১১৩৯

পরিচ্ছেদঃ ২৮. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুক্তাদীর ওপর ইমামের যা অনুসরণ করা কর্তব্য এবং মাসবূকের হুকুম

১১৩৯-[৪] আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক ভ্রমণের সময় ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন। ঘটনাক্রমে তিনি নীচে পড়ে গেলেন। ফলে তাঁর ডান পাঁজরের চামড়া উঠে গিয়ে চরম ব্যথা পেলেন (দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে পারছিলেন না)। তাই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে বসে আমাদেরকে (পাঁচ বেলা সালাতের) কোন এক বেলা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। আমরাও তার পেছনে বসে বসেই সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ করে তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ইমাম এ জন্যেই নির্ধারিত করা হয়েছে যেন তোমরা তাঁর অনুকরণ করো। তাই ইমাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করালে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইমাম যখন রুকূ’ করবে, তোমরাও রুকূ’ করবে। ইমাম রুকূ’ হতে উঠলে তোমরাও রুকূ’ হতে উঠবে। ইমাম ’সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ’ বললে, তোমরা ’রব্বানা- লাকাল হামদু’ বলবে। আর যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করাবে, তোমরা সব মুক্তাদী বসে সালাত আদায় করবে।

ইমাম হুমায়দী (রহঃ) বলেন, ’ইমাম বসে সালাত আদায় করালে’ তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ নির্দেশ, তার প্রথম অসুস্থের সময়ের নির্দেশ ছিল। পরে মৃত্যুশয্যায় (ইন্তিকালের একদিন আগে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে সালাত আদায় করিয়েছেন। মুক্তাদীগণ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন। তিনি তাদেরকে বসে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেননি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ শেষ ’আমলের ওপরই ’আমল করা হয়। এগুলো হলো বুখারীর ভাষা। এর ওপর ইমাম মুসলিম একমত পোষণ করেছেন। মুসলিমে আরো একটু বেশী বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ইমামের বিপরীত কোন ’আমল করো না। ইমাম সিজদা্ করলে তোমরাও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করবে। (বুখারী)[1]

بَابُ مَا عَلَى الْمَأْمُومِ مِنَ الْمُتَابَعَةِ وَحُكْمِ الْمَسْبُوْقِ

وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الْأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِما فصلوا قيَاما فَإِذا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبنَا وَلَك الْحَمد وَإِذا صلى قَائِما فصلوا قيَاما وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ»
قَالَ الْحُمَيْدِيُّ: قَوْلُهُ: «إِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا» هُوَ فِي مَرَضِهِ الْقَدِيمِ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ قِيَامٌ لَمْ يَأْمُرْهُمْ بِالْقُعُودِ وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ بِالْآخِرِ فَالْآخِرِ مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. هَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ. وَاتَّفَقَ مُسْلِمٌ إِلَى أَجْمَعُونَ. وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ: «فَلَا تختلفوا عَلَيْهِ وَإِذا سجد فاسجدوا»

وعن أنس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ركب فرسا فصرع عنه فجحش شقه الأيمن فصلى صلاة من الصلوات وهو قاعد فصلينا وراءه قعودا فلما انصرف قال: «إنما جعل الإمام ليؤتم به فإذا صلى قائما فصلوا قياما فإذا ركع فاركعوا وإذا رفع فارفعوا وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا ربنا ولك الحمد وإذا صلى قائما فصلوا قياما وإذا صلى جالسا فصلوا جلوسا أجمعون» قال الحميدي: قوله: «إذا صلى جالسا فصلوا جلوسا» هو في مرضه القديم ثم صلى بعد ذلك النبي صلى الله عليه وسلم جالسا والناس خلفه قيام لم يأمرهم بالقعود وإنما يؤخذ بالآخر فالآخر من فعل النبي صلى الله عليه وسلم. هذا لفظ البخاري. واتفق مسلم إلى أجمعون. وزاد في رواية: «فلا تختلفوا عليه وإذا سجد فاسجدوا»

ব্যাখ্যা: (الْأَيْمَنُ) ‘আবদুর রাযযাক্ব-এর বর্ণনাতে এসেছে (তাঁর ডান পায়ের নলা) আর তা অক্ষর বিকৃত না যেমন অনেকে ধারণা করেছেন। ‘‘ছাদে এবং কাষ্ঠ খন্ডে সালাত আদায়’’ অধ্যায়ে বুখারীর বর্ণনা যার অনুকূল। তাতে আছে, অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ের নলা বা কাঁধ জখমযুক্ত হয়ে গেল। বলা হয়ে থাকে নলা এর বর্ণনাটি দেহের ডান পাশের জখমযুক্ত স্থানের ব্যাখ্যাকারী। কেননা রসূলের সারা শরীর জখমযুক্ত হয়নি। আর এ হাদীসটি আবূ দাঊদে জাবির (রাঃ)-এর হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিপরীত না। তাতে আছে (অতঃপর তাঁকে খেজুর বৃক্ষের খন্ডের উপর ফেলে দেয়া হল তারপর তার পা মচকে গেল) দু’টি হাদীসের একটি অপরটির বিরোধী না হওয়ার কারণ এটাও হতে পারে। হয়ত দু’টি বিষয়ই সংঘটিত হয়েছে।

হাফিয বলেনঃ ইবনু হিব্বান বর্ননা করেন, এ ঘটনাটি হিজরতের পঞ্চম সনে যিলহাজ্জ মাসে ছিল। (فَصَلّى) অর্থাৎ অতঃপর তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর পান কক্ষে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেন। যেমন জাবির (রাঃ)-এর হাদীসে এসেছে। (صَلَاةً مِنَ الصَّلَوَاتِ) অর্থাৎ ফরয সালাতসমূহ। ক্বারী বলেনঃ এটা ইবারতের বাহ্যিক দিক। একমতে বলা হয়েছে, সালাত বলতে নফল সালাতসমূহ। এক বর্ণনাতে আছে, অতঃপর সালাতের সময় উপস্থিত হল। কুরতুবী বলেনঃ সালাত দ্বারা ফরয সালাত উদ্দেশ্য। কেননা এ সালাত তাদের অভ্যাস থেকে যা পরিচিতি লাভ করছে তা হল তাঁর সাহাবীগণ ফরয সালাতের জন্য একত্রিত হত। নফলের জন্য না। ইয়ায ইবনুল ক্বাসিম থেকে বর্ণনা করেন নিশ্চয় তা ছিল নফল সালাতে। তবে এ মতের সমালোচনা করা হয়েছে যে, আবূ দাঊদে জাবির (রাঃ)-এর বর্ণনাতে দৃঢ়ভাবে যা আছে তা হল নিশ্চয় তা ফরয সালাতে ছিল।

হাফিয বলেনঃ এ সালাত নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে আমি অবহিত হতে পারিনি। তবে আনাসের হাদীসে আছে ‘‘সেদিন আমাদেরকে নিয়ে তিনি সালাত আদায় করালেন যেন তা দিনের যুহরের অথবা ‘আসরের সালাত।’’

(وَهُوَ قَاعِدٌ) ক্বাযী ‘আয়ায বলেন, সম্ভবত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কিছু পতিত হয়েছিল ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেঁতলে যাওয়াতে তিনি দাঁড়াতে বাধাপ্রাপ্ত হন। তবে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে নিশ্চয়ই তা এরূপ না উক্তির মাধ্যমে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পা কেবল মচকে গিয়েছিল। যেমন আমরা জাবির (রাঃ)-এর হাদীস থেকে উল্লেখ করেছি এবং অনুরূপ আহমাদে আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনাতে এবং ইসমা‘ঈলী বর্ণনাতে এসেছে।

(فَصَلَّيْنَا وَرَاءَه قُعُودًا) এভাবে এ বর্ণনাতে আছে ‘‘নিশ্চয়ই তারা তার পেছনে বসা ছিল’’। এটি আনাস (রাঃ) থেকে যুহরী কর্তৃক মালিক-এর বর্ণনা। এর বাহ্যিক দিক ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে ইমাম বুখারী ও অন্যান্যগণ যা বর্ণনা করেছেন তার বিপরীত। আর তা এ শব্দে ‘‘অতঃপর তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করলেন এবং সম্প্রদায় তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করল। অতঃপর তিনি তাদের দিকে ইঙ্গিত করলেন তোমরা বস’’। উভয় হাদীসের মাঝে সমন্বয় নিশ্চয় আনাসের এ বর্ণনাতে সংক্ষিপ্ততা রয়েছে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বসার নির্দেশ দেয়ার পর অবস্থা যেদিকে গড়িয়েছে আনাস (রাঃ) তার উপরই যেন সীমাবদ্ধ থেকেছেন। বুখারীতে ছাদে সালাত আদায় অধ্যায়ে আনাস (রাঃ) থেকে হুমায়দ এর বর্ণনাতে এ শব্দে এসেছে, ‘‘অতঃপর তিনি তাদেরকে নিয়ে বসাবস্থায় সালাত আদায় করেছেন যে, এমতাবস্থায় তারা দাঁড়ানো। অতঃপর তিনি যখন সালাম ফিরালেন বললেন, ইমাম কেবল বানানো হয়েছে..... শেষ পর্যন্ত’’ আর এতেও সংক্ষিপ্ততা রয়েছে। কেননা সে তাঁর উক্তি ‘‘তাদেরকে তিনি বললেন, তোমরা বস’’ উল্লেখ করেনি।

উভয় হাদীসের সমন্বয়, প্রথমে সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছিল, অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বসার জন্য ইশারা করলে তারা বসে যায়। যুহরী এবং হুমায়দ প্রত্যেকে দু’টি বিষয়ের একটি বর্ণনা করেছেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) উভয় হাদীসকে একত্র করেছেন, অনুরূপভাবে মুসলিমে জাবির (রাঃ) উভয় হাদীসকে একত্র করেছেন। কুরতুবী উভয় হাদীসের মাঝে এ সম্ভাবনার কথা বলে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তাদের কতক শুরুতে বসা ছিল আর এ বিষয়টিকেই আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আর কতকে দাঁড়ানো ছিল অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বসার ব্যাপারে ইঙ্গিত করে আর এটি ঐ বিষয় যা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি ছাড়া সাহাবীদের কতক বসে যাওয়ার বিষয়টিকে অসম্ভব মনে করে সমালোচনা করা হয়েছে, কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি ছাড়া বসে যাওয়া মূলত ইজতিহাদের মাধ্যমে রহিতকরণকে দাবি করছে। কেননা সক্ষম ব্যক্তির ফরয সালাত মূলত দাঁড়িয়ে আদায় করতে হয়। অন্যান্যগণ উভয় নির্দেশের মাঝে এ সম্ভাবনা দিয়ে সমন্বয় সাধন করেছেন যে, ঘটনার একাধিকতা রয়েছে। তবে এতেও অসম্ভাবনা রয়েছে। কেননা আনাসের ঘটনা যদি পূর্বের ঘটনা হয় তাহলে ইজতিহাদের মাধ্যমে রহিতকরণ আবশ্যক হয়ে যাওয়ার যে কথাটি ইতিপূর্বে বলা হল তা আবশ্যক হয়ে যাচ্ছে ‘‘অথচ ইজতিহাদের মাধ্যমে রহিত করা বিশুদ্ধ না’’। পক্ষান্তরে যদি পরের ঘটনা হয় তাহলে (إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِه) দোহরানোর প্রয়োজন ছিল না।

কেননা ইতিপূর্বে তাঁরা সাহাবীগণ রসূলের পূর্বোক্ত নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে এবং রসূলের বসে সালাত আদায়ের কারণে তারাও বসে সালাত আদায় করেছে। ফাতহুল বারীতে এভাবেই আছে।

(لِيُؤْتَمَّ بِه) যাতে তার অনুসরণ করা হয় যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (فإذا صلى قائماً الخ) উক্তিটুকু (ليقتدي به) এর ব্যাখ্যা। আর অনুসরণকারীর অবস্থা এরূপ যে, সে অনুসরণীয় ব্যক্তির আগে কোন কাজ করবে না এবং তার সাথে সাথে কোন কাজ করবে না এবং কোন অবস্থানে তার আগে বাড়বে না বরং তার অবস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।

তারপরে তার অনুরূপ কাজ করবে। আর এ কথার দাবি হল হাদীস যে অবস্থাগুলো ব্যাখা করে দিয়েছে এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা করেনি বরং ক্বিয়াস করে সে অবস্থাগুলোর কোন অবস্থাতেই ইমামের বিরোধিতা করবে না। তবে তা বাহ্যিক কর্মগুলোর সাথে নির্দিষ্ট এবং তা গোপনীয় কাজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে না। গোপনীয় কাজ বলতে সালাতের সকল অবস্থাতে মুক্তাদী কর্তৃক ইমামের অনুসরণ করা।

সুতরাং অনুসরণের সাথে সাথে কাজ করা, আগে কাজ করা এবং বিপরীত কাজ করাকে অস্বীকার করে। ইমাম নাবাবী বলেনঃ বাহ্যিক সকল ক্ষেত্রে ইমামের অনুকরণ করা আবশ্যক। হাদীসে এ বাহ্যিক কর্মগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। সুতরাং রুকূ' এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর উল্লেখ নিয়্যাতের বিপরীত। কেননা নিয়্যাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে নিয়্যাত অন্য দলীল কর্তৃক সংকলিত হয়েছে। অন্য দলীল বলতে ক্বিরাআত (কিরআত) অধ্যায়ে মু‘আয-এর পূর্বোক্ত ঘটনা, অচিরেই হাদীসটি যে ব্যক্তি এক সালাতকে দু’বার আদায় করবে এ অধ্যায়ে আসছে। এ হাদীস দ্বারা আরও ঐ ব্যাপারে দলীল গ্রহণ সম্ভব যে, ইমামের অনুকরণের অধীনে নিয়্যাত প্রবিষ্ট না।

কেননা ইমামের অনুকরণ ইমামের কর্মসমূহের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার দাবীদার। তার সকল অবস্থার ক্ষেত্রে না। উদাহরণ স্বরূপ যদি ইমামের উযূ (ওযু/ওজু/অজু) ভেঙ্গে যায় তাহলে বিদ্বানদের নিকট বিশুদ্ধ মতে এ ধরনের ইমামের পেছনে ঐ ব্যক্তির কি সালাত আদায় বৈধ হবে যে তার অবস্থা সম্পর্কে জানে না। অতঃপর অনুকরণ আবশ্যক হওয়া সত্ত্বেও অনুকরণ বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অনুকরণের বিষয়গুলো থেকে একমাত্র তাকবীরে তাহরীমাহ্ ছাড়া অন্য কিছুকে শর্ত করা হয়নি। তবে সালাম ফিরানোর ক্ষেত্রে মতানৈক্য করা হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে মালিকীদের প্রসিদ্ধ মত হল, ইহরাম ও প্রথম তাশাহুদ এর ক্বিয়ামের সাথে সালামও শর্তারোপিত।

আর হানাফীগণ তাদের বিরোধিতা করে বলেছে; অনুকরণ ইমামের সাথে সাথে যথেষ্ট হবে। হানাফীগণ বলেন, অনুকরণের অর্থ হল বাস্তবায়ন করা। আর যে ব্যক্তি ইমামের কাজের মতো কাজ করবে তাকে বাস্তবায়নকারী বলে গণ্য করা যাবে। চাই তার সাথে অথবা তার পরে বাস্তবায়ন করুক। আর রুকনসমূহের ক্ষেত্রে ইমামের অগ্রগামী হওয়া হারাম এ ব্যাপারে প্রমাণ বহনকারী আবূ হুরায়রার হাদীস অচিরেই আসছে।

(فَإِذَا صَلّى قَائِما فصلوا قيَاما فَإِذا رَكَعَ فَارْكَعُوا)

বুখারীর এক বর্ণনাতে আছে (আর ইমাম যখন তাকবীর দিবে তখন তোমরাও তাকবীর দিবে আর যখন রুকূ' করবে তখন তোমরাও রুকূ' করবে) এখানে তাকবীর গোপন আছে, যা উদ্দেশিত।

(وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا) বুখারীর এক বর্ণনাতে এসেছে ‘‘আর তিনি যখন তার মাথা উঠাবেন তখন তোমরাও মাথা উঠাবে। আর যখন সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করবেন তখন তোমরাও সিজদা্ করবে।’’ আর উঠানো কথাটি রুকূ' ও সিজদা্ উভয় থেকে মাথা উঠানোকে অন্তর্ভুক্ত করছে। অনুরূপ সকল সাজদাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

(رَبنَا لَك الْحَمد) এভাবে সকল কপিতে (لَكَ الْحَمد) (و) বর্ণ ছাড়া আছে। বুখারীতে (واو) বর্ণ সহকারে। হাফিয বলেনঃ এভাবে সকল বর্ণনাতে আনাস (রাঃ)-এর হাদীসে (واو) বর্ণের মাধ্যমে আছে। তবে (তাকবীরের সাড়াদান অধ্যায়ের) যুহরী কর্তৃক লায়স-এর বর্ণনাতে (واو) বর্ণ ছাড়া আছে, অতঃপর কাশমিহীনী-এর বর্ণনাতে (واو) বর্ণ ছাড়া আছে। তবে (واو) বর্ণের বিদ্যমানতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কেননা তা অংশের উপর ‘আত্বফ হওয়ার কারণে তাতে অর্থের আধিক্যতা রয়েছে। (فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ) হাফিয বলেন, এভাবে বুখারী ও মুসলিমের সকল সানাদে (واو) বর্ণের মাধ্যমে। অর্থাৎ (جلوسا) শব্দটি واۤو সহ বহুবচনের মাধ্যমে।

হাদীসে অনেক মাস্আলাহ্ আছে।
প্রথম মাসআলাহ্ঃ ইমামের অনুকরণ করা আবশ্যক, সুতরাং ইমাম ইহরামের তাকবীর থেকে অবসর নেয়ার পর ইহরামের জন্য তাকবীর দিতে হবে। ইমাম তার তাকবীরে তাহরীমাহ্ শেষ না করা পর্যন্ত সালাতে প্রবেশ করে না।

সুতরাং তাকবীরের মাঝে ইমামের অনুকরণ করা মূলত এমন ব্যক্তির অনুকরণ করা যে ব্যক্তি সালাতের মাঝে না। তবে তা রুকূ', সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ও অনুরূপ বিষয়ের বিপরীত। ইমাম রুকূ' শুরু করার পর রুকূ' করতে হবে। অতএব মুক্তাদীর রুকূ' যদি ইমামের রুকূ‘র সাথে সাথে হয় বা ইমামের আগে হয় তাহলে মুক্তাদী মন্দ কাজ করল তবে সালাত বাতিল হবে না। অনুরূপভাবে সাজদাতে আর ইমামের সালাম ফেরানোর পর মুক্তাদী সালাম ফেরাবে। অতঃপর মুক্তাদী যদি ইমামের আগে সালাম ফেরায় তাহলে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। তবে ইমামের পরে বা সাথে সালাম ফেরালে সালাত নষ্ট হবে না। কেননা এ অবস্থাতে মুক্তাদী স্বাধীন বা বাঁধনমুক্ত এক্ষেত্রে অনুকরণের প্রয়োজন নেই। তবে তা আগে সালাম ফেরানোর বিপরীত। কেননা তা অনুসরণের পরিপন্থী। এ উক্তিটি করেছেন কুস্তুলানী।

দ্বিতীয় মাস্আলাহ্ঃ ঘোড়াতে আরোহণ করা, স্বভাবে প্রকৃতির ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেয়া যে ব্যক্তির কোন বিপদ বা সমস্যা এবং অনুরূপ কিছু যা এ ঘটনাতে সংঘটিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘটনার সাথে মিল এমন কিছু সংঘটিত হবে তার জন্য সান্ত্বনা লাভ করা শারী‘আত সম্মত এবং তাঁর মাঝে আছে উত্তম নমুনা।

তৃতীয় মাস্আলাহ্ঃ নিশ্চয় জ্বর এবং অনুরূপ সমস্যাদি যা মানুষের হয়ে থাকে তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হওয়াও সম্ভব। এ সমস্যার ক্ষেত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কোন ক্রমে কম হওয়ার না। বরং এ সমস্যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা উঁচু করা, তাঁর আসন আরও মহিমান্বিত করা।

চতুর্থ মাস্আলাহ্ঃ কারো জখম বা অনুরূপ কোন সমস্যা হলে তার সেবা করা সুন্নাত।

পঞ্চম মাস্আলাহ্ঃ অপারগতার সময় বসে সালাত আদায় বৈধ। বসার ক্ষেত্রে ইমামের অনুকরণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে দাঁড়ানোর উপর মুক্তাদীর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মুক্তাদী বসে সালাত আদায় করবে। এ ব্যাপারে ইমামগণ মতানৈক্য করেছেনঃ অতঃপর হাদীসটির বাহ্যিক দিক অবলম্বন করেছেন ইসহাক, আওযা‘ঈ, দাঊদ এবং বাহ্যিক দিক অবলম্বনকারীদের অবশিষ্টগণ। তারা বলেন, বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পিছনে বসে সালাত আদায় আবশ্যক। যদিও সম্প্রদায় সুস্থ থাকে।

ইবনু হাযম ‘আল মুহাল্লা’ গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডে ৬৯ পৃষ্ঠাতে বলেন, আমরা একটিই (এ মাসআলাটি) গ্রহণ করি তবে যে ব্যক্তি ইমামের পাশে সালাত আদায় করবে এবং মানুষকে ইমামের তাকবীর জানিয়ে দিবে সে ব্যক্তি বসে এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন। ইমাম আহমাদ ব্যাখ্যার পথ অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার স্থায়ী ইমাম যখন মুক্তি লাভের আশা করা যায় এমন রোগের কারণে বসে সালাত আদায় করবে তখন তার পেছনে মুক্তাদীরা বসে সালাত আদায় করা সুন্নাত। যদিও তারা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম এবং ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় বিশুদ্ধ হবে।

তার নিকট হাদীসটির হারাম ঐ দিকে গড়াবে যে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় ইমাম বসে সালাত আদায় করাবস্থায় মুক্তাদীরা বসে সালাত আদায় করবে এবং তা এলাকার এমন স্থায়ী ইমামের সাথে শর্তযুক্ত যার রোগ দূর হওয়ার আশা করা যায়। হাদীসে বসার ব্যাপারে নির্দেশটি সুন্নাত অর্থে ব্যবহৃত। তিনি বলেন, স্থায়ী ইমামের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। চাই ইমামের বসে সালাত আদায় করাকে দাবি করে এমন বিষয়টি হঠাৎ সংঘটিত হোক বা না হোক।

যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মরণের রোগ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলোতে এসেছে। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বসার ব্যাপারে অনুমতি দেয়নি। কেননা তাদের ইমাম আবূ বাকর দন্ডায়মান অবস্থায় তার সালাত শুরু করেছিল। অতঃপর বাকী সালাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বসাবস্থায় তাদের ইমামতি করেছেন। যা আনাস (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখিত রসূলের প্রথম অসুস্থাবস্থায় সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায়ের বিপরীত। কেননা তিনি প্রথমে বসাবস্থায় তার সালাত শুরু করেছিলেন, অতঃপর তাদেরকে বসতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইমাম শাফি‘ঈ, আবূ হানীফা এবং আবূ ইউসুফ ঐ দিকে গিয়েছেন, দাঁড়াতে সক্ষম এমন সালাত আদায়কারীর জন্য বসে ইমামতি করা ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় না করলে তার সালাত আদায় বৈধ হবে না। এটি মালিক-এর বর্ণনা যা ওয়ালীদ বিন মুসলিম তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

তারা বলেন, আপত্তির কারণে বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে মুক্তাদীদের বসে সালাত আদায়ের নির্দেশ রহিত হয়ে গেছে। এর রহিতকারী হল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মরণের অসুস্থতায় মানুষ নিয়ে বসে সালাত আদায় করা এমতাবস্থায় সাহাবীগণ ও আবূ বাকর দাঁড়ানো। ইমাম শাফি‘ঈ এভাবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ইমাম বুখারী তার উস্তায হুমায়দী থেকে একে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ইমাম শাফি‘ঈর ছাত্র। রহিত হওয়ার দাবি সম্পর্কে উত্তর অচিরেই আসছে। ইমাম মালিক নিজ থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী ঐ দিকে গিয়েছেন যে, দাঁড়িয়ে অথবা বসে কোন অবস্থাতেই সালাত আদায় বৈধ হবে না। এটি ত্বহাবী বর্ণিত মুহাম্মাদের উক্তি। মালিকীরা বলেনঃ আপত্তিবশতঃ বসে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা ব্যক্তি, তার মতো বসা ব্যক্তির বা দন্ডায়মান ব্যক্তির ইমামতি করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নির্দিষ্ট।

কেননা আপত্তি বা আপত্তি ছাড়া যে কোন অবস্থাতে সালাতের ক্ষেত্রে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে বাড়া বিশুদ্ধ হবে না। তবে ‘আবদুর রহমান বিন আওফ ও আবূ বাকর-এর পেছনে রসূলের সালাত আদায় করার কারণে এ ধরনের উক্তিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অতঃপর যদি মেনেই নেয়া হয় কারো জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতি করা বৈধ হবে না। তাহলে এ ধরনের মাসআলাহ্ বসে ইমামতি করা নিষিদ্ধ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করবে না। অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সাহাবীদের একটি দল বসে ইমামতি করেছেন।

তাঁদের মাঝে আছে উসায়দ বিন হুযায়র, জাবির, ক্বায়স বিন ক্বাহদ এবং আনাস বিন মালিক (রাঃ)। এ ব্যাপারে তাদের থেকে সানাদগুলো বিশুদ্ধ। এগুলোকে ‘আবদুর রাযযাক্ব, সা‘ঈদ বিন মানসূর ইবনু আবী শায়বাহ্ ও অন্যান্যগণ সংকলন করেছেন। বরং ইবনু হিব্বান ও ইবনু আবী শায়বাহ্ দাবি করেছেন বসে ইমামতি বিশুদ্ধ হওয়ার উপর সাহাবীগণ একমত। আবূ বাকর ইবনুল ‘আরাবী বলেন, আমাদের সাথীদের কাছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসুস্থতার হাদীস সম্পর্কে নিখুঁত কোন উত্তর নেই। আর সুন্নাতের অনুসরণ করা উত্তম। সম্ভাবনার মাধ্যমে খাস প্রমাণিত হয় না।

তিনি বলেনঃ তবে আমি কতক শায়খকে বলতে শুনেছি; অবস্থা খাস করণের ধরণসমূহের একটি। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা, তাঁর মাধ্যমে বারাকাত গ্রহণ এবং কেউ তাঁর বদল হতে না পারা যে, কোন অবস্থাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায়কে দাবি করেছে। এ বিশেষত্ব অন্য কারো জন্য না। সুতরাং দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা বসে সালাত আদায়ের যে ঘাটতি রয়েছে তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করা যায় না। সুতরাং রসূলের বসে সালাত আদায় করাতে কোন ঘাটতি নেই। আবূ বাকর ইবনুল ‘আরাবীর প্রথম উক্তি সম্পর্কে উত্তর হল তার প্রথম উক্তিটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আম বাণী দ্বারা প্রত্যাখ্যাত।

দ্বিতীয় উক্তিটি সম্পর্কে উত্তর হল নফল সালাতের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম; তথাপিও এ ধরনের ব্যক্তি বসে সালাত আদায় করতে সাওয়াবের কমতি রয়েছে। অপরপক্ষে আপত্তিজনিত কারণে ফরয সালাতের ক্ষেত্রে না দাঁড়িয়ে বসে বা অন্য কোনভাবে সালাত আদায় করাতে সাওয়াবের ঘাটতি নেই। ইবনু দাক্বীক আল ঈদ বলেনঃ সুপরিচিত যে মূল হল যতক্ষণ পর্যন্ত খাসের উপর দলীল প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন কিছুকে খাস না করা।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর সাহাবীগণের একটি দল বসে ইমামতি করেছেন বিধায় বসে ইমামতি করার বিষয়টি রসূলের সাথে খাস করা দোষণীয়। বিদ্বানদের কতক দারাকুত্বনী এর কিতাবের ১৫৩ পৃষ্ঠাতে এবং বায়হাক্বী এর কিতাবের তৃতীয় খন্ড ৮০ পৃষ্ঠাতে মারফূ' সূত্রে শা‘বী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারা খাসের ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন। হাদীসটি হল (আমার পর কেউ যেন বসাবস্থায় ইমামতি না করে) তবে এ ব্যাপারে উত্তর দেয়া হয়েছে যে, হাদীসটি বাতিল। কেননা তা শা‘বী থেকে মুরসালরূপে জাবির জু’বী কর্তৃক বর্ণিত।

আর জাবির মাতরূক। শা‘বী থেকে মুজালিদ এর বর্ণনা কর্তৃকও বর্ণনা করা হয়েছে জমহূর বিদ্বানগণ মুজালিদকে দুর্বল বলেছেন। ইআয তাদের কতক উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন সামষ্টিকভাবে শা‘বির উল্লেখিত হাদীস দ্বারা বসে ইমামতি করার বিষয়টি রহিত হয়েছে। তবে এর সমালোচনাতে বলা হয়েছে, যদি রহিত হওয়ার বিষয়টি বিশুদ্ধ মনে করা হয় তাহলে তা ইতিহাসের মুখাপেক্ষী। অথচ তা বিশুদ্ধ না যেমন আমরা অতিবাহিত করেছি।

(قَالَ الْحُمَيْدِيُّ) ইনি ইমাম বুখারীর উস্তায ও শাফি‘ঈর ছাত্র। তার নাম ‘আবদুল্লাহ বিন যুবায়র বিন ‘ঈসা বিন ‘উবায়দুল্লাহ বিন যুবায়র বিন ‘উবায়দুল্লাহ বিন হুমায়দ আল কুরাশী আল আসাদী আল মাক্বী আবূ বাকর। তিনি নির্ভরশীল, ফাক্বীহ, হাফিয ইবনু ‘উয়াইনাহ্ এর সাথীবর্গের মাঝে সর্বাধিক মর্যাদাবান।

হাকিম বলেন, ইমাম বুখারী যখন হুমায়দী এর কাছে কোন হাদীস পেতেন হুমায়দীর প্রতি আস্থার কারণে তখন তা অন্যের দিকে ঘোরাতেন না। যুহরাতে আছে বুখারী তার থেকে ৭৫টি হাদীস বর্ণনা করেছেন আর তা বুখারীর এককভাবে। তিনি মক্কাতে ২১৯ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। একমতে বলা হয়েছে এর পরে। আর এ হুমায়দী মূলত ঐ হুমায়দী না যিনি (الجمع بين الصحيحين) কিতাবের লেখক।

(هُوَ فِي مَرَضِهِ الْقَدِيمِ) অর্থাৎ তার এ অসুস্থতা যা ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছিল। ক্বারী বলেনঃ অর্থাৎ যখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের সাথে ঈলা করেছিলেন। আর তাতে আছে প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী ঈলা এর ঘটনা ৯ম হিজরীতে ছিল। আর আনাস (রাঃ), ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ও জাবির (রাঃ)-এর হাদীসে ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার উল্লেখিত ঘটনা ইবনু হিব্বান-এর তথ্যানুযায়ী ৫ম হিজরীতে। এ ব্যাপারে ‘আয়নী, কুস্তুলানীও তারীখুল খামীস-এর গ্রন্থকার দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন। (ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ذلِكَ) অর্থাৎ তাঁর মরণের অসুস্থতাতে।

(جَالِسًا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ قِيَامٌ لَمْ يَأْمُرْهُمْ بِالْقُعُودِ وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ بِالْآخِرِ فَالْآخِرِ مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ ﷺ) অর্থাৎ যার প্রতি ‘আমল করা আবশ্যক তা হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ নির্দেশ যার উপর স্থির হবে। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’টি বিষয়ের শেষ বিষয় যা ছিল তা হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ইমামতি করা এবং মুক্তাদীরা তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। যা ঐ বিষয়ের উপর প্রমাণ বহন করে যে, ইতিপূর্বে বিষয়টির হুকুম যা ছিল তা উঠে গেছে এবং রহিত হয়ে গেছে। এটিই আনাস (রাঃ) এর হাদীস এবং তাঁর হাদীসের অর্থে ব্যবহৃত অন্যান্য হাদীস সম্পর্কে প্রসিদ্ধ উত্তর। আর এ উত্তর তাদের তরফ থেকে যারা বসে ইমামাতকারী ব্যক্তির পেছনে মুক্তাদীদের দাঁড়ানোকে আবশ্যক মনে করে। আর এদিকেই বুখারীর ঝোঁক প্রকাশ পেয়েছে। যেমন তিনি হাদীসটি সংকলনের পর তার উস্তায হুমায়দীর এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সমালোচনা করেননি। তিনি ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে ‘আয়িশার হাদীস উল্লেখের পর কিতাবুল মারযাতে বলেছেন, হুমায়দী বলেন, এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে। আবূ ‘আবদুল্লাহ (স্বয়ং বুখারী) বলেন, কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে সালাত আদায় করেছেন তা বসে আদায় করেছেন। এমতাবস্থায় মানুষ তার পেছনে দাঁড়ানো ছিল।

‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেনঃ আমি বলব, এ উত্তরে বহুদিক থেকে দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে। দিকগুলো থেকে একটি হল আনাসের হাদীস এবং তার হাদীসের অর্থে ব্যবহৃত হাদীস একটি কায়িদাহ্ কুল্লিয়্যাহ্ বা পূর্ণাঙ্গ নীতি। জাতির জন্য এক ব্যাপক আইন প্রণয়ন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার মরণের অসুস্থতায় যা প্রকাশ পেয়েছে তা আংশিক ঘটনা, অবস্থানকে প্রকাশ করছে না এবং অবস্থার বর্ণনা বহু সম্ভাবনা রাখে।

বুঝা যাচ্ছে না সে ঘটনা কি বসে সালাত আদায় করা ইমামের পেছনে মুক্তাদীদের বসে সালাত আদায়ের বিষয়টিকে রহিত করে দিচ্ছে নাকি এ কথা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য যে, উল্লেখিত নির্দেশটি ওয়াজিবের জন্য না বরং সুন্নাতের জন্য অথবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে? কেননা তাদের ইমাম সালাত দাঁড়িয়ে শুরু করেছিল, অতঃপর ইমাম তাদেরকে মূল বসা ও জরুরী বসা এবং এমন রোগ যা দূর হওয়ার আশা করা যায় ও এমন রোগ যা দূর হওয়ার আশা করা যায় না এদের মাঝে পার্থক্য করণার্থে দাঁড়াতে স্বীকৃতি দেয়। এ ধরনের আংশিক ঘটনার মাধ্যমে রহিত করার দাবী করা দুর্বোধ্যতা থেকে মুক্ত না। বরং তা জটিল। ফায়যুল বারী গ্রন্থকার বলেন, রহিতকরণের ব্যাপারে উক্তি (مقلوب) এর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। কেননা হাদীসটি ব্যাপক আইন প্রণয়ন, পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ এর দিক থেকে অনেক অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন সুন্নাত বর্ণনা করা, ইমাম-মুক্তাদীর মাঝে লেনদেন বর্ণনা করা। অতঃপর বিশৃঙ্খলার অন্তর্ভুক্তসমূহ থেকে কোন অংশ রহিত করার ব্যাপারে উক্তি করা এবং বাকী সামষ্টিককে নিজ অবস্থায় বহাল রেখে, অতঃপর বহু সম্ভাবনা রাখে এমন আংশিক ঘটনা সম্পর্কে উক্তি করা বিভিন্নতার দিকে ঠেলে দেয় এবং তৃষ্ণা নিবারণ করে না।

আমার জীবনের শপথ! আমারা যদি এ মাসআলাটি না জানতাম যে, যখন আমাদের কারো স্মৃতি ঐ দিকে স্থানান্তরিত হল যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বসে সালাত আদায় করা রহিতকরণকে বর্ণনা করে দেয়ার জন্য ছিল। আর আমরা কেবল মাযহাব সংরক্ষণার্থে এ মাসআলাটিকে নসখের দিকে ঠেলে দিয়েছি। অন্যথায় আহমাদের মাযহাব অনুপাতে উভয় হাদীসের মাঝে সমন্বয় অর্জন হবে। নসখের মুখাপেক্ষী হবে না। পাঠককে লক্ষ্য করে তিনি (ফায়যুল বারী গ্রন্থকার) বলেন, আপনি লক্ষ্য করছেন না যে, আমাদের হানাফী নেতৃস্থানীয় লোকগণ কেন ক্বিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ করে প্রস্রাব পায়খানা করার বৈধতার মাসআলাকে বর্জন করেছেন? এ ব্যাপারে বর্ণিত ঘটনাগুলোর প্রতি তারা ভ্রক্ষেপ করেননি।

আর তারা বলেছেন, নিশ্চয় এগুলো এমন বর্ণনা যা অবস্থাকে প্রকাশ করছে না এবং আবূ আইয়ূব-এর হাদীস ব্যাপক আইন প্রণয়নকারী। সুতরাং আমি জানি না এ উভয়ের মাঝে কি পার্থক্য? তারা এ ক্ষেত্রে নসখের বা রহিতকরণের পথ অবলম্বন করেছেন। ওখানে অবলম্বন করেনি।

দ্বিতীয় দিকঃ নিশ্চয় রহিতকরণ সম্পর্কে উক্তিটি ঐ কথার উপর নির্ভরশীল যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সালাতে  ইমাম ছিলেন এবং আবূ বাকর মুক্তাদী ছিলেন। এ ব্যাপারে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। সিনদী ইবনু মাজার হাশিয়াতে বলেন, তার উক্তিঃ আবূ বাকর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করেছিলেন (অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মরণের রোগ) এর বাহ্যিক দিক হল নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম ছিলেন। এর বিপরীত বর্ণনাও এসেছে। এ হাদীসের বর্ণনাসমূহের মাঝে পারস্পরিক বৈপরীত্যের কারণে যারা এ হাদীস দ্বারা (আর তিনি [ইমাম] যখন বসে সালাত আদায় করে তখন তোমরা বসে সালাত আদায় করো) হাদীস রহিত করার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করতে চায় তার দলীল গ্রহণ বাদ পড়ে গেল।

তিনি নাসায়ীর হাশিয়্যাতে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখের পর বলেন, যার শব্দ হল আর এটা এ ঘটনাতে বিভিন্নতার উপকারিতা দেয়। আর এর উপর ভিত্তি করে এ মুজত্বরাব ঘটনার দ্বারা প্রমাণিত ঐ হুকুমটির রহিত হওয়ার ব্যাপারে অর্জিত হুকুম অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত না। এর উত্তরে বলা হয়েছে এ ধরনের মতবিরোধ দোষণীয় না। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতি করার বর্ণনাসমূহ সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও সর্বধিক প্রহণযোগ্য। কেননা এ বর্ণনাগুলো বুখারী ও মুসলিমে এসেছে। সুতরাং আবূ বাকরের ইমামতি করার বর্ণনাগুলো বুখারী, মুসলিমে এসেছে।

সুতরাং আবূ বাকর-এর ইমামতি করার বর্ণনাগুলোর উপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতি করার বর্ণনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বুখারী, মুসলিমের অবদান থেকে যা পাচ্ছে তা হল তাদের উভয়ের নিকট প্রাধান্যযোগ্যতম হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতি করা কেননা তাঁরা উভয়ে তাঁদের সহীহদ্বয়ে ‘আয়িশার হাদীসের সানাদসমূহ থেকে কোন সানাদ উল্লেখ করেননি তবে ঐ হাদীসই উল্লেখ করেছেন যাতে বিভিন্ন নির্ভরশীল বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতির কথা আছে। অনুরূপভাবে তাঁরা তাঁদের সহীহদ্বয়ে আবূ বাকরের ইমামতির ব্যাপারে স্পষ্ট আনাসের হাদীস উল্লেখ করেননি। তা মূলত আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী, আবূ দাঊদ, আত্ ত্বয়ালিসী ও ত্বহাবীতে আছে। আর এটি ঘটনাটির একত্রতা নিরূপর্ণাথে।

পক্ষান্তরে ইবনু হিব্বান, ইবনু হাযম, বায়হাক্বী, যিয়া আল মাক্বদিসী এবং প্রমুখগণ ঘটনার বিভিন্নতার ব্যাপারে যে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন তা হল নিশ্চয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার ইমাম ছিলেন একবার মুক্তাদী ছিলেন। মূলত এ ধরনের বর্ণনার মাঝে কোন বিরোধ নেই।

তৃতীয় দিকঃ নিশ্চয় এটা ঐ অবস্থার উপর নির্ভরশীল যে, সাহাবীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন এটা অবিচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ সানাদে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়নি। পক্ষান্তরে যায়লা‘ঈ নাসবুর্ রায়াহ দ্বিতীয় খন্ডে ৪২ পৃষ্ঠাতে বায়হাক্বী’র কিতাবুল মারিফা থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা হল, নিশ্চয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মরণের রোগে আবূ বাকরকে মানুষকে নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন, ঐ পর্যন্ত যে, বর্ণনাকারী বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকরের পাশে বসে সালাত আদায় করছিলেন।

আর মানুষ আবূ বাকরের অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিল। এমতাবস্থায় মানুষ আবূ বাকরের পেছনে দাঁড়ানো ছিল। অতঃপর এ হাদীসে সানাদ উল্লেখ করা হয়নি ফলে সানাদের অবস্থা জানা যায়নি। নিশ্চয় তা দলীলের যোগ্য তবে বিরোধী পক্ষের উপর দলীলযোগ্য হবে না। আর হাফিয ইমাম শাফি‘ঈ থেকে বর্ণনা করে ফাতহুল বারীতে যা বলেছেন তা হল ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে আসওয়াদ কর্তৃক ইবরাহীম নাখ‘ঈর বর্ণনাতে যা এসেছে তা হল মুক্তাদীদের দন্ডায়মান হওয়া। নিশ্চয়ই তিনি তা ‘আত্বা থেকে ইবনু জুরায়জ কর্তৃক ‘আবদুর রাযযাক্বের মুসান্নাফে স্পষ্টভাবে পেয়েছেন। অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তাতে আছে ‘‘অতঃপর মানুষ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন’’। অতঃপর তাতে ‘আয়িশার বর্ণনা মুআল্লাক্ব আর ‘আত্বা এর বর্ণনা মুরসাল। ইমাম আহমাদ বলেন, মুরসালের ক্ষেত্রে হাসান এবং ‘আত্বা এর মুরসাল অপেক্ষা অধিক দুর্বল সানাদ আর নেই। কেননা তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করতেন।

ইবনুল মাদীনী বলেন, ‘আত্বা প্রত্যেক ধরনের বর্ণনা গ্রহণ করতেন। আর সাহাবীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছেন এমতাবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করেছেন। আবূ বাকর ছাড়া। ইবনু হিব্বান জাবির (রাঃ) থেকে আবূ যুবায়র-এর সানাদ কর্তৃক যা বর্ণনা করেন তার মাধ্যমে তিনি এ ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন। জাবির (রাঃ) বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলেন, অতঃপর আমরা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম, এমতাবস্থায় তিনি বসে সালাত আদায় করছিলেন।

আর আবূ বাকর মানুষকে তাঁর তাকবীর শুনাচ্ছিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে আমাদেরকে দাঁড়ানো দেখতে পান। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে ইঙ্গিত করলে আমরা বসে গেলাম। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাম ফিরালেন তখন তিনি বললেন, তোমরা পারস্য (ইরান) ও (ইটালী’র) রুমবাসীদের মতো করার উপক্রম হয়েছিল। তবে তোমরা এমন করবে না। এটি একটি বিশুদ্ধ হাদীস। যা মুসলিম, ত্বহাবী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ সংকলন করেছেন।

ইবনু হিব্বান বলেন, আবূ বাকর-এর তাকবীর শোনানো একমাত্র রসূলের মরণের রোগেই হয়েছিল। কেননা প্রথম রোগে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায় ‘আয়িশার পান কক্ষে হয়েছিল এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীদের একটি দল ছিল। তাঁরা এমন কারো প্রয়োজনবোধ করছিল না যে ব্যক্তি তাদেরকে তাকবীর শোনাবে। যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মরণের রোগে সালাত আদায়ের বিপরীত। কেননা তা মসজিদে অনেক লোকের সাথে ছিল। তখন আবূ বাকর তাদেরকে তাকবীর শোনানোর প্রয়োজনবোধ করেছিল।

হাফিয ইবনু হাজার এ হাদীসকে রসূলের প্রথম রোগে ‘আয়িশার পান কক্ষে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের ব্যাপারে আনাস (রাঃ)-এর হাদীসের উপর চাপিয়ে দিয়ে উত্তর প্রদান করেছেন। তিনি বলেনঃ এ হাদীসে তাকবীর শোনানোর ক্ষেত্রে আবুয্ যুবায়র-এর মুতাবা‘আহ্ (সমর্থনে অন্য হাদীস) কেউ আনতে পারেনি। আনাস (রাঃ) হাদীসটি সংরক্ষণ করেছেন এ অর্থ নিরূপণার্থে ঐ অবস্থাতে আবূ বাকর মানুষকে তাকবীর শোনানোর ব্যাপারে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। কেননা ব্যপারটি ঐ দিকে চাপবে যে, ব্যথার কারণে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আওয়াজ ক্ষীণ ছিল।

আর তাঁর অভ্যাস ছিল তাকবীর প্রকাশ করে পড়া। ঐ কারণে আবূ বাকর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাকবীরকে প্রকাশ করে পড়ছিলেন। হ্যাঁ, ‘আত্বার উল্লেখিত মুরসাল হাদীসে ‘‘এবং মানুষ তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছে’’ এ উক্তির পর অবিচ্ছিন্নভাবে এসেছে। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আমি পরে যা জেনেছি তা যদি আগে জানতাম তা হলে তোমরা কেবল বসেই সালাত আদায় করতে। সুতরাং তোমরা তোমাদের ইমামের মতই সালাত আদায় কর। যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তাহলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর আর যদি বসে সালাত আদায় করে তাহলে তোমরাও বসে সালাত আদায় কর।’’ এ অতিরিক্ত অংশটুকু ইবনু হিব্বান-এর উক্তি ‘‘নিশ্চয়ই এ ঘটনাটি রসূলের মরণের রোগ ছিল’’-কে শক্তিশালী করছে।

অতঃপর আমি সিনদীকে লক্ষ্য করেছি তিনি বুখারীর হাশিয়াতে প্রথম খন্ডে ৮৮ পৃষ্ঠাতে তৃতীয় দৃষ্টির দিকটি উল্লেখ করেছেন। সর্বাধিক উত্তমভাবে তা স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাতে আলোচনা বিস্তৃত করেছেন, অতঃপর ভাল বলেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, রসূলের মরণের রোগ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে ঐ ব্যাপারে কোন দলীল নেই যে, সাহাবীগণ দাঁড়ানো ছিল। হ্যাঁ, প্রমাণিত হয়েছে যে, আবূ বাকর দাঁড়ানো ছিল আর সম্ভবত তিনি তাকবীর শোনানোর প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এভাবে বলা যাবে না যে, কতক বর্ণনাতে এসেছে নিশ্চয়ই তাঁরা দাঁড়িয়েছিল, কেননা তখন রহিতকরণের মূল উৎস ঐ সকল বর্ণনার উপর গড়াবে। সহীহ এর লেখক বা সহীহ গ্রন্থসমূহের লেখকদের বর্ণনার উপর না। তখন ঐ সকল বর্ণনার মাঝে দৃষ্টি দিতে হবে। ঐ বর্ণনাগুলো থেকে কোনটি কি ‘‘যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে’’- এ হাদীসটির শক্তিকে অতিক্রম করছে কি-না? তারা যা উল্লেখ করেছে তা মূলত এ হাদীসের সমপর্যায়ে পৌঁছবে না। বরং এ হাদীসের কাছাকাছিও পৌঁছবে না। সুতরাং ঐ বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে এ হাদীস রহিতকরণে কোন হুকুম উদ্দেশ্য করা যাবে না এবং যা বলা হয়েছে তা হল নিশ্চয়ই সাহাবীগণ সালাত আবূ বাকরের সাথে দাঁড়িয়ে শুরু করেছিল। এতে কোন মতবিরোধ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে এরপর সাহাবীগণ বসে গিয়েছিল তাকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। অতঃপর যে রহিত হওয়ার দাবি করবে সে প্রমাণ উপস্থাপনের মুখাপেক্ষী হবে। পক্ষান্তরে যে রহিত হওয়াকে না করবে তার পক্ষে সম্ভাবনাই যথেষ্ট হবে। কেননা মূল হচ্ছে রহিত না হওয়া। শুধু সম্ভাবনার মাধ্যমে রহিত হওয়া প্রমাণিত হতে পাবে না।

সুতরাং তার উক্তি যে ব্যক্তি দাবি করবে এরপর নিশ্চয়ই তাঁরা বসেছিল তাকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। এ কথাটি আলোচনার নীতিমালা বহির্ভূত। আর তা তার উপর নির্ভর করে যে, আমরা বলবঃ সাহাবীদের জানা পূর্বের হুকুমের প্রতি ‘আমল করণার্থে বাহ্যিকভাবে তাঁদের বসে সালাত আদায় করাই মূল। আর সাহাবীদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ঐ নির্দিষ্ট হুকুম রহিত হওয়া সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান লাভের পরই সম্ভব হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে কোন দলীল নেই।

সুতরাং আবশ্যক যে, সাহাবীগণ বসে সালাত আদায় করেছে। এরপরও যে ব্যক্তি এর বিপরীত ধারণা করবে তাকে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। বসে সালাত আদায় করার হুকুম সাহাবীগণের জানা থাকা সত্ত্বেও তারা সকলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছে বলে যে উক্তি পাওয়া যায় তা রহিত হওয়ার অনুকূল। আর তা জানা গেছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দাঁড়ানোর ব্যাপারে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে, সুতরাং তা স্বভাবত অসম্ভব বিষয়কে মেনে নেয়া অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে উক্তি রয়েছে পূর্বের হুকুম সাহাবীদের প্রসিদ্ধ ও তার প্রতি তাঁদের ‘আমল থাকা সত্ত্বেও উপস্থিত সাহাবীদের মাঝে ঐ হুকুম সম্পর্কে কেউ জানত না। এভাবে উক্তি রয়েছে, সম্ভবত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নসখের ব্যাপারে সাহাবীদের কাছে বর্ণনা দেয়ার কারণে ইতিপূর্বেই তাঁরা নসখ বা রহিত হওয়ার বিধান সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

এ কারণেই তাঁরা সালাতে দাঁড়ানোর উপর অটল ছিল। কেননা খুবই অসম্ভব যে, বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে মুক্তাদীরা বসে সালাত আদায় করার রহিতকারী কোন হাদীস সাহবীদের কাছে থাকবে এবং তাঁরা তা জানার পরও বিষয়টি এমনভাবে গোপনীয়তা লাভ করবে যে, কেউ তা বর্ণনা করবে না।

চতুর্থ দিকঃ যখন সমন্বয় সাধন আপত্তিকর হবে তখন হাদীসকে রহিত হওয়ার দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর এখানে সমন্বয় সাধন আপত্তিকর না, বরং তা সম্ভব।
যেমন ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে নিশ্চয় তিনি দু’টি হাদীসকে দু’টি অবস্থার উপর টেনে এনে উভয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন। আর তা স্পষ্ট যা তাঁর মাযহাব কর্তৃক বর্ণনা করা হয়েছে। আবার কতকে এভাবে সমন্বয় সাধন করেছেন যে, বসার ব্যাপারে নির্দেশ সুন্নাতের জন্য। আর ইমামের পেছনে তাদেরকে দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাপারে নির্দেশ বৈধতা বর্ণনা করে দেয়ার জন্য। ‘আত্বার পূর্বোক্ত মুরসাল বর্ণনা উল্লেখ করার পর হাফিয বলেন, বর্ণনাটি থেকে এ উপকারিতা নেয়া যাচ্ছে যে, ইমাম বসে সালাত আদায় করাবস্থায় পেছনে মুক্তদীদের বসে সালাত আদায়ের ব্যাপারে আবশ্যকতার যে নির্দেশ ছিল তা রহিত করে দেয়া হয়েছে।
কেননা ইমামের পেছনে মুক্তাদীরা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সালাত দোহরানোর নির্দেশ দেননি। তবে আবশ্যকতাকে যখন রহিত করে দেয়া হবে তখন বৈধতা অবশিষ্ট থেকে যাবে। আর বৈধতা সুন্নাতের পরিপন্থী না।

সুতরাং মুক্তাদীরা বসে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ নির্দেশকে মুস্তাহাব তথা সুন্নাতের উপর চাপিয়ে দিতে হবে। কেননা মুক্তাদীরা ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেয়া এবং দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের কারণে তাদেরকে সালাত দোহরানোর ব্যাপারে নির্দেশ না দেয়ার মাধ্যমে আবশ্যকতাকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। দলীলসমূহের মাঝে এটি সমন্বয়ের দাবি।

৫ম দিকঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মরণের অসুস্থতার সালাতে বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে মুক্তাদীদের বসে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নির্দেশই সংঘটিত হয়েছে, যেমন ‘আত্বার বর্ণনাতে অতিবাহিত হয়েছে। সুতরাং বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে মুক্তাদীদের বসে সালাত আদায়ের নির্দেশ রহিত হওয়ার ব্যাপারে রসূলের মরণের অসুস্থতার সালাত দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ সমস্যা মুক্ত না।

৬ষ্ঠ দিকঃ নিশ্চয়ই হাদীসটি ঐ অবস্থার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, ইমাম বসে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীরাও বসে সালাত আদায় করা ইমামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এর অন্তর্ভুক্ত। আর কোন সন্দেহ নেই যে, ইমামের অনুসরণ করা স্থায়ীভাবে একটি প্রতিষ্ঠিত হুকুম রহিত না। জাবিরের হাদীসও ঐ অবস্থার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, ইমাম বসে সালাত আদায় করার সময় মুক্তাদীদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় বৈধ না হওয়ার কারণ হল নিশ্চয়ই দাঁড়ানো যে সম্মান অংশীদারহীন একমাত্র আল্লাহর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে সে সম্মান আল্লাহ ছাড়া অন্যকে প্রদর্শনে পরিণত হয়।

আর ঐ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, এ ইল্লাত বা কারণ ও তার স্থায়িত্ব হুকুমের স্থায়িত্বকে দাবি করছে। সুতরাং বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে মুক্তাদীদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় শরীয়াত সম্মত না হওয়া স্থায়ীভাবে আবশ্যক হয়ে যাচ্ছে। আর তা ইল্লাতের স্থায়িত্বতার মুহূর্তে মা‘লূলের স্থায়িত্বের আবশ্যক হয়ে যাওয়ার কারণে। সুতরাং এ হুকুম রহিত হওয়ার ব্যাপারে উক্তি করা অসম্ভব মুক্ত না। সিনদী ইবনু মাজার হাশিয়াতে এটা বলেছেন। বুখারীও মুসলিমের হাশিয়াতেও অনুরূপ উল্লেখ করা হয়েছে।

৭ম দিকঃ আসল হল রহিত না হওয়া। বিশেষ করে এ অবস্থাতে তা দু’বার রহিত হওয়াকে দাবি করছে। কেননা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য হুকুমের ক্ষেত্রে মূল হল তার বসে সালাত আদায় না করা অথচ যে মুক্তাদীর ইমাম বলে সালাত আদায় করেছে তার ক্ষেত্রে মুক্তাদীর সালাত বসে আদায় করার দিকে রহিত করে, এরপর আবার বসে সালাত আদায় রহিত করার দাবি করা দু’বার নসখ রহিতকরণ সংঘটিত হওয়াকে দাবি করছে। এমতাবস্থায় তা অসম্ভব।

আর এর অপেক্ষাও অসম্ভব ইতিপূর্বে ক্বাযী ‘আয়ায থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে, কেননা তা এ বিষয়টির তিনবার রহিতকরণকে দাবি করেছেন। অনুরূপভাবে যারা বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তির ইমামতিকে বিশুদ্ধ মনে করে না তারাও এ ব্যাপারে উত্তর দিয়েছেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (এবং ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় কর।) এ উক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইমাম তাশাহুদ এবং দু’ সাজদার মাঝে বসার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা।

কেননা তিনি তা রুকূ‘, রুকূ‘ থেকে উঠা এবং সাজদার পর উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, সাহাবীগণ বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের বিষয়টিকে ঐ অবস্থার উপর চাপিয়ে দেয়া যেতে পারে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহুদের জন্য বসেছিলেন তখন মুক্তাদীরা তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়ালে তিনি তাদেরকে বসার ব্যাপারে নির্দেশ করেছিলেন। আর এ ব্যাপারে জাবিরের হাদীসে বর্ণিত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী দ্বারা সতর্ক করা হয়েছে। হাদীসটি হল ‘‘রুম ও পারস্যবাসীদের বাদশাহ তাদের সামনে থাকাকালে তারা বাদশাদের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকে আর তোমরা তাদের মত করার উপক্রম হয়েছিলে এখন জেনে নাও’’ তোমরা তাদের মতো করবে না।

সুতরাং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ‘‘যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে’’ এর অর্থ হল ইমাম যখন সালাতে বসাবস্থায় থাকবে তখন তোমরাও বসে থাকবে, দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে ইমামের বিপরীত করবে না। আর ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে অর্থাৎ দাঁড়ানো অবস্থায় থাকবে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে যাবে, বসার মাধ্যমে তাঁর বিপরীত করবে না।

অনুরূপভাবে করবে রসূলের উক্তি ‘‘অতঃপর ইমাম যখন রুকূ‘ করবে তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে আর যখন সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করবে তখন তোমরাও সিজদা্ করবে’’ এর ক্ষেত্রে। তবে ইবনু দাক্বীক্ব আল ঈদ ও অন্যান্যগণ অসম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছেন যে, হাদীসের সানাদসমূহের বাচনভঙ্গি এটাকে অস্বীকার করে। কেননা যদি রুকূ‘ করণের ক্ষেত্রে বসার নির্দেশ করা উদ্দেশ্য হত অবশ্যই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উক্তি ‘‘আর ইমাম যখন রুকূ‘ করে তখন তোমরা রুকূ‘ কর আর যখন সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে তখন তোমরা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) কর’’ এর সাথে সামঞ্জস্য করার লক্ষ্যে বলতেন।

‘‘আর ইমাম যখন বসে তখন তোমরাও বস’’ অতএব বিষয়টির গতি যখন এ অবস্থা থেকে রসূলের উক্তি ‘‘আর ইমাম যখন বসে সালাত আদায় করবে’’ এর দিকে ঘুরে গেল তখন স্পষ্ট হয়ে গেল নিশ্চয় তা দ্বারা সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য। আর একে সমর্থন যোগাচ্ছে আনাস (রাঃ)-এর ‘‘অতঃপর আমরা তাঁর পেছনে বসে সালাত আদায় করলাম’’ এ উক্তিকে। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেন, পূর্বোক্ত আলোচনাগুলো জানার পর আমার নিকট সর্বোত্তম ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উক্তি হল দু’ ঘটনার মাঝে সামঞ্জস্যতা সাধন করা যে, বসার ব্যাপারে নির্দেশ সুন্নাতের জন্য এবং রসূলের পেছনে সাহাবীদের দাঁড়িয়ে থাকার ব্যাপারে নির্দেশ যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তা বৈধতা বর্ণনা করার জন্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আপত্তিবশতঃ বসে ইমামতি করবে তাঁর পেছনে সালাত আদায়কারী মুক্তাদীদেরকে বসে ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা দেয়া হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের ক্ষেত্রে নির্দেশ প্রমাণিত হওয়ার এবং এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসের আধিক্যতার কারণে বসে সালাত আদায় করাই উত্তম।
আর এ সমন্বয়কে সমর্থন করছে ঐ অবস্থা যে, এর উপরই রসূলের জীবদ্দশাতে ও তাঁর মরণের পর সাহাবীদের ‘আমল স্থায়িত্ব লাভ করেছে। হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারী এর ৩য় খন্ডে ৩৮২ পৃষ্ঠাতে ক্বায়স বিন ক্বাহ্দ, উসায়দ বিন হুযায়র এবং জাবির বিন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন তারা বসে সালাত আদায় করেছে এমতাবস্থায় মানুষ তাদের পেছনে বসা ছিল।

আর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে উল্লেখ করা হয়েছে নিশ্চয় তিনি বসার ব্যাপারে ফাতাওয়া দিয়েছেন। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যারা এ আসারসমূহ উল্লেখ করেছে এবং এগুলোর সানাদকে বিশুদ্ধ বলেছেন তাদের কথা। ইবনু হাযম তার মুহাল্লা গ্রন্থের ৩য় খন্ডে ৭০ পৃষ্ঠাতেও এটা বর্ণনা করেছেন। দারাকুত্বনী তার কিতাবে ৫২ পৃষ্ঠাতে উসায়দ বিন হুযায়র থেকে সংকলন করেছেন। ১৬২ পৃষ্ঠাতে জাবির (রাঃ) থেকে সংকলন করা হয়েছে তারা দু’জন বসাবস্থায় ছিল এবং মুক্তাদীরাও বসাবস্থায় ছিল। ইবনু হিব্বান ‘আমলের ব্যাপারে ঐকমত্য দাবি করেছেন। যেমন তিনি এ ব্যাপারে নীরবতাকে উদ্দেশ্য করেছেন। কেননা তিনি এটা চারজন সাহাবী থেকে উল্লেখ করেছেন যাদের আলোচনা ইতিপূর্বে গেল। আর তিনি বলেন, চারজন ছাড়া সাহাবীদের অন্য কারো থেকে এটা উল্লেখ করা হয়নি। আর উল্লেখিত উক্তির বিপরীত উক্তি কোন বিশুদ্ধ বা দুর্বল সানাদে পাওয়া যায় না।

অনুরূপ ইবনু হাযম বলেন, সাহাবীদের কারো থেকে এর বিপরীত বর্ণনা করা হয়নি। পক্ষান্তরে ইমাম শাফি‘ঈ যা বলেনঃ তা হল নিশ্চয়ই এ সাহাবীগণ থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা হল নিশ্চয় তাঁরা বসাবস্থায় ইমামতি করেছে এবং তাঁদের পেছনে যারা মুক্তাদী ছিল তারাও বসাবস্থায় ছিল। এ বর্ণনাটিকে ঐ অবস্থার উপর চাপিয়ে দিতে হবে যে, এ সাহাবীদের মাঝে রহিত হওয়ার খবর পৌঁছেনি। অতঃপর এতে তাঁরা যা দাবী করেছে সে দাবির সম্পূর্ণই রহিত হওয়ার দাবি।

সেটা হল ‘আয়িশার হাদীস ইতিপূর্বে তাঁরা যা দাবী করেছে তার কোন অংশের উপর তা প্রমাণ বহন করে না। আর এ সাহাবীগণও এ বর্ণনার ব্যাপারে একাকী হয়ে যায়নি বরং সাহাবী ও তাবি‘ঈদের থেকে যারা তাদের পেছনে সালাত আদায় করেছে তাঁরা তাদের অনুকূল করেছেন। আর খুবই অসম্ভব যে, তাদের কারো কাছে রহিত হওয়ার খবর পৌঁছবে না।

(هذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ) উল্লেখিত হাদীসের শব্দ ‘‘ইমাম কেবল বানানো হয়েছে এজন্য যে, যাতে তার অনুসরণ করা হয়’’ বুখারীর এ অধ্যায়ে এসেছে।

(وَاتَّفَقَ مُسْلِمٌ) অর্থাৎ হাদীসটির মূলের ক্ষেত্রে বুখারীর সাথে মুসলিম একমত পোষণ করেছেন।

(فِي رِوَايَةٍ: فَلَا تَخْتَلِفُوْا عَلَيْهِ) ভাষ্যটুকুতে দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন আছে, কেননা এ শব্দ আনাস (রাঃ)-এর হাদীসে নেই। বুখারীতে নেই, মুসলিমেও নেই। তবে হ্যাঁ বুখারী ও মুসলিমে তা আবূ হুরায়রার হাদীসে আছে। অতঃপর বুখারী এ শব্দে তা ‘কাতার সোজা করা সালাতের পূর্ণাঙ্গতা’ অধ্যায়ে সংকলন করেছেন।

ইমাম মুসলিম ‘মুক্তাদী ইমামের অনুসরণ করা’ অধ্যায়ে এনেছেন এবং এ শব্দের স্থান রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِه) এর পরে সানাদ পরম্পরাভাবে এসেছে। আর এর মাধ্যমে তিনি নফল সালাত আদায়কারীর পেছনে ফরয সালাত আদায়কারীর সালাত বৈধ না হওয়ার উপর দলীল গ্রহণ করেছেন। আর তা ইমাম-মুক্তাদীর মাঝে নিয়্যাতের ভিন্নতা থাকার কারণে। আর তা দুর্বল। কেননা উদ্দেশ্য হল ভিন্ন না হওয়া। আর তা রসূলের ব্যাখ্যামূলক বাণী ইমাম-মুক্তাদীর ভিন্ন না হওয়া ‘‘অতঃপর যখন ইমাম রুকূ‘ করবে.....’’ শেষ পযন্ত এ দলীলের কারণে। উদ্দেশ্য খাপে খাপ মিলে গেল। আর যদি হাদীসাংশে নিয়্যাতের ক্ষেত্রে ভিন্নতা উদ্দেশ্য হত তাহলে অবশ্যই ফরয সালাত আদায়কারীর পেছনে নফল সালাত আদায় করা বৈধ হত না। অথচ সকলের ঐকমত্যে তা বৈধ।

(وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوْا) হাদীসে এ অতিরিক্ত অংশ আনাস (রাঃ)-এর হাদীস কর্তৃক বুখারীতেও এসেছে। এককভাবে মুসলিমে আসেনি। যেমন লেখক ধারণা করেছেন। তবে এ অতিরিক্তের স্থান উল্লেখ করণে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে। আর আনাসের এ হাদীস ইমাম আহমাদ, মালিক, শাফি‘ঈ ও রিসালাহ, উম্মু ও ইখতিলাফুর রিওয়ায়াতে সংকলন করেছেন। ইমাম তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ প্রমুখগণ।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة)