৩৯

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৯-[৩৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা কয়েকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে বসা ছিলাম। আমাদের সাথে আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। হঠাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্য হতে উঠে চলে গেলেন এবং এত বিলম্ব করলেন যাতে আমরা শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। না জানি আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার কোন বিপদে পড়লেন কিনা। এতে আমরা ঘাবড়িয়ে গেলাম এবং উঠে বের হয়ে পড়লাম। অবশ্য সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত হয়ে পড়েছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধানে আমি সকলের আগে বের হলাম। এমনকি খুঁজতে খুঁজতে আমি বানী নাজ্জার গোত্রের জনৈক আনসারীর প্রাচীরবেষ্টিত বাগানের নিকট পৌঁছলাম। ভিতরে প্রবেশ করার জন্য তার চারদিকে দরজা খুঁজতে লাগলাম।

হঠাৎ দেখি, বাইরের একটি কূপ হতে একটি ছোট নালা এসে বাগানের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, আমি জড়োসড়ো হয়ে তাতে প্রবেশ করলাম এবং ধীরে ধীরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যেয়ে পৌঁছলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে তাঁর সামনে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে) বললেন, আবূ হুরায়রাহ্ নাকি! আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কি ব্যাপার? (তুমি এখানে?) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন, হঠাৎ উঠে চলে আসলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে আপনাকে ফিরে আসতে না দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। (আল্লাহ না করুন) আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আপনি কোনরূপ বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। এজন্য আমরা সকলেই ব্যতিব্যাস্ত হয়ে পড়ি এবং সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। অতঃপর (আপনাকে খোঁজ করতে করতে) এ বাগানের দিকে আসি এবং শিয়ালের ন্যায় খুব সরু হয়ে বাগানে প্রবেশ করি। আর অন্যান্যরাও (আপনার জন্য) আমার পেছনে আসছে।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতাদ্বয় আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! আমার জুতা দু’টি সাথে নিয়ে যাও! (তুমি আমার কাছে এসেছিলে লোকেরা যেন বুঝতে পারে তার নিদর্শনস্বরূপ) আর বাগানের বাইরে যাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তাদের মধ্যে যারা সত্য দৃঢ় মনে ’আক্বীদার সাথে এ ঘোষণা দিবে, ’’আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’, তাদেরকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ নিদর্শন নিয়ে বাইরে আসলে) প্রথমেই ’উমার (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! এ জুতা দু’টি কার? আমি বললাম, এ জুতা দু’টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ জুতা দু’টি আমার কাছে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি সত্য দৃঢ় মনে ’আক্বীদার সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’, আমি যেন তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেই। এ কথা শুনা মাত্রই ’উমার (রাঃ) আমার বুকের উপর এমন ঘুষি মারলেন যে, আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। অতঃপর ’উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, ফিরে যাও, হে আবূ হুরায়রাহ্! তাই আমি কাঁদতে কাঁদতে রসূলের কাছে ফিরে এলাম।

(আমার মনে ’উমারের ভয় ছিল) পিছন ফিরে দেখি ’উমার (রাঃ) আমার সাথে এসে পৌঁছেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কাঁদতে দেখে) জিজ্ঞেস করলেন, হে ’উমার! এমন করলে কেন? ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আপনার জুতা দু’টি দিয়ে আবূ হুরায়রাহকে পাঠিয়েছেন এ বলে, যে ব্যক্তি অন্তরের স্থির বিশ্বাসের সাথে এ সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাকে যেন সে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। ’উমার (রাঃ) বললেন, (হে আল্লাহর রসূল! অনুগ্রহ করে) এরূপ বলবেন না। আমার আশঙ্কা হয় (এ কথা শুনে) পরবর্তী লোকেরা এর উপর নির্ভর করে বসবে (’আমল’ করা ছেড়ে দিবে)। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে ’আমল করতে দিন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিক আছে! তাদেরকে ’আমল করতে দাও। (মুসলিম)[1]

الفصل الثالث

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا قُعُودًا حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعنا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي نَفَرٍ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَأَبْطَأَ عَلَيْنَا وَخَشِيَنَا أَنْ يُقْتَطَعَ دُونَنَا وَفَزِعْنَا فَقُمْنَا فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ فَزِعَ فَخَرَجْتُ أَبْتَغِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَيْتُ حَائِطًا لِلْأَنْصَارِ لِبَنِي النَّجَّارِ فَدُرْتُ بِهِ هَلْ أَجِدُ لَهُ بَابًا فَلَمْ أَجِدْ فَإِذَا رَبِيعٌ يَدْخُلُ فِي جَوْفِ حَائِطٍ مِنْ بِئْرٍ خَارِجَةٍ وَالرَّبِيعُ الْجَدْوَلُ فاحتفزت كَمَا يحتفز الثَّعْلَب فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا شَأْنُكَ قُلْتُ كُنْتَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَقُمْتَ فَأَبْطَأْتَ عَلَيْنَا فَخَشِينَا أَنْ تُقْتَطَعَ دُونَنَا فَفَزِعْنَا فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ فَزِعَ فَأَتَيْتُ هَذَا الْحَائِطَ فَاحْتَفَزْتُ كَمَا يَحْتَفِزُ الثَّعْلَبُ وَهَؤُلَاء النَّاس ورائي فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة وَأَعْطَانِي نَعْلَيْه قَالَ اذْهَبْ بنعلي هَاتين فَمن لقِيت من وَرَاء هَذَا الْحَائِط يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ لَقِيتُ عُمَرَ فَقَالَ مَا هَاتَانِ النَّعْلَانِ يَا أَبَا هُرَيْرَة فَقلت هَاتَانِ نَعْلَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَنِي بِهِمَا مَنْ لَقِيتُ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ بَشرته بِالْجنَّةِ فَضرب عمر بِيَدِهِ بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَخَرَرْتُ لِاسْتِي فَقَالَ ارْجِعْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فأجهشت بكاء وركبني عمر فَإِذا هُوَ على أثري فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَك يَا أَبَا هُرَيْرَة قلت لقِيت عمر فَأَخْبَرته بِالَّذِي بعثتني بِهِ فَضرب بَين ثديي فَخَرَرْت لاستي قَالَ ارْجع فَقَالَ لَهُ رَسُول الله يَا عُمَرُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَبَعَثْتَ أَبَا هُرَيْرَةَ بِنَعْلَيْكَ مَنْ لَقِيَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ بَشَّرَهُ بِالْجَنَّةِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَلَا تَفْعَلْ فَإِنِّي أَخْشَى أَنْ يَتَّكِلَ النَّاسُ عَلَيْهَا فخلهم يعْملُونَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فخلهم . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال كنا قعودا حول رسول الله صلى الله عليه وسلم معنا ابو بكر وعمر رضي الله عنهما في نفر فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم من بين اظهرنا فابطا علينا وخشينا ان يقتطع دوننا وفزعنا فقمنا فكنت اول من فزع فخرجت ابتغي رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اتيت حاىطا للانصار لبني النجار فدرت به هل اجد له بابا فلم اجد فاذا ربيع يدخل في جوف حاىط من بىر خارجة والربيع الجدول فاحتفزت كما يحتفز الثعلب فدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ابو هريرة فقلت نعم يا رسول الله قال ما شانك قلت كنت بين اظهرنا فقمت فابطات علينا فخشينا ان تقتطع دوننا ففزعنا فكنت اول من فزع فاتيت هذا الحاىط فاحتفزت كما يحتفز الثعلب وهولاء الناس وراىي فقال يا ابا هريرة واعطاني نعليه قال اذهب بنعلي هاتين فمن لقيت من وراء هذا الحاىط يشهد ان لا اله الا الله مستيقنا بها قلبه فبشره بالجنة فكان اول من لقيت عمر فقال ما هاتان النعلان يا ابا هريرة فقلت هاتان نعلا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثني بهما من لقيت يشهد ان لا اله الا الله مستيقنا بها قلبه بشرته بالجنة فضرب عمر بيده بين ثديي فخررت لاستي فقال ارجع يا ابا هريرة فرجعت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجهشت بكاء وركبني عمر فاذا هو على اثري فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لك يا ابا هريرة قلت لقيت عمر فاخبرته بالذي بعثتني به فضرب بين ثديي فخررت لاستي قال ارجع فقال له رسول الله يا عمر ما حملك على ما فعلت قال يا رسول الله بابي انت وامي ابعثت ابا هريرة بنعليك من لقي يشهد ان لا اله الا الله مستيقنا بها قلبه بشره بالجنة قال نعم قال فلا تفعل فاني اخشى ان يتكل الناس عليها فخلهم يعملون قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فخلهم رواه مسلم

Chapter - Section 3


Abu Huraira said:
We were seated around God's messenger, Abu Bakr, ‘Umar and some others being with us, when God's messenger got up and left us. He delayed for some time, which made us fear that he might be attacked by some enemy when we were not with him; so being alarmed we got up. I was the first to be alarmed. I therefore went out to look for God's messenger and came to a garden belonging to the B. an-Najjar, a section of the Ansar, I went round it looking for a gate, but failed to find one. Seeing a rabi’ (i.e. a streamlet) flowing into the garden from a well outside, I drew myself together and went in to where God's messenger was. He said, “Is it Abu Huraira?" I replied, “Yes, messenger of God." He said, “What do you want?" I replied, “You were among us, but got up and went away and delayed for a time, so fearing that you might be attacked by some enemy when we were not with you, we became alarmed. I was the first to be alarmed, so when I came to this garden I drew myself together as a fox does; and these people are following me." Addressing me by name he gave me his sandals and said, “Take away these sandals of mine, and when you meet anyone outside this garden who testifies that there is no god but God, being assured of it in his heart, gladden him by announcing that he will go to paradise." Now the first one I met was ‘Umar. He asked, “What are these sandals, Abu Huraira?” and I replied, “These are God’s messenger’s sandals with which he has sent me to gladden anyone I met who testified that there is no god but God, being assured of it in his heart, with the announcement that he would go to paradise.” Thereupon ‘Umar struck me on the breast and I fell down on my seat.” He then said, “Go back, Abu Huraira”; so I went back to God’s messenger, and I was ready to weep. ‘Umar followed me closely, and there he was behind me. God’s messenger said, “What is the matter with you, Abu Huraira?” I replied, “I met ‘Umar and conveyed to him your message, whereupon he gave me a blow on the breast which made me fall down on my seat and ordered me to go back.” God’s messenger said, “What induced you, ‘Umar, to do what you did?” He replied, “Messenger of God, for whom I would give my father and mother as ransom, did you send Abu Huraira with your sandals to gladden anyone he met who testified that there is no god but God, being assured of it in his heart, with the announcement that he would go to paradise?” He said, “Yes.” ‘Umar said, “You must not do it, for I am afraid that people will trust in it alone; let them go on doing [good] works.” God’s messenger said, “Well let them.”

Muslim transmitted it.

ব্যাখ্যা : রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে তার জুতা দু’টো এজন্য দিয়েছিলেন যাতে তার কাছে এ আলামত বিদ্যমান থাকে যে, তিনি সবে মাত্র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছেন এবং দেয়া সংবাদ সাহাবীগণ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে। যদিও তার দেয়া সংবাদ তাদের নিকট আলামত ছাড়াও গ্রহণযোগ্য ছিল।

‘‘তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও’’ যার মধ্যে এ গুণ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ- যে এ সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই এবং এর প্রতি অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এতে সত্যের পতাকাবাহীদের এ কথার প্রমাণ পাওয়া যে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শুধু তাওহীদের প্রতি বিশ্বাসই নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়। অনুরূপ বিশ্বাস ব্যতীত মৌখিক সাক্ষ্যও যথেষ্ট নয়। বরং এ দু’টির সমন্বয় একান্ত জরুরী।

‘উমার (রাঃ) কর্তৃক আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে ধাক্কা মেরে তাকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তার উদ্দেশ্য ছিল তিনি যে কথা বলছেন তা থেকে তাকে বিরত রাখা। উমার (রাঃ)-এর এ আচরণ এবং স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশে ছিল না। কেননা যে নির্দেশ দিয়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল তাতে উম্মাতের মনের প্রশান্তি এবং তাদের সুসংবাদ ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। অতএব ‘উমার (রাঃ) মনে করলেন এ সংবাদ তাদের থেকে গোপন রাখাই অধিক কল্যাণকর, যাতে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে না থাকে। অতঃপর তিনি যখন বিষয়টি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করলেন তখন তিনি তার অভিমত সঠিক বলে আখ্যায়িত করলেন। কেননা সাধারণ লোকেদের যখন কোন সুসংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তারা তার উপর ভরসা করে বসে থাকে। আর বিশেষ লোকেদেরকে যখন সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তারা আরো বেশী করে কাজে মনোযোগী হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১: ঈমান (বিশ্বাস) (كتاب الإيمان)