৩২১৯

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - ওয়ালীমাহ্ (বৌভাত)

৩২১৯-[১০] আবূ মাস্’ঊদ আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারগণের মধ্যে আবূ শু’আয়ব নামক এক ব্যক্তির গোশ্ত/গোশত বিক্রেতা একজন ক্রীতদাস ছিল। সে ক্রীতদাসকে বলল, তুমি আমার জন্য পাঁচজনের অনুপাতে খাদ্য প্রস্তুত কর। আমি পাঁচজনের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও দা’ওয়াত করতে ইচ্ছুক। সুতরাং সে হিসাবে তাঁর জন্য খাবার তৈরি করা হলো। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দা’ওয়াত করলেন। অতঃপর পথিমধ্যে তাঁদের (পাঁচজনের) সাথে একজন শামিল হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ শু’আয়বকে ডেকে বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে তাকে (অতিরিক্ত লোকটিকে) অনুমতি দিতে পার, ইচ্ছা করলে না করতে পার। সে বলল, না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْوَلِيْمَةِ

وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ يُكْنَى أَبَا شُعَيْبٍ كَانَ لَهُ غُلَامٌ لَحَّامٌ فَقَالَ: اصْنَعْ لِي طَعَامًا يَكْفِي خَمْسَةً لَعَلِّي أَدْعُو النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَامِسَ خَمْسَةٍ فَصَنَعَ لَهُ طعيما ثمَّ أتها فَدَعَاهُ فَتَبِعَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا شُعَيْبٍ إِنَّ رَجُلًا تَبِعَنَا فَإِنْ شِئْتَ أَذِنْتَ لَهُ وَإِنْ شِئْتَ تركته» . قَالَ: لَا بل أَذِنت لَهُ

وعن أبي مسعود الأنصاري قال: كان رجل من الأنصار يكنى أبا شعيب كان له غلام لحام فقال: اصنع لي طعاما يكفي خمسة لعلي أدعو النبي صلى الله عليه وسلم خامس خمسة فصنع له طعيما ثم أتها فدعاه فتبعهم رجل فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يا أبا شعيب إن رجلا تبعنا فإن شئت أذنت له وإن شئت تركته» . قال: لا بل أذنت له

ব্যাখ্যা: সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিভিন্ন সময়ই বাড়ীতে দা‘ওয়াত করে নিতেন। আবূ শু‘আয়ব সম্ভবত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারার মধ্যে অনাহারের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন, তাই তাকে দা‘ওয়াত করেছিলেন। সুতরাং এজন্য গোলামকে দিয়ে যথাসময়ে কিছু হালকা খাদ্য তৈরি করানো হলো। طُعَيْمًا শব্দটি ক্ষুদ্রার্থ বাহক বিশেষ্য, এর অর্থ ছোট, ক্ষুদ্র, হালকা ইত্যাদি। এখানে অনাড়ম্বর, সাধারণ বা সাদামাটা খাদ্য বুঝানো উদ্দেশ্যও হতে পারে।

খাদ্য তৈরি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারজন সাহাবীসহ তাকে ডাকলেন। তাদের সাথে আরেকজন সাহাবীও গেলেন যাকে দা‘ওয়াত করা হয়নি। বাড়ীতে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দা‘ওয়াতকারী আবূ শু‘আয়বকে বললেন, হে আবূ শু‘আয়ব! আমাদের সাথে একজন লোক এসেছে, অর্থাৎ সে রাস্তা থেকে এসেছে যাকে তুমি দা‘ওয়াত করনি, এখন তুমি যদি চাও তাকে ভিতরে আসার এবং খানা খাবার অনুমতি দিতে পার আর তুমি ইচ্ছা করলে তাকে বর্জন করতে পার। আবূ শু‘আয়ব তখন বললেন , হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি তাকে বাদ রাখব না, বরং আমি তাকে অনুমতি দিলাম।

এ হাদীস থেকে প্রমাণিত যে, কোনো কওমের যিয়াফতে যিয়াফতকারীর অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা বা অংশগ্রহণ করা বৈধ নয় এবং সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশ ছাড়া মেহমানের জন্যও বৈধ নয় তাদের সাথে দা‘ওয়াতবিহীন কোনো লোক গমন করলে তাকে অনুমতি দেয়া। হ্যাঁ যদি সর্বসাধারণের আসার অনুমতি থাকে অথবা অতিরিক্ত কেউ আসাতে দা‘ওয়াতকারী খুশী হয়েছেন জানা যায় তবে তা স্বতন্ত্র কথা।

শারহুস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, যাকে দা‘ওয়াত করা হয়নি তাকে সেখানে গিয়ে খাদ্য গ্রহণ বৈধ নয়। একদল ‘উলামার মতে কারো সাথে যদি পূর্ব বন্ধুত্ব থাকে ঐ বন্ধু যে খাদ্য দিয়েছে তা সে নিজে খেতে পারবে এবং অপরকেও খাওয়াতে পারবে, এমনকি খাবার বহন করে বাড়ীতেও আনতে পারবে। তবে খাবার দস্তরখানে বসে পড়লে তখন স্বভাবসিদ্ধ নিয়ম হলো খেয়েই যেতে হবে, বহন করে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া যাবে না এবং অন্যকেও খাওয়ানো যাবে না। একই দস্তরখানে অংশগ্রহণকারী সকলেই পরস্পর একটি খাদ্যে অংশগ্রহণ করতে পারবে, তবে দস্তরখান ভিন্ন হলে তা বৈধ নয়।

মুযহির বলেনঃ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট বিবরণ যে, কারো বাড়ীতে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ, দা‘ওয়াতী ব্যক্তির জন্য ও দা‘ওয়াতকারীর অনুমতি ছাড়া অন্যকে সাথে নিয়ে যাওয়া বৈধ নয়।

ইমাম নববী (রহঃ) বলেনঃ দা‘ওয়াতী ব্যক্তির সাথে যদি কেউ এসেই পরে তাহলে তার জন্য মুস্তাহাব হলো দা‘ওয়াতকারীর অনুমতি প্রার্থনা করা, আর দা‘ওয়াতকারীরও উচিত তাকে ফিরিয়ে না দেয়া। হ্যাঁ যদি তার দ্বারা উপস্থিত দা‘ওয়াতী মেহমানদের কোনো কষ্ট হয় তবে তাকে স্বহৃদয়তার সাথে মিষ্টি ও নম্র্ কথা বলে বিদায় করে দিবে, পারলে কিছু খাদ্য সাথে দিয়ে বিদায় করলে আরো ভালো ও সুন্দর হয়। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৪৬১; শারহে মুসলিম ১৩/১৪ খন্ড, হাঃ ২০৩৬; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ (كتاب النكاح)