পরিচ্ছেদঃ
১৯৪৮। যদি কোন পাহাড় কোন পাহাড়ের বিপক্ষে সীমালঙ্ঘন করে তাহলে আল্লাহ্ তা’য়ালা দু’পাহাড়ের সীমালঙ্ঘনকারী পাহাড়কে কঁপিয়ে দেন।
হাদীসটি দুর্বল।
এটিকে ইবনুল লাল আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি “আলজামেউল কাবীর” (২/১৪২/১) এবং অনুরূপভাবে “আলজামেউস সাগীর” গ্রন্থেও এসেছে। তবে নিম্নের ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছেঃ
لوبغى جبل على جبل، لدك الباغي منهما
“যদি কোন পাহাড় অন্য কোন পাহাড়ের উপর করে তাহলে অবশ্যই দু’পাহাড়ের সীমালঙ্ঘনকারী পাহাড়কে কাঁপিয়ে দেয়া হয়।”
জানি না আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত কোন ভাষাটি ইবনু লালের ভাষা। আর এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি। মানবী এ ব্যাপারে কোন কিছু না বলে সাদা স্থান ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তিনি সুয়ূতীর সমালোচনা করে বলেছেনঃ বাহ্যিক অবস্থা এই যে, লেখক হাদীসটির তাখরীজকারী হিসেবে তার (ইবনু লালের) চেয়ে প্রসিদ্ধ বা তার মত কাউকে দেখতে পাননি। এটা আজব ব্যাপার। কারণ হাদীসটিকে ইমাম বুখারী "আলআদাবুল মুফরাদ" গ্রন্থে উল্লেখিত ভাষায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে বাইহাকী “আশশুয়াব” গ্রন্থে, ইবনু হিব্বান, ইবনুল মুবারাক ও ইবনু মারদুবিয়্যাহ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন। শুধুমাত্র ইবনু লালের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সমালোচনার দ্বারা সুয়ুতীর উপর আক্রমণ করা হয়েছে। বরং এ ব্যাপারে কয়েক দিক থেকে অশোভনীয়ভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছেঃ
১। তার এ কথা সন্দেহ সৃষ্টি করে যে, তারা সকলেই মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ বিষয়টি এরূপ নয়। যেমন ইমাম বুখারী এটিকে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে।
২। তার এ কথা সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে যে, তারা সকলেই আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। কারণ ইবনু হিব্বান "আয যুয়াফা" গ্রন্থে আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযলের জীবনীতে এটিকে (১/১৫৫) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ তিনি হাদীস জালকারী ছিলেন।
আর ইবনু মারদুবিয়্যাহ এটিকে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যেমনটি "আলমাকাসিদুল হাসানাহ" গ্রন্থে (পৃঃ ৩৪২/৮৮৮) এবং অনুরূপভাবে ইবনু আদীর "আলকামেল" গ্রন্থে (১২/১) এসেছে। এর সনদের মধ্যে ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমী রয়েছেন, আর তিনি হচ্ছেন বড় মিথ্যুক ও জালকারী।
আর ইবনুল মুবারাক হাদিসটিকে "আয যুহদ" গ্রন্থে ফিতর ইবনু খালীফা হতে, তিনি আবূ ইয়াহইয়া হতে, তিনি মুজাহিদ হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ইবনু আবী হাতিম হাদিসটিকে "আলইলাল" গ্রন্থে (২/৩৪১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ আবু ইয়াহইয়া কাত্তাত হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ফিতর ইবনু খালীফার বিরোধিতা করা হয়েছে। সাওরী ও ইসরাঈল হাদীসটিকে আবূ ইয়াহইয়া কাত্তাত হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবী হাতিম বলেনঃ আমার পিতা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে মুজাহিদের হাদীসটি বেশী সঠিক।
আমি (আলবানী) বলছিঃ এভাবেই ইমাম বুখারী “আলআদাবুল মুফরাদ” গ্রন্থে (৫৮৮) আবূ নুয়াইম হতে, তিনি ফিতর হতে, তিনি আবূ ইয়াহইয়া হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকীও এভাবেই “আশশুয়াব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনু মারদুবিয়্যাহ ফিতর সূত্রে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু ইয়াহইয়া কাত্তাত হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। তিনি মারফু’ এবং মওকুফ উভয়ভাবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুর্বল। তবে মওকুফ হিসেবে তার মুতাবা’য়াত করা হয়েছে। ইবনু ওয়াহাব “আলজামে” গ্রন্থে (পৃঃ ৪৪) ইয়াহইয়া ইবনু আইউব হতে, তিনি ওবাইদুল্লাহ ইবনু যাহর হতে, তিনি সুলাইমান হতে, তিনি মুজাহিদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ ...।
সুলাইমান হচ্ছেন আমাশ আর ইবনু যাহর হচ্ছেন দুর্বল। তবে তার মুতাবা’য়াত করা হয়েছে। আলী ইবনু হারব ত্বাই তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/৭৯) আবু মুয়াবিয়্যাহ হতে, তিনি আমাশ হতে বর্ণনা করেছেন। সাওরীও আমাশ হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তার মুতাবা’য়াত করেছেন।
এটিকে ইবনু মারদুবিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি সহীহ। সঠিক হচ্ছে হাদীসটি মওকুফ।
لوبغى جبل على جبل، لجعل الله عز وجل الباغي منهما دكا ضعيف - رواه ابن لال عن أبي هريرة مرفوعا، كما في " الجامع الكبير " (2 / 142 / 1) وكذا في " الجامع الصغير " أيضا، لكنه ذكره بلفظ: " لوبغى جبل على جبل، لدك الباغي منهما ". فلا أدري أي اللفظين منهما هو لفظ ابن لال عن أبي هريرة! وأما إسناده، فلم أقف عليه، وبيض له المناوي، فلم يتكلم عليه بشيء، ولكنه تعقب السيوطي بقوله: وظاهره أن المصنف لم يره مخرجا لأشهر منه، ولا أمثل، وهو ذهو ل عجيب، فقد خرجه البخاري في " الأدب المفرد " باللفظ المذكور عن ابن عباس، وكذا البيهقي في " الشعب " وابن حبان وابن المبارك وابن مردويه وغيرهم، فاقتصاره على ابن لال من ضيق العطن ". قلت: وفي هذا التعقب تحامل ظاهر على السيوطي، بل فيه إيهام فاحش، من وجوه: الأول: أنه يوهم أن هؤلاء جميعا أخرجوه مرفوعا، وليس كذلك، فالبخاري مثلا إنما أخرجه موقوفا كما يأتي. الثاني أنه يوهم أنهم أخرجوه كلهم عن ابن عباس، وهو خلاف الواقع، فابن حبان أخرجه في " الضعفاء " (1 / 155) عن أنس، في ترجمة أحمد بن محمد بن الفضل، وقال: " إنه كان يضع الحديث ". وابن مردويه رواه عن ابن عمر كما في " المقاصد الحسنة " (ص 342 / 888) وكذا ابن عدي في " الكامل " (12 / 1) ومنه تبين أن فيه إسماعيل بن يحيى التيمي، وهو كذاب وضاع. وابن المبارك رواه في " الزهد " عن فطر بن خليفة عن أبي يحيى عن مجاهد مرسلا. وكذلك ذكره ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 341) ، وقال: " اختلف فيه على أبي يحيى القتات، ورواه الثوري وإسرائيل عن أبي يحيى القتات عن مجاهد عن ابن عباس. فقال أبي: حديث مجاهد عن ابن عباس قوله أصح ". قلت: وهكذا موقوفا عليه أخرجه البخاري في " الأدب المفرد " (588) : حدثنا أبو نعيم قال: حدثنا فطر عن أبي يحيى سمعت مجاهدا عن ابن عباس به. وهكذا رواه البيهقي في " الشعب ". وأما ابن مردويه فرواه من طريق فطر به مرفوعا. قلت: وأبو يحيى القتات لين الحديث، فهو ضعيف مرفوعا وموقوفا، لكنه قد توبع على وقفه، فقال ابن وهب في " الجامع " (ص 44) : أخبرني يحيى بن أيوب عن عبيد الله بن لأعمش، وابن زحر ضعيف، لكنه قد توبع، فقال علي بن حرب الطائي في " حديثه " (79 / 1): حدثنا أبو معاوية قال: حدثنا الأعمش به. وتابعه الثوري عن الأعمش به رواه ابن مردويه. وهذا إسناد صحيح. فالصواب في الحديث الوقف. وبالله التوفيق