হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
৩২০৪

পরিচ্ছেদঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মোহর

৩২০৪-[৩] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা স্ত্রীদের মোহর নির্ধারণে সীমালঙ্ঘন করো না। কেননা যদি উক্ত মোহর নির্ধারণ দুনিয়াতে সম্মান এবং আল্লাহর নিকট তাকওয়ার বিষয় হতো, তবে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই তোমাদের চেয়ে তা নির্ধারণে অধিক অগ্রগামী হতেন। কিন্তু ১২ উকিয়্যার বেশি পরিমাণ মোহর নির্ধারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো সহধর্মিণীকে বিয়ে করেছেন কিংবা কোনো মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1]

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَلَا لَا تُغَالُوا صَدُقَةَ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا وَتَقْوَى عِنْدَ اللَّهِ لَكَانَ أَوْلَاكُمْ بِهَا نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا عَلِمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ شَيْئًا مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أَنْكَحَ شَيْئًا مِنْ بَنَاتِهِ عَلَى أَكْثَرَ مِنَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ

ব্যাখ্যা : এ হাদীসের বক্তব্য ‘উমার -এর, তিনি অধিক মোহর ধার্য পছন্দ করতেন না। কাযী ‘ইয়ায বলেন, لَا تُغَالُوْا অর্থ হলো لا تكثروا তোমরা বেশী করো না, অর্থাৎ মহিলাদের মোহর খুব বেশী বেঁধো না। বেশী মোহর ধার্য করা কোনো সম্মানের প্রতীক নয় এবং তাকওয়ার কোনো কাজও নয়। আল্লাহ বলেন, ‘‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে তাকওয়াবান’’- (সূরা আল হুজুরত ৪৯ : ১৩)।

অধিক মোহর যদি সম্মানের প্রতীক হতো তাহলে সর্বপ্রথম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে অধিক মোহর দিয়ে বিয়ে করতেন এবং তার কন্যাগণকেও অধিক মোহরে বিয়ে দিতেন, অথচ তিনি ১২ উকিয়্যার বেশী মোহরে কোনো নারীকে বিয়ে করেননি এবং তার কোনো কন্যাকেও বিয়ে দেননি। আর উম্মু হাবীবাহ্ -এর বিয়েতে অতিরিক্ত টাকার বিষয়টি পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাজাশী বাদশা তিনি তা নিজের পক্ষ থেকে নাবীজীর সম্মানে প্রদান করেছিলেন। আর ‘নাশ্’ বা অর্ধ দিরহাম বা ভগ্নাংশের কথা বাদ দিয়ে এখানে বলা হয়েছে। এরূপ বলার বিধান রয়েছে; সুতরাং তা পূর্বের হাদীসের বর্ণিত সংখ্যার পরিপন্থী নয়।

যদি কেউ প্রশ্ন করে মোহর বেশী না বাঁধার কথাটি আল কুরআনের এই আয়াতের পরিপন্থী, আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘আর যদি তোমরা একজনকে অঢেল বা রাশি রাশি সম্পদ দিয়েও থাকো তবে তা থেকে কোনো কিছুই তোমরা গ্রহণ করো না।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ২০)

উত্তরে বলব, আল কুরআনের আয়াতটি মোহর বেশী প্রদান জায়িয প্রমাণ করে মাত্র, উত্তমতা প্রমাণকারী নয়। আর আমাদের কথা হলো আফযালিয়াত বা উত্তমতা নিয়ে, জায়িয নিয়ে নয়। ‘উমার -এর বক্তব্যে ঘোষণা করেন, তোমরা মহিলাদের জন্য চল্লিশ উকিয়্যার বেশী নির্ধারণ করো না, কেউ যদি বেশী নির্ধারণ করে তবে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেয়া হবে। এ কথা শুনে একমহিলা প্রতিবাদ করে বললেন, কে আপনাকে এ কথা বলার অধিকার দিল? অর্থাৎ এই চল্লিশ উকিয়্যার সীমা নির্ধারণের অধিকার কে আপনাকে দিয়েছে? অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘‘যদি তোমরা তাদের কাউকে রাশি রাশি সম্পদও মোহর প্রদান কর .....।’’ এ প্রমাণ ও যুক্তিভিত্তিক দলীল শুনে ‘উমার বললেন, মহিলাটি ঠিক বলেছেন, আর লোকটি অর্থাৎ স্বয়ং ‘উমার ভুল করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৪র্থ খন্ড, হাঃ ২১০৬; তুহফাতুল আহওয়াযী ৩য় খন্ড, হাঃ ১১১৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ