হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
২৯৩৯

পরিচ্ছেদঃ ১১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কারো সম্পদে অন্যায় হস্তক্ষেপ, ঋণ ও ক্ষতিপূরণ

২৯৩৯-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বিনা অনুমতিতে কারো পশুর দুধ না দোহন করে। কারণ তোমাদের মধ্যে কেউ কি পছন্দ করে, কেউ তার কোঠায় আসুক এবং তার খাদ্য ভাণ্ডার (ভেঙ্গে তা) থেকে তার খাদ্যশস্য নিয়ে যাক। অবশ্যই পশুর স্তন তাদের জন্য খাদ্য সুরক্ষেত করে রাখে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْغَصْبِ وَالْعَارِيَةِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَحْلُبَنَّ أَحَدٌ مَاشِيَةَ امْرِئٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يُؤْتى مشْربَته فتكسر خزانته فَينْتَقل طَعَامُهُ وَإِنَّمَا يَخْزُنُ لَهُمْ ضُرُوعُ مَوَاشِيهِمْ أَطَعِمَاتِهِمْ» . رَوَاهُ مُسلم

ব্যাখ্যা: (فَيُنْتَقَلَ طَعَامُه) ‘‘তার খাদ্য বের করা হবে এবং গ্রাস করা হবে।’’

(وَإِنَّمَا يَخْزُنُ لَهُمْ ضُرُوعُ مَوَاشِيهِمْ أَطْعِمَاتِهُمْ) অর্থাৎ- দুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের চতুস্পদ জন্তুর ওলানসমূহ তোমাদের ঐ সকল ধনভাণ্ডারের স্থানে গণ্য যা তোমাদের খাদ্য সংরক্ষণ করে। সুতরাং যে তাদের চতুস্পদ জন্তুর দুধ দোহন করল সে যেন তাদের ধন-ভাণ্ডারগুলো ভেঙ্গে দিল এবং তাদের ধন-ভাণ্ডার হতে কিছু চুরি করল।

শারহুস্ সুন্নাহ্-তে আছে, অধিকাংশ বিদ্বানদের নিকট এর উপর ‘আমল করা, অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া অন্যের প্রাণীর দুধ দোহন করা বৈধ নয়, তবে যে তীব্র ক্ষুধায় কাতর তার কথা আলাদা এবং সে ক্ষতিপূরণ দিবে।

একমতে বলা হয়েছে, তার ওপর ক্ষতি-পূরণ বর্তাবে না, কেননা শারী‘আত তার জন্য তা বৈধ করেছে। আহমাদ, ইসহক ও অন্যান্যগণ দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়াও অন্যের জন্য তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে মত পেশ করেছেন আর তা ঐ সময় যখন মালিক উপস্থিত থাকবে না। কেননা মদীনার দিকে আল্লাহর রসূলের হিজরতের সময় আবূ বাকর আল্লাহর রসূলের জন্য এক কুরায়শ ব্যক্তির ছাগলের দুধ দোহন করেছিল। ঐ ব্যক্তির দাস ছাগলটিকে চড়াচ্ছিল কিন্তু সেখানে মালিক উপস্থিত ছিল না। তাছাড়া সামুরাহ্ বর্ণিত হাদীসে আছে, নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন চতুস্পদ জন্তুর নিকট আসবে তখন সেখানে যদি তার মালিক থাকে, তাহলে সে যেন তার মালিকের কাছে অনুমতি নেয়, আর সেখানে যদি কেউ না থাকে তাহলে সে যেন তিনবার আওয়াজ দেয়, অতঃপর কেউ যদি তার ডাকে সাড়া দেয় তাহলে তার কাছে যেন সে অনুমতি নেয় আর কেউ যদি সাড়া না দেয় তাহলে সে যেন দুধ দোহন করে পান করে এবং সাথে যেন বহন না করে।

কিছু বিদ্বান মুসাফির ব্যক্তিকে অন্যের বৃক্ষের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে অবকাশ দিয়েছেন, যা ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে গরীব সানাদে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি কারো বাগানে প্রবেশ করবে সে যেন কাপড়ে বহন না করে খায়, তাহলে তার কোনো জরিমানা নেই। অধিকাংশ বিদ্বানদের কাছে মালিকের অনুমতি ছাড়া তা বৈধ নয়, তবে ক্ষুধার প্রয়োজনে হলে তা আলাদা কথা।

তূরিবিশতী বলেনঃ বিদ্বানদের কতক এ হাদীসকে ক্ষুধা ও প্রয়োজনের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন, কেননা মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে তার মুকাবিলায় এ হাদীসগুলো প্রমাণ হিসেবে পেশ করার মতো নয়।

নববী (রহঃ) বলেনঃ দুর্দশাগ্রস্তহীন ব্যক্তির যখন খাদ্যের মালিকের প্রতি এভাবে সাহস থাকবে যে, সে জানছে অথবা ধারণা করছে যে, খাদ্য হতে মালিকের অনুমতি ছাড়া তা হতে সে খেলে মালিকের অন্তর এতে সন্তুষ্ট থাকবে তাহলে এ ব্যক্তির খাওয়ার সুযোগ আছে। দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি যদি মৃত জন্তু এবং অন্যের খাদ্য পায়, তাহলে এক্ষেত্রে মতানৈক্য আছে। [মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেন] আহনাফদের মতে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো, সে মৃত জন্তু খাবে তবু অন্যের ফল বিনানুমতিতে খাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

ইবনু হাজার ‘আসকালানী (রহঃ) তাঁর ‘নিহায়াহ্’ গ্রন্থে বলেনঃ (الماشية) শব্দটি উট, গরু এবং ছাগলের ওপর প্রয়োগ হয় তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাগলের ওপর প্রয়োগ হয়। এমনিভাবে এতে (خَزَانَتُه) এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ঐ স্থান অথবা পাত্র যাতে উদ্দেশিত বস্তু সংরক্ষণ করা হয়। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাঃ ২৪৩৫)

শারহে মুসলিমে হাদীসটির অর্থের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, গুদামে সংরক্ষিত খাদ্য মালিকের অনুমতি ছাড়া গ্রহণ বৈধ না হওয়ার ক্ষেত্রে গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যের সাথে ওলানে সংরক্ষিত দুধের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন।

আলোচ্য হাদীসে কয়েকটি উপকারিতা রয়েছে তা হলোঃ অনুমতি ব্যতীত মানুষের সম্পদ গ্রহণ হারাম, তা হতে খাওয়া ও তা ব্যয় করা হারাম, এতে দুধ ও অন্যান্য জিনিসের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, চাই অভাবী হোক বা অভাবী না হোক, তবে ঐ দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি যে মৃত জন্তু পায় না, অন্যের খাদ্য পায় সে আবশ্যক হিসেবে খাদ্য খাবে এবং আমাদের নিকট ও জুমহূরের নিকট তার পরিবর্তে মালিককে কিছু দেয়া আবশ্যক হয়ে যাবে। কতিপয় সালাফ ও কতিপয় মুহাদ্দিস বলেন, তা আবশ্যক হবে না তবে এটা দুর্বল অভিমত। অতঃপর সে যদি মৃত জন্তু এবং অন্যের খাদ্য পায় তাহলে তাতে বিদ্বানদের প্রসিদ্ধ মতানৈক্য আছে, আমাদের (শাফি‘ঈদের) সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতে মৃত জন্তু খাবে। (শারহে মুসলিম ১২শ খন্ড, হাঃ ১৭২৬-[১৩])