৩২১৬

পরিচ্ছেদঃ ৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - ওয়ালীমাহ্ (বৌভাত)

৩২১৬-[৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেও ওয়ালীমার দা’ওয়াত দিলে সে যেন তাতে শামিল থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْوَلِيْمَةِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْوَلِيمَةِ فَلْيَأْتِهَا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: فَلْيُجِبْ عُرْسًا كَانَ أَو نَحوه

وعن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا دعي أحدكم إلى الوليمة فليأتها» . متفق عليه. وفي رواية لمسلم: فليجب عرسا كان أو نحوه

ব্যাখ্যা : বিবাহের ওয়ালীমার দা‘ওয়াত দেয়া সুন্নাত, গ্রহণ করাও সুন্নাত। সহীহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় ওয়ালীমাহ্ এবং অনুরূপ অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি যেমন ‘আক্বীকার দা‘ওয়াতের কথাও এসেছে। এমনকি খাৎনার দা‘ওয়াত। তবে বিবাহের ওয়ালীমাহ্ ও অনুরূপ অন্যান্য দা‘ওয়াতের কথাটি মুসলিমের উদ্ধৃতিতে বলা হলো, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা নয় বরং রাবীর নিজস্ব কথা যা তিনি তাতে সংযোজন করেছেন। জামিউস্ সগীর গ্রন্থে হাদীসটি এভাবে এসেছে, ‘‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নব বরের ওয়ালীমার জন্য দা‘ওয়াত দেয় তখন সে যেন তা কবুল করে।’’ মুসলিম ও ইবনু মাজাহও এটি বর্ণনা করেছেন। বলা হয়, ওয়ালীমার দা‘ওয়াত গ্রহণ করা ওয়াজিব, বিনা ওযরে দা‘ওয়াত তরককারী গুনাহগার হবে। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরো নির্দেশ রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি দা‘ওয়াত বর্জন করল সে আল্লাহ ও তদীয় রসূলের নাফরমানী করল।’’ (সহীহ মুসলিম হাঃ ১০৬, ১৪৩১)

কেউ কেউ বলেছেন, দা‘ওয়াতে হাযির হওয়া মুস্তাহাব আর সওম পালন না করলে খাওয়াও ভালো। দা‘ওয়াত যদি ওয়ালীমাহ্ ছাড়া অন্য কিছুর হয় তাহলে তা গ্রহণ করা মুস্তহাব।

যে সকল ওযরের কারণে কবূলের আবশ্যকতা রহিত হবে অর্থাৎ দা‘ওয়াত পরিহার করা যাবে সেগুলো হলো : খাদ্য সন্দেহযুক্ত হওয়া, খাদ্যানুষ্ঠানে শুধু ধনীদের খাস করে দা‘ওয়াত করা হয় এবং গরীবদের বর্জন করা হয়, অথবা সেখানে এমন লোক আছে যে উপস্থিত সভ্যদের কষ্ট দেয়, অথবা সেখানে এমন সব লোক বসবে যাদের সাথে বসা উচিত নয়। অথবা দা‘ওয়াতকারী তার অনিষ্টতা চাপা দেয়ার জন্য কিংবা তার যশ খ্যাতি প্রকাশের লোভে দা‘ওয়াত করেছে। অথবা দা‘ওয়াতকারী তার বাতিল ও নিষিদ্ধ কর্মের সমর্থন আদায় বা সাহায্যের জন্য দা‘ওয়াত করছে। কিংবা সেখানে নিষিদ্ধ কর্ম হয়ে থাকে যেমন মদ্যপান, অশ্লীল খেল-তামাশা ইত্যাদি। এমনকি বিছানাও যদি রেশমীর বিছানা হয় এ জাতীয় অনুষ্ঠানের দা‘ওয়াত বর্জন করা বৈধ, বরং উচিত বর্তমানের দা‘ওয়াতী অনুষ্ঠানগুলোতে কোনো না কোনো দিক থেকে এ জাতীয় কর্মকা- হয়েই থাকে। সুতরাং এ জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদান না করার ওযর বিদ্যমান এবং গ্রহণযোগ্য। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫১৭৩, শারহে মুসলিম ৯ম/১০ম খন্ড, হাঃ ১৪২৯; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৩: বিবাহ (كتاب النكاح)