পরিচ্ছেদঃ
১৯৫৭। আল্লাহ্ তা’য়ালা বান্দাকে যা কিছুর অনুমতি দিয়েছেন তার মধ্যে দু’রাক’য়াত সালাতের চেয়ে উত্তম কিছু নেই সে যে দু’রাক’য়াত সালাত আদায় করে থাকে। সদাচরণ বান্দার মাথার উপর নিক্ষেপ করা হয় যে পর্যন্ত সে সালাতের মধ্যে থাকে। বান্দার নিকট হতে যা বের হয় (অর্থাৎ কুরআন) এর মত কোন কিছুর দ্বারাই বান্দারা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে না।
হাদীসটি দুর্বল।
এটিকে তিরমিযী (২/১৫০), আহমাদ (৫/২৬৮), ইবনু নাসর “আসসালাত” গ্রন্থে (কাফ ২/৩০) ও আবু বাকর কালাবাযী "মিফতাহুল মায়ানী" গ্রন্থে (২/১৫৬) বাকর ইবনু খুনাইস সূত্রে লাইস ইবনু আবূ সুলাইম হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আরতাত হতে, তিনি আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি গারীব। একমাত্র আমরা এটিকে এ সূত্রেই চিনি। আর বাকর ইবনু খুনাইসের ইবনুল মুবারাক সমালোচনা করেছেন এবং তার শেষ জীবনে তাকে তিনি ত্যাগ করেছেন। এ হাদীসটিকে বর্ণনা করা হয়েছে যায়েদ ইবনু আরতাত হতে, তিনি জুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ অতঃপর তিনি তার সে সনদে জুবায়ের ইবনু নুফায়ের পর্যন্ত মুরসাল মারফু’ হিসেবে শুধুমাত্র শেষ বাক্যটিকে নিম্নের ভাষায় উল্লেখ করেছেনঃ
"তোমরা আল্লাহর নিকট কোন কিছু নিয়েই ফিরে যেতে পারবে না এর চেয়ে উত্তম ...।"
হাদীসটিকে হাইসামী "আলমাজমা" গ্রন্থে (২/২৫০) সম্পূর্ণরূপে জুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে মুরসাল মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটিকে ত্ববারানী “আলকাবীর” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে লাইস ইবনু আবূ সুলাইম রয়েছেন আর তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।
হাদীসটির শেষ বাক্যটিকে ইবনু নাসর "কিয়ামুল লাইল" গ্রন্থে (পৃঃ ৭১) শাইখ আহমাদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। যার মধ্যে হাশেম ইবনুল কাসেম রয়েছেন, তিনি বাকর ইবনু খুনাইস হতে বর্ণনা করেছেন।
আর মুরসাল হাদিসটিকে তিরমিযী আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি মুয়াবিয়াহ হতে, তিনি আলা ইবনুল হারেস হতে, তিনি যায়েদ ইবনু আরতাত হতে বর্ণনা করেছেন।
এটি মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও এর সনদে আলী ইবনুল হারেস রয়েছেন। আর তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল।
এটিকে আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ মওসূল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার সনদে মুয়াবিয়্যাহ ইবনু সালেহ হতে, তিনি জুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে, তিনি উকবাহ ইবনু আমের জুহানী (রাঃ) হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এটিকে হাকিম (২/৪৪১) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এর সনদটি সহীহ। আর যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এর সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু সালেহ রয়েছেন, তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। যখন তিনি এককভাবে বর্ণনা করেন তখন তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। অতএব তিনি বিরোধিতা করে বর্ণনা করলে কিভাবে তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে? কিভাবে তিনি গ্রহণযোগ্য হবেন যখন তিনি নির্ভরযোগ্য হাফেয ইবনু মাহদীর বিরোধিতা করে বর্ণনা করেন। আর তিনি এটিকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি দেখেছেন। অতএব এটি সহীহ হয় কিভাবে? বিশেষ করে মুরসাল এবং মওসূল উভয় ক্ষেত্রেই এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বর্ণনাকারী আলা। আর তার সম্পর্কে আপনারা অবগত হয়েছেন। ইমাম বুখারী “খালকু আফয়ালিল ইবাদ” গ্রন্থে (পৃঃ ৯১) হাদীসটিকে মুয়াল্লাক হিসেবে উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়, মুরসাল এবং সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে।
অতঃপর আমি দেখেছি হাদীসটিকে হাকিম অন্য স্থানে (১/৫৫৫), আর তার থেকে বাইহাকী “আলআসমা” গ্রন্থে (পৃঃ ২৩৬) সালামাহ্ ইবনু শাবীব সূত্রে আহমাদ ইবনু হাম্বাল হতে, তিনি আব্দুর রহমান মাহদী হতে তার পূর্বোক্ত সনদে, তিনি জুবায়ের ইবনু নুফায়ের হতে, তিনি বৃদ্ধি করেঃ আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হাকিম বলেনঃ এর সনদটি সহীহ। আর যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদটি যদি সালামাহ ইবনু শাবীব পর্যন্ত সহীহ হয়, তাহলে এর সমস্যা হচ্ছে শুধুমাত্র ’আলা ইবনুল হারেস। আল্লাহই বেশী জানেন।
আমি (আলবানী) এ সমস্যা হতে অজ্ঞাত থাকায় হাদীসটিকে “সিলসিলাহ সহীহাহ” গ্রন্থে (৯৬১) উল্লেখ করেছিলাম এবং আমি যেভাবে এখানে উল্লেখ করেছি সেভাবেই সেখানে উল্লেখ করেছি উক্ত সমস্যা সম্পর্কে অবগত না হওয়ার কারণে। (رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا)
ما أذن الله لعبد في شيء أفضل من ركعتين يصليهما، وإن البر ليذر على رأس العبد ما دام في صلاته، وما تقرب العباد إلى الله بمثل ما خرج منه - يعني القرآن ضعيف - أخرجه الترمذي (2 / 150) وأحمد (5 / 268) وابن نصر في " الصلاة " (ق 30 / 2) وأبو بكر الكلاباذي في " مفتاح المعاني " (156 / 2) من طريق بكر بن خنيس عن ليث بن أبي سليم عن زيد بن أرطاة عن أبي أمامة مرفوعا. وقال الترمذي: " حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وبكر بن خنيس قد تكلم فيه ابن المبارك، وتركه في آخر عمره. وقد روي هذا الحديث عن زيد بن أرطاة عن جبير بن نفير عن النبي صلى الله عليه وسلم ". قلت: ثم ساق إسناده بذلك إلى جبير بن نفير مرسلا مرفوعا بالجملة الأخيرة فقط بلفظ: " إنكم لن ترجعوا إلى الله بشيء أفضل ... ". وقد أورده الهيثمي في " المجمع " (2 / 250) بتمامه عن جبير بن نفير (وفي الأصل نوفل وهو تصحيف) مرسلا مرفوعا. وقال: " رواه الطبراني في " الكبير " وفيه ليث بن أبي سليم وفيه كلام ". والحديث روى الجملة الأخيرة منه ابن نصر في " قيام الليل " (ص 71) من طريق شيخ أحمد فيه هاشم بن القاسم: حدثنا بكر بن خنيس به. والحديث المرسل أخرجه الترمذي من طريق عبد الرحمن بن مهدي عن معاوية عن العلاء ابن الحارث عن زيد بن أرطاة به. وهذا مع إرساله فيه العلاء بن الحارث، وكان قد اختلط. وقد وصله عبد الله بن صالح، فقال: حدثني معاوية بن صالح بإسناده عن جبير بن نفير عن عقبة بن عامر الجهني مرفوعا به. أخرجه الحاكم (2 / 441) وقال: " صحيح الإسناد ". ووافقه الذهبي. وفيه أن عبد الله بن صالح فيه ضعف، فلا يحتج به إذا تفرد فكيف إذا خالف؟ فكيف إذا كان المخالف الحافظ الثقة ابن مهدي، فقد أرسله كما رأيت، فأنى له الصحة؟ ولاسيما أن مداره موصولا ومرسلا على العلاء، وقد عرفت حاله، وقد قال الإمام البخاري في " خلق أفعال العباد " (ص 91) بعد أن ذكر الحديث معلقا: " لا يصح، لإرساله وانقطاعه ثم رأيت الحاكم قد أخرجه في مكان آخر (1 / 555) وعنه البيهقي في " الأسماء " (ص 236) من طريق سلمة بن شبيب: حدثني أحمد بن حنبل: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي بإسناده المتقدم عن جبير بن نفير، فزاد: عن أبي ذر الغفاري مرفوعا به. وقال " صحيح الإسناد". ووافقه الذهبي! قلت: وهذا إن صح السند إلى سلمة بن شبيب علته العلاء بن الحارث فقط. والله أعلم. هذا وقد كنت غفلت عن هذه العلة فأوردت الحديث في " الصحيحة " (961) وخرجته هناك بنحومما هنا دون أن أتنبه لها، فمن وقف على ذلك فليضرب عليه." رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا