১০১

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান

১০১-[২৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টজীবকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি তাদের প্রতি স্বীয় নূর (জ্যোতি) নিক্ষেপ করেন। সুতরাং যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেছে, সে সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেনি, সে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। তাই আমি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিঃ আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী যা হওয়ার তা-ই হয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। (আহমাদ, তিরমিযী)[1]

باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ فَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ النُّورِ اهْتَدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ فَلذَلِك أَقُول: جف الْقلب على علم الله . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن عبد الله بن عمرو قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ان الله خلق خلقه في ظلمة فالقى عليهم من نوره فمن اصابه من ذلك النور اهتدى ومن اخطاه ضل فلذلك اقول: جف القلب على علم الله . رواه احمد والترمذي

Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2


‘Abdallah b. ‘Amr reported that he heard God’s messenger say, “God created His creatures in darkness and cast some of His light upon them. Those on whom some of that light falls will have guidance, but those who are missed by it will go astray. On that account I say that the pen has no more to write about God’s knowledge.”

Ahmad and Tirmidhi transmitted it.

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে তাক্বদীরের আলোচনা করা হয়েছে।

(خَلَقَه) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধুমাত্র মানুষ, জিন্ বা মালাক (ফেরেশতা) নয়। কেননা তাদেরকে কেবল নূর থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে।

লুম্‘আত-এর লেখক বলেন, এখানে (خَلَقَه) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জন্মের সময়, আর নিক্ষেপণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হিদায়াতের তাওফীক্ব প্রদান এবং শারী‘আতের বিধি-বিধান প্রকাশ হওয়ার সময়। এক কথায় অত্র হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, যাকে নূর দেয়া হয়েছে সে ব্যতীত সৃষ্টি করার মুহূর্তে মানুষই অন্ধকারে ছিল।

তবে এ ক্ষেত্রে ফিত্বরাতের যে হাদীস আছে তার সাথে এ হাদীসের বিষয়টি একটু সাংঘার্ষিক মনে হয় যে ফিত্রাতের হাদীস প্রমাণ করছে যে, মানুষ জন্মের সময় প্রত্যেকেই ফিতরাতের আলোর উপর থাকে আর এ হাদীসে বলা হলো আলো না দেয়ার আগ পর্যন্ত সবাই অন্ধকারেই থাকে।

যার নিকট আলোর কিছু অংশ পৌঁছাল। কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, نور দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো ঈমানের আলো। আর কেউ কেউ বলেছেন, نور দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নিদর্শন থেকে তাকে চিনবার মতো মানবিকতা। অতএব আল্লাহ তা‘আলা যাকে হিদায়াত দান করবেন সে আল্লাহ তা‘আলার এসব নিদর্শন দেখে আল্লাহর অস্তিত্ব বুঝতে পারে আর আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা করেন না সে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তার নিদর্শন খুঁজে পায় না। এটাই আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্রে বলেছেন,

 اَوَ مَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَه نُوْرًا

‘‘যে ছিল মৃত্যু তাকে আমি জীবিত করলাম এবং তাকে আলো (হিদায়াতের আলো) দান করি।’’ (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ঃ ১২২)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,

 اَفَمَن شَرَحَ اللّهُ صَدْرَه لِلْاِسْلَامِ فَهُوَ عَلى نُوْرٍ مِّنْ رَّبِّه

‘‘আল্লাহ তা‘আলা যার সীনাকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছেন সে তার রবের আলোর উপর আছে।’’ (সূরাহ্ আয্ যুমার ৩৯ঃ ২২)

অতএব, বুঝা গেল হিদায়াত এবং ভ্রষ্টতা সবই আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ বিন আমের
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১: ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)