২৯৮৫

পরিচ্ছেদঃ ১৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - ভাড়ায় প্রদান ও শ্রম বিক্রি

২৯৮৫-[৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে একদল এক পানির কূপওয়ালাদের কাছে পৌঁছলেন, তাদের মধ্যে একজনকে বিচ্ছু অথবা সাপে দংশন করেছিল। কূপওয়ালাদের এক লোক এসে বললো, আপনাদের মধ্যে কোনো মন্ত্র (চিকিৎসা) জানা লোক আছে কি? এ কূপের ধারে একজন বিচ্ছু বা সাপে কাটা লোক রয়েছে। তখন তাঁদের মধ্য হতে একজন [আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)] গেলেন এবং কিছু ছাগলের বিনিময়ে তার ওপর সূরা ফাতিহাহ্ পড়ে ফুঁক দিলেন। এতে সে সুস্থ হয়ে উঠলো এবং সাহাবী ছাগলগুলো নিয়ে স্বীয় সাথীদের কাছে আসলেন।

তাঁরা এটা অপছন্দ করে বলতে লাগলেন, আপনি কি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিলেন? পরিশেষে তাঁরা মদীনায় পৌঁছলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ইনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যেসব জিনিসের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকো, তাদের মধ্যে কিতাবুল্লাহ (আল্লাহর কিতাব) অধিকতর উপযোগী। (বুখারী)[1]

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তোমরা ঠিকই করেছো, তা ভাগ-বণ্টন কর এবং আমার জন্যও তোমাদের সাথে এক অংশ রেখ।

بَابُ الْإِجَارَةِ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرُّوا بِمَاءٍ فبهم لَدِيغٌ أَوْ سَلِيمٌ فَعَرَضَ لَهُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَاءِ فَقَالَ: هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ؟ إِن فِي المَاء لَدِيغًا أَوْ سَلِيمًا فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَرَأَ بِفَاتِحَة الْكتاب على شَاءَ فبرئ فَجَاءَ بِالشَّاءِ إِلَى أَصْحَابِهِ فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَقَالُوا: أَخَذْتَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا حَتَّى قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ: «أَصَبْتُمُ اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا»

ব্যাখ্যা: (لَدِيغٌ أَوْ سَلِيمٌ) বর্ণনাকারীর সন্দেহ সে জন্য উল্লেখিত শব্দদ্বয়ের মাঝে أَوْ তথা, অথবা বর্ণনা করেছেন। لَدِيغٌ শব্দটি অধিকাংশ সময় ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যাকে বিচ্ছু দংশন করেছে এবং سَلِيمٌ শব্দটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় যাকে সাপ দংশন করেছে।

(رَجُلٌ مِنْهُمْ) একমতে বলা হয়েছে, তিনি হলেন : আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী। (فَقَرَأَ) ফল কথা, ঐ লোকটি তাদেরকে বলল, তোমরা আমাকে এ পরিমাণ ছাগল দিবে এ শর্তে আমি এ বিচ্ছু কাটা রোগীটিকে ঝাড়ব। অতঃপর রোগীর লোকেরা তাতে রাজী হলে আবূ সা‘ঈদ রোগীর ওপর সূরা ফাতিহাহ্ পাঠ করলেন ঐ বর্ণনার উপর ভিত্তি করে যে, সূরা ফাতিহাহ্ বিষ হতে আরোগ্য দানকারী। অতঃপর রোগীটি আল্লাহর কালামের বারাকাতে মুক্তি লাভ করল। একমতে বলা হয়েছে, ছাগলের সংখ্যা ছিল ত্রিশ এবং তারাও ছিল ত্রিশ জন।

(حَتّٰى قَدِمُوا) ত্বীবী বলেনঃ এ অংশটি ‘‘তারা বলল, তুমি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে এ সব গ্রহণ করেছ?’’ এ অংশের সাথে সম্পর্কিত। এর অর্থ হলো- তারা পথে এ বিষয়টিকে সর্বদা অস্বীকার করছিল, পরিশেষে তারা মদীনাতে আগমন করে।

(كِتَابِ اللّٰهِ) কাযী বলেন, এতে কুরআন পাঠের জন্য শ্রমিক ভাড়া করা, কুরআন দ্বারা ঝাড়-ফুঁক দেয়া বৈধ হওয়া এবং কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পরিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ আছে। এক সম্প্রদায় তা হারাম সাব্যস্ত করার মত পোষণ করেছেন, আর তা হলো- যুহরী, আবূ হানীফাহ্ এবং ইসহক (রহঃ)-এর মত। তারা ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’তে ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আগত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। অত্র হাদীসটিতে কুরআন দ্বারা, আল্লাহর জিকির দ্বারা ঝাড়ফুঁক বৈধ হওয়া এবং তার বিনিময়ে মজুরী গ্রহণের ব্যাপারে দলীল আছে। কেননা ক্বিরাআত বৈধ কর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যারা মুসহাফ ক্রয়-বিক্রয় এবং তা লিপিবদ্ধ করার বিনিময়ে মজুরী গ্রহণ করার অবকাশ দিয়েছেন তারা এর মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন। এ মত পোষণ করেছেন- হাসান, শা‘বী, ‘ইকরিমাহ্, সুফ্ইয়ান, মালিক, শাফি‘ঈ এবং আবূ হানীফার সাথীবর্গ (রহঃ)।

(اقْسِمُوا) ইমাম নববী (রহঃ) বলেনঃ এটা মানবিকতা, স্বেচ্ছাসেবা, সাথীদের সাথে ভালোবাসার আচরণ এবং নম্রতা প্রদর্শন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় সমস্ত বকরীর মালিক ঝাড়ফুঁককারী। (لِىْ مَعَكُمْ سَهْمًا) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বলেছেন তাদের মনে স্বাচ্ছন্দ্য দানের উদ্দেশ্য এবং তাদেরকে জানানোর ব্যাপারে আধিক্যতা স্বরূপ যে, এটা হালাল, এতে সন্দেহ নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ)