পরিচ্ছেদঃ
১৯৩৫। খাতনা হচ্ছে পুরুষদের জন্য সুন্নাত, মহিলাদের জন্য মর্যাদার।
হাদিসটি দুর্বল।
এটিকে আবুল মালীহের পিতা উসামাহ হুযালী, শাদাদ ইবনু আউস, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস হতে বর্ণনা করা হয়েছে।
১। উসমাহ ইবনু হুযালী হতে বর্ণিত হাদীসঃ আব্বাদ ইবনুল আওয়াম এটিকে হাজ্জাজ হতে, তিনি আবুল মালীহ ইবনু উসামাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ...।
এটিকে আহমাদ (৫/৭৫) বর্ণনা করেছেন।
এ সনদটির বর্ণনাকারীগণ হাজ্জাজ ছাড়া সকলেই নির্ভরযোগ্য। তিনি হচ্ছেন ইবনু আরত্বাত, তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী আর তিনি আন আন করে বর্ণনা করেছেন। তার সনদে মতভেদও করা হয়েছে। তার থেকে আব্বাদ এভাবে বর্ণনা করেছেন, আর হাফস ইবনু গিয়াস তার মুতাবা’য়াত করে হাজ্জাজ হতে বর্ণনা করেছেন।
এ মুতাবা’য়াতটিকে বাইহাকী (৮/৩২৫) ইবরাহীম ইবনু হাজ্জাজ সূত্রে হাফস হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাতের দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। তাদের দু’জনেরই বিরোধিতা করে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযায়েল অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে হাফস হতে ইবরাহীমের বিরোধিতা করা হয়েছে। দেখুন সম্মুখে আগত সনদে।
২। শাদ্দাদের হাদীস। এটিকে ইবনু ফুযায়েল বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনু আরত্বাত হতে, তিনি আবুল মালীহ হতে, তিনি ...।
এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৭১১২) ও ইবনু আসাকির “তারীখু দেমাশক” গ্রন্থে (৭/২৬৩/২) বর্ণনা করেছেন। আর আরেম আবুন নু’মানের বর্ণনায় হাফস ইবনু গিয়াস তার মুতাবায়াত করেছেনঃ অর্থাৎ আরেম হতে, তিনি হাফস ইবনু গিয়াস হতে, তিনি হাজ্জাজ হতে ... তিনি শাদ্দাদ হতে বর্ণনা করেছেন। এটিকে ত্ববারানী (৭১১৩) বর্ণনা করেছেন।
আর আব্দুল ওয়াহীদ ইবনু যিয়াদ তাদের সবার বিরোধিতা করে হাজ্জাজ হতে, তিনি মাকহূল হতে, তিনি আবূ আইউব হতে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এটিকে বাইহাকী বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি মুনকাতি (এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে)।
ইবনু আবী হাতেম “আলইলাল” গ্রন্থে (২/২৪৭) হাদীসটিকে হাফস এবং আব্দুল অহেদের সূত্রে উল্লেখ করার পর বলেনঃ আমার পিতা বলেনঃ আমি ধারণা করছি যে, মাকহুলের হাদীসটি ভুল। এটিকে নুমান ইবনুল মুনযির মাকহুল হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ...।
আমি (আলবানী) বলছিঃ সঠিক হচ্ছে মুরসাল হওয়া। মোটকথা হাদীসটি হাজ্জাজের সূত্রে দুর্বল, তার আন আন করে বর্ণনা করার এবং তার সনদে ইযতিরাব হওয়ার কারণে। তবে কখনও কখনও তাকে মাকহুলের মুরসাল বর্ণনা শক্তিশালী করতে পারে। কারণ নুমান ইবনুল মুনযির সত্যবাদী।
৩। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস। অলীদ ইবনুল আলীদ এটিকে ইবনু সাওবান হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আজলান হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন ...।
এটিকে ত্ববারানী “আলমুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১২৮/১) (১১৫৯০) ও বাইহাকী (৮/৩২৪-৩২৫) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ সনদটি দুর্বল। নিরাপদ হচ্ছে এই যে, এটি মওকুফ।
আমি (আলবানী) বলছি অলীদ ইবনু অলীদ ছাড়া এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি হচ্ছেন আনাসী কালানেসী দেমাশকী। ইবনু আবী হাতেম (৪/২/১৯) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তিনি সত্যবাদী, তার হাদীসে সমস্যা নেই। তার হাদীস সহীহ।
আর যাহাবী “আলমীযান” গ্রন্থে বলেনঃ আবূ হাতেম বলেনঃ তিনি সত্যবাদী। আর দারাকুতনী প্রমুখ বলেনঃ তিনি মাতরূক। হাফিয ইবনু হাজার “আললিসান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হচ্ছেন অলীদ ইবনু মূসা। আমার ধারণা মূসা হচ্ছেন তার দাদা। তিনি একই ব্যক্তি, হাফিয যাহাবী তাকে দু’জন করে ফেলেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয যাহাবী- ইবনু মূসা সম্পর্কে বলেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। তাকে আবূ হাতিম শক্তিশালী আখ্যা দিয়েছেন। আর অন্যরা বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। আর ওকাইলী ও ইবনু হিব্বান তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তার বানোয়াট হাদীস রয়েছে।
হাফিয ইবনু হাজার আবু হাতিমের পূর্বোক্ত কথার পরক্ষণেই বলেনঃ হাকিম বলেনঃ তিনি আব্দুর রহমান ইবনু সাবেত ইবনু সাওবান হতে কতিপয় বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাদের দু’জনের কথার মধ্যে বড় ধরনের বৈপরিত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট তাদের দু’জনের কার কথা সঠিকের নিকটবর্তী তা স্পষ্ট হচ্ছে না। এ কারণে তার হাদীস দ্বারা শাহেদ গ্রহণ করাটা সম্ভব হচ্ছে না। আর এটিকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। এ মওকূফটিকে ত্ববারানী "আলকাবীর" গ্রন্থে (১২০০৯) খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদ সূত্রে আব্দুল গাফূর হতে, তিনি আবূ হাশেম রুমানী হতে, তিনি ইকরিমাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।
কিন্তু এ সনদটি খুবই দুর্বল। কারণ আব্দুল গফুর হচ্ছেন আবুস সবাহ আনসারী। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জালকারীদের একজন ছিলেন। ইমাম বুখারী বলেনঃ তাকে তারা (মুহাদ্দিসগণ) ত্যাগ করেছেন।
আর খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদকে আমি চিনি না। তিনি সেই খালাফ ইবনু আব্দুল হামীদ সারাখসী নন যাকে “আলমীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এ সারাখসী তার চেয়ে উপর স্তরের।
এ মওকুফটির আরেকটি সূত্র রয়েছে যেটির অবস্থা এটির চেয়ে ভালো। এটিকেও ত্ববারানী (১২৮২৮) ও বাইহাকী (৮/৩২৫) সাঈদ ইবনু বাশীর ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ননা করেছেন। সাঈদ ইবনু বাশীর ছাড়া এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি দুর্বল, যেমনটি হাফিয ইবনু হাজারের “আততাকরীব” গ্রন্থে এসেছে।
মোটকথাঃ হাদীসটি মারফু এবং মওকুফ উভয়ভাবেই দুর্বল। তবে মওকুফ হিসেবে বেশী ভালো। এই হচ্ছে বাইহাকীর পূর্বোক্ত কথার ভাবার্থঃ মওকুফ হিসেবে নিরাপদ।
পূর্বোক্ত ব্যাখ্যা থেকে জানা যাচ্ছে যে, “আলমিরকাত” গ্রন্থে (৪/৪৫৬) যে বলা হয়েছে, এটিকে ইমাম আহমাদ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তার এ কথা ভালো (হাসান) নয়।
الختان سنة للرجال، مكرمة للنساء ضعيف - روي من حديث أسامة الهذلي والد أبي المليح وشداد بن أوس وعبد الله بن عباس 1 - أما حديث أسامة الهذلي، فيرويه عباد بن العوام عن الحجاج عن أبي المليح بن أسامة عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره. أخرجه أحمد (5 / 75) . وهذا إسناد رجاله ثقات، غير أن الحجاج وهو ابن أرطاة مدلس وقد عنعنه، وقد اختلف عليه في إسناده فرواه عباد هكذا، وتابعه حفص بن غياث عن الحجاج به. أخرجه البيهقي (8 / 325) من طريق إبراهيم بن الحجاج عن حفص به. وقال البيهقي: " الحجاج بن أرطاة لا يحتج به ". وخالفهما محمد بن فضيل فرواه على وجه آخر، لكن خولف إبراهيم فيه عن حفص، وهو الآتي 2 - وأما حديث شداد فيرويه ابن فضيل عن الحجاج بن أرطاة عن أبي المليح عنه به. أخرجه الطبراني في " المعجم الكبير " (7112) وابن عساكر في " تاريخ دمشق " (7 / 263 / 2) وتابعه حفص بن غياث برواية عارم أبي النعمان: حدثنا حفص بن غياث عن حجاج به. رواه الطبراني (7113) وخالفهم جميعا عبد الواحد بن زياد، فقال: حدثنا الحجاج عن مكحول عن أبي أيوب مرفوعا به. أخرجه البيهقي وقال: " وهو منقطع ". وقال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 247) بعد أن ذكره من طريق حفص وعبد الواحد: " قال أبي: الذي أتوهم أن حديث مكحول خطأ، وقد رواه النعمان بن المنذر عن مكحول قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الختان سنة ... ". قلت: يعني أن الصواب مرسل. وبالجملة فالحديث من طريق الحجاج ضعيف لعنعنته واضطرابه في إسناده، لكن قد يقويه مرسل مكحول، فإن النعمان بن المنذر صدوق 3 - وأما حديث ابن عباس، فيرويه الوليد بن الوليد: أخبرنا ابن ثوبان عن محمد بن عجلان عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكره. أخرجه الطبراني في " المعجم الكبير " (3 / 128 / 1) أو (11590) والبيهقي (8 / 324 - 325) وقال: " هذا إسناد ضعيف، والمحفوظ موقوف ". قلت: رجاله موثقون، غير الوليد بن الوليد، وهو العنسي القلانسي الدمشقي، قال ابن أبي حاتم: (4 / 2 / 19) : " سألت أبي عنه؟ فقال: هو صدوق، ما بحديثه بأس، حديثه صحيح ". وقال الذهبي في " الميزان ": " قال أبو حاتم: صدوق، وقال الدارقطني وغيره: متروك ". وقال الحافظ في " اللسان ": قلت: هو الوليد بن موسى، وموسى أظنه جده، فهو رجل واحد جعلهما الذهبي اثنين ". قلت: وقال الذهبي في ابن موسى: " قال الدارقطني: منكر الحديث. وقواه أبو حاتم. وقال غيره: متروك. ووهاه العقيلي وابن حبان. له حديث موضوع ". قال الحافظ عقب كلام أبي حاتم المتقدم: " وقال الحاكم: روى عن عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان أحاديث موضوعة. وبين الكلامين تباين عظيم ". قلت: ولم يترجح عندي الأقرب إلى الصواب منهما، ولذلك فلم يستقر الرأي على الاستشهاد بحديثه، ولاسيما أنه روي موقوفا، فأخرجه الطبراني في " الكبير " (12009) من طريق خلف بن عبد الحميد: أخبرنا عبد الغفور عن أبي هاشم الرماني عن عكرمة عن ابن عباس أنه قال: فذكره موقوفا عليه. ولكنه إسناد واه جدا، عبد الغفور هذا هو أبو الصباح الأنصاري، قال ابن حبان: " كان ممن يضع الحديث ". وقال البخاري: " تركوه ". وخلف بن عبد الحميد. لم أعرفه، وليس هو خلف بن عبد الحميد السرخسي الذي في " الميزان "، فإن السرخسي أعلى طبقة منه. وله طريق أخرى موقوفا أيضا خير من هذه، أخرجه الطبراني أيضا (12828) والبيهقي (8 / 325) عن سعيد بن بشير عن قتادة عن جابر بن زيد عن ابن عباس به. ورجاله ثقات غير سعيد بن بشير، وهو ضعيف كما في " التقريب ". وجملة القول: أن الحديث ضعيف مرفوعا وموقوفا، والموقوف أصح، وهو معنى قول البيهقي المتقدم: " والمحفوظ موقوف ". (تنبيه) نقل صاحبنا الشيخ حمدي عبد المجيد السلفي - بارك الله في جهو ده في خدمته لكتب السنة - عن الحافظ ابن الملقن في " البدر المنير " حول هذا الحديث وطرقه منها، حديث ابن عباس هذا الثالث المرفوع من طريق الوليد بن الوليد، عزاه للطبراني والبيهقي، لكن وقع فيما نقله عنه: الوليد بن مسلم. فلا أدري أهكذا رآه صاحبنا في " البدر "، أم هو أخطأ عليه؟ فليس لابن مسلم ذكر في هذا الحديث، ومن العجيب أنه عزاه إلى نسخة الطبراني المخطوطة المحفوظة في المكتبة الظاهرية بمجلدتها وورقتها ووجهها كما تقدم مني، ولم يعزه إلى المطبوعة التي حققها هو! وكذلك ذكر المجلد والصفحة المتقدمة لسنن البيهقي، ومع ذلك وقع هذا الخطأ منه. والمعصوم من عصمه الله تعالى. ومما سبق تعلم أن ما في " المرقاة " (4 / 456): رواه أحمد بسند حسن غير حسن