২৭১১

পরিচ্ছেদঃ ১৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং হজ্জ ছুটে যাওয়া

২৭১১-[৫] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রসূলুল­াহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আপন চাচাতো বোন) যুবা’আহ্ বিনতুয্ যুবায়র-এর নিকট এসে বললেন, মনে হয় তুমি হজ্জ/হজ পালনের ইচ্ছা পোষণ করো। তিনি (যুবা’আহ্) বললেন, আল্লাহর কসম! (হ্যাঁ, কিন্তু) আমি তো অধিকাংশ সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, হজের নিয়্যাত করে ফেলো এবং শর্ত করে বলো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে (অসুখের কারণে) যেখানেই আটকে ফেলবে সেখানেই আমি হালাল হয়ে যাবো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْإِحْصَارِ وَفَوْتِ الْحَجِّ

وَعَنْ عَائِشَةَ. قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ فَقَالَ لَهَا: «لَعَلَّكِ أَرَدْتِ الْحَجَّ؟» قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا أَجِدُنِي إِلَّا وَجِعَةً. فَقَالَ لَهَا: حُجِّي وَاشْتَرِطِي وَقُولِي: اللَّهُمَّ مَحِلِّي حَيْثُ حبستني

وعن عائشة. قالت: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ضباعة بنت الزبير فقال لها: «لعلك أردت الحج؟» قالت: والله ما أجدني إلا وجعة. فقال لها: حجي واشترطي وقولي: اللهم محلي حيث حبستني

ব্যাখ্যা: (حُجِّىْ وَاشْتَرِطِىْ وَقُوْلِىْ: اَللّٰهُمَّ مَحِلِّىْ حَيْثُ حَبَسْتَنِىْ) ‘‘তুমি হজ্জের ইহরাম বাঁধো এবং শর্তারোপ করো আর বলো যে, আমি সেখানেই হালাল হব যেখানে আমাকে অসুস্থতা বাধা প্রদান করে।’’ ‘আল্লামা ‘আয়নী বলেনঃ এর অর্থ হলো তুমি যেখানেই হজ্জের কার্যাবলী সম্পাদন করতে অপারগ হবে এবং তা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সেখানেই তুমি হালাল হয়ে যাবে।

যারা মনে করেন অসুস্থতা দ্বারা (মুহসার হয় না) হজ্জ/হজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয় না তারা এ হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করে বলেন যে, অসুস্থতা যদি বাধা হত তাহলে শর্ত করার কোন প্রয়োজন ছিল না এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শর্তারোপ করতে বলতেন না। ইমাম শাফি‘ঈ ও তার সমর্থকদের বক্তব্য এটাই। আর যারা মনে করেন অসুস্থতাও হজ্জ/হজ পালনে বাধা, অর্থাৎ- এর দ্বারা মুহসার হয় যেমনটি হানাফীদের অভিমত তারা হাজ্জাজ ইবনু ‘আমর-এর হাদীস যাতে আছে- ‘‘যার হাড় ভেঙ্গে গেল অথবা লেংড়া হয়ে গেল সে হালাল হয়ে গেল’’ এটি দলীল হিসেবে পেশ করে থাকেন।

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি ঐ ব্যক্তির জন্য শর্তারোপ করার বৈধতা প্রমাণ করে যিনি আশংকা করেন যে, আগত কোন বিপদ বা অসুস্থতা তাকে হজ্জে বাধা প্রদান করতে পারে। যে ব্যক্তি ইহরামের সময় এরূপ শর্তারোপ করে অতঃপর অসুস্থতা বা অনুরূপ কোন বাধার সম্মুখীন হয় তার জন্য হালাল হওয়া বৈধ। আর যে ব্যক্তি এরূপ শর্তারোপ করেনি তার জন্য অসুস্থতার কারণে হালাল হওয়া বৈধ নয়।

আর এরূপ শর্তারোপ করা মুবাহ, না-কি মুস্তাহাব, না-কি তা ওয়াজিব- এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।

(১) এরূপ শর্ত করা বৈধ- এটি শাফি‘ঈদের প্রসিদ্ধ মত।

(২) এরূপ শর্ত করা মুস্তাহাব- ইমাম আহমাদের অভিমত এটিই।

(৩) এরূপ শর্ত করা ওয়াজিব- ইবনু হাযম আল যাহিরী এ মতের প্রবক্তা।

(৪) এরূপ শর্ত করা বৈধ নয়- হানাফী এবং মালিকী মাযহাবের অভিমত এটিই।

শর্ত করা বৈধ নয় এর অর্থ হলো এরূপ শর্ত করার কোন লাভ নেই, অর্থাৎ- এর ফলে তার জন্য হালাল হওয়া বৈধ হবে না। কেননা অসুস্থতা হানাফীদের মতানুসারে হজ্জ/হজ পালনে এমনিতেই বাধা। অতএব শর্তারোপ ছাড়াই অসুস্থ ব্যক্তি মুহসার তথা বাধাপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে। তাই এ শর্ত নিষ্প্রয়োজন। তবে আবূ হানীফার মতে এ শর্তের একটি উপকারিতা এই যে, শর্তকারী ব্যক্তি হালাল হলে তাকে দম (কাফফারাহ) দিতে হবে না।

হাদীসের প্রকাশমান অর্থ এই যে, হজ্জের ইহরামে শর্তারোপকারী হজ্জ/হজ সম্পাদনের পূর্বেই বাধাপ্রাপ্ত হয়ে হালাল হলে তাকে কাফফারাহ (দম) দিতে হবে না হাম্বালী এবং শাফি‘ঈদের মত এটিই।

জমহূর ‘আলিমগণ এ হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন যে, শর্তারোপ ব্যতীত অসুস্থ ব্যক্তির জন্য হালাল হওয়া বৈধ নয়। কেননা তা যদি বৈধ হত তাহলে শর্তারোপের প্রয়োজন হত না। অত্র হাদীস এও প্রমাণ করে যে, শর্তারোপ করার পর অসুস্থতার কারণে হালাল হয়ে গেলে তাকে তা কাযা করতে হবে না।

(مَحِلِّىْ حَيْثُ حَبَسْتَنِىْ) ‘‘বাধাপ্রাপ্ত স্থানই আমার হালালস্থল।’’ হাদীসের এ অংশ প্রমাণ করে যে, বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেখানে বাধাপ্রাপ্ত হবে সেখানেই হালাল হবে এবং সেখানেই কুরবানীর পশু যাবাহ করবে যদিও তা হেরেম এলাকার বাইরে হয়। ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ-এর অভিমত এটিই।

ইমাম আবূ হানীফা বলেনঃ হেরেম এলাকা ব্যতীত কুরবানীর পশু যাবাহ করা যাবে না।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১১: হজ্জ (كتاب المناسك)