১৭৭৭

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

১৭৭৭-[৬] ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ক্বওম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা স-ল্লি ‘আলা- আ-লি ফুলা-ন’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ওপর রহমত বর্ষণ করো)। আমার পিতাও যখন তার নিকট যাকাত নিয়ে এলেন তিনি বললেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা সল্লি ‘আলা- আ-লি আবী আওফা’’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ আওফা ও তার বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করো)। (বুখারী, মুসলিম)[1]

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যখন কোন ব্যক্তি তার নিজের যাকাত নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন, তিনি বলতেন, اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ ‘‘হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করো।’’

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ: «اللَّهُمَّ صلى على آل فلَان» . فَأَتَاهُ أبي بِصَدَقَتِهِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ صلى الله على آل أبي أوفى»
وَفِي رِوَايَة: إِذا أَتَى الرجل النَّبِي بِصَدَقَتِهِ قَالَ: «اللَّهُمَّ صلي عَلَيْهِ»

وعن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنهما قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أتاه قوم بصدقتهم قال: «اللهم صلى على آل فلان» . فأتاه أبي بصدقته فقال: «اللهم صلى الله على آل أبي أوفى» وفي رواية: إذا أتى الرجل النبي بصدقته قال: «اللهم صلي عليه»

ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন ক্বওম বা ব্যক্তি যাকাত বা সদাক্বাহ্ (সাদাকা) নিয়ে এলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য দু‘আ করতেন। যেমন- বর্ণিত হাদীসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ আওফা-এর পরিবারের জন্য দু‘আ করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু‘আ করতেন সূরাহ্ আত্ তাওবার ১০৩ নং আয়াতের উপর ‘আমল করার জন্য সেখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘তুমি তাদের মাল হতে যাকাত গ্রহণ কর এবং তাদের জন্য দু‘আ কর। কেননা তোমার দু‘আ তাদের অন্তরের প্রশান্তি।’’

হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, সদাক্বার মাল গ্রহীতার জন্য মুস্তাহাব হল সদাক্বাহ্ (সাদাকা) দাতার জন্য দু‘আ করা। আহলে যাহের সহ আরো অনেক সূরা আত্ তাওবার ১০৩ নং আয়াতের আলোকে বলেছেন যে দু‘আ করা ওয়াজিব। তবে এ আবশ্যকতাটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট।

হাদীস থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, নাবীগণ ব্যতীত স্বতন্ত্রভাবে অন্য কোন ব্যক্তির صلاة (সালাত) শব্দের মাধ্যমে দু‘আ করা বৈধ এবং সদাক্বাহ্ (সাদাকা) গ্রহীতা সদাক্বাদাতার জন্য এ দু‘আ করতে পারে। এটি ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর অভিমত। তাদের ভাষ্যমতে এখানে صلاة দ্বারা উদ্দেশ্য দু‘আ, বারাকাত কামনা, সম্মান বা মর্যাদা কামনা নয়। ইমাম বুখারী (রহঃ) ও সাধারণভাবে তা বৈধ বলে মনে করেন। আর ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেন, নাবী-রসূলগণ ব্যতীত অন্য কারো জন্য স্বতন্ত্রভাবে সালাত আদায় করা বৈধ নয় তবে তাবি‘ঈন বা নাবী-রসূলগণের পরে সকলের উপরে কারো নাম আসলে সেক্ষেত্রে তাদের সালাত আদায় করা জায়িয।

ইমাম ইবনুল ক্বইয়্যূম (রহঃ) বলেন, পছন্দনীয় অভিমত হল, নাবীগণ ফেরেশতাগণ, নাবী-পত্নীগণ, নাবী-বংশধর, সন্তান-সন্ততি এবং আনুগত্যশীল ব্যক্তিদের ওপর সাধারণভাবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা যায়। আর নাবীগণ ব্যতীত অন্য কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা অপছন্দনীয়। বিষয়টির সারাংশ হল আল্লাহ এবং আল্লারহ রাসূলের ক্ষেত্রে যে কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য صلاة শব্দের মাধ্যমে দু‘আ করা বৈধ। যেমনটি বিভিন্ন হাদীসে এসেছে। আর আল্লাহ এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে কারো জন্য صلاة শব্দের মাধ্যমে দু‘আ করা বৈধ নয়। তবে তাব্‘আন (অনুসৃত) জায়িয।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৬: যাকাত (كتاب الزكاة)