হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
৫০৫৯

পরিচ্ছেদঃ ১৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আত্মসংযম ও কাজে ধীরস্থিরতা

৫০৫৯-[৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম চাল-চলন, ধীরস্থির পদক্ষেপ এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন নুবুওয়াতের চব্বিশ ভাগের এক ভাগ। (তিরমিযী)[1]

وَعَن عبد الله بن جرجس أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «السَّمْتُ الْحَسَنُ وَالتُّؤَدَةُ وَالِاقْتِصَادُ جُزْءٌ مِنْ أَرْبَعٍ وَعشْرين جُزْءا من النُّبُوَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

ব্যাখ্যাঃ (السَّمْتُ الْحَسَنُ) অর্থাৎ পছন্দনীয় বা সন্তোষজনক চাল-চলন ও উত্তম পথ-পদ্ধতি। এ ছাড়াও السَّمْتُ শব্দের অর্থ রাস্তা, পথ। এখানে السَّمْتُ দ্বারা সৎলোকদের পদাঙ্কের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এছাড়াও السَّمْتُ  শব্দ দ্বারা কোন রীতিনীতিকে আঁকড়ে ধরা বুঝায়।

(وَالتُّؤَدَةُ وَالِاقْتِصَادُ) বলা হয় সকল কাজে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করাকে। আর التُّؤَدَةُ অর্থ- সর্বাবস্থায় মধ্যম পন্থা অবম্বন করা। আর সংকোচন ও অতিরঞ্জন বা সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা।

ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ মধ্যপন্থা দুই প্রকারের : প্রথমটি হল- যেটি প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় এর মাঝামাঝি হয়। যেমন- অত্যাচার ও ন্যায় এবং কৃপণতা ও দানের মাঝামাঝি। আর আমি এই প্রকারটি নিয়েছি মহান আল্লাহর কথা দ্বারা- وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ ‘‘...আর তাদের মধ্যে আছে মধ্যমপন্থী...’’- (সূরাহ্ ফাত্বির ৩৫ : ৩২)।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো : সাধারণভাবে প্রশংসনীয় হওয়া বুঝায়। এর দু’টি দিক আছে- সংকোচন ও অতিরঞ্জন জ্ঞান বা সীমালঙ্ঘন। যেমন দান করা। নিশ্চয় এটা অপব্যয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি। বীরত্ব এটাও ভীতু ও কাপুরুষতার মাঝামাঝি। আর হাদীসটিতে মধ্যপন্থা বলতে সাধারণভাবে প্রশংসনীয় এই প্রকারটিকে বুঝানো হয়েছে।

(من النُّبُوَّة) অর্থাৎ নুবুওয়াতের অনেক অংশের মধ্য থেকে এটাও একটা অংশ।

ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ السَّمْتُ হলো চলার পথ। আর الِاقْتِصَادُ হলো যাবতীয় কাজ-কর্মে মধ্যম পন্থায় সমাধানের চেষ্টায় রত থাকা, যাতে করে কাজটির উপর স্থির থাকা সম্ভব হয়। ‘নুবুওয়াতের অংশ’ এ কথাটি দ্বারা তিনি ইচ্ছা করেছেন বা বুঝতে চেয়েছেন, এসব উত্তম চরিত্র বৈশিষ্ট্য আম্বিয়া কিরামের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর এটা তাদের মর্যাদার অংশবিশেষ। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর এবং এসব উত্তম চরিত্র অর্জনে নবীগণের অনুসরণ কর। এর অর্থ এই নয় যে, নুবুওয়াত একটি বিভাজ্য বস্তু, আর যার মধ্যে এসব চরিত্র পাওয়া যাবে, সেই ব্যক্তি নবী হয়ে যাবে; বরং নুবুওয়াত একটি ঐশী দান, মহান আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এ পদমর্যাদা দান করেন। কেউ নিজ ইচ্ছায় বা নিজ চেষ্টা-সাধনা দ্বারা নবী হতে পারে না। কিংবা এর অর্থ এসব চরিত্র বৈশিষ্ট্য সেই মহৎ গুণের অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষাদানের জন্য নবী-রসূলগণ এ দুনিয়ায় প্রেরিত হয়েছিলেন। অথবা এর অর্থ যে ব্যক্তির মাঝে এর গুণাবলীসমূহ একত্রিত হয়েছে মানুষ তাকে সম্মান-মর্যাদা প্রদান করে। আর মহান আল্লাহ তাকে এমন তাকওয়ার পোশাক পরিধান করান যা তিনি তার নবীদেরকে পরিধান করিয়েছিলেন, আর এটা যেন নুবুওয়াতেরই অংশবিশেষ। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০১০; মিরক্বাতুল মাফাতীহ)