱﴾
نحن اولیٓؤكم فی الحیوۃ الدنیا و فی الاخرۃ و لكم فیها ما تشتهی انفسكم و لكم فیها ما تدعون ﴿۳۱﴾

‘আমরা দুনিয়ার জীবনে তোমাদের বন্ধু এবং আখিরাতেও। সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আরো থাকবে যা তোমরা দাবী করবে। আল-বায়ান

পার্থিব জীবনে আর আখিরাতে আমরাই তোমাদের সঙ্গী-সাথী। আর সেখানে (অর্থাৎ জান্নাতে) তোমাদের জন্য তোমাদের মন যা চায় তা-ই আছে; তোমরা যে জিনিসের আকাঙ্ক্ষা কর, তোমাদের জন্য সেখানে তা-ই আছে তাইসিরুল

আমরাই তোমাদের বন্ধু - দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা ফরমায়েস কর। মুজিবুর রহমান

We [angels] were your allies in worldly life and [are so] in the Hereafter. And you will have therein whatever your souls desire, and you will have therein whatever you request [or wish] Sahih International

৩১. আমরাই তোমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে। আর সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমরা দাবী করবে।(১)

(১) ফেরেশতাগণ মুমিনদেরকে বলবে, তোমরা জান্নাতে মনে যা চাইবে তাই পাবে এবং যা দাবী করবে তাই সরবরাহ করা হবে। এর সারমর্ম এই যে, তোমাদের প্রতিটি বাসনা পূর্ণ হবে-তোমরা চাও বা না চাও। অতঃপর نُزُلا তথা আপ্যায়নের কথা বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এমন অনেক নেয়ামতও পাবে, যার আকাঙ্খাও তোমাদের অন্তরে সৃষ্টি হবে না। যেমন মেহমানের সামনে এমন অনেক বস্তুও আসে যার কল্পনাও পূর্বে করা হয় না, বিশেষতঃ যখন কোন বড় লোকেরা মেহমান হয়। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যদি জান্নাতী ব্যক্তি নিজ গৃহে সন্তান জন্মের বাসনা করে, তবে গর্ভধারণ, প্রসব, শিশুর দুধ ছাড়ানো এবং যৌবনে পদাৰ্পন সব এক মুহুর্তের মধ্যে হয়ে যাবে। [তিরমিযী: ২৫৬৩]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩১) ইহকালে আমরা তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও;[1] সেখানে তোমাদের জন্য সমস্ত কিছু রয়েছে যা তোমাদের মন চায়, যা তোমরা আকাঙ্ক্ষা কর।

[1] এ কথায় অতিরিক্ত সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর উক্তি। কেউ কেউ বলেছেন, তা ফিরিশতাদের উক্তি। উভয় অবস্থাতেই মুসলিমদের জন্য এ হল মহা সুসংবাদ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩২ نُزُلًا مِّنۡ غَفُوۡرٍ رَّحِیۡمٍ ﴿۳۲﴾
نزلا من غفور رحیم ﴿۳۲﴾

পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়নস্বরূপ। আল-বায়ান

পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আল্লাহ)’র পক্ষ থেকে আপ্যায়ন হিসেবে। তাইসিরুল

এটা হবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে আপ্যায়ন। মুজিবুর রহমান

As accommodation from a [Lord who is] Forgiving and Merciful." Sahih International

৩২. এটা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হতে আপ্যায়ন হিসেবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩২) চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লার পক্ষ হতে এ হবে আপ্যায়ন।’

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৩ وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰهِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾
و من احسن قولا ممن دعا الی الله و عمل صالحا و قال اننی من المسلمین ﴿۳۳﴾

আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’? আল-বায়ান

কথায় ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম যে (মানুষকে) আল্লাহর দিকে আহবান করে, আর সৎ কাজ করে এবং বলে, ‘আমি (আল্লাহর প্রতি) অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’। তাইসিরুল

ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎ কাজ করে এবং বলেঃ আমিতো আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। মুজিবুর রহমান

And who is better in speech than one who invites to Allah and does righteousness and says, "Indeed, I am of the Muslims." Sahih International

৩৩. আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহবান জানায় এবং সৎকাজ করে। আর বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।(১)

(১) এটা মুমিনদের দ্বিতীয় অবস্থা। তারা কেবল নিজেদের ঈমান ও আমল নিয়েই সস্তুষ্ট থাকে না, বরং অপরকেও দাওয়াত দেয়। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে? মুমিনদের সান্ত্বনা দেয়া এবং মনোবল সৃষ্টির পর এখন তাদেরকে তাদের আসল কাজের প্রতি উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগের আয়াতে তাদের বলা হয়েছিলো, আল্লাহর বন্দেগীর ওপর দৃঢ়পদ হওয়া এবং এই পথ গ্রহণ করার পর পুনরায় তা থেকে বিচ্যুত না হওয়াটাই এমন একটা মৌলিক নেকী যা মানুষকে ফেরেশতার বন্ধু এবং জান্নাতের উপযুক্ত বানায়। এখন তাদের বলা হচ্ছে, এর পরবর্তী স্তর হচ্ছে, তোমরা নিজে নেক কাজ করো, অন্যদেরকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে ডাকো এবং ইসলামের ঘোষণা দেয়াই যেখানে নিজের জন্য বিপদাপদ ও দুঃখ-মুসিবতকে আহবান জানানোর শামিল এমন কঠিন পরিবেশেও দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে: আমি মুসলিম। মানুষের জন্য এর চেয়ে উচ্চস্তর আর নেই।

কিন্তু আমি মুসলিম বলে কোন ব্যক্তির ঘোষণা করা, পরিণামের পরোয়া না করে সৃষ্টিকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে আহবান জানানো এবং কেউ যাতে ইসলাম ও তার ঝাণ্ডাবাহীদের দোষারোপ ও নিন্দাবাদ করার সুযোগ না পায় এ কাজ করতে গিয়ে নিজের তৎপরতাকে সেভাবে পবিত্র রাখা হচ্ছে পূর্ণ মাত্রার নেকী। এ থেকে বোঝা গেল যে, মানুষের সেই কথাই সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট যাতে অপরকে সত্যের দাওয়াত দেয়া হয়। এতে মুখে, কলমে, অন্য কোনভাবে সর্বপ্রকার দাওয়াতই শামিল রয়েছে। আযানদাতাও এতে দাখিল আছে। কেননা, সে মানুষকে সালাতের দিকে আহবান করে। এ কারণেই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আলোচ্য আয়াত মুয়াযযিন সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে (دَعَا إِلَى اللَّهِ) বাক্যের পর (وَعَمِلَ صَالِحًا) বলে আযান-ইকামতের মধ্যস্থলে দুরাকাআত সালাত বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আযান ও একমাতের মাঝখানে যে দোআ হয়, তা প্রত্যাখ্যাত হয় না। [আবু দাউদ: ৫২১]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৩) যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকাজ করে এবং বলে, ‘আমি তো আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)’ তার অপেক্ষা কথায় উত্তম আর কোন্ ব্যক্তি? [1]

[1] অর্থাৎ, মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার সাথে সাথে সে নিজেও হিদায়াতপ্রাপ্ত, দ্বীন-পালনে যত্নবান এবং আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী অনুগত বান্দা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৪ وَ لَا تَسۡتَوِی الۡحَسَنَۃُ وَ لَا السَّیِّئَۃُ ؕ اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ فَاِذَا الَّذِیۡ بَیۡنَكَ وَ بَیۡنَهٗ عَدَاوَۃٌ كَاَنَّهٗ وَلِیٌّ حَمِیۡمٌ ﴿۳۴﴾
و لا تستوی الحسنۃ و لا السیئۃ ادفع بالتی هی احسن فاذا الذی بینك و بینهٗ عداوۃ كانهٗ ولی حمیم ﴿۳۴﴾

আর ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর, ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। আল-বায়ান

ভাল আর মন্দ সমান নয়। উৎকৃষ্ট দিয়ে মন্দকে দূর কর। তখন দেখবে, তোমার আর যার মধ্যে শত্রুতা আছে সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। তাইসিরুল

ভাল কাজ এবং মন্দ কাজ সমান হতে পারেনা। মন্দ প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। মুজিবুর রহমান

And not equal are the good deed and the bad. Repel [evil] by that [deed] which is better; and thereupon the one whom between you and him is enmity [will become] as though he was a devoted friend. Sahih International

৩৪. আর ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করুন তা দ্বারা যা উৎকৃষ্ট; ফলে আপনার ও যার মধ্যে শক্ৰতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৪) ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না।[1] উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। [2]

[1] বরং এ উভয়ের মধ্যে বিরাট তফাত।

[2] এ হল অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক চারিত্রিক শিক্ষা যে, মন্দকে দূরীভূত কর ভাল দ্বারা। যা উৎকৃষ্ট তা দিয়ে নিকৃষ্ট প্রতিহত কর। অর্থাৎ, অন্যায়ের বদলা নাও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে, যুলুমের বদলা নাও ক্ষমা করে, ক্রোধের বদলা নাও ধৈর্যধারণ করে, বেআদবীর বদলা নাও দৃষ্টিচ্যুত করে এবং মূর্খতা বা অশ্লীল কথার উত্তর দাও সহ্য করে নীরব থেকে। এর ফল এই হবে যে, তোমার শত্রু দেখবে তোমার বন্ধু হয়ে গেছে। তোমার থেকে দূরে দূরে থাকত এমন ব্যক্তি তোমার নিকটে হয়ে যাবে এবং তোমার রক্ত-পিপাসু ব্যক্তি তোমার বশীভূত ও প্রেম-পিপাসু হয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৫ وَ مَا یُلَقّٰهَاۤ اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا ۚ وَ مَا یُلَقّٰهَاۤ اِلَّا ذُوۡحَظٍّ عَظِیۡمٍ ﴿۳۵﴾
و ما یلقها الا الذین صبروا و ما یلقها الا ذوحظ عظیم ﴿۳۵﴾

আর এটি তারাই প্রাপ্ত হবে যারা ধৈর্যধারণ করবে, আর এর অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। আল-বায়ান

এ গুণ কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্যশীল, এ গুণ কেবল তারাই লাভ করে যারা মহা ভাগ্যবান। তাইসিরুল

এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা ধৈর্যশীল, এই গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা মহা ভাগ্যবান। মুজিবুর রহমান

But none is granted it except those who are patient, and none is granted it except one having a great portion [of good]. Sahih International

৩৫. আর এটি শুধু তারাই প্রাপ্ত হবে যারা ধৈর্যশীল। আর এর অধিকারী তারাই হবে কেবল যারা মহাভাগ্যবান।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৫) এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল,[1] এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। [2]

[1] অর্থাৎ, মন্দের পরিবর্তে ভালো করার গুণ যদিও অনেক উপকারী ও ফলপ্রসূ, কিন্তু এর উপর আমল সেই করতে পারবে, যে ধৈর্যশীল হবে। রাগকে দমন করতে পারবে এবং অপছন্দনীয় কথাবার্তা সহ্য করতে পারবে।

[2] حَظٍّ عَظِيْمٍ (বড় সৌভাগ্য বা মহাভাগ্য) বলতে জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, উল্লিখিত গুণাবলীর অধিকারী সেই হয়, যে বড় সৌভাগ্যবান। অর্থাৎ, যার ভাগ্যে জান্নাতে যাওয়া লিখে দেওয়া হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৬ وَ اِمَّا یَنۡزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ﴿۳۶﴾
و اما ینزغنك من الشیطن نزغ فاستعذ بالله انهٗ هو السمیع العلیم ﴿۳۶﴾

আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা কখনো তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে তুমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। আল-বায়ান

শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। তাইসিরুল

যদি শাইতানের কু-মন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহকে স্মরণ করবে; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। মুজিবুর রহমান

And if there comes to you from Satan an evil suggestion, then seek refuge in Allah. Indeed, He is the Hearing, the Knowing. Sahih International

৩৬. আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আপনি আল্লাহর আশ্রয় চাইবেন, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।(১)

(১) বলা হয়েছে, শয়তানের প্রতারণার ব্যাপারে সাবধান থাকো। সে অত্যন্ত দরদী ও মঙ্গলকামী সেজে এই বলে তোমাদেরকে উত্তেজিত করবে যে, অমুক অত্যাচার কখনো বরদাশত করা উচিত নয়, অমুকের কাজের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া উচিত এবং এই আক্রমণের জবাবে লড়াই করা উচিত। তা না হলে তোমাদেরকে কাপুরুষ মনে করা হবে, এবং তোমাদের আদৌ কোন প্রভাব থাকবে না। এ ধরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তোমরা যখন নিজেদের মধ্যে কোন অযথা উত্তেজনা অনুভব করবে তখন সাবধান হয়ে যাও। কারণ, তা শয়তানের প্ররোচনা। সে তোমাদের উত্তেজিত করে কোন ভুল সংঘটিত করাতে চায়। সাবধান হয়ে যাওয়ার পর মনে করো না, আমি আমার মেজাজকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখছি, শয়তান আমাকে দিয়ে কোন ত্রুটি করাতে পারবে না। নিজের ইচ্ছা শক্তির বিভ্রম হবে শয়তানের আরেকটি বেশী ভয়ংকর হাতিয়ার। এর চেয়ে বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। কারণ তিনি যদি তাওফীক দান করেন ও রক্ষা করেন তবেই মানুষ ভুল-ত্রুটি থেকে রক্ষা পেতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে একবার এক ব্যক্তি  আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অকথ্য গালিগালাজ করতে থাকলো।

আবু বকর চুপচাপ তার গালি শুনতে থাকলেন আর তার দিকে চেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসতে থাকলেন। অবশেষে আবু বকর সিদ্দীক জবাবে তাকে একটি কঠোর কথা বলে ফেললেন। তার মুখ থেকে সে কথাটি বের হওয়া মাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর চরম বিরক্তি ভাব ছেয়ে গেল এবং ক্রমে তা তার পবিত্র চেহারায় ফুটে উঠতে থাকলো। তিনি তখনই উঠে চলে গেলেন। আবু বকরও উঠে তাকে অনুসরণ করলেন এবং পথিমধ্যেই জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কি? সে যখন আমাকে গালি দিচ্ছিলো তখন আপনি চুপচাপ মুচকি হাসছিলেন। কিন্তু যখনই আমি তাকে জবাব দিলাম তখনই আপনি অসন্তুষ্ট হলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি যতক্ষণ চুপচাপ ছিলে ততক্ষণ একজন ফেরেশতা তোমার সাথে ছিল এবং তোমার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছিলো। কিন্তু যখন তুমি নিজেই জবাব দিলে তখন ফেরেশতার স্থানটি শয়তান দখল করে নিল। আমি তো শয়তানের সাথে বসতে পারি না। [মুসনাদে আহমাদ: ২/৪৩৬]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৬) যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর।[1] নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [2]

[1] অর্থাৎ, শয়তান যদি শরীয়তের কার্যকলাপ থেকে তোমাকে ফিরিয়ে দিতে চায় অথবা উত্তম পন্থায় অন্যায়ের প্রতিকার করার ব্যাপারে সে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর।

[2] আর যে সত্তা এ রকম যে, তিনি সকলের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক কথা জানেন, তিনিই আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় দিতে পারেন। এটা হল পূর্বোক্ত বিষয়ের কারণ স্বরূপ। এরপর পুনরায় কিছু এমন নিদর্শন উল্লেখ করা হচ্ছে, যা আল্লাহর একত্ব, তাঁর অসীম ক্ষমতা এবং তাঁর সুনিপুণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা শক্তির কথা প্রমাণ করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৭ وَ مِنۡ اٰیٰتِهِ الَّیۡلُ وَ النَّهَارُ وَ الشَّمۡسُ وَ الۡقَمَرُ ؕ لَا تَسۡجُدُوۡا لِلشَّمۡسِ وَ لَا لِلۡقَمَرِ وَ اسۡجُدُوۡا لِلّٰهِ الَّذِیۡ خَلَقَهُنَّ اِنۡ كُنۡتُمۡ اِیَّاهُ تَعۡبُدُوۡنَ ﴿۳۷﴾
و من ایته الیل و النهار و الشمس و القمر لا تسجدوا للشمس و لا للقمر و اسجدوا لله الذی خلقهن ان كنتم ایاه تعبدون ﴿۳۷﴾

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ । তোমরা না সূর্যকে সিজদা করবে, না চাঁদকে। আর তোমরা আল্লাহকে সিজদা কর যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদাত কর। আল-বায়ান

তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল রাত, দিন, সূর্য আর চন্দ্র। সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না। সেজদা কর আল্লাহকে যিনি ওগুলোকে সৃষ্টি করেছেন যদি সত্যিকারভাবে একমাত্র তাঁরই তোমরা ইবাদাত করতে চাও। তাইসিরুল

তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সাজদাহ করনা, চাঁদকেও নয়; সাজদাহ কর আল্লাহকে, যিনি এগুলি সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা প্রকৃতই তাঁর ইবাদাত কর। মুজিবুর রহমান

And of His signs are the night and day and the sun and moon. Do not prostrate to the sun or to the moon, but prostate to Allah, who created them, if it should be Him that you worship. Sahih International

৩৭. আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চাঁদকেও নয়(১); আর সিজদ কর আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত কর।

(১) অর্থাৎ এসব আল্লাহর প্রতিভূ নয় যে এগুলোর আকৃতিতে আল্লাহ নিজেকে প্রকাশ করছেন বলে মনে করে তাদের ইবাদত করতে শুরু করবে। বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শন এসব নিদর্শন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলে তোমরা বিশ্ব জাহান ও তার ব্যবস্থাপনার সত্যতা ও বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে এবং এ কথাও জানতে পারবে যে নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম আল্লাহ সম্পর্কে যে তাওহীদের শিক্ষা দিচ্ছেন তাই প্রকৃত সত্য। সূর্য ও চাঁদের উল্লেখের পূর্বে দিন ও রাতের উল্লেখ করা হয়েছে এ বিষয়ে সাবধান করে দেয়ার জন্য যে রাতের বেলা সূর্যের অদৃশ্য হওয়া ও চাঁদের আবির্ভূত হওয়া এবং দিনের বেলা চাঁদের অদৃশ্য হওয়া ও সূর্যের আবির্ভূত হওয়া সুস্পষ্ট ভাবে এ কথা প্রমাণ করে যে, এ দুটির কোনটিই আল্লাহ বা আল্লাহ প্রতিভূ নয়। উভয়েই তাঁর একান্ত দাস।

তারা আল্লাহর আইনের নিগড়ে বাধা পড়ে আবর্তন করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাঁদ ও সূর্য সম্পর্কে মানুষের আকীদা-বিশ্বাসকে পরিশুদ্ধ করার জন্য বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তান ইবরাহীম মারা গেলে সেদিনই সূর্যগ্রহণ হয়। লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো যে, ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্ৰহণ হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ করো মৃত্যু বা জীবনের জন্য হয় না। বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনাবলী থেকে দুটি নিদর্শন; যা তিনি তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং যখন তোমরা এরূপ কিছু দেখবে, তখন সালাতের দিকে ধাবিত হবে ৷ [বুখারী: ১০৫৮]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৭) তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র।[1] তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও নয়;[2] বরং সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এগুলি সৃষ্টি করেছেন,[3] যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত (দাসত্ব) কর।

[1] অর্থাৎ, রাতকে অন্ধকার দিয়ে ঢেকে দেওয়া যাতে মানুষ তাতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং দিনকে আলোক-উজ্জ্বল করা যাতে জীবিকা উপার্জনে কোন অসুবিধা না হয়। অতঃপর পালাক্রমে রাত ও দিনের আগমন-প্রত্যাগমন। কখনো রাতের বড় ও দিনের ছোট হওয়া, আবার কখনো এর বিপরীত দিনের বড় ও রাতের ছোট হওয়া। অনুরূপ সূর্য ও চাঁদের নির্ধারিত সময়ে উদিত হওয়া ও অস্ত যাওয়া। তাদের স্ব স্ব কক্ষপথে নিজের নিজের পথ অতিক্রম করা এবং তাদের আপসে কোন সংঘর্ষ ঘটা থেকে সুরক্ষিত থাকা ইত্যাদি সবই প্রমাণ করে যে, তাদের অবশ্য অবশ্যই কোন স্রষ্টা এবং মালিক আছেন। অনুরূপ তিনি এক ও একক এবং সারা বিশ্বজগতে কেবল তাঁরই কর্তৃত্ব ও নির্দেশ চলে। যদি পরিচালনা করার ও নির্দেশ দেওয়ার অধিকারী একাধিক হত, তবে সারা জগতের এ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এত মজবুত এবং সুনিয়ন্ত্রিতভাবে টিকে থাকত না।

[2] কারণ, এরাও তোমাদের মত আল্লাহর সৃষ্ট। প্রভুত্বের কোন এখতিয়ার তাদের মধ্যে নেই। অথবা তাতে তারা শরীকও নয়।

[3] خَلَقَهُنَّ তে সর্বনাম স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন এই জন্য এসেছে যে, হয় তো خَلَقَ هَذِه الأَرْبَعَةَ الْمَذْكُوْرَةَ অর্থের ভিত্তিতে। কেননা, জ্ঞানহীন বস্তুর বহুবচনের ক্ষেত্রে (ব্যাকরণগত) বিধান হল এটাই। অথবা এই সর্বনামের লক্ষ্য কেবল চাঁদ এবং সূর্য। আর কোন কোন ব্যাকরণ-শাস্ত্রবিদের কাছে দ্বিবচনও বহুবচনরূপে গণ্য হয়। কিংবা এর উদ্দিষ্ট হল, آيات নিদর্শনাবলী। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৮ فَاِنِ اسۡتَكۡبَرُوۡا فَالَّذِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّكَ یُسَبِّحُوۡنَ لَهٗ بِالَّیۡلِ وَ النَّهَارِ وَ هُمۡ لَا یَسۡـَٔمُوۡنَ ﴿ٛ۳۸﴾ (سُجود‎‎)
فان استكبروا فالذین عند ربك یسبحون لهٗ بالیل و النهار و هم لا یسـٔمون ﴿ٛ۳۸﴾ (سجود‎‎)

অতঃপর যদি এরা অহঙ্কার করেও তবে যারা তোমার রবের নিকটে রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁরই তাসবীহ পাঠ করছে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না। [সাজদাহ] ۩ আল-বায়ান

অতঃপর তারা যদি অহংকার করে তবে (তারা জেনে নিক যে), তোমার প্রতিপালকের নিকটে যারা রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনায় লিপ্ত আছে, আর তারা কখনও ক্লান্তিবোধ করে না। [সাজদাহ] ۩ তাইসিরুল

তারা অহংকার করলেও যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে তারাতো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিও বোধ করেনা। [সাজদাহ] ۩ মুজিবুর রহমান

But if they are arrogant - then those who are near your Lord exalt Him by night and by day, and they do not become weary. Sahih International

৩৮. অতঃপর যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার রবের নিকটে রয়েছে তারা তো দিন ও রাতে তাঁর পবিত্ৰতা, মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না। [সাজদাহ] ۩

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৮) ওরা অহংকার করলেও যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তো দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্তিবোধ করে না। [1] [সাজদাহ] ۩

[1] (এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৩৯ وَ مِنۡ اٰیٰتِهٖۤ اَنَّكَ تَرَی الۡاَرۡضَ خَاشِعَۃً فَاِذَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡهَا الۡمَآءَ اهۡتَزَّتۡ وَ رَبَتۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡۤ اَحۡیَاهَا لَمُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ؕ اِنَّهٗ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۳۹﴾
و من ایتهٖ انك تری الارض خاشعۃ فاذا انزلنا علیها المآء اهتزت و ربت ان الذی احیاها لمحی الموتی انهٗ علی كل شیء قدیر ﴿۳۹﴾

তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল-বায়ান

তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখ শুষ্ক অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা সতেজ হয় ও বেড়ে যায়। যিনি এ মৃত যমীনকে জীবিত করেন, তিনি অবশ্যই মৃতদেরকে জীবিত করবেন। তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। তাইসিরুল

আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক উষর, অতঃপর আমি তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়; যিনি জীব দেন তিনিই মৃতের জীবন দানকারী। তিনিতো সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান। মুজিবুর রহমান

And of His signs is that you see the earth stilled, but when We send down upon it rain, it quivers and grows. Indeed, He who has given it life is the Giver of Life to the dead. Indeed, He is over all things competent. Sahih International

৩৯. আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখতে পান শুষ্ক ও উষর, অতঃপর যখন আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি অবশ্যই মৃতদের জীবনদানকারী। নিশ্চয় তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩৯) আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক,[1] অতঃপর আমি ওতে বৃষ্টি বর্ষণ করলে তা শস্য-শ্যামলা হয়ে আন্দোলিত ও স্ফীত হয়;[2] নিশ্চয় যিনি ভূমিকে জীবিত করেন, তিনিই জীবিত করবেন মৃতকে।[3] নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

[1] خَاشِعَةً এর অর্থ হল, শুখো-অনাবৃষ্টি অর্থাৎ, মৃত বা উদ্ভিদশূন্য।

[2] অর্থাৎ, বিভিন্ন প্রকারের সুস্বাদু ফল ও ফসলাদি উৎপন্ন করে।

[3] মৃত ভূমিকে বৃষ্টি দ্বারা এভাবে জীবিত করে দেওয়া এবং তাকে উৎপন্ন করার যোগ্য বানিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি মৃতদেরকে অবশ্যই জীবিত করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪১ : ৪০ اِنَّ الَّذِیۡنَ یُلۡحِدُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا لَا یَخۡفَوۡنَ عَلَیۡنَا ؕ اَفَمَنۡ یُّلۡقٰی فِی النَّارِ خَیۡرٌ اَمۡ مَّنۡ یَّاۡتِیۡۤ اٰمِنًا یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِعۡمَلُوۡا مَا شِئۡتُمۡ ۙ اِنَّهٗ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ﴿۴۰﴾
ان الذین یلحدون فی ایتنا لا یخفون علینا افمن یلقی فی النار خیر ام من یاتی امنا یوم القیمۃ اعملوا ما شئتم انهٗ بما تعملون بصیر ﴿۴۰﴾

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহ বিকৃত করে তারা আমার অগোচরে নয়। যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি উত্তম, না যে কিয়ামত দিবসে নিরাপদভাবে উপস্থিত হবে? তোমাদের যা ইচ্ছা আমল কর। নিশ্চয় তোমরা যা আমল কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা। আল-বায়ান

যারা আমার আয়াতসমূহের অর্থকে ভিন্নপথে পরিচালিত করে, তারা আমার থেকে লুক্কায়িত নয়। যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সেই উত্তম না ঐ ব্যক্তি যে ক্বিয়ামতের দিন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে হাজির হবে? তোমাদের যা ইচ্ছে হয় করতে থাক। তোমরা যা কর তা তিনি (খুব ভালভাবেই) দেখেন। তাইসিরুল

যারা আমার আয়াতসমূহকে বিকৃত করে তারা আমার অগোচর নয়। শ্রেষ্ঠ কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, নাকি যে কিয়ামাত দিবসে নিরাপদে থাকবে সে? তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর; তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা। মুজিবুর রহমান

Indeed, those who inject deviation into Our verses are not concealed from Us. So, is he who is cast into the Fire better or he who comes secure on the Day of Resurrection? Do whatever you will; indeed, He is Seeing of what you do. Sahih International

৪০. নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে ইলাহাদ করে, তারা আমার অগোচরে নয়। যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি শ্ৰেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে উপস্থিত হবে সে? তোমরা যা ইচ্ছে আমল কর। তোমরা যা আমল কর, নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪০) নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে বক্রপথ অবলম্বন করে[1] তারা আমার অগোচর নয়।[2] যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ; না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে উপস্থিত হবে সে?[3] তোমাদের যা ইচ্ছা কর,[4] নিশ্চয় তোমরা যা কর, তিনি তার দ্রষ্টা।

[1] অর্থাৎ, সেগুলোকে মানে না, বরং সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তা মিথ্যা ভাবে। ইবনে আববাস (রাঃ) إلحاد  এর অর্থ করেছেন, বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করা। যার ভিত্তিতে এতে সেই ভ্রষ্ট দলগুলোও চলে আসে, যারা নিজেদের ভ্রান্ত আকীদা ও মতবাদকে সাব্যস্ত করার জন্য আল্লাহর আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা করে এবং তার অর্থে বিকৃতি সাধন ও হেরফেরও করে।

[2] এটা হল আল্লাহর আয়াতে সর্বপ্রকার বাঁকাপথ অবলম্বনকারীদের জন্য কঠিন ধমক।

[3] অর্থাৎ, এরা উভয়ে কি সমান হতে পারে? না, কক্ষনো না। তাছাড়াও এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, বাঁকাপথ অবলম্বনকারীরা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং ঈমানদাররা কিয়ামতের দিন নিরাপদে ভয়শূন্য থাকবে।

[4] এ বাক্য আজ্ঞা ও সম্মতিসূচক, কিন্তু এর উদ্দেশ্য ভয় দেখানো ও ধমকি দেওয়া। এতে কুফরী, শিরক এবং পাপাচরণের অনুমতি ও তার বৈধতার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন