৫২০৬

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৬-[৫২] জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহিমাহুল্লাহ) মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার কাছে এ ওয়াহী পাঠানো হয়নি যে, আমি ধন-সম্পদ জমা করি এবং একজন ব্যবসায়ী হই, বরং আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, “তুমি তোমার রবের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। আর ’ইয়াক্বীন (মৃত্যু) আসা পর্যন্ত তোমার রবের ’ইবাদাতে আত্মনিয়োগ করো”- (সূরাহ্ আল হিজর ১৫:৯৮-৯৯)। (শারহুস্ সুন্নাহ্; আর আবূ নু’আয়ম তাঁর “হিলইয়াহ্” গ্রন্থে আবু মুসলিম হতে বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن جُبَير بن نفير رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أُوحِيَ إِلَيَّ أَنْ أَجْمَعَ الْمَالَ وَأَكُونَ مِنَ التَّاجِرِينَ وَلَكِنْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنْ (سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ. واعبد ربَّك حَتَّى يَأْتِيك الْيَقِين) رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ» وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية» عَن أبي مُسلم

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 237 ح 4036) و ابو نعیم فی حلیاۃ الاولیاء (2 / 171 ح 1778) * السند مرسل ۔

وعن جبير بن نفير رضي الله عنه مرسلا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أوحي إلي أن أجمع المال وأكون من التاجرين ولكن أوحي إلي أن (سبح بحمد ربك وكن من الساجدين. واعبد ربك حتى يأتيك اليقين) رواه في شرح السنة» وأبو نعيم في «الحلية» عن أبي مسلم

ব্যাখ্যা: হাদীসটি মুরসালভাবে বর্ণিত হয়েছে। এটা মুরসালুত্ তাবিঈ। জুবায়র ইবনু নুফায়র আল খাযরামী (রহিমাহুল্লাহ) সিরিয়ার তাবিঈদের মধ্যে একজন সিকাহ রাবী ছিলেন। তিনি সাহাবীর নাম ছেড়ে দিয়ে হাদীস উল্লেখ করেছেন, অতএব হাদীসটি মুরসাল। 

এখানে নবী রসূলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য বিবৃত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করা এবং ধন-সম্পদ অর্জন ও সঞ্চয় শারঈতে হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। বরং সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্ম ক্ষেত্রের মাধ্যমে জীবিকার ব্যবস্থা করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) -এর জন্য এরূপ কোন নির্দেশনা নেই। অর্থাৎ তাঁকে ব্যবসায়ী হয়ে সম্পদ আহরণের জন্য কোন ওয়াহী দেয়া হয়নি বরং তাঁর কাছে ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, তিনি যেন আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন। তার প্রতি আল্লাহর আরো নির্দেশ যে, তুমি সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এখানে সলাতের একটি রুকন সাজদার কথা বলে পুরো সলাতকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, অর্থাৎ তুমি সলাত আদায়কারী হয়ে যাও। এই বিশেষ রুকনের উল্লেখ এজন্য যে, সলাতের মধ্যে সাজদাহ্ অনন্য রুকন। কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সাজদার মধ্যে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতঃপর ‘ইবাদত’ কিংবা ‘আবদিয়াত’ যাই হোক না কেন আমৃত্যু তা করে যেতে হবে। এখানে (الۡیَقِیۡنُ) দ্বারা (মুফাসিরদের ঐকমত্যে) উদ্দেশ্য মৃত্যু। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, নূরুস্ সারী মিন ফাইযী সহীহিল বুখারী ২য় খণ্ড, ৬৯৭ পৃ.)। 


হাদিসের মানঃ মুরসাল
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)