ইমেইল পাঠাতে লগইন করুন

স্পাম প্রতিরোধে এই ফিচারটি শুধুমাত্র লগইনকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য।

লগইন সাইনআপ
১৯৬৫

পরিচ্ছেদঃ

১৯৬৫। খালীফার মৃত্যুর সময় মতভেদ হবে। এ সময় এক ব্যক্তি মদীনা হতে বের হয়ে মক্কায় পালিয়ে যাবে। তখন তার নিকট মক্কাবাসীরা এসে তাকে বের করবে অথচ সে তা অপছন্দ করবে। রুকন (হাজরে আসওয়াদ) এবং মাকামু ইবরাহীমের মাঝে তার হাতে তারা বাইয়াত করবে। অতঃপর তাদের নিকট শাম দেশ হতে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করা হবে, অতঃপর বাইদা নামক স্থানে তাদেরকে ভূমিধ্বসের দ্বারা ধ্বংস করা হবে। লোকেরা যখন তা দেখবে তখন সেই ব্যক্তির নিকট শামের আবদাল এবং ইরাকের একটি দল এসে তার হাতে বাইয়াত করবে। এরপর কুরাইশদের থেকে এক ব্যক্তির উদয় হবে যার মামারা হবে কালব গোত্রের। এ সময় মাক্কী ব্যক্তি তার নিকট একটি দল প্রেরণ করবে অতঃপর এ দল তাদের বিপক্ষে বিজয় লাভ করবে। এটা কালবের জন্য প্রেরিত দল। সেই ব্যক্তি বদ নসীব যে কালবের গানীমাতে উপস্থিত থাকবে না। এরপর তিনি সম্পদ বণ্টন করবেন এবং লোকদের মধ্যে তাদের নবীর সুন্নাত বাস্তবায়ন করবেন এবং ইসলাম যমীনে তার স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি নয় অথবা সাত বছর অবস্থান করবেন।

হাদীসটি দুর্বল।

এটিকে ইমাম আহমাদ (৬/৩১৬), আবু দাউদ (৪২৮৬) এবং তাদের দু’জনের সূত্র হতে ইবনু আসাকির (১/২৮০) হিশাম হতে, তিনি কাতাদাহ্ হতে, তিনি আবুল খালীল হতে, তিনি তার এক সাথী হতে, তিনি উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছি নাম না-নেয়া আবু খালীলের সাথী ছাড়া সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তিনি মাজহুল।

হাদীসটিকে আবু দাউদ ও ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (৯৬১৩) আবুল আওয়াম সূত্রে কাতাদাহ হতে, তিনি আবুল খালীল হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারেস হতে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।

ত্ববারানী বলেনঃ এ হাদীসকে কাতাদাহ হতে ইমরান ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদে নাম না-নেয়া মাজহুল ব্যক্তির নাম নেয়া হয়েছে। তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারেস ইবনু নাওফাল আল-মাদানী, তিনি নির্ভরযোগ্য। তার দ্বারা বুখারী এবং মুসলিমে দলীল গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আবুল আওয়াম রয়েছেন তিনি হচ্ছেন ইমরান ইবনু দাওয়ার কাত্তান। তার হেফযের দিক দিয়ে তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে।

ইমাম বুখারী বলেন তিনি সত্যবাদী সন্দেহপোষণকারী। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি বহু বিরোধিতাকারী এবং সন্দেহকারী ছিলেন।

তবে হাফিয ইবনু হাজার "আততাকরীব" গ্রন্থে ইমাম বুখারীর কথার উপর নির্ভর করেছেন। এরূপ বর্ণনাকারী কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিপক্ষে বৃদ্ধি করে বর্ণনায় হৃদয় পরিতৃপ্ত হয় না।

হাদীসটিকে হাকিম (৪/৪৩১) তার সূত্রেই নিম্নের বাক্যে বর্ণনা করেছেনঃ

“আমার উম্মাতের এক ব্যক্তির নিকট রুকন এবং মাকামু ইবরাহীমের মাঝে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যায় বাইয়াত করবে। তার নিকট ইরাকী একটি দল আর শামের আবদাল আসবে। অতঃপর তার নিকট শামের সৈন্যদল আসবে। তারা যখন বাইদা নামক স্থানে পৌছবে তখন ভূমিধ্বসের মাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর কুরাইশের এক ব্যক্তি তার উদ্দেশ্যে বের হবে যার মামারা হবে কালব গোত্রের, তাদেরকে আল্লাহ্‌ তা’য়ালা পরাজিত করবেন। তিনি বলেনঃ বলা হতো, হতাশ ব্যক্তি সেদিন কালবের গানীমাত হতে নিরাশ হবে।

হাকিম হাদীসটির ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আর হাফিয যাহাবী বলেছেনঃ আবু আওয়াম ইমরানকে একাধিক ব্যক্তি দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একজন খারেজী ছিলেন।

আমি (আলবানী) হাদীসটিকে “মাওয়ারিদুয যমাআন” গ্রন্থে (১৮৮১) দেখেছি আবূ ইয়ালা (৪/১৬৫১) সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনু রিফায়াহ হতে, তিনি ওয়াহাব ইবনু জারীর হতে, তিনি হিশাম ইবনু আবূ আবদুল্লাহ হতে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি সালেহ ইবনু আবুল খালীল হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন।

ইবনু রিফায়াহ ছাড়া এর সনদের সকল বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাকারী। তিনি হচ্ছেন আবূ হিশাম রিফা’ঈ আর তিনি দুর্বল। তিনি সনদের মধ্যে মুজাহিদকে বৃদ্ধি করেছেন, তার এ বৃদ্ধিকরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর আমি তার মুতাবায়াতকারী পেয়েছি। এটিকে ত্ববারানী “আলআওসাত” গ্রন্থে (১১৬৪) ওবাইদুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি মামার হতে, তিনি কাতাদাহ্ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন। ত্ববারানী বলেনঃ ওবাইদুল্লাহ ইবনু আমর বলেনঃ আমি এটিকে লাইসের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ আমাকে এটি মুজাহিদ বর্ণনা করেছেন।

ত্ববারানী আরো বলেনঃ মামার হতে এ হাদীসটিকে একমাত্র ওবাইদুল্লাই বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি নির্ভরযোগ্য অন্যান্য বর্ণনাকারীদের ন্যায়। কিন্তু তারা তার সনদে কাতাদার ক্ষেত্রে চারভাগে মতভেদ করেছেনঃ

১। কাতাদা আবুল খালীল হতে, তিনি তার সাথী হতে, তিনি উম্মু সালামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এটি হচ্ছে তার থেকে হিশাম দাসতুওয়াঈর বর্ণনা।

২। তার মতই। কিন্তু তার সাথীর নাম নিয়েছেন (আব্দুল্লাহ ইবনু হারেস)।

৩। তার মতই। তবে তিনি মুজাহিদ হিসেবে তার নাম উল্লেখ করেছেন।

৪। তার মতই তবে তিনি কাতাদা আর মুজাহিদের মাঝে আবুল খালীলকে উল্লেখ করেননি।

এ মতভেদ হচ্ছে কঠিন ধরনের। এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিয়ে একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। প্রথম তিনটি সূত্র এ মর্মে এক যে, কাতাদা আর উম্মু সালামার মাঝে আরো দু’জন বর্ণনাকারী রয়েছেন। বিপরীত হচ্ছে চতুর্থ সূত্রের ক্ষেত্রে। এ সূত্রে তাদের দু’জনের মাঝে শুধুমাত্র একজন বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে চতুর্থ সূত্রটি অগ্রাধিকারযোগ্য নয় তিন সূত্র বিরোধী হওয়ার কারণে।

এখন দৃষ্টি দেয়া দরকার তিনটি সূত্রের দিকে। তৃতীয় সূত্রটির অবস্থা খুবই স্পষ্ট যে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়, বর্ণনাকারী ইবনু রিফায়াহ্ দুর্বল হওয়ার কারণে। আর দ্বিতীয় সূত্রটিও তৃতীয়টির নিকটবর্তী এর বর্ণনাকারী ইমরানের ক্রটিপূর্ণ হেফয শক্তির কারণে। অবশিষ্ট থাকছে প্রথম সূত্রটি, এটিই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সূত্র। কারণ এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আবুল খালীলের নাম না-নেয়া সাথী, তিনিই এর সূত্রের সমস্যা ছিলেন।

হাদীসটি অন্য সূত্রে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) প্রমুখ হতে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে যার মধ্যে বাইয়াত, আবদাল ও কালব গোত্রের প্রেরিত দলের কথা নেই ..। এটিকে "সিলসিলাহ সহীহাহ" গ্রন্থে (১৯২৪) তাখরীজ করা হয়েছে।

يكون اختلاف عند موت خليفة فيخرج رجل من المدينة هاربا إلى مكة، فيأتيه ناس من أهل مكة فيخرجونه وهو كاره، فيبايعونه بين الركن والمقام، فيبعث إليهم جيش من الشام فيخسف بهم في البيداء، فإذا رأى الناس ذلك أتته أبدال الشام، وعصائب العراق فيبايعونه، ثم ينشأ رجل من قريش أخواله كلب، فيبعث إليه المكي بعثا فيظهرون عليهم، وذلك بعث كلب، والخيبة لمن لم يشهد غنيمة كلب، فيقسم المال، ويعمل في الناس سنة نبيهم صلى الله عليه وسلم، ويلقي الإسلام بجرانه إلى الأرض، يمكث تسع سنين أوسبع ضعيف - رواه أحمد (6 / 316) وأبو داود (4286) ومن طريقهما ابن عساكر (1 / 280) من طريق هشام عن قتادة عن أبي الخليل عن صاحب له عن أم سلمة مرفوعا. قلت: ورجاله كلهم ثقات غير صاحب أبي خليل، ولم يسم، فهو مجهول. ثم أخرجه أبو داود والطبراني في " الأوسط " (9613) من طريق أبي العوام قال: أخبرنا قتادة عن أبي الخليل عن عبد الله بن الحارث عن أم سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذا. وقال الطبراني: " لم يروهذا الحديث عن قتادة إلا عمران ". قلت: فسمى الرجل المجهول " عبد الله بن الحارث "، وهو ابن نوفل المدني، وهو ثقة محتج به في الصحيحين، لكن في الطريق إليه أبو العوام، وهو عمران بن داور القطان، وفيه ضعف من قبل حفظه، قال البخاري: " صدوق يهم ". وقال الدارقطني: " كان كثير المخالفة والوهم ". واعتمد الحافظ في " التقريب " قول البخاري فيه، فزيادته على الثقة مما لا تطمئن النفس لها، وقد أخرجه من طريقه الحاكم (4 / 431) ولفظه: " يبايع لرجل من أمتي بين الركن والمقام كعدة أهل بدر، فيأتيه عصب العراق، وأبدال الشام، فيأتيه جيش من الشام، حتى إذا كانوا بالبيداء خسف بهم، ثم يسير إليه رجل من قريش أخواله كلب فيهزمهم الله، قال: وكان يقال: إن الخائب يومئذ من خاب من غنيمة كلب ". وسكت عليه الحاكم، وقال الذهبي: " أبو العوام عمران ضعفه غير واحد، وكان خارجيا ". ثم رأيت الحديث في " موارد الظمآن " (1881) من طريق أبي يعلى (4 / 1651) عن محمد بن يزيد بن رفاعة: حدثنا وهب بن جرير حدثنا هشام بن أبي عبد الله عن قتادة عن صالح أبي الخليل عن مجاهد عن أم سلمة به. وهذا إسناد رجاله ثقات رجال الشيخين غير ابن رفاعة وهو أبو هشام الرفاعي، فإنه ضعيف، وقد زاد في السند مجاهدا، فلا يعتد بزيادته. ثم وجدت له متابعا أخرجه الطبراني في " الأوسط " (1164) من طريق عبيد الله بن عمرو عن معمر عن قتادة عن مجاهد به. وقال: " قال عبيد الله بن عمرو: فحدثت به ليثا، فقال: حدثني به مجاهد ". وقال الطبراني: " لم يروهذا الحديث عن معمر إلا عبيد الله ". قلت: وهو ثقة كسائر رجاله. ولكنهم قد اختلفوا في إسناده على قتادة على وجوه أربعة الأول: قتادة عن أبي الخليل عن صاحب له عن أم سلمة. وهو رواية هشام الدستوائي عنه. الثاني: مثله إلا أنه سمى الصاحب بـ (عبد الله بن الحارث) الثالث: مثله إلا أنه سماه (مجاهدا) الرابع: مثله إلا أنه أسقط بين قتادة ومجاهد أبا الخليل وهذا اختلاف شديد، فلابد من النظر والترجيح، ومن الظاهر أن الوجوه الثلاثة الأولى متفقة على أن بين قتادة وأم سلمة واسطتين، بخلاف الرابع فبينهما واسطة فقط، فهو بهذا الاعتبار مرجوح لمخالفته لرواية الجماعة. ثم أمعنا النظر في الوجوه الثلاثة، فمن الواضح جدا أن الثالث منهم ساقط الاعتبار لضعف ابن رفاعة. والوجه الثاني قريب منه لسوء حفظ عمران كما سبق، فبقي الوجه الأول هو الراجح من بين جميع الوجوه، ولما كان مداره على صاحب أبي الخليل غير مسمى في طريق معتبر سالم من علة كان هو العلة. والله أعلم. وقد جاء الحديث من طرق أخرى عن أم سلمة وغيرها مختصرا ليس فيه قصة البيعة والأبدال ولا بعث كلب إلخ، وهو مخرج في " الصحيحة " (1924)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ