হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
১৯১৮

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সদাক্বার মর্যাদা

১৯১৮-[৩১] আবূ জুরাই জাবির ইবনু সুলায়ম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার মদীনায় এলাম, দেখলাম লোকেরা এক ব্যক্তির মতামত ও জ্ঞানবুদ্ধির উপর নির্ভরশীল। সে ব্যক্তি যা বলছে, মানুষ সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি (তাঁর খিদমাতে হাযির হয়ে) দু’বার বললাম, ’আলায়কাস্ সালা-ম’। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’আলায়কাস্ সালা-ম’ বলো না। কারণ ’আলায়কাস্ সালা-ম’ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু’আ। বরং বলো, ’আস্‌সালা-মু ’আলায়কা’। এরপর আমি বললাম, আপনি কি আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল। ওই আল্লাহর, যিনি কোন বিপদ-আপদে তুমি তাঁকে ডাকলে তিনি তা দূর করে দেন। তুমি যদি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে তাঁকে ডাকো, তাহলে তিনি জমিনে তোমার জন্য সবুজ ফসল ফলিয়ে দেবেন। তৃণ ও প্রাণহীন কোন মরুপ্রান্তরে অথবা ময়দানে যখন থাকো এবং সেখানে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি তাঁকে ডাকো, তিনি তা তোমাকে ফিরিয়ে দেবেন।

জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমাকে কিছু নাসীহাত করুন। তিনি বললেন, কাউকে গালমন্দ করো না। আবূ জুরাই বলেন, এরপর আমি আর কাউকে গালমন্দ করিনি-মুক্ত ব্যক্তিকে, গোলামকে, উট এবং বকরী কাউকেই নয়। (এরপর) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। যখন তোমার কোন ভাইয়ের সাথে কথাবার্তা বলবে তখন হাসিমুখে বলবে, এটাও নেক কাজের অংশ। তুমি তোমার পাজামা-লুঙ্গী হাঁটুর নীচ পর্যন্ত উঠিয়ে পড়বে। এতটুকু উঁচুতে ওঠাতে না চাইলে টাখনুদ্বয়ের উপরে রেখে পড়বে। কাপড় টাখনুর নীচে ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে সাবধান, কারণ টাখনুর নীচে কাপড় পড়া অহংকারের লক্ষণ। আল্লাহ তা’আলা অহংকার পছন্দ করেন না। কেউ তোমাকে গালি দিলে এবং তোমার এমন কোন দোষের জন্য লজ্জা দিলে যা তোমার মধ্যে আছে বলে সে জানে, তাহলে তুমি (প্রতিশোধ নিতে) তার কোন দোষের জন্য তাকে লজ্জা দেবে না, যা তুমি জানো। কারণ তার গুনাহের ভাগী সে হবে। (আবূ দাঊদ; তিরমিযী এ হাদীসটি প্রথমাংশ অর্থাৎ ’’আস্‌সালা-ম’’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীর অপর এক বর্ণনায়, ’’ফায়াকূনু লাকা আজরু যা-লিকা, ওয়া ওয়াবা-লুহূ ’আলাইহি’’ [তাহলে এর প্রতিদান তুমি পাবে এবং এর খারাপ পরিণতি তার ওপর বর্তাবে] পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।)[1]

وَعَنْ أَبِي جُرَيٍّ جَابِرِ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَرَأَيْتُ رَجُلًا يَصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَأْيِهِ لَا يَقُولُ شَيْئًا إِلَّا صَدَرُوا عَنْهُ قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ: عَلَيْكَ السَّلَامُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ قَالَ: «لَا تقل عَلَيْك السَّلَام فَإِن عَلَيْكَ السَّلَامُ تَحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلِ السَّلَامُ عَلَيْكَ» قلت: أَنْت رَسُول الله؟ قَالَ: «أَنا رَسُول الله الَّذِي إِذا أَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهُ كَشَفَهُ عَنْكَ وَإِنْ أَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهُ أَنْبَتَهَا لَكَ وَإِذَا كُنْتَ بِأَرْض قفراء أَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَتُكَ فَدَعَوْتَهُ رَدَّهَا عَلَيْكَ» . قُلْتُ: اعْهَدْ إِلَيَّ. قَالَ: «لَا تَسُبَّنَّ أَحَدًا» قَالَ فَمَا سَبَبْتُ بَعْدَهُ حُرًّا وَلَا عَبْدًا وَلَا بَعِيرًا وَلَا شَاةً. قَالَ: «وَلَا تَحْقِرَنَّ شَيْئًا مِنَ الْمَعْرُوفِ وَأَنْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَأَنْتَ مُنْبَسِطٌ إِلَيْهِ وَجْهُكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنَ الْمَعْرُوفِ وَارْفَعْ إِزَاَرَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمَخِيلَةَ وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وَعَيَّرَكَ بِمَا يَعْلَمُ فِيكَ فَلَا تعيره بِمَا تعلم فِيهِ فَإِنَّمَا وَبَالُ ذَلِكَ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ مِنْهُ حَدِيثَ السَّلَامِ. وَفِي رِوَايَةٍ: «فَيَكُونَ لَكَ أَجْرُ ذَلِكَ وَوَبَالُهُ عَلَيْهِ»

ব্যাখ্যা: খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, ধারণা করা হয় যে, মৃত ব্যক্তিকে সালাম প্রদানের সুন্নাত পদ্ধতি হচ্ছে, ‘‘আলায়কাস্ সালা-ম’’ বলা, যেমনটা সাধারণ মানুষেরা (জাহিলী যুগে) বলতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা প্রমাণিত যে, তিনি যখন কবরস্থানে প্রবেশ করতেন তখন বলতেনঃ اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْم مُؤْمِنِيْنَ। এ বাক্যে দেখা যাচ্ছে তিনি عَلَيْكُمْ -এর পূর্বে اَلسَّلَامُ শব্দ নিয়ে এসেছেন। যেভাবে জীবিতদের সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মূলত সালামের সুন্নাতী পদ্ধতিতে জীবিত ও মৃতদের সালাম প্রদানের কোন ভিন্ন পদ্ধতি নেই।

আল্লামা ইবনুল ক্বইয়্যিম (রহঃ) তার বিখ্যাত গ্রন্থ যাদুল মা‘আদ-এ লিখেছেন, প্রথমে সালাম প্রদানের ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ হচ্ছে ‘‘আসসালা-মু ‘আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্ল-হ’’ বলা। তিনি প্রথমে সালামদাতার ক্ষেত্রে ‘‘আলায়কাস সালা-ম’’ বলা অপছন্দ করতেন। অতঃপর ইবনুল ক্বইয়্যিম (রহঃ) আবূ জুরাই (রাঃ)-এর এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন, কিছু লোক এমনটা ধারণা করেছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃতদের সালাম দেয়ার ক্ষেত্রেও ‘‘আসসালা-মু’’ শব্দটি প্রথমে এনে ‘‘আসসালা-মু ‘আলায়কুম’’ বলে সালাম দিতেন। তারা আরো ধারণা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, ‘‘আলায়কাস্ সালা-ম’’ হচ্ছে ‘‘মৃতদের সালাম’’ এ বাক্য দ্বারা মৃতদের সালাম দেয়া শার‘ঈ বিধান। তারা এখানে বুঝতে যে ভুল করেছে তার কারণেই এ বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়েছে। মূলত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐ বক্তব্য তৎকালীন অবস্থা বা প্রচলনকে বুঝিয়েছে, শার‘ঈ বিধান হিসেবে বুঝায়নি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ