১৩৪০

পরিচ্ছেদঃ ৪১. প্রথম অনুচ্ছেদ - সফরের সালাত

১৩৪০-[৮] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভ্রমণে গেলে রাতের বেলায় ফরয সালাত ছাড়া (অন্য সালাত) সওয়ারীর উপর বসেই ইশারা করে আদায় করতেন। সওয়ারীর মুখ যেদিকে থাকত তাঁর মুখও সে দিকে থাকত। এমনিভাবে বিতরের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সওয়ারীর উপরই আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

بَابُ صَلَاةِ السَّفَرِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي السَّفَرِ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ يُومِئُ إِيمَاءً صَلَاةَ اللَّيْلِ إِلَّا الْفَرَائِضَ وَيُوتِرُ على رَاحِلَته

ব্যাখ্যা: সওয়ারী ক্বিবলাহ্ (কিবলাহ/কিবলা) ছাড়া অন্যদিকে হলেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে রত থাকতেন। এ প্রসঙ্গে সহীহুল বুখারীতে ‘আমির বিন রবী‘আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি সওয়ারী অবস্থায় মাথা দ্বারা ইশারা করে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, সওয়ারী যে দিকে হয়ে রয়েছে সে দিকে।

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত-

كان إذا أراد أن يتطوع في السفر استقبل بناقته القبلة، ثم صلى حيث وجهت ركابه

অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর অবস্থায় নফল সালাত আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন উটনীকে ক্বিবলামুখী করতেন, অতঃপর তিনি সালাত আদায় করতেন, এরপর সওয়ারী যেদিকেই ফিরুক না কেন। (আবূ দাঊদ, আহমাদ, দারাকুত্বনী)

রাতের সালাত শেষে তিনি সওয়ারীর উপরই বিতর আদায় করতেন। ইবনুল মালিক (রহঃ) বলেন যে, এটা বিতর সালাত ওয়াজিব না হওয়ার উপর প্রমাণ করে। অর্থাৎ যদি তা (বিতর সালাত) ওয়াজিব হত তবে তা অবশ্যই সওয়ারীর উপর আদায় করা জায়িয হত না।

আমি বলব যে, সফরে বিতর সওয়ারীর উপর আদায়ের বৈধতার ক্ষেত্রে আলোচ্য হাদীসটি একটি পূর্ণাঙ্গ নাস বা বক্তব্য এবং এটাই বিতর ওয়াজিব না হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট আলামত।

এ ব্যাপারে আহলুল ‘ইলমদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে মালিক, শাফি‘ঈ ও আহমাদ (রহঃ) বৈধতার কথা বলেছেন, (অর্থাৎ সওয়ারীতে বিতর বৈধ) এবং সেটা ‘আলী, ইবনু ‘উমার, ‘আত্বা ইবনু আবী রাবাহ, হাসান বসরী থেকে বর্ণিত এবং তাদের কথাই সঠিক। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও তাঁর সহচরদ্বয় বলেন, ফারযের (ফরযের/ফরজের) মতই মাটির উপর ব্যতীত বিতর সালাত আদায় করা বৈধ নয়। যা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ পরিপন্থী।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ