পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৬-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত তখনই সংঘটিত হবে, যখন জমিনের মধ্যে ’আল্লাহ’ ’আল্লাহ’ বলার মতো কেউ থাকবে না। অপর এক বর্ণনায় আছে- এমন কোন লোকের ওপরে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে ’আল্লাহ’ ’আল্লাহ’ বলেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ: اللَّهُ اللَّهُ . وَفِي رِوَايَةٍ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ عَلَى أَحَدٍ يَقُولُ: اللَّهُ الله . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (234 / 148)، (375) ۔
(صَحِيح)

عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تقوم الساعة حتى لا يقال في الأرض: الله الله . وفي رواية: لا تقوم الساعة على أحد يقول: الله الله . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ: اللَّهُ اللَّهُ) পৃথিবীতে আল্লাহর যিকর বলা মানুষ থাকা অবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে না।
হাদীসে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ' শব্দ দুটি তাগিদ বুঝানোর জন্য দ্বিত্ত করে আনা হয়েছে। অথবা শব্দটি দু’বার আনার মাধ্যমে অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর বুঝানো হয়েছে। অথবা এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট অথবা তিনিই আমার মা'বুদ।
ভাষ্যকার বলেন, (اللَّهُ) শব্দটিতে পেশ দিয়ে পড়লে অর্থ হবে আল্লাহই ‘ইবাদতের যোগ্য একমাত্র মা'বুদ, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নন। আর যদি যবর দিয়ে পড়া হয় তখন অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার ইবাদাত কর। অতএব এই মতে হাদীসের অর্থ দাঁড়ায় ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পৃথিবীতে মুসলিম অবশিষ্ট থাকবে এবং মানুষকে আল্লাহ থেকে সতর্ক করবে। অথবা, যখন আল্লাহর যিকর করার কেউ থাকবে না তখন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার হিকমত বাকী থাকবে না। অতএব এটা সুস্পষ্ট যে, পৃথিবী অবশিষ্ট রয়েছে সৎকর্মপরায়ণ ‘আলিম ও নেক বান্দা ও মুমিনদের বদৌলতে। অপর এক বর্ণনা মতে, আল্লাহ বলা কারো ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ২য় খণ্ড, হা. ২৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৭-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মা’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিকৃষ্ট মানুষের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (131 / 2949)، (7402) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة إلا على شرار الخلق» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ) কিয়ামত শুধুমাত্র সৃষ্টির দুষ্ট প্রকৃতির তথা অবাধ্য কাফিরদের ওপর সংঘটিত হবে। অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে ইয়ামান থেকে এক প্রকার হাওয়া এসে মুমিনদের মৃত্যু হবে। শুধু অবাধ্য পাপী বান্দারা অবশিষ্ট থাকবে। আর তখনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যদি বলা হয় এই হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হাদীস, “আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে” এর সাথে সাংঘর্ষিক। তাহলে এর উত্তরে বলব, উক্ত হাদীসটি ব্যাপক অর্থে যুগের চাহিদা অনুপাতে প্রযোজ্য। আর এই অধ্যায়ের হাদীসটি বিশেষ করে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তের জন্য খাস। অতএব কোন বৈপরীত্য নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ্ ৩য় খণ্ড, হা, ৪০৩৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৮-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ’যুল খলাসাহ্’ মূর্তির নিকট দাওস গোত্রের মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে। দাওস গোত্রের একটি মূর্তি ছিল, জাহিলী যুগে তারা এটার উপাসনা করত। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ» . وَذُو الْخَلَصَةِ: طَاغِيَةُ دَوْسٍ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7116) و مسلم (51 / 2906)، (7298) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تضطرب أليات نساء دوس حول ذي الخلصة» . وذو الخلصة: طاغية دوس التي كانوا يعبدون في الجاهلية. متفق عليه

ব্যাখ্যা: (حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ) অর্থাৎ ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রের মহিলারা তাদের নিতম্ব যুল খলাসাহ্ মূর্তির নিকট হেলিয়ে দুলিয়ে পূজা করবে। হাদীসে বর্ণিত (تَضْطَرِبَ) অর্থ (تَتَحَرَّكَ) হেলে দুলে চলা, নিতম্বের মাংসের এক অংশ অপর অংশের সাথে ঘর্ষণ লাগা.
(أَلَيَاتُ) নিতম্বের উপর ফুলে থাকা মাংস খণ্ড। কেউ কেউ বলেন, পিঠের নিম্নাংশ ও রানের উপরের অংশে জমে থাকা মাংস, যার উপর ভর করে বসা হয়।
(أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ) অর্থ দ্বারা দাওস মহিলারা মুরতাদ হয়ে মূর্তির চতুর্দিকে ত্বওয়াফ করবে।
(ذِي الْخَلَصَةِ) দাওসের প্রধান মূর্তি যাকে জাহিলী যুগে মুশরিকরা পূজা করত।
অথবা (ذِي الْخَلَصَةِ) হলো ইয়ামান দেশের নির্মিত কা'বাহ্ ঘর, রাসূল (সা.) জারির ইবনু 'আবদুল্লাহকে প্রেরণ করে তা ধ্বংস করেন।
হাদীসের মমার্থ হচ্ছে: তারা মূর্তিপূজার মাধ্যমে জাহিলী যুগের দিকে ফিরে যাবে। যেভাবে দাওস গোত্রের মহিলারা যুল খলাসাহ্ মূর্তির চতুর্দিকে নিতম্ব হেলিয়ে দুলিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করে পূজা করত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১৩শ খণ্ড, হা. ৭১১৬; শারহুন নাবাবী ১৮শ খণ্ড, হা. ২৯০৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৯-[8] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, লাত ও ’উয্যা এ মূর্তিদ্বয়ের উপাসনা করা পর্যন্ত দিন ও রাত্র শেষ হবে না (অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে আবার লাত ও ’উয্যা মূর্তির পূজা করা হবে)। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ধারণা ছিল, যখন আল্লাহ তা’আলা
 (هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) “তিনি তাঁর রাসূল কে হিদায়াত আর সঠিক দীনসহ পাঠিয়েছেন যাবতীয় দীনের উপর একে বিজয়ী করার জন্য যদিও মুশরিকগণ অপছন্দ করে”- (সূরাহ আত্ তাওবাহু ৯: ৩৩); আয়াতটি নাযিল করেছেন, তখন মূর্তিপূজার দিন শেষ হয়ে গেছে।
উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, যতদিন আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করবেন, ততদিন এ অবস্থায় থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা একটি সুগন্ধময় বাতাস প্রেরণ করত, তাতে ঐ সকল লোকেদের মৃত্যু ঘটবে যাদের অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান থাকবে। অতঃপর কেবলমাত্র ঐ সমস্ত লোকই অবশিষ্ট থাকবে যাদের মধ্যে সামান্য পরিমাণও ঈমান থাকবে না। তখন তারা তাদের বাপ-দাদার ধর্মের দিকে ফিরে যাবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ: (هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا. قَالَ: «إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتُوُفِّيَ كُلُّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيهِ فَيَرْجِعُونَ إِلَى دِين آبَائِهِم» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (52 / 2907)، (7299) ۔
(صَحِيح)

وعن عائشة قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يذهب الليل والنهار حتى يعبد اللات والعزى» . فقلت: يا رسول الله إن كنت لأظن حين أنزل الله: (هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون) أن ذلك تاما. قال: «إنه سيكون من ذلك ما شاء الله ثم يبعث الله ريحا طيبة فتوفي كل من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان فيبقى من لا خير فيه فيرجعون إلى دين آبائهم» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: (لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى) রাত ও দিন অতিবাহিত হবে না তথা কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না লাত এবং উযযার ইবাদাত করা হবে। লাত হলো সাকিফ গোত্রের মূর্তি এবং উযযা হলো গাত্বফান গোত্রের মূর্তি।
(أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا) আমি ধারণা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে প্রেরণের মাধ্যমে মূর্তির ‘ইবাদাত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। কিয়ামত পর্যন্ত আর তা ফিরে আসবে না।

(إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান, এরপর মূর্তিপূজা আবার ফিরে আসবে। আর তখন আল্লাহ তা'আলা সুঘ্রাণযুক্ত এক প্রকার বায়ু প্রেরণ করবেন, ফলে যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। শুধু তারাই অবশিষ্ট থাকবে যাদের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, যারা পূর্বপুরুষের ধর্মে ফিরে যাবে ও শিরকে লিপ্ত হবে। আর তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

(لَا خَيْرَ فِيهِ) যার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই অর্থাৎ ইসলাম থাকবে না, ঈমান থাকবে না, কুরআন থাকবে না, হজ্জ থাকবে না, ইসলামের অপর কোন রুকনও থাকবে না, ভালো ভালো ‘আলিমও থাকবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫২০-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল বের হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি জানি না তিনি (সা.) চল্লিশ দিন অথবা মাস অথবা বছর এটার কোনটি বলেছেন? অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ’ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম-কে পাঠাবেন। দেখতে তিনি উরওয়া ইবনু মাস’ঊদ-এর মতো। তিনি দাজ্জালের খোঁজ করবেন এবং তিনি তাকে হত্যা করবেন। তিনি (ঈসা আলায়হিস সালাম) সাত বছর এ জমিনে অবস্থান করবেন, সেই যুগে দু’জন লোকের মধ্যেও শত্রুতা থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা সিরিয়ার দিক থেকে একটি ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করবেন, উক্ত বায়ু ভূপৃষ্ঠে এমন একজন লোককেও জীবিত রাখবে না, যার অন্তরে অণু-কণা পরিমাণ পুণ্য বা ঈমান থাকবে। যদি সে সময় তোমাদের কেউ পাহাড়ের ভিতরেও আত্মগোপন করে, উক্ত বাতাস সেখানে প্রবেশ করেও তার রূহ কবয করবে।

তিনি (সা.) বলেছেন, অতঃপর কেবলমাত্র নিকৃষ্ট ফাসিক ও খারাপ লোকগুলোই অবশিষ্ট থাকবে। তারা নিষ্ঠুর পাখিদের মতো দ্রুতগামী এবং খুন-খারাবিতে হিংস্র জন্তুর ন্যায় নিষ্ঠুর হবে। ভালো-মন্দ তারতম্য করার কোন যোগ্যতা তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে না। তখন শয়তান একটি আকৃতি ধারণ করে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমাদের ডাকে কী সাড়া দিব না? তখন লোকেরা বলবে, আচ্ছা তুমিই বল আমাদের কি করা উচিত। অতঃপর শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজায় আদেশ করবে। এ অবস্থায় তারা অতি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও ভোগ-বিলাসে জীবনযাপন করতে থাকবে। অতঃপর শিঙ্গায় ফুক দেয়া হবে এবং যে লোকই উক্ত আওয়াজ শুনবে, সে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এদিক-সেদিক মাথা ঘুরাতে থাকবে।

তিনি (সা.) বললেন, সর্বপ্রথম উক্ত আওয়াজ সেই লোকই শুনতে পাবে, যে তার উটের জন্য পানির হাওয মেরামত কার্যে রত। সে তখন ভীত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে এবং তার সাথে সাথে অন্যান্য লোকও মারা যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা কুয়াশার মতো খুব হালকা ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তাতে ঐ সকল দেহগুলো সজীব হয়ে উঠবে, যেগুলো কবরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে রয়েছিল। অতঃপর দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন সমস্ত লোক উঠে দাঁড়াবে। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হবে, হে লোকসকল! তোমরা দ্রুত তোমাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসো। (ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে) ঐখানে তাদেরকে থামিয়ে রাখ, তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। অতঃপর মালায়িকা- (ফেরেশতাদেরকে) বলা হবে, ঐ সকল লোকদেরকে বের কর যারা জাহান্নামের উপযোগী হয়েছে। তখন মালায়িকাহ্ বলবেন, কতজন থেকে কতজন বের করব? বলা হয়, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বইজনকে জাহান্নামের জন্য বের কর। এ পর্যন্ত বলার পর তিনি (সা.) বললেন, এটা সেদিন যেদিন সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে- (يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) ’সেদিন শিশুদেরকে বৃদ্ধ করে ফেলবে।’ (অর্থাৎ সেদিনের বিভীষিকায় শিশুও বৃদ্ধ হয়ে যাবে)
(يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ) ’সেদিন বিরাট সংকটময় অবস্থায় প্রকাশ পাবে।’ (মুসলিম)

মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ) পূর্বে তাওবার’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ» لَا أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ عَامًا «فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُثُ فِي النَّاسِ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبِدِ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ» قَالَ: فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ وَأَحْلَامِ السِّبَاعِ لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ أَلَا تَسْتَجِيبُونَ؟ فَيَقُولُونَ: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌّ رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا أَصْغَى لِيتًا وَرَفَعَ لِيتًا قَالَ: وَأَوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ فَيَصْعَقُ وَيَصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا كَأَنَّهُ الطَّلُّ فَيَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُ النَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَيُّهَا الناسُ هَلُمَّ إِلى ربِّكم وقفوهُم إِنَّهم مسؤولونَ. فَيُقَالُ: أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ. فَيُقَالُ: مِنْ كَمْ؟ كَمْ؟ فَيُقَالُ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: «فَذَلِكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذُكِرَ حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ» فِي «بَاب التَّوْبَة»

رواہ مسلم (116 / 2940)، (7381) 0 حدیث معاویۃ : لا تنقطع الھجرۃ ، تقدم (2346) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يخرج الدجال فيمكث أربعين» لا أدري أربعين يوما أو شهرا أو عاما «فيبعث الله عيسى ابن مريم كأنه عروة بن مسعود فيطلبه فيهلكه ثم يمكث في الناس سبع سنين ليس بين اثنين عداوة ثم يرسل الله ريحا باردة من قبل الشام فلا يبقى على وجه الأرض أحد في قلبه مثقال ذرة من خير أو إيمان إلا قبضته حتى لو أن أحدكم دخل في كبد جبل لدخلته عليه حتى تقبضه» قال: فيبقى شرار الناس في خفة الطير وأحلام السباع لا يعرفون معروفا ولا ينكرون منكرا فيتمثل لهم الشيطان فيقول ألا تستجيبون؟ فيقولون: فما تأمرنا؟ فيأمرهم بعبادة الأوثان وهم في ذلك دار رزقهم حسن عيشهم ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه أحد إلا أصغى ليتا ورفع ليتا قال: وأول من يسمعه رجل يلوط حوض إبله فيصعق ويصعق الناس ثم يرسل الله مطرا كأنه الطل فينبت منه أجساد الناس ثم ينفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون ثم يقال: يا أيها الناس هلم إلى ربكم وقفوهم إنهم مسؤولون. فيقال: أخرجوا بعث النار. فيقال: من كم؟ كم؟ فيقال: من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعين قال: «فذلك يوم يجعل الولدان شيبا وذلك يوم يكشف عن ساق» . رواه مسلم وذكر حديث معاوية: «لا تنقطع الهجرة» في «باب التوبة»

ব্যাখ্যা: (يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ) দাজ্জাল বের হয়ে ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা.) এর কোন ব্যাখ্যা দেননি। হয়তো ৪০ দিন হবে না হয় মাস আর তা না হলে বছর হতে পারে। এই তিনটির কোন একটি নবী (সা.) উদ্দেশ্য করেছেন।

(فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ) অতঃপর নিকৃষ্ট মানুষেরাই বেঁচে থাকবে দোদুল্যমান অবস্থায়। ‘আল্লামাহ্ ক্বাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (خِفَّةِ الطَّيْرِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সামান্য সন্দেহ হলেই দোদুল্যমান ও উৎকণ্ঠায় থাকবে। মন্দ বা খারাপ লোকদের তুলনা দিতে গিয়ে এই উদাহরণ দেয়ার কারণ হলো তারা তাদের মধ্যে প্রশান্তি ও স্থিরতায় থাকবে না। তারা পাখির মতো বিচরণ করতে থাকবে সংশয়ে, পাপাচার ও বিপর্যয় সৃষ্টিতে।
(وَأَحْلَامِ السِّبَاعِ) তারা পশুর ন্যায় জ্ঞানশূন্য থাকবে। তাদের মধ্যে কোন ধৈর্য পরিলক্ষিত হবে না। সর্বদা রাগান্বিত থাকবে এবং দয়ামায়া কম থাকবে।
(لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا) তারা কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ কিছুই বুঝবে না। ফলে তাদের কর্মে উলটপালট দেখা দিবে।
(فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ) অতঃপর শয়তান মানুষের আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে তাদের মধ্যে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকবে। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা শয়তান মানুষের কথা পবিত্র কুরআনে বলেছেন এভাবে,
(وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیۡنَ الۡاِنۡسِ وَ الۡجِنِّ) “এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর নিকট মানুষ এবং জিন্ শয়তানকে শত্রু হিসেবে পাঠিয়েছি।” (সূরা আল আ'আম ৬: ১১২)
(فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ) অতঃপর শয়তান তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায় হিসেবে মূর্তিপূজার প্রতি আদেশ করে বলবে, আল্লাহর কাছে আমল পৌছাতে হলে এই মূর্তিগুলোয় ওয়াসীলাহ্ গ্রহণ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেন, (مَا نَعۡبُدُهُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰهِ زُلۡفٰی) “আমরা তো তাদের ইবাদাত করি এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য পৌছিয়ে দিবে।” (সূরা আয যুমার ৩৯: ৩)
তারা আরো বলে, (وَ یَقُوۡلُوۡنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰهِ) “এরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী।” (সূরা ইউনুস ১০: ১৮)
(فَيُقَالُ: أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ) অতঃপর মালায়িকারকে (ফেরেশতাদেরকে) উদ্দেশ্য করে বলা হবে, সমস্ত মানুষের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে আলাদা করে ফেল। তখন সম্বোধিত মালাক জিজ্ঞেস করবে কত জন?
(فَيُقَالُ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ) তখন বলা হবে প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জনকে আলাদা করে ফেল। যারা তাদের কৃতকর্মের দ্বারা জাহান্নামকে আবশ্যক করে নিয়েছে।
সম্ভবত এরা হবে কাফির যারা বিনা হিসাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং সেথায় চিরদিন অবস্থান করবে। অথবা, যারা অপরাধের কারণে জাহান্নামী হবে এবং শাস্তির পরিমাণ অনুযায়ী তথায় অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলাই এ ব্যাপারে অধিক অবগত।
(فَذَلِكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) সেই সময়টি এতই ভয়ানক হবে যে, শিশু বাচ্চারা ঐ অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হবে। (يَوْمَ) শব্দটি যবরযুক্ত পড়তে হবে। যেহেতু পবিত্র কুরআনে এভাবেই ব্যবহার হয়েছে।
(يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) এমনিভাবে পরবর্তী (يَوْمَ) শব্দার্থও যবরযুক্ত পড়তে হবে। এটাও পবিত্র কুরআনের অনুরূপ (وۡمَ یُکۡشَفُ عَنۡ سَاقٍ) “যেদিন (কিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে...”- (সূরাহ্ আল কলাম ৬৮: ৪২)।
অর্থাৎ ভয়াবহ অবস্থা আরবীতে বলা হয়: (كَشَفَتِ الْحَرْبُ عَنِ السَّاقِ) যখন যুদ্ধ কঠিন অবস্থা ধারণ করে। মূলত শব্দটির ব্যবহার এসেছে একটি বিশেষ প্রসঙ্গে, তা হলো যখন উটের পেটের ভিতর বাচ্চা মারা যায় তখন তার ধ্বংসকারী ব্যক্তি তার হাতকে জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে তার পা ধরে টেনে বের করে আনে। অতঃপর প্রত্যেক জটিল ও মারাত্মক বিষয়ের ক্ষেত্রে (ساق) শব্দটিকে প্রয়োগ করা হয়।
‘আল্লামাহ খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মাশায়েখগণের নিকট এটি বহুল প্রচলিত যে, প্রত্যেক ঐ ব্যাপারে শব্দটিকে প্রয়োগ করা যেখানে বিষয়টি জটিল কিন্তু এর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা সম্ভবপর নয়। আর যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তারা বলেছেন, ব্যাপারটি হলো দুনিয়ার প্রস্থান এবং কিয়ামতের আগমন একটি বিভীষিকাময় অবস্থা। যখন এটা স্পষ্ট হবে এবং তার অস্পষ্টতা দূর হয়ে যাবে তখন বিষয়টিকে বলা হবে (كَشَفَ عَنْ سَاقِهِ) যদিও সংবাদের ক্ষেত্রে কোন (ساق) বা পায়ের সম্পর্ক নেই।

(وَذُكِرَ حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ») মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, হিজরত ততদিন বন্ধ হবে না যতদিন তাওবার দরজা বন্ধ হবে না। আর তাওবাহ্ ততদিন পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতদিন পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত না হবে। হাদীসে উল্লেখিত হিজরতের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গুনাহকে পরিত্যাগ করে কল্যাণের পথে ফিরে আসা অথবা বিদআতী গৃহ পরিত্যাগ করে সুন্নাতের গৃহে পদার্পণ করা অথবা খারাপ রাষ্ট্র থেকে কল্যাণের রাষ্ট্রে চলে আসা। (মিরকাতুল মাফাতীহ শারহুন নাবাবী ১৮তম খণ্ড, হা, ২৯৪০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৫ পর্যন্ত, সর্বমোট ৫ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে