ইমেইল পাঠাতে লগইন করুন

স্পাম প্রতিরোধে এই ফিচারটি শুধুমাত্র লগইনকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য।

লগইন সাইনআপ
৩২৬৯

পরিচ্ছেদঃ ১০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত

৩২৬৯-[৩২] আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, এমন সময়ে জনৈকা রমণী এসে বলল, যখন আমি সালাত আদায় করি তখন আমার স্বামী সফ্ওয়ান ইবনু মু’আত্ত্বল আমাকে প্রহার করে, আমি যখন সওম পালন করি তখন সওম ভেঙ্গে দেয় এবং তিনি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত আদায় করে না। রাবী বলেন, সফ্ওয়ানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (অভিযোগের সত্যতা) তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তার অভিযোগ হলো সালাত আদায়কালে আমি তাকে প্রহার করি- এর উত্তর হলো, সে সালাতে দু’টি (বা দীর্ঘ) সূরা পাঠ করে, যা আমি তাকে নিষেধ করেছি।

রাবী বলেন, এটা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি সূরাই তো লোকেদের জন্য যথেষ্ট। আর তার (পরবর্তী) অভিযোগ- আমি তাকে সওম ভাঙ্গতে বাধ্য করি। অথচ (একাধারে সওম পালনে) এত ধৈর্য ধারণ করতে পারি না, আমি তো একজন যুবক পুরুষ। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো স্ত্রীলোক যেন স্বামীর অনুমতি ব্যতীত (নফল) সওম পালন না করে। আর তার (শেষ) অভিযোগ- সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত আদায় করি না। এর কারণ হলো, আমাদের পরিবারের লোকেরা দীর্ঘ রাত পর্যন্ত জেগে (জমির পানি নিষ্কাশনে লিপ্ত) থাকার দরুন প্রায়ই সূর্যোদয়ের (সঠিক সময়ের) পূর্বে ঘুম হতে উঠতে পারি না। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে সফ্ওয়ান! যখনই ঘুম হতে জাগবে তখনই সালাত আদায় করবে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ عِنْده فَقَالَت: زَوْجِي صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ وَيُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ وَلَا يُصَلِّي الْفَجْرَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ: وَصَفْوَانُ عِنْدَهُ قَالَ: فَسَأَلَهُ عَمَّا قَالَت فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا قَوْلُهَا: يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ فَإِنَّهَا تَقْرَأُ بِسُورَتَيْنِ وَقَدْ نَهَيْتُهَا قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كَانَتْ سُورَةً وَاحِدَةً لَكَفَتِ النَّاسَ» . قَالَ: وَأَمَّا قَوْلُهَا يُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ فَإِنَّهَا تَنْطَلِقُ تَصُوم وَأَنا رجل شَاب فَلَا أَصْبِر فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومُ امْرَأَةٌ إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا» وَأَمَّا قَوْلُهَا: إِنِّي لَا أُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإنَّا أهل بَيت قد عرف لنا ذَاك لَا نَكَادُ نَسْتَيْقِظُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ قَالَ: «فَإِذَا اسْتَيْقَظْتَ يَا صَفْوَانُ فَصَلِّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه

ব্যাখ্যা: মহিলার অভিযোগ যে, আমার স্বামী সফ্ওয়ান ইবনু মু‘আত্ত্বল সালাত আদায় করলে আমাকে মারে এবং সওম (রোযা) পালন করলে আমার সওম ভেঙ্গে দেয়। অর্থাৎ সে দিনের বেলায় জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে আমাকে সওম ভাঙ্গতে বাধ্য করে বা সওম নষ্ট করে দেয়। সূর্য উদয়ের পূর্বে সে ফজরের সালাত আদায় করে না, এটা হাকীকাতেই বা প্রকৃত অর্থেই হতে পারে অথবা কোনো মতে সূর্য উদয়ের পূর্বে আদায়কে মুবালাগাতান বা আধিক্যভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সূর্য উদয়ের আগে ফযর সালাত আদায় করে না। অভিযোগকারিণী মহিলার স্বামী সফ্ওয়ান সেখানেই উপস্থিত ছিলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার সফ্ওয়ান -কে তার বক্তব্য কি তা পেশ করতে বললেন। সফ্ওয়ান তার প্রতিটি অভিযোগ স্বীকার করলেন। অতঃপর তার কারণ উল্লেখ করে বললেন, সে রাতে বড় বড় সূরা দিয়ে সালাত আদায় করে, দিনে প্রত্যহ নফল সওম পালন করে- আমি যুবক মানুষ, দিনের বেলায়ও তার সাথে মেলামেশা করতে পারি না, রাতেও পারি না। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মানুষ যদি একটি সূরা পাঠ করতো যথেষ্ট হতো। সালাতের জন্য এটাই যথেষ্ট হতো।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এর অর্থ হলো যদি শুধু একটি সূরা অর্থাৎ ফাতিহাই পাঠ করতো তা যথেষ্ট হতো।

সওমের ব্যাপারেও তিনি ঘোষণা করলেন, কোনো মহিলা স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল সওম পালন করতে পারবে না। লোকটি ফজরের সালাত বিলম্বে আদায়ের কারণ বর্ণনা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সফ্ওয়ান! তুমি যখনই জাগবে সালাত আদায় করে নিবে।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ সফ্ওয়ান-এর ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওযর গ্রহণ করেছেন, আর স্ত্রীর ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও তার ওযর গ্রহণ করেননি। এটা পুরুষের অধিক হক নারীর ওপর তা অবহিত করার জন্য। (‘আওনুল মা‘বূদ ৪র্থ খন্ড, হাঃ ২৪৫৬; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ