৩৪০১

পরিচ্ছেদঃ ৬০/২৭. মূসা (আঃ)-এর সম্পর্কিত খাযির (আঃ)-এর ঘটনা।

৩৪০১. সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নবী মূসা (আঃ) নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। মূসা (আঃ)-এর এ উত্তরে আল্লাহ্ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। মূসা (আঃ) আরয করলেন, হে আমার রব! তাঁর নিকট পৌঁছতে কে আমাকে সাহায্য করবে? কখনও সুফ্ইয়ান এভাবে বর্ণনা করেছেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ্ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন।

অতঃপর মূসা (আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইবনু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে উভয়ে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করতে করতে থলে হতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ্ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিত করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (আঃ) তাঁর যুবক সঙ্গীকে বললেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্লান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (আঃ) তাকে বললেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি।

অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দু’জনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছলেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহর দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ্ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? খাযির (আঃ) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (আঃ) বললেন, ইন্শা আল্লাহ্ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দু’জনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির (আঃ)-কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দু’জন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার নদীর পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (আঃ) বললেন, হে মূসা (আঃ)! আমার এবং তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর জ্ঞান হতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কী করলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন।

খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা (আঃ)-এর পক্ষ হতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সঙ্গে খেলছিল। খাযির (আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফ্ইয়ান (রহ.) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (আঃ) তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করলেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বললেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করলেন। আর সুফ্ইয়ান (রহ.) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। ’’ঝুঁকে পড়েছে’’ এ কথাটি আমি সুফ্ইয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি।

মূসা (আঃ) বললেন, তারা এমন মানুষ যে, আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো অনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফ্ইয়ান (রাঃ) বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফ্ইয়ান (রহ.) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (’আমর ইবনু দ্বীনার) হতে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্থ করেছি। সুফ্ইয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি ’আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্থ করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্থ করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট হতে তা মুখস্থ করতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর নিকট হতে শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্থ করেছি। ’আলী ইবনু খুশরম (রহ.) সুফ্ইয়ান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৫৯)

بَابُ حَدِيْثِ الْخَضِرِ مَعَ مُوْسَى عَلَيْهِمَا السَّلَام

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرُوْ بْنُ دِيْنَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ نَوْفًا الْبَكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوْسَى صَاحِبَ الْخَضِرِ لَيْسَ هُوَ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ إِنَّمَا هُوَ مُوْسَى آخَرُ فَقَالَ كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مُوْسَى قَامَ خَطِيْبًا فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ فَقَالَ أَنَا فَعَتَبَ اللهُ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ بَلَى لِيْ عَبْدٌ بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ أَيْ رَبِّ وَمَنْ لِيْ بِهِ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ أَيْ رَبِّ وَكَيْفَ لِيْ بِهِ قَالَ تَأْخُذُ حُوْتًا فَتَجْعَلُهُ فِيْ مِكْتَلٍ حَيْثُمَا فَقَدْتَ الْحُوْتَ فَهُوَ ثَمَّ وَرُبَّمَا قَالَ فَهُوَ ثَمَّهْ وَأَخَذَ حُوْتًا فَجَعَلَهُ فِيْ مِكْتَلٍ ثُمَّ انْطَلَقَ هُوَ وَفَتَاهُ يُوْشَعُ بْنُ نُوْنٍ حَتَّى إِذَا أَتَيَا الصَّخْرَةَ وَضَعَا رُءُوْسَهُمَا فَرَقَدَ مُوْسَى وَاضْطَرَبَ الْحُوْتُ فَخَرَجَ فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ فَاتَّخَذَ سَبِيْلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا (الكهف :61) فَأَمْسَكَ اللهُ عَنْ الْحُوْتِ جِرْيَةَ الْمَاءِ فَصَارَ مِثْلَ الطَّاقِ فَقَالَ هَكَذَا مِثْلُ الطَّاقِ فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ بَقِيَّةَ لَيْلَتِهِمَا وَيَوْمَهُمَا حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ الْغَدِ قَالَ لِفَتَاهُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا لَقَدْ لَقِيْنَا مِنْ سَفَرِنَا هٰذَا نَصَبًا (الكهف :62) وَلَمْ يَجِدْ مُوْسَى النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَ حَيْثُ أَمَرَهُ اللهُ قَالَ لَهُ فَتَاهُ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَآ إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّيْ نَسِيْتُ الْحُوْتَ وَمَآ أَنْسَانِيْهِ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيْلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا (الكهف :63) فَكَانَ لِلْحُوْتِ سَرَبًا وَلَهُمَا عَجَبًا قَالَ لَهُ مُوْسَى ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِيْ فَارْتَدَّا عَلٰى اٰثَارِهِمَا قَصَصًا (الكهف : 64) رَجَعَا يَقُصَّانِ آثَارَهُمَا حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى بِثَوْبٍ فَسَلَّمَ مُوْسَى فَرَدَّ عَلَيْهِ فَقَالَ وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ قَالَ أَنَا مُوْسَى قَالَ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ قَالَ نَعَمْ أَتَيْتُكَ لِتُعَلِّمَنِيْ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا قَالَ يَا مُوْسَى إِنِّيْ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَنِيْهِ اللهُ لَا تَعْلَمُهُ وَأَنْتَ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَكَهُ اللهُ لَا أَعْلَمُهُ قَالَ هَلْ أَتَّبِعُكَ قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيَ صَبْرًا وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلٰى مَا لَمْ تُحِطْ بِهٰ خُبْرًا (الكهف : 67-688) إِلَى قَوْلِهِ إِمْرًا (الكهف : 71) فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ فَمَرَّتْ بِهِمَا سَفِيْنَةٌ كَلَّمُوْهُمْ أَنْ يَحْمِلُوْهُمْ فَعَرَفُوْا الْخَضِرَ فَحَمَلُوْهُ بِغَيْرِ نَوْلٍ فَلَمَّا رَكِبَا فِي السَّفِيْنَةِ جَاءَ عُصْفُوْرٌ فَوَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِيْنَةِ فَنَقَرَ فِي الْبَحْرِ نَقْرَةً أَوْ نَقْرَتَيْنِ قَالَ لَهُ الْخَضِرُ يَا مُوْسَى مَا نَقَصَ عِلْمِيْ وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللهِ إِلَّا مِثْلَ مَا نَقَصَ هَذَا الْعُصْفُوْرُ بِمِنْقَارِهِ مِنْ الْبَحْرِ إِذْ أَخَذَ الْفَأْسَ فَنَزَعَ لَوْحًا قَالَ فَلَمْ يَفْجَأْ مُوْسَى إِلَّا وَقَدْ قَلَعَ لَوْحًا بِالْقَدُّومِ فَقَالَ لَهُ مُوْسَى مَا صَنَعْتَ قَوْمٌ حَمَلُوْنَا بِغَيْرِ نَوْلٍ عَمَدْتَ إِلَى سَفِيْنَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيَ صَبْرًا قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا نَسِيْتُ وَلَا تُرْهِقْنِيْ مِنْ أَمْرِيْ عُسْرًا (الكهف : 71-73) فَكَانَتْ الْأُوْلَى مِنْ مُوْسَى نِسْيَانًا فَلَمَّا خَرَجَا مِنْ الْبَحْرِ مَرُّوْا بِغُلَامٍ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ فَأَخَذَ الْخَضِرُ بِرَأْسِهِ فَقَلَعَهُ بِيَدِهِ هَكَذَا وَأَوْمَأَ سُفْيَانُ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ كَأَنَّهُ يَقْطِفُ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ مُوْسَى أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةًم بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَّكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيَ صَبْرًا قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍم بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِيْ قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَّدُنِّيْ عُذْرًا فَانْطَلَقَا حَتّٰىٓ إِذَآ أَتَيَآ أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُّضَيِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِيْهَا جِدَارًا يُّرِيْدُ أَنْ يَّنْقَضَّ مَائِلًا أَوْمَأَ بِيَدِهِ هَكَذَا وَأَشَارَ سُفْيَانُ كَأَنَّهُ يَمْسَحُ شَيْئًا إِلَى فَوْقُ فَلَمْ أَسْمَعْ سُفْيَانَ يَذْكُرُ مَائِلًا إِلَّا مَرَّةً قَالَ قَوْمٌ أَتَيْنَاهُمْ فَلَمْ يُطْعِمُوْنَا وَلَمْ يُضَيِّفُوْنَا عَمَدْتَ إِلَى حَائِطِهِمْ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا قَالَ هٰذَا فِرَاقُ بَيْنِيْ وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيْلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا (الكهف : 78) قَالَ النَّبِيُّ وَدِدْنَا أَنَّ مُوْسَى كَانَ صَبَرَ فَقَصَّ اللهُ عَلَيْنَا مِنْ خَبَرِهِمَا قَالَ سُفْيَانُ قَالَ النَّبِيُّ يَرْحَمُ اللهُ مُوْسَى لَوْ كَانَ صَبَرَ لَقُصَّ عَلَيْنَا مِنْ أَمْرِهِمَا وَقَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ ثُمَّ قَالَ لِيْ سُفْيَانُ سَمِعْتُهُ مِنْهُ مَرَّتَيْنِ وَحَفِظْتُهُ مِنْهُ قِيْلَ لِسُفْيَانَ حَفِظْتَهُ قَبْلَ أَنْ تَسْمَعَهُ مِنْ عَمْرٍو أَوْ تَحَفَّظْتَهُ مِنْ إِنْسَانٍ فَقَالَ مِمَّنْ أَتَحَفَّظُهُ وَرَوَاهُ أَحَدٌ عَنْ عَمْرٍو غَيْرِيْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا وَحَفِظْتُهُ مِنْهُ

حدثنا علي بن عبد الله حدثنا سفيان حدثنا عمرو بن دينار قال أخبرني سعيد بن جبير قال قلت لابن عباس إن نوفا البكالي يزعم أن موسى صاحب الخضر ليس هو موسى بني إسرائيل إنما هو موسى آخر فقال كذب عدو الله حدثنا أبي بن كعب عن النبي صلى الله عليه وسلم أن موسى قام خطيبا في بني إسرائيل فسئل أي الناس أعلم فقال أنا فعتب الله عليه إذ لم يرد العلم إليه فقال له بلى لي عبد بمجمع البحرين هو أعلم منك قال أي رب ومن لي به وربما قال سفيان أي رب وكيف لي به قال تأخذ حوتا فتجعله في مكتل حيثما فقدت الحوت فهو ثم وربما قال فهو ثمه وأخذ حوتا فجعله في مكتل ثم انطلق هو وفتاه يوشع بن نون حتى إذا أتيا الصخرة وضعا رءوسهما فرقد موسى واضطرب الحوت فخرج فسقط في البحر فاتخذ سبيله في البحر سربا (الكهف :61) فأمسك الله عن الحوت جرية الماء فصار مثل الطاق فقال هكذا مثل الطاق فانطلقا يمشيان بقية ليلتهما ويومهما حتى إذا كان من الغد قال لفتاه اتنا غداءنا لقد لقينا من سفرنا هذا نصبا (الكهف :62) ولم يجد موسى النصب حتى جاوز حيث أمره الله قال له فتاه أرأيت إذ أوينا إلى الصخرة فإني نسيت الحوت وما أنسانيه إلا الشيطان أن أذكره واتخذ سبيله في البحر عجبا (الكهف :63) فكان للحوت سربا ولهما عجبا قال له موسى ذلك ما كنا نبغي فارتدا على اثارهما قصصا (الكهف : 64) رجعا يقصان آثارهما حتى انتهيا إلى الصخرة فإذا رجل مسجى بثوب فسلم موسى فرد عليه فقال وأنى بأرضك السلام قال أنا موسى قال موسى بني إسرائيل قال نعم أتيتك لتعلمني مما علمت رشدا قال يا موسى إني على علم من علم الله علمنيه الله لا تعلمه وأنت على علم من علم الله علمكه الله لا أعلمه قال هل أتبعك قال إنك لن تستطيع معي صبرا وكيف تصبر على ما لم تحط به خبرا (الكهف : 67-688) إلى قوله إمرا (الكهف : 71) فانطلقا يمشيان على ساحل البحر فمرت بهما سفينة كلموهم أن يحملوهم فعرفوا الخضر فحملوه بغير نول فلما ركبا في السفينة جاء عصفور فوقع على حرف السفينة فنقر في البحر نقرة أو نقرتين قال له الخضر يا موسى ما نقص علمي وعلمك من علم الله إلا مثل ما نقص هذا العصفور بمنقاره من البحر إذ أخذ الفأس فنزع لوحا قال فلم يفجأ موسى إلا وقد قلع لوحا بالقدوم فقال له موسى ما صنعت قوم حملونا بغير نول عمدت إلى سفينتهم فخرقتها لتغرق أهلها لقد جئت شيئا إمرا قال ألم أقل إنك لن تستطيع معي صبرا قال لا تؤاخذني بما نسيت ولا ترهقني من أمري عسرا (الكهف : 71-73) فكانت الأولى من موسى نسيانا فلما خرجا من البحر مروا بغلام يلعب مع الصبيان فأخذ الخضر برأسه فقلعه بيده هكذا وأومأ سفيان بأطراف أصابعه كأنه يقطف شيئا فقال له موسى أقتلت نفسا زكيةم بغير نفس لقد جئت شيئا نكرا قال ألم أقل لك إنك لن تستطيع معي صبرا قال إن سألتك عن شيءم بعدها فلا تصاحبني قد بلغت من لدني عذرا فانطلقا حتى إذا أتيا أهل قرية استطعما أهلها فأبوا أن يضيفوهما فوجدا فيها جدارا يريد أن ينقض مائلا أومأ بيده هكذا وأشار سفيان كأنه يمسح شيئا إلى فوق فلم أسمع سفيان يذكر مائلا إلا مرة قال قوم أتيناهم فلم يطعمونا ولم يضيفونا عمدت إلى حائطهم لو شئت لاتخذت عليه أجرا قال هذا فراق بيني وبينك سأنبئك بتأويل ما لم تستطع عليه صبرا (الكهف : 78) قال النبي وددنا أن موسى كان صبر فقص الله علينا من خبرهما قال سفيان قال النبي يرحم الله موسى لو كان صبر لقص علينا من أمرهما وقرأ ابن عباس أمامهم ملك يأخذ كل سفينة صالحة غصبا وأما الغلام فكان كافرا وكان أبواه مؤمنين ثم قال لي سفيان سمعته منه مرتين وحفظته منه قيل لسفيان حفظته قبل أن تسمعه من عمرو أو تحفظته من إنسان فقال ممن أتحفظه ورواه أحد عن عمرو غيري سمعته منه مرتين أو ثلاثا وحفظته منه


Narrated Sa`id bin Jubair:

I said to Ibn `Abbas, "Nauf Al-Bukah claims that Moses, the companion of Al-Khadir was not Moses (the prophet) of the children of Israel, but some other Moses." Ibn `Abbas said, "Allah's enemy (i.e. Nauf) has told a lie. Ubai bin Ka`b told us that the Prophet (ﷺ) said, 'Once Moses stood up and addressed Bani Israel. He was asked who was the most learned man amongst the people. He said, 'I.' Allah admonished him as he did not attribute absolute knowledge to Him (Allah). So, Allah said to him, 'Yes, at the junction of the two seas there is a Slave of Mine who is more learned than you.' Moses said, 'O my Lord! How can I meet him?' Allah said, 'Take a fish and put it in a large basket and you will find him at the place where you will lose the fish.' Moses took a fish and put it in a basket and proceeded along with his (servant) boy, Yusha` bin Noon, till they reached the rock where they laid their heads (i.e. lay down). Moses slept, and the fish, moving out of the basket, fell into the sea. It took its way into the sea (straight) as in a tunnel. Allah stopped the flow of water over the fish and it became like an arch (the Prophet (ﷺ) pointed out this arch with his hands). They travelled the rest of the night, and the next day Moses said to his boy (servant), 'Give us our food, for indeed, we have suffered much fatigue in this journey of ours.' Moses did not feel tired till he crossed that place which Allah had ordered him to seek after. His boy (servant) said to him, 'Do you know that when we were sitting near that rock, I forgot the fish, and none but Satan caused me to forget to tell (you) about it, and it took its course into the sea in an amazing way?.' So there was a path for the fish and that astonished them. Moses said, 'That was what we were seeking after.' So, both of them retraced their footsteps till they reached the rock. There they saw a man Lying covered with a garment. Moses greeted him and he replied saying, 'How do people greet each other in your land?' Moses said, 'I am Moses.' The man asked, 'Moses of Bani Israel?' Moses said, 'Yes, I have come to you so that you may teach me from those things which Allah has taught you.' He said, 'O Moses! I have some of the Knowledge of Allah which Allah has taught me, and which you do not know, while you have some of the Knowledge of Allah which Allah has taught you and which I do not know.' Moses asked, 'May I follow you?' He said, 'But you will not be able to remain patient with me for how can you be patient about things which you will not be able to understand?' (Moses said, 'You will find me, if Allah so will, truly patient, and I will not disobey you in aught.') So, both of them set out walking along the sea-shore, a boat passed by them and they asked the crew of the boat to take them on board. The crew recognized Al-Khadir and so they took them on board without fare. When they were on board the boat, a sparrow came and stood on the edge of the boat and dipped its beak once or twice into the sea. Al-Khadir said to Moses, 'O Moses! My knowledge and your knowledge have not decreased Allah's Knowledge except as much as this sparrow has decreased the water of the sea with its beak.' Then suddenly Al-Khadir took an adze and plucked a plank, and Moses did not notice it till he had plucked a plank with the adze. Moses said to him, 'What have you done? They took us on board charging us nothing; yet you I have intentionally made a hole in their boat so as to drown its passengers. Verily, you have done a dreadful thing.' Al-Khadir replied, 'Did I not tell you that you would not be able to remain patient with me?' Moses replied, 'Do not blame me for what I have forgotten, and do not be hard upon me for my fault.' So the first excuse of Moses was that he had forgotten. When they had left the sea, they passed by a boy playing with other boys. Al-Khadir took hold of the boys head and plucked it with his hand like this. (Sufyan, the sub narrator pointed with his fingertips as if he was plucking some fruit.) Moses said to him, "Have you killed an innocent person who has not killed any person? You have really done a horrible thing." Al-Khadir said, "Did I not tell you that you could not remain patient with me?' Moses said "If I ask you about anything after this, don't accompany me. You have received an excuse from me.' Then both of them went on till they came to some people of a village, and they asked its inhabitant for wood but they refused to entertain them as guests. Then they saw therein a wall which was just going to collapse (and Al Khadir repaired it just by touching it with his hands). (Sufyan, the sub-narrator, pointed with his hands, illustrating how Al-Khadir passed his hands over the wall upwards.) Moses said, "These are the people whom we have called on, but they neither gave us food, nor entertained us as guests, yet you have repaired their wall. If you had wished, you could have taken wages for it." Al-Khadir said, "This is the parting between you and me, and I shall tell you the explanation of those things on which you could not remain patient." The Prophet (ﷺ) added, "We wished that Moses could have remained patient by virtue of which Allah might have told us more about their story. (Sufyan the sub-narrator said that the Prophet (ﷺ) said, "May Allah bestow His Mercy on Moses! If he had remained patient, we would have been told further about their case.")


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)