১৮১৯

পরিচ্ছেদঃ ৩৭০ : দাজ্জাল ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে

৩/১৮১৯। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ’আস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আমি জানি না চল্লিশ দিন, চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা ঈসা ইবনে মারয়্যাম -কে পাঠাবেন। তিনি তাকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করবেন। অতঃপর লোকেরা [দীর্ঘ] সাত বছর ব্যাপী [এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে] কাল উদযাপন করবে, যাতে দুজনের পারস্পরিক কোন প্রকার শত্রুতা থাকবে না। তারপর মহান আল্লাহ শাম দেশ থেকে শীতল বায়ু চালু করবেন যা জমিনের বুকে এমন কোন ব্যক্তিকে জীবিত ছাড়বে না, যার অন্তরে অণু পরিমাণ মঙ্গল অথবা ঈমান থাকবে।

এমনকি তোমাদের কেউ যদি পর্বত-গর্ভে প্রবেশ করে, তাহলে সেখানেও প্রবেশ করে তার জীবন নাশ করবে। [তারপর ভূপৃষ্ঠে] দুর্বৃত্ত প্রকৃতির লোক থেকে যাবে, যারা কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থের ব্যাপারে ক্ষিপ্ত গতিমান পাখির মত হবে, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও রক্তপাত করার ক্ষেত্রে হিংস্র পশুর ন্যায় হবে। যারা কখনো ভাল কাজের আদেশ করবে না এবং কোন মন্দ কাজে বাধা দেবে না। শয়তান তাদের সামনে মানবরূপ ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করবে ও বলবে, ’তোমরা আমার আহবানে সাড়া দেবে না?’ তারা বলবে, ’আমাদেরকে আপনি কি আদেশ করছেন?’ সে তখন তাদেরকে মূর্তি পূজার আদেশ দেবে।

আর এসব কর্মকাণ্ডে তাদের জীবিকা সচ্ছল হবে এবং জীবন সুখের হবে। অতঃপর শিঙ্গায় [প্রলয় বীণায়] ফুঁৎকার দেওয়া হবে। যে ব্যক্তিই সে শব্দ শুনবে, সেই তার ঘাড়ের একদিক কাত করে দেবে ও অপর দিক উঁচু করে দেবে। সর্বাগ্রে এমন এক ব্যক্তি তা শুনতে পাবে, যে তার উটের [জন্য পানি রাখার] হওয লেপায় ব্যস্ত থাকবে। সে শিঙ্গার শব্দ শোনামাত্র অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাবে। তার সাথে সাথে তার আশে-পাশের লোকরাও অজ্ঞান হয়ে [ধরাশায়ী হয়ে] যাবে। অতঃপর আল্লাহ শিশিরের ন্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পাঠাবেন। যার ফলে পুনরায় মানবদেহ [উদ্ভিদের ন্যায়] গজিয়ে উঠবে।

তারপর যখন দ্বিতীয়বার শিঙ্গা বাজানো হবে, তখন তারা উঠে দেখতে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে, ’হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে এগিয়ে এসো।’ [অন্য দিকে ফিরিশতাদেরকে হুকুম করা হবে যে,] ’তোমরা ওদেরকে থামাও। ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ তারপর বলা হবে, ’ওদের মধ্য থেকে জাহান্নামে প্রেরিতব্য দল বের করে নাও।’ জিজ্ঞাসা করা হবে, ’কত থেকে কত?’ বলা হবে, ’প্রতি হাজারে নয়শ’ নিরানব্বই জন।’ বস্তুতঃ এ দিনটি এত ভয়ংকর হবে যে, শিশুকে বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে এবং এ দিনেই [মহান আল্লাহ নিজ] পায়ের গোছা অনাবৃত করবেন।’’ (মুসলিম)[1]

(370) بَابُ اَحَادِيْثِ الدَّجَّالِ وَاَشْرَاطِ السَّاعَةِ وَغَىْرِهَا

وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قاَلَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ، لاَ أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوماً أَو أَرْبَعِينَ شَهْراً، أَو أَرْبَعِينَ عَاماً، فَيَبْعَثُ اللهُ تَعالَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ، ثُمَّ يَمْكُثُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ لَيسَ بَينَ اثْنَينِ عَدَاوةٌ، ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ ـ عَزَّ وَجَلَّ ـ، رِيحاً بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ، فَلاَ يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيرٍ أَو إِيمَانٍ إِلاَّ قَبَضَتْهُ، حَتَّى لَو أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبِدِ جَبَلٍ، لَدَخَلَتْهُ عَلَيهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ، فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ، وَأَحْلاَمِ السِّبَاعِ، لاَ يَعْرِفُونَ مَعْرُوفاً، وَلاَ يُنْكِرُونَ مُنْكَراً، فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ، فيَقُولُ : أَلاَ تَسْتَجِيبُونَ ؟ فَيَقُولُونَ : فَمَا تَأمُرُنَا ؟ فَيَأمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌّ رِزْقُهُمْ، حَسَنٌ عَيشُهُمْ، ثُمَّ يُنْفَخُ في الصُّورِ، فَلاَ يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلاَّ أصْغَى لِيتاً وَرَفَعَ لِيتاً، وَأوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ فَيُصْعَقُ وَيُصْعَقُ النَّاسُ حَولَهُ، ثُمَّ يُرْسِلُ اللهُ - أَو قَالَ: يُنْزِلُ اللهُ - مَطَراً كَأَنَّهُ الطَّلُّ أَوِ الظِّلُّ، فَتَنْبُتُ مِنهُ أَجْسَادُ النَّاسِ، ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ، ثُمَّ يُقَالُ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمَّ إلَى رَبِّكُمْ، وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ، ثُمَّ يُقَالُ : أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ فَيُقَالُ : مِنْ كَمْ ؟ فَيُقَالُ : مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِئَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ؛ فَذَلِكَ يَومٌ يَجْعَلُ الوِلْدَانَ شِيباً، وَذَلِكَ يَومَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ». رواه مسلم

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يخرج الدجال في أمتي فيمكث أربعين، لا أدري أربعين يوما أو أربعين شهرا، أو أربعين عاما، فيبعث الله تعالى عيسى ابن مريم، فيطلبه فيهلكه، ثم يمكث الناس سبع سنين ليس بين اثنين عداوة، ثم يرسل الله ـ عز وجل ـ، ريحا باردة من قبل الشام، فلا يبقى على وجه الأرض أحد في قلبه مثقال ذرة من خير أو إيمان إلا قبضته، حتى لو أن أحدكم دخل في كبد جبل، لدخلته عليه حتى تقبضه، فيبقى شرار الناس في خفة الطير، وأحلام السباع، لا يعرفون معروفا، ولا ينكرون منكرا، فيتمثل لهم الشيطان، فيقول : ألا تستجيبون ؟ فيقولون : فما تأمرنا ؟ فيأمرهم بعبادة الأوثان، وهم في ذلك دار رزقهم، حسن عيشهم، ثم ينفخ في الصور، فلا يسمعه أحد إلا أصغى ليتا ورفع ليتا، وأول من يسمعه رجل يلوط حوض إبله فيصعق ويصعق الناس حوله، ثم يرسل الله - أو قال: ينزل الله - مطرا كأنه الطل أو الظل، فتنبت منه أجساد الناس، ثم ينفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون، ثم يقال : يا أيها الناس هلم إلى ربكم، وقفوهم إنهم مسئولون، ثم يقال : أخرجوا بعث النار فيقال : من كم ؟ فيقال : من كل ألف تسعمئة وتسعة وتسعين؛ فذلك يوم يجعل الولدان شيبا، وذلك يوم يكشف عن ساق». رواه مسلم

(370) Chapter: Ahadith about Dajjal and Portents of the Hour


'Abdullah bin 'Amr bin Al-'As (May Allah be pleased with them) said:
The Messenger of Allah (ﷺ) said, "Dajjal (the Antichrist) will appear in my Ummah and he will stay in the world for forty. I do not know whether this will be forty days or forty months or forty years. Allah will then send (Prophet) 'Isa (Jesus), son of Maryam (Mary). 'Isa will pursue him and slaughter him. Then people will survive for seven years (i.e., after the demise of 'Isa) in the state that there will be no rancour between two persons. Then Allah will send a cool breeze from the side of Ash-Sham. None will remain upon the face of the earth having the smallest particle of good or Faith in him but he will die, so much so that even if someone amongst you will enter the innermost part of a mountain, this breeze will reach that place also and will cause him to die. Only the wicked people will survive and they will be as fast as birds (i.e., to commit evil) and as ferocious towards one another as wild beasts. They will never appreciate the good, nor condemn evil. Then Shaitan (Satan) will come to them in the garb of a man and will say: 'Will you not obey me?' They will say: 'What do you order us to do?' He will command them to worship idols. They will have abundance of sustenance and will lead comfortable lives. Then the Trumpet will be blown. Every one hearing it, will turn his neck towards it and will raise it. The first one to hear that Trumpet will be a man who will be busy repairing the basin for his camels. He will become unconscious. Allah will send, or will cause to send, rain which will be like dew and there will grow out of it (like wild growth) the bodies of the people. Then the second Trumpet will be blown and they will stand up and begin to look around. Then it will be said: 'O people! Go to your Rubb.' Then there will be a command: 'Make them stand there.' After it they will be called to account. Then it will be said: 'Separate from them the share of the Fire.' It will be asked: 'How much?' It will be said: 'Nine hundred and ninety-nine out of every thousand.' That will be the Day which will make children hoary-headed men because of its terror and that will be the Day when the Shin will be uncovered."

[Muslim].

Commentary: The question arises as to what is the meaning of the phrase - the Shin will be uncovered - at this place? Some people say that it refers to the calamities and troubles of the Day of Judgement. But according to a reliable narration, it refers to an act of Allah of uncovering His Shin in a way which befits His Majesty. As believers, we must confirm Allah's all Qualities which He has stated in the Qur'an or mentioned through His Messenger (PBUH) without changing them or ignoring them completely or twisting their meanings or giving resemblance to any of the created things. What is meant by the uncovering of the Shin of Allah is something we can neither understand nor describe. We can only believe in it without understanding the real explanation of it, in the same way we believe in the Eye or Ear of Allah. We should believe in all these things as mentioned in the Qur'an and Hadith without trying to go into the explanation. This is the view of Ahlus-Sunnah wal-Jama`ah to which we should stick. (See Tafsir Ahsan-ul-Bayan)

Then all the Muslims will prostrate before Him. However, those people who used to pray and prostrate before Him in their worldly lives only for showing off or for gaining good reputation, will not be able to prostrate before Him on this occasion. Their spines will become stiff like a wooden board and it would become impossible for them to bend. (Sahih Al-Bukhari, Tafsir Surat An-Nur and Al-Qalam).


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
১৮/ বিবিধ চিত্তকর্ষী হাদিসসমূহ (كتاب المنثورات والملح)