১৩২

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব

১৩২-[৮] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যখন কোন কবরের নিকট দাঁড়াতেন, কেঁদে দিতেন, (আল্লাহর ভয়ে চোখের পানিতে) তার দাড়ি ভিজে যেত। একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ হলে, আপনি কাঁদেন না। আর আপনি এ জায়গায় (কবরস্থানে) দাঁড়িয়ে কাঁদছেন? তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আখিরাতের মঞ্জীলসমূহের মধ্যে কবর হলো প্রথম মঞ্জীল। কেউ যদি এ মঞ্জীলে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে পরের মঞ্জীলসমূহ অতিক্রম করা তার জন্য সহজসাধ্য হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি এ মঞ্জীলে মুক্তি লাভ করতে পারলো না, তার জন্য পরবর্তী মঞ্জীলসমূহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি [’উসমান (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও বলেছেন, কবর থেকে বেশি কঠিন কোন ভয়ঙ্কর জায়গা আমি কক্ষনো দেখিনি। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني

وَعَن عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ أَنه إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأَيْت منْظرًا قطّ إِلَّا الْقَبْر أَفْظَعُ مِنْهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيث غَرِيب

وعن عثمان رضي الله عنه أنه إذا وقف على قبر بكى حتى يبل لحيته فقيل له تذكر الجنة والنار فلا تبكي وتبكي من هذا فقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن القبر أول منزل من منازل الآخرة فإن نجا منه فما بعده أيسر منه وإن لم ينج منه فما بعده أشد منه قال وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما رأيت منظرا قط إلا القبر أفظع منه» . رواه الترمذي وابن ماجه. وقال الترمذي هذا حديث غريب

Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2


‘Uthman told that when he stood over a grave he would weep so sorely that the tears moistened his beard. Someone said to him, “You remember paradise and hell, without weeping, yet you are weeping over this." He replied that God’s messenger said, “The grave is the first stage of the next world ; if one escapes from it what follows is easier than it, but if one does not escape from it what follows is more severe than it." He further quoted God’s messenger as saying, “I have never seen a sight as horrible as the grave."

Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it, and Tirmidhi said this is a gharib tradition.

ব্যাখ্যা : একটি প্রশ্ন এবং তার উত্তরঃ

প্রশ্নঃ ‘উসমান (রাঃ) তো জান্নাতের সানাদপ্রাপ্তদের একজন। এ সত্ত্বেও তিনি কবরের কাছে গিয়ে কান্নাকাটির কারণ কি?

এর উত্তর কয়েকটি হতে পারেঃ

১. জান্নাতের ঘোষণা হলেই কবরের ‘আযাব থেকে মুক্তি হয়ে গেল বিষয়টি এমন নয়।

২. হতে পারে পরিস্থিতি কঠিন হওয়ায় তিনি যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত এটা ভুলে গিয়েছিলেন।

৩. হতে পারে তিনি কবরের চাপ থেকে ভয় পেয়েছেন। যেমন সা‘দ (রাঃ)-এর হাদীসে এটাই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এই পাপ থেকে নাবীগণ ব্যতীত কেউই রেহাই পাবে না। মুল্লা ‘আলী কারী  (রহঃ) এমনটাই বলেছেন।

৪। আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  নিজেও কবরের ‘আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন অথচ তিনি ছিলেন নাবী! আর যে যত আল্লাহর বেশী প্রিয় সে তত বেশী আল্লাহকে এবং আল্লাহর শাস্তিকে ভয় পেতেন। ‘উসমান (রাঃ)-এর ব্যাপারটি এমনি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১: ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)