১২৬৯

পরিচ্ছেদঃ সৈন্যদেরকে সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা এবং উপদেশ দেওয়া

১২৬৯। সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত; তিনি তার পিতা বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন ছোট বা বড় সৈন্যদলের জন্য কাউকে নেতা নির্বাচন করে দিতেন তখন বিশেষভাবে তাকে আল্লাহকে ভয় করার, মুজাহিদ মুসলিমদের সাথে কল্যাণ করার জন্য উপদেশ দিতেন। তারপর বলতেন, আল্লাহর নামে আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর, যে আল্লাহর সাথে কুফরী করছে তার তাথে যুদ্ধ কর, যুদ্ধ করবে, গনিমাতের মালে খিয়ানাত করবে না, প্রতারণা করবে না, অঙ্গহানি করবে না, বালকদের হত্যা করবে না, যখন তুমি মুশরিক শক্ৰদের সাথে মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের দা’ওয়াত দিবে, তার যে-কোন একটি কুবুল করে নিলে তুমি তা মেনে নেবে- তাদের উপর হাত উঠবে না।

ক) তাদেরকে ইসলাম কুবুল করার দাওয়াত দেবে। যদি তারা তা কুবুল করে তুমি তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে। তারপর তাদেরকে মুহাজিরদের কাছে হিজরত করে আসার জন্য দাওয়াত দেবে। যে, তারা সাধারণ গ্ৰাম্য মুসলিমদের সমশ্রেণীভুক্ত হয়ে থাকবে আর গনিমাত ও ফাই-এর মালে তাদের জন্য কোন অংশ হবে না, তবে যদি তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে (মাত্র তখন পাবে)।

খ) যদি তারা ইসলাম ক্ববুল করতে রাজি না হয় তবে তাদের কাছে জিযইয়া (এক প্রকার ট্যাক্স) দাবি করবে। যদি তারা স্বীকার করে তবে তাদের এ স্বীকৃতি মেনে নেবে (আর তাদের দিকে আক্রমণের হাত বাড়াবে না)। আর যদি তারা জিযইয়া কর দিতে অস্বীকার করে তবে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে: ও তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। (বিনা যুদ্ধে শত্রুপক্ষের যে মাল হস্তগত হয় তাকে ফাই বলে)।

গ) আর যখন কোন দুৰ্গবাসীদের অবরোধ করবে তখন যদি তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের জিম্মায় আসার কোন প্রস্তাব তোমার কাছে পেশ করে, তবে তুমি তা স্বীকার করবে না। বরং তুমি তোমার নিজের জিম্মায় তাদের নিতে পারবে।[1] কেননা তোমাদের জিম্মা নষ্ট করা অনেক সহজ ব্যাপার, আল্লাহর জিম্মাকে নষ্ট করার চেয়ে।

আর যদি তারা আল্লাহর ফায়সালায় উপনীত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে তুমি তা করবে না। বরং তুমি নিজের ফায়সালার অধীনে তাদেরকে আশ্রয় দেবে। কেননা তুমি অবগত নও যে, তুমি আল্লাহর ফায়সালা তাদের উপর সঠিকভাবে করতে পারবে কি, পারবে না।[2]

وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ, وَبِمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا, ثُمَّ قَالَ: «اغْزُوا بِسْمِ اللَّهِ, فِي سَبِيلِ اللَّهِ, قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ, اغْزُوا, وَلَا تَغُلُّوا, وَلَا تَغْدُرُوا, وَلَا تُمَثِّلُوا, وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا, وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ, فَأَيَّتُهُنَّ أَجَابُوكَ إِلَيْهَا, فَاقْبَلْ مِنْهُمْ, وَكُفَّ عَنْهُمْ:
ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ, فَإِنْ أَبَوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ, وَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمْ الْجِزْيَةَ, فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ, فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ, فَلَا تَفْعَلْ, وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ; فَإِنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا ذِمَمَكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنَّ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ, وَإِذَا أَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ, فَلَا تَفْعَلْ, بَلْ عَلَى حُكْمِكَ; فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لَا». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ

-

صحيح. رواه مسلم (1731) (3) وقد اختصر الحافظ بعض عباراته

وعن سليمان بن بريدة, عن أبيه قال: كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إذا أمر أميرا على جيش أوصاه بتقوى الله, وبمن معه من المسلمين خيرا, ثم قال: «اغزوا بسم الله, في سبيل الله, قاتلوا من كفر بالله, اغزوا, ولا تغلوا, ولا تغدروا, ولا تمثلوا, ولا تقتلوا وليدا, وإذا لقيت عدوك من المشركين فادعهم إلى ثلاث خصال, فأيتهن أجابوك إليها, فاقبل منهم, وكف عنهم: ادعهم إلى الإسلام فإن أجابوك فاقبل منهم. ثم ادعهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين, فإن أبوا فأخبرهم أنهم يكونون كأعراب المسلمين, ولا يكون لهم في الغنيمة والفيء شيء إلا أن يجاهدوا مع المسلمين. فإن هم أبوا فاسألهم الجزية, فإن هم أجابوك فاقبل منهم, فإن أبوا فاستعن بالله وقاتلهم. وإذا حاصرت أهل حصن فأرادوك أن تجعل لهم ذمة الله وذمة نبيه, فلا تفعل, ولكن اجعل لهم ذمتك; فإنكم إن تخفروا ذممكم أهون من أن تخفروا ذمة الله, وإذا أرادوك أن تنزلهم على حكم الله, فلا تفعل, بل على حكمك; فإنك لا تدري أتصيب فيهم حكم الله أم لا». أخرجه مسلم - صحيح. رواه مسلم (1731) (3) وقد اختصر الحافظ بعض عباراته


Sulaiman bin Buraidah narrated on the authority of his father on the authority of 'A’ishah (RAA), “Whenever Allah’s Messenger appointed a commander over an army or a Sariyah, he would instruct him to fear Allah in his own behavior and consider the welfare of the Muslims who were with him. He then used to say “Go out for Jihad in Allah’s name, in the Cause of Allah, and fight those who disbelieve in Allah. Go out for Jihad and do not indulge in Ghulul, or be treacherous or mutilate (dead bodies) or kill a child. When you meet your enemy, or the polytheists, invite them to three courses of action, and accept whichever of them they are willing to agree to, and withhold from doing anything else:

Call them to Islam, and if they agree accept it from them. Then invite them to migrate from their land to the land of the Emigrants (i.e. al-Madinah), if they refuse, then tell them they will be like the Muslim desert Arabs, thus they will have no right in the Ghanimah or Fai’ unless they participate in Jihad with the Muslims. If they refuse (to accept Islam) order them to pay the Jizyah and if they agree, accept it from them. If they refuse, seek Allah, the Most High’s help against them and fight them. When you besiege a fortress, and its people wish you to grant them the protection of Allah and His Prophet, grant them neither but grant them your protection, for it is less serious (a lesser guilt) to break your guarantee of protection than to break that of Allah’s. And if they offer to capitulate under the condition that they are subjected to the judgment of Allah, do not grant them this, but judge according to your own command, for you do not know whether or not you will be able to carry out Allah, the Most High’s Judgment regarding them.” Related by Muslim.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বুলুগুল মারাম
পর্ব - ১১ঃ জিহাদ (كتاب الجهاد)