৫৭৩৭

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির সূচনা ও নবী-রাসূলদের আলোচনা

৫৭৩৭-[৪০] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! নবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম নবী কে ছিলেন? তিনি (সা.) বললেন, আদম আলায়হিস সালাম। আমি বললাম, তিনি কি ’নবী ছিলেন? বললেন, হ্যা, তিনি এমন নবী ছিলেন যার সাথে কথাবার্তা বলা হয়েছে। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ’রাসূল’ কতজন ছিলেন? বললেন, তিনশত দশজনেরও কিছু বেশি এর বিরাট দল।
আবু উমামাহ্ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনায় আছে, আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! নবীদের পূর্ণ সংখ্যা কত? বললেন, এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। তন্মধ্যে রাসূল’ ছিলেন, তিনশত পনের এক বিরাট জামা’আত বা কাফেলা।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب بدءالخلق وَذِكْرِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْأَنْبِيَاءِ كَانَ أَوَّلَ؟ قَالَ: «آدَمُ» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَنَبِيٌّ كَانَ؟ قَالَ: «نَعَمْ نَبِيٌّ مُكَلَّمٌ» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كم المُرْسَلُونَ؟ قَالَ: «ثَلَاثمِائَة وبضع عشر جماً غفيراً» وَفِي رِوَايَة عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ: قَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ وَفَاءُ عِدَّةِ الْأَنْبِيَاءِ؟ قَالَ: «مِائَةُ أَلْفٍ وَأَرْبَعَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا الرُّسُلُ مِنْ ذَلِكَ ثَلَاثُمِائَةٍ وَخَمْسَةَ عَشَرَ جَمًّا غَفِيرًا»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 178 ح 21879) * فیہ عبید بن خشخاش لین و ابو عمر الدمشقی : ضعیف ۔ 0 روایۃ ابی امامۃ : سندہ ضعیف جدًا ، رواھا احمد (5 / 265 ، 266 ح 22644) فیہ علی بن یزید الالھانی ضعیف جدًا و معان بن رفاعۃ ضعیف

وعن أبي ذر قال: قلت: يا رسول الله أي الأنبياء كان أول؟ قال: «آدم» . قلت: يا رسول الله ونبي كان؟ قال: «نعم نبي مكلم» . قلت: يا رسول الله كم المرسلون؟ قال: «ثلاثمائة وبضع عشر جما غفيرا» وفي رواية عن أبي أمامة قال أبو ذر: قلت يا رسول الله كم وفاء عدة الأنبياء؟ قال: «مائة ألف وأربعة وعشرون ألفا الرسل من ذلك ثلاثمائة وخمسة عشر جما غفيرا»

ব্যাখ্যা: (نَعَمْ نَبِيٌّ مُكَلَّمٌ) অর্থাৎ কেবল নবী ছিলেন এমন নয়; বরং সহীফাহপ্রাপ্ত নবী ছিলেন। আল্লাহ তাঁর ওপর সহীফাহ্ অবতীর্ণ করেছেন।
(كم المُرْسَلُونَ) “রাসূল কতজন?” হাদীস থেকে বুঝা যায়, নবী ও রাসূলের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য হলো, ঐ সকল নবীদের কে রাসূল বলা হয় যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে। অপরদিকে কেবল নবী যার ওপর কিতাব নাযিল হয়নি। তাদেরকে পূর্বে শারী'আত মোতাবেক দাওয়াতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নবী ও রাসূলের মাঝে প্রসিদ্ধ পার্থক্য, রাসূল যাকে তাবলীগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর নবী ব্যাপক, নির্দেশ দেয়া হতে পারে আবার নাও হতে পারে।
(ثَلَاثمِائَة وبضع عشر جماً غفيراً) “তিনশত দশ জনের একটি বিরাট দল” নবী (সা.) রাসূলদের সংখ্যা অস্পষ্ট রেখেছেন; যাতে কেউ নিশ্চিত সংখ্যা না বলে। কারণ নিশ্চিত সংখ্যা বললে কম বেশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(كَمْ وَفَاءُ عِدَّةِ الْأَنْبِيَاءِ) অর্থাৎ নবীদের পূর্ণ সংখ্যা কত? নবীদের পূর্ণ সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার। মুল্লা আলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসে নবী ও রাসূলের সংখ্যা যদিও নির্ধারিত, কিন্তু এটা নিশ্চিত ও অকাট্য নয়; তাই নবী ও রাসূলদের ওপর নির্ধারিত সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে মোট সংখ্যা হিসেবে ঈমান রাখতে হবে যেন কোন নবী বাদ না পড়েন এবং নবী নন এমন কেউ নবীদের ওপর ঈমানের আওতায় না ঢুকেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৮: সৃষ্টির সূচনা ও কিয়ামতের বিভিন্ন অবস্থা (كتاب أَحْوَال الْقِيَامَة وبدء الْخلق)