৭১৮

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাসজিদ ও সালাতের স্থান

৭১৮-[৩০] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে মাসজিদ বানিয়ে তা চাকচিক্যময় করে রাখার হুকুম দেয়া হয়নি। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় যেভাবে ইয়াহূদী-খৃষ্টানরা তাদের ’ইবাদাতখানাকে (স্বর্ণ-রূপা দিয়ে) চাকচিক্যময় করে রাখত তোমরাও একইভাবে তোমাদের মসজিদের শোভা বর্ধন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَمَرْتُ بِتَشْيِيدِ الْمَسَاجِدِ» . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُود وَالنَّصَارَى. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أمرت بتشييد المساجد» . قال ابن عباس: لتزخرفنها كما زخرفت اليهود والنصارى. رواه أبو داود

ব্যাখ্যা: ইবনু রাসলান বলেন, মাসজিদসমূহ সুসজ্জিত করার অর্থ হলো ভিত্তিকে মজবুত ও উঁচু করা।

মাসজিদ সুসজ্জিত করা বৈধ যদি নাম-কাম ও যশ-সুখ্যাতির জন্য এবং লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না হয়। যেমন- ইতোপূর্বে হাদীস গত হয়েছে, ‘উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে মাসজিদ নির্মাণ করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন। এ হাদীসের আলোকে ‘উসমান (রাঃ) তাঁর শাসনামলে মসজিদে নাবাবীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।

ইমাম খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেছেনঃ (لَتُزَخْرِفُنَّهَا) অর্থ (لتزيننها) মূলত স্বর্ণ দ্বারা সৌন্দর্য করাকে বুঝায়। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাসজিদকে স্বর্ণ বা অনুরূপ কিছু দিয়ে সজ্জিত করা।

যেমন ‘আরবদের কথা- কোন ব্যক্তি তার কথাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করল ও তার কথায় প্রলেপ দিলো এবং তার কথাকে বাতিল দ্বারা সাজালো। যেমনভাবে ইয়াহূদী, নাসারারা সৌন্দর্য করেছে। নাসারারা তাদের মাসজিদকে সজ্জিত করছে। যখন তারা তাদের দীনের বিষয়গুলো বিকৃত করেছে এবং তাদের কিতাবের মধ্যে যে বিষয়গুলো রয়েছে তা ‘আমল করা পরিত্যাগ করেছে।

অতএব তোমরা তাদের মতো হয়ে যাবে যখন তোমরা দীনের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করবে এবং ‘আমলের মধ্যে ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা পরিত্যাগ করবে। আর তোমাদের মাসজিদকে সুসজ্জিত করে সাজানো গর্ব করা এবং লোক দেখানোর জন্য হয়ে যাবে।

ক্বারী বলেনঃ মসজিদে এ ধরনের সৌন্দর্য করা বিদ্‘আত। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের কাজ করেননি এবং এ কাজগুলোর মধ্যে আহলে কিতাবের সামঞ্জস্য রয়েছে।

ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে বলেছেন, ‘উমার (রাঃ) মাসজিদ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেনঃ আমি মানুষকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করব এবং তুমি লাল রং এবং হলুদ রং করা থেকে সাবধান থাকবে। কারণ এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ফিতনাহ্ (ফিতনা) সৃষ্টি হবে।

এ হাদীসটি প্রকাশ্য মু‘জিযা। কেননা এতে এমন বিষয় অবহিত করা হয়েছে যা অচিরেই সংঘটিত হবে।

অতঃপর মাসজিদ সৌন্দর্যকরণ এবং মসজিদের সৌন্দর্য নিয়ে গর্ব করা শুধু নাজ্দ শহর ছাড়া সমগ্র মুসলিম শহরে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। অতঃপর নাজ্দবাসীদের প্রতি শান্তি এবং যারা নাজ্দে আগমন করেছে তাদের প্রতিও শান্তি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة)