৩২৮১

পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - খুল্‘ই (খুলা‘ তালাক) ও তালাক প্রসঙ্গে

৩২৮১-[৮] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিয়ের পূর্বে তালাক নেই, মালিকানা ছাড়া মুক্তিদান হয় না, সিয়ামের মধ্যে বিসাল (ইফত্বার ছাড়া অনবরত সওম পালন করা) নেই, বয়ঃপ্রাপ্তির পরে ইয়াতীমত্ব নেই, দুধ ছাড়ানোর পরে দুগ্ধদান সম্পর্ক (দুধ মা) হয় না, একটানা রাত-দিন নীরবতা পালনে কোনো কিছু (’ইবাদাত) নেই। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا طَلَاقَ قَبْلَ نِكَاحٍ وَلَا عَتَاقَ إِلَّا بَعْدَ مِلْكٍ وَلَا وِصَالَ فِي صِيَامٍ وَلَا يُتْمَ بَعْدَ احْتِلَامٍ وَلَا رَضَاعَ بَعْدَ فِطَامٍ وَلَا صَمْتَ يَوْمٍ إِلَى اللَّيْلِ» . رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ

وعن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا طلاق قبل نكاح ولا عتاق إلا بعد ملك ولا وصال في صيام ولا يتم بعد احتلام ولا رضاع بعد فطام ولا صمت يوم إلى الليل» . رواه في شرح السنة

ব্যাখ্যা: বিবাহের মাধ্যমে স্বামীত্ব এবং দাসের ওপর মালিকানা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে তালাক এবং দাস-দাসীর মুক্তির অধিকার লাভ করা যায় না। যেমন কোনো নারীকে বিবাহের পূর্বে তালাক প্রদানের ঘোষণা দিয়ে পরে তাকে বিবাহ করলে পূর্বের ঐ তালাক কার্যকর হবে না।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ (لَا طَلَاقَ) এর অর্থ হলো: «لَا وُقُوعَ لِطَلَاقٍ قَبْلَ نِكَاحٍ» অর্থাৎ বিবাহের পূর্বে তালাক পতিত হয় না বা কার্যকর হয় না। সওমে বিসাল বা বিরতিহীন সিয়াম হলো ইফত্বার না করে একাধারে বা ক্রমাগত সওম বা রোযা পালন করতে থাকা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ সওম পালন নিষেধ করেছেন। সাওমের অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে।

একটি শিশুর ইয়াতীম থাকার মেয়াদকাল হলো বালেগ হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। সুতরাং বালেগ হওয়ার পর ইয়াতীম আর ইয়াতীম থাকে না। অনুরূপ দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় দুধপানের মেয়াদ কালের মধ্যে দুধপান করলে। এ দুধপানের মেয়াদ হলো দু’ বছর। অর্থাৎ দু’ বছর বয়সের মধ্যে কোনো শিশু কোনো মহিলার স্তন্য পান করলে তার সাথে দুধ মা সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর পরে পান করলে দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় না।

দুধপানের মেয়াদ দু’ বছর, আল্লাহ বলেনঃ ‘‘আর জননীগণ তাদের সন্তানদের পুরা দু’বছর দুধ পান করাবে, যে দুধপানের পূর্ণ মেয়াদ পুরো করতে চায়।’’ (সূরা আল বাকারা ২ : ২৩৩)

অন্যত্র আল্লাহ বলেনঃ ‘‘আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের ওয়াসিয়্যাত করছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো (মেয়াদ) দু’ বছরে হয়।’’ (সূরা লুকমান ৩১ : ১৪)

পূর্ববর্তী দীনে সওম পালনকালে কারো সাথে কথা বলা চলতো না বরং সূর্যাস্ত পর্যন্ত কথা বন্ধ রাখতে হতো। পবিত্র কুরআনে এর একাধিক প্রমাণ রয়েছে; দেখুন- সূরা মারইয়াম আয়াত ২৬। ইসলামের সওম পালনকালে চুপ থাকার বিধান রহিত হয়েছে। অথবা জাহিলী যুগে মানুষ কোনো কথাবার্তা না বলে ধ্যান মগ্ন থাকাকে ‘ইবাদাত মনে করতো। ইসলামে এর বিধান কি, এই প্রশ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (لَا صَمْتَ يَوْمٍ إِلَى اللَّيْلِ) অর্থাৎ দিন থেকে রাত পর্যন্ত নিরবতা পালনে কোনো ‘ইবাদাত নেই।

মুল্লা ‘আলী আল কারী (রহঃ) বলেনঃ এই নিরবতায় শিক্ষণীয় কিছু নেই এবং সাওয়াবও কিছু নেই। এটা আমাদের শারী‘আতের বিধানও নয়, বরং পূর্ব জাতিদের বিধান।
কেউ কেউ বলেন, এটা নিষেধ এজন্য যে, এটা খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্যশীল কাজ। জাহিলী যুগেও ই‘তিকাফকালে মানুষ কথাবার্তা বন্ধ রাখতো, তাদের প্রতিবাদে এ হাদীস হতে পারে। (শারহুস্ সুন্নাহ্ হাঃ ২৩৫০; মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৩/৪৪২, ইবনু হুমাম ‘আলী -এর সূত্রে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত হাদীসটি)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ (كتاب النكاح)