৫৫০৫

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ

৫৫০৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই ইবনু মারইয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন। তিনি (খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতীক) শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযইয়াহ্ প্রথা রহিত করবেন (অর্থাৎ ইসালাম গ্রহণ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না) এবং মাল-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কেউই তা কবুল করবে না। সেই সময় একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা অপেক্ষা অধিক উত্তম হবে। অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি তোমরা চাও (তবে প্রমাণ হিসেবে) এ আয়াতটি পাঠ কর- (وَ اِنۡ مِّنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِهٖ قَبۡلَ مَوۡتِهٖ) “তাঁর [ঈসা (আঃ) এর] ওফাতের পূর্বে প্রতিটি আহলে কিতাব তার উপরে ঈমান আনবে"- (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১৫৯)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب نزُول عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ليوشكَنَّ أَن ينزلَ فِيكُم ابنُ مَرْيَم حكَمَاً عَدْلًا فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ حَتَّى تكون السَّجْدَة الْوَاحِدَة خيرامن الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا» . ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: فاقرؤا إِن شئْتم [وإِنْ من أهل الْكتاب إِلاّ ليُؤْمِنن بِهِ قبل مَوته] الْآيَة. مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (2222) و مسلم (242 / 155)، (389 و 390) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

ব্যাখ্যা: (فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ) অতঃপর তিনি খ্রিষ্টানদের ক্রশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন। শারহুস্ সুন্নাহ ও অন্যান্য গ্রন্থে এর অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে, তিনি খ্রিষ্টীয় মতবাদকে ধ্বংস করে দীনে হানীফের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
(وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ) এবং তিনি শুকর মেরে ফেলবেন। অর্থাৎ তিনি শুকর লালন পালন ও তা খাওয়া হারাম ঘোষণা করবেন এবং হত্যার নির্দেশ দিবেন।
শারহুস্ সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মূলত শুকর সম্পূর্ণভাবে অপবিত্র। যেহেতু ‘ঈসা আলায়হিস সালাম ইসালামী শারী'আহ মোতাবেক শুকরকে মেরে ফেলতে বলবেন আর শারী'আতে উপকারী বস্তু ধ্বংস করা বৈধ নয়। আর এটাও প্রমাণিত হয় যে, শুকর সম্পূর্ণভাবে হারাম হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনের সাথে কখনো তা বৈধ হতে পারে।
(وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ) আর তিনি আহলে কিতাবের উপর থেকে জিযইয়াহ্ বা কর প্রথা উঠিয়ে দিবেন এবং তাদেরকে ইসালামে দীক্ষিত করবেন। মূলত সত্য দীন ছাড়া আর কেউ তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে না। অথবা তিনি তাদের ওপর থেকে জিযইয়াহ্ বা কর উঠিয়ে দিবেন এ কারণে যে, তখন তা গ্রহণ করার মত কোন লোক থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যতার কারণে সম্পদের প্রতি কারো লোভ থাকবে না। এর প্রমাণ হচ্ছে। হাদীসের পরবর্তী বাক্য (وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ) অর্থাৎ সম্পদ এত অধিক হবে যে, তা কেউ গ্রহণ করবে না।

(حَتَّى تكون السَّجْدَة الْوَاحِدَة خيرامن الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا) এমনকি একটি সিজদাহ্ দেয়া দুনিয়া ও তার যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম হবে। কেননা তাতে ‘ইবাদতের মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জন নিহিত রয়েছে। এখানে সিজদাহ্ বলতে পরিপূর্ণ সালাতকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যেহেতু সালাতের মধ্যে সিজদাহও অন্তর্ভুক্ত। ‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাস্তবেই একটি সিজদার মূল্যায়ন এমনটি হবে। যেহেতু মানুষেরা আল্লাহর আদেশ পালনে অনুরাগী হবে এবং দুনিয়া থেকে বিরাগী হবে। তাই তাদের কাছে একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও তার যাবতীয় বস্তু হতে উত্তম হবে।।

অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, তোমরা চাইলে পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পড়ে দেখ, আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তার মৃত্যুর পূর্বে 'ঈসা আলায়হিস সালাম-এর প্রতি ঈমান আনবে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, ‘ঈসা আলায়হিস সালাম শেষ যামানায় এই দুনিয়ায় আগমন করবেন, যা রাসূলের বাণীর সত্যায়নকারী সাব্যস্ত করে। অর্থাৎ আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই “ঈসা আলায়হিস সালাম-এর মৃত্যুর পূর্বেই তার প্রতি ঈমান আনবে। তখন শুধু ইসলাম ধর্মই অবশিষ্ট থাকবে অন্য কোন ধর্ম থাকবে না। অথবা আয়াতের অর্থ এরূপও হতে পারে আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই প্রাণ হরণের পূর্বেই মুহাম্মাদ (সা.) -এর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু তখন তার ঈমান কোনই কাজে আসবে না। অথবা প্রত্যেক আহলে কিতাবই মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে কিন্তু তা কোনই কাজে আসবে না। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর মতই অধিক গ্রহণযোগ্য।  (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ৩৪৪৮; শারহুন নাবাবী ২য় খণ্ড, হা. ২৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ