৪৯১৮

পরিচ্ছেদঃ ১৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - অনুগ্রহ ও স্বজনে সদাচার

৪৯১৮-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজ জীবিকার প্রশস্ততা ও মরণে বিলম্ব কামনা করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে উত্তম ব্যবহার করে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْبِرِّ وَالصِّلَةِ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَره فَليصل رَحمَه» . مُتَّفق عَلَيْهِ

وعن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحب أن يبسط له في رزقه وينسأ له في أثره فليصل رحمه» . متفق عليه

ব্যাখ্যাঃ (مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهٗ فِي رِزْقِه) অন্য বর্ণনায় এসেছে, إن صلة الرحم محبة في الأهل، مثراة في المال، منسأة في الأثر নিশ্চয় আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্যে রয়েছে পরিবারের ভালোবাসা। সম্পদের বারাকাত এবং হায়াতে বারাকাত। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণনা করেছেন :

صلة الرحم وحسن الجوار وحسن الخلق يعمران الديار ويزيدان في الإعمار আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার, উত্তম চরিত্র, সংসার জীবনকে আনন্দঘন করে তোলে এবং জীবনে বারাকাত বয়ে আনে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ ‘‘যাওয়ায়িদুল মুসনাদ’’ নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ويدفع عنه ميتة السوء মৃতকালীন খারাপ অবস্থা তার থেকে দূর করা হয়। অর্থাৎ যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে তাদের ভালো মৃত্যু প্রদান করা হবে। ইমাম আবী ইয়া‘লা আনাস থেকে মারফূ‘ সূত্রে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাদীসটি হলো্র

إن الصدقة وصلة الرحم يزيد الله بهما في العمر، ويدفع بهما ميتة السوء অর্থাৎ দান খয়রাত করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা- এ দু’টি কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তার হায়াত বৃদ্ধি করে দেয়, অর্থাৎ জীবনে বারাকাত দান করেন। আর খারাপ মৃত্যু দূর করে দেন, অর্থাৎ ভালো মৃত্যু দেন।

ইবনু ত্বীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ‘‘হায়াত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়’’ কথাটির বাহ্যিক দিক কুরআনে কারীমের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়, কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ

فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ অর্থাৎ ‘‘...কারো নির্ধারিত সময় এসে গেলে সে সময়েই তার মৃত্যু হবে এর একটুও আগপিছ হবে না।’’ (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭ : ৩৪)

আর হাদীসে বলা হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে হায়াত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের মাঝে সামঞ্জস্য বিধানের দু’টি পদ্ধতি হতে পারে। (১) বয়স বৃদ্ধির অর্থ সময় বৃদ্ধি নয় বরং বয়সে বারাকাত দান করা, বেশী বেশী সৎ ‘আমল করার তাওফীক দেয়া এবং জীবনকে আখিরাতে কল্যাণ লাভ হয় এমন পথে পরিচালনা করা। আর সময়ের অপচয় থেকে হিফাযাত করা। যেমন- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস থেকে প্রমাণ হয়, এ উম্মাতের বয়স পূর্বের উম্মাতদের চেয়ে কম, তবে এ উম্মাতের জীবনে বারাকাত দেয়া হয়েছে। যেমন- লায়লাতুল কদর, যা এক হাজার রাত্রির চেয়ে উত্তম। মোটকথা হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে এর কারণে আল্লাহ ভালো কাজ করার তাওফীক দিবেন আর অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দিবেন। মৃত্যুর পরেও পৃথিবীতে তার ভালো গুনাগুণের আলোচনা অব্যাহত থাকবে, মনে হবে যেন সে মরেনি। ২) দ্বিতীয়টি হলো আসলেই বয়স বৃদ্ধি করা হয়, এটা আল্লাহ তা‘আলার আদেশ। মালাককে আল্লাহ এভাবে আদেশ দেন যে, অমুক ব্যক্তি যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে তাহলে তার হায়াত ১০০ বছর আর ছিন্ন করলে ৬০ বছর করে দাও (কিন্তু এ কম বেশীর জ্ঞান কোন সৃষ্টির কাছেই নেই)। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৯৮৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৫: শিষ্টাচার (كتاب الآداب)