৩৩৩৯

পরিচ্ছেদঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - জরায়ু মুক্তকরণ বা পবিত্রকরণ

৩৩৩৯-[৩] রুওয়াইফা’ ইবনু সাবিত আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়ন যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর ঈমান রাখে, তার পক্ষে অপরের শস্যক্ষেত্রে নিজের পানি সিঞ্চন করা বৈধ নয়। তিনি (রুওয়াইফা’) বলেন, অন্যের ক্ষেত্রে পানি সিঞ্চন দ্বারা গর্ভবতীর সাথে সহবাস করাই বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপরে ঈমান রাখে, তার পক্ষে যুদ্ধবন্দীনী রমণীর সাথে সহবাস করা জায়িয নয় (তথা জরায়ুমুক্ত বা পবিত্রকরণ ছাড়া)। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, তার পক্ষে বণ্টনের পূর্বে গনীমাতের মাল বিক্রি করা জায়িয নয়। (আবূ দাঊদ)[1]

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) শুধুমাত্র ’অপরের শস্যক্ষেত্রে নিজের পানি সিঞ্চন করা’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

وَعَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَوْم حُنَيْنٍ: «لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يسْقِي مَاء زَرْعَ غَيْرِهِ» يَعْنِي إِتْيَانَ الْحُبَالَى «وَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَقَعَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ السَّبْيِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا وَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَبِيعَ مَغْنَمًا حَتَى يُقَسَّمَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ إِلَى قَوْله «زرع غَيره»

وعن رويفع بن ثابت الأنصاري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم حنين: «لا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يسقي ماء زرع غيره» يعني إتيان الحبالى «ولا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يقع على امرأة من السبي حتى يستبرئها ولا يحل لامرئ يؤمن بالله واليوم الآخر أن يبيع مغنما حتى يقسم» . رواه أبو داود ورواه الترمذي إلى قوله «زرع غيره»

ব্যাখ্যা: হাদীসে তিনটি জিনিসকে অবৈধ করা হয়েছে। প্রত্যেকবারই রসূল বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তার জন্য বৈধ নয়...। এভাবে বলে এই বিষয়গুলোর অবৈধ হওয়ার দৃঢ়তা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যার ঈমান আছে তার জন্য এই তিন কাজের কোনোটিই শোভা পায় না। প্রথমতঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই হাদীসে যে বিষয়টি হারাম করেন তা হলো, অন্যের গর্ভবতী নারীর সাথে সহবাস না করা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে ইঙ্গিতমূলক শব্দ ব্যবহার করে বলেছেন, (أَنْ يسْقِى مَاء زَرْعَ غَيْرِه) অর্থাৎ বৈধ নয় যে, সে অন্যের ক্ষেতের স্থানে কোনো পানি দিবে। পানি দ্বারা বীর্য এবং ক্ষেতের জায়গা দ্বারা নারীর গর্ভাশয় বুঝানো হয়েছে। কুরআনেও আল্লাহ তা‘আলা নারীকে ক্ষেতের সাথে তুলনা করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র।’’ (সূরা আল বাকারা ২ : ২২৩)

শস্যক্ষেত্র থেকে আমরা যেমন ফসল পাই তেমনি একজন নারী থেকে সন্তানের মতো উত্তম ফসল পাওয়া যায়। তাই নারীকে শস্য ক্ষেতের সাথে সাদৃশ্য দেয়া একেবারে স্পষ্ট।

দ্বিতীয়তঃ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়টি হারাম করেন তা হলো দাসী নারীর গর্ভাশয় ইসতিব্রা না করেই তার সাথে সহবাস করা। যার আলোচনা ইতোপূর্বের দুই হাদীসে আমরা দেখেছি।

তৃতীয়তঃ যে বিষয়টি হাদীসে হারাম করা হয়েছে তা হলো গনীমাতের সম্পদ মুজাহিদদের মাঝে বণ্টনের পূর্বেই বিক্রি করে দেয়া।

গনীমাতের মাল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের হক। বণ্টনের আগে সবাই এর সমষ্টিগত মালিক। তাই বণ্টনের আগে কারো জন্যই এই সম্পদে কোনো ধরনের গোপন হস্তক্ষেপ জায়িয নয়। একটি হাদীসে এসেছে- «لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ» ‘‘পবিত্রতা ছাড়া সালাত কবুল হয় না এবং গনীমাতের মালে খিয়ানাতের সাদাকা কবুল হয় না।’’ (সহীহ মুসলিম- অধ্যায় : পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ : সালাতে পবিত্রতা ওয়াজিব, হাঃ ৩২৯)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ (كتاب النكاح)