৩০৫৮

পরিচ্ছেদঃ ১৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ফারায়িয (মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টন সম্বন্ধীয়) ও অন্তিম উপদেশ বা আদেশ)

৩০৫৮-[১৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন সা’দ ইবনু রবী’ (রাঃ)-এর ঔরসজাত দুই কন্যাসহ তাঁর স্ত্রী রসূলূলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ কন্যা দু’টি সা’দ ইবনু রবী’-এর। তাদের পিতা আপনার সাথে উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তাদের চাচা তাদের সকল ধন-সম্পদ নিয়ে গিয়েছে এবং তাদের জন্য কিছুই রাখেননি। অথচ তাদের (ধন-সম্পদ আত্মসাতের কারণে) বিয়ে দেয়া যাবে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ এ ব্যাপারে কোনো হুকুম জারি করবে। তখন উত্তরাধিকারের আয়াত নাযিল হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চাচার কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন, সা’দ-এর দুই কন্যাকে দুই-তৃতীয়াংশ এবং তাদের মা-কে অষ্টমাংস দাও; অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার (হক)। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةُ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ بِابْنَتَيْهَا مِنْ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَاتَانِ ابْنَتَا سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ قُتِلَ أَبُوهُمَا مَعَكَ يَوْمَ أُحُدٍ شَهِيدًا وَإِنَّ عَمَّهُمَا أَخَذَ مَالَهُمَا وَلَمْ يَدَعْ لَهُمَا مَالًا وَلَا تُنْكَحَانِ إِلَّا وَلَهُمَا مَالٌ قَالَ: «يَقْضِي اللَّهُ فِي ذَلِكَ» فَنَزَلَتْ آيَةُ الْمِيرَاثِ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى عَمِّهِمَا فَقَالَ: «أَعْطِ لِابْنَتَيْ سَعْدٍ الثُّلُثَيْنِ وَأَعْطِ أُمَّهُمَا الثُّمُنَ وَمَا بَقِيَ فَهُوَ لَكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غريبٌ

ব্যাখ্যা : এখানে সা‘দ ইবনে রবী‘আহ্-এর পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টননীতি আলোচিত হয়েছে। সা‘দ ইবনু রবী‘আহ্ এক স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের পর জাহিলী যুগে মহিলাদের বঞ্চিত করার রীতি অনুযায়ী সমুদয় সম্পদ তার ভাই করায়ত্ত করে নিলেন, দুই মেয়ের ভরণ-পোষণ ও তাদের বিবাহের খরচ নির্বাহের জন্য এক কপর্দক সম্পদও রাখলেন না। তখন স্ত্রী দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে অভিযোগ করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করেন। এ সময় আল্লাহ তা‘আলা সূরা নিসার মীরাস সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ঐ দুই মেয়ের চাচাকে (সা‘দ-এর ভাই-কে) ডেকে এনে নির্দেশ দিলেন যে, সমুদয় সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সা‘দ-এর কন্যাদ্বয়কে এবং এক-অষ্টমাংশ তাদের মাকে (সা‘দ-এর স্ত্রীকে) প্রদান কর এবং বাকী সম্পদ তুমি আসাবা হিসেবে গ্রহণ কর।

স্ত্রীকে এক-অষ্টমাংশ আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীর প্রেক্ষক্ষতঃ ‘‘যদি তোমাদের সন্তান থাকে তাহলে স্ত্রীর জন্য রয়েছে তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-অষ্টমাংশ’’- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১২), এটাই ইসলামের প্রথম মীরাসের আয়াত। (তুহফাতুল আওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০৯২; মিরকাতুল মাফাতীহ)