৮৮৮

পরিচ্ছেদঃ ১৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - সিজদা্ ও তার মর্যাদা

৮৮৮-[২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ঠিক মত করবে। তোমাদের কেউ যেন সাজদায় কুকুরের মতো জমিনে হাত বিছিয়ে না দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْسُّجُوْدِ وَفَضْلِه

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ»

وعن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعتدلوا في السجود ولا يبسط أحدكم ذراعيه انبساط الكلب»

ব্যাখ্যা: (اِعْتَدِلُوْا فِي السُّجُوْدِ) দু’ হাতের তালু জমিনের উপর রাখার ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো।

আর দু’হাতের দু’ কনুই উঁচু রাখবে জমিন ও শরীরের দু’ পার্শ্ব থেকে। পেট রান থেকে এমনভাবে দূরে থাকবে পর্দা না থাকলে যেন বগলের ভিতরটা দেখা যাবে। এটাই হচ্ছে বিনয় প্রকাশের নমুনা এবং কপাল ও নাককে জমিনের উপর রাখার চূড়ান্ত রূপ আর সালাতে অলসতা দূর করার অন্যতম মাধ্যম।

ইবনু দাক্বীক্ব বলেছেনঃ ধীরস্থির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শারী‘আতের নিয়ম অনুসারে সাজদার ধরণটা বর্ণনা করা আর রুকূ‘র বিষয়টি উদ্দেশিত ইন্দ্রিয়যোগ্য অনুভূতি যা সাজদায় নয়, বরং এখানে হলো পিঠ ও ঘাড়কে সোজা রাখা আর উদ্দেশ্য হলো শরীরের নীচের অংশকে উপরে রাখা এবং উপরের অংশকে নীচে রাখা (মাথা নীচে যাচ্ছে আর পিঠ পা উপরে থাকছে)।

আর হাদীসে নিষেধাজ্ঞা বিষয়টি হলো (কুকুরের মতো হাত বিছিয়ে সিজদা্ করবে না) সালাতে অলসতা ও গুরুত্ব কম দেয়া।

আবূ দাঊদ তাঁর ‘মারাসীল’-এ ইয়াযীদ ইবনু আবী হানী হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়রত মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন এবং বললেন, তোমরা যখন সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করবে। তোমরা তোমাদের শরীরের গোশ্‌ত (গোশত/গোস্ত/গোসত) তথা পেটকে জমিনের সাথে মিশাবে/মিলিত করবে।

(وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ) কুকুরের মতো যেন মাটিতে হাত বিছিয়ে না দেয় কুকুরের হাত বিছানো হলো কনুই সহকারে দু’হাতের তালু মাটিতে রাখা।

অনুরূপ হাদীস এসেছে আহমাদ ও তিরমিযীতে এবং ইবনু খুযায়মাহ্ জাবির (রাঃ) হতে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত।

এটা তোমাদের কেউ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করলে ধীরস্থিরভাবে যেন করে আর কুকুরের মতো যেন হাত মাটিতে না বিছায়।

ইবনু হাজার বলেন, সাজদায় এ অবস্থাটা তথা কুকুরের মতো হাত বিছানো জঘন্য অবস্থা। বিশেষ করে এটা বিনয় নম্রতার বিপরীত তবে যে লম্বা সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে হাতের তালুর উপর ভর করাটা কষ্টকর হয় তাহলে হাতের কনুই হাঁটুর উপর রাখবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ অনুযায়ী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة)