৩০৩৯

পরিচ্ছেদঃ ১৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কুড়িয়ে পাওয়া দ্রব্য-সামগ্রী

৩০৩৯-[৭] ‘ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো হারানো বস্তু পায়, সে যেন এক কি দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সে ব্যাপারে সাক্ষী রাখে এবং তা গোপন ও গায়েব না করে। অতঃপর যদি তার মালিককে পায় তাকে তা ফিরিয়ে দেয়। নচেৎ তা আল্লাহর মাল, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]

وَعَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ وَجَدَ لُقَطَةً فَلْيُشْهِدْ ذَا عَدْلٍ أَوْ ذَوِي عَدْلٍ وَلَا يَكْتُمْ وَلَا يُغَيِّبْ فَإِنْ وَجَدَ صَاحِبَهَا فَلْيَرُدَّهَا عَلَيْهِ وَإِلَّا فَهُوَ مَالُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ

وعن عياض بن حمار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من وجد لقطة فليشهد ذا عدل أو ذوي عدل ولا يكتم ولا يغيب فإن وجد صاحبها فليردها عليه وإلا فهو مال الله يؤتيه من يشاء» . رواه أحمد وأبو داود والدارمي

ব্যাখ্যা: (فَلْيُشْهِدْ ذَا عَدْلٍ) খত্ত্বাবী বলেনঃ এটা শিষ্টাচার ও নির্দেশনামূলক আদেশের শব্দ। আর ওটা দু’টি অর্থের কারণে। দু’টি অর্থের একটি হলো- পার্থিব জীবনে শায়ত্বন তাকে প্ররোচিত করতে পারে ঐ বস্তু নিজের করে নেয়ার জন্য আর তাতে আমানাতের খিয়ানাত হয়ে যাবে, তাই সাক্ষী রাখবে। অপর অর্থটি হলো- ঐ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা যায় না, ফলে তার উত্তরাধিকাররা ঐ হারানো বস্তুটির দাবী করে এবং ব্যক্তি তাকে ঐ উত্তরাধিকার স্বত্বের মাঝে অনুমোদন দেয়।

‘সুবুল’-এ আছে, এ হাদীসটি হারানো বস্তু কুড়ানোর পর দু’জন ন্যায় ইনসাফকারী ব্যক্তির মাধ্যমে সাক্ষ্য রাখার আবশ্যক হওয়ার অতিরিক্তের উপকারিতা দিচ্ছে। ইমাম আবূ হানীফাহ্ এ মত পোষণ করেছেন এবং এটা ইমাম শাফি‘ঈ-এর দু’ মতের একটি। অতঃপর তারা বলেছে, হারানো বস্তু কুড়ানোর ব্যাপারে এবং তার বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে সাক্ষ্য রাখা আবশ্যক। ইমাম মালিক এবং ইমাম শাফি‘ঈর দু’ মতের একটি হলো- সাক্ষ্য রাখা আবশ্যক নয়। কেননা বিশুদ্ধ হাদীসগুলোতে সাক্ষ্যর আলোচনা নেই। সুতরাং সাক্ষ্য রাখার এ বিষয়টি মুস্থাহাবের দিকে বর্তাবে। পূর্ববর্তীরা বলেন, এ অতিরিক্তাংশ বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হওয়ার পর এর প্রতি ‘আমল করা অবশ্যক। সুতরাং সাক্ষ্য রাখা আবশ্যক। হাদীসসমূহে এর আলোচনা না থাকা এ মাস্আলার বিরোধিতা করবে না। সঠিক কথা হলো- সাক্ষ্য রাখা আবশ্যক।

(وَلَا يُغَيِّبْ) অর্থাৎ- তা অন্যত্র চালান দেয়ার মাধ্যমে অদৃশ্য করবে না। (فَهُوَ مَالُ اللّٰهِ) এতে জাওয়াহিরীদের ঐ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে যে, যে ব্যক্তি হারানো বস্তু কুড়ায় তাহলে হারানো বস্তু ঐ ব্যক্তির মালিকানায় পরিণত হবে এবং সে তার জরিমানা দিবে না। কখনো উত্তর দেয়া হয়ে থাকে যে, এটা জরিমানা আবশ্যক করা হতে যা গত হয়েছে তার সাথে শর্তযুক্ত।

(يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- নিশ্চয় অবহিতকরণের এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর হারানো বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৩য় খন্ড, হাঃ ১৭০৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১২: ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) (كتاب البيوع)