পরিচ্ছেদঃ ২/২. সালাতের জন্য পবিত্ৰতা আবশ্যক
১৩৪. আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বায়ু নির্গত হবার পর ওযূ না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তোমাদের কারো সালাত কবুল করবেন না।
وجوب الطهارة للصلاة
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَقْبَلُ اللهُ صَلاَةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩. ওযুর গুণাগুণ এবং তার পরিপূর্ণতা
১৩৫. ’উসমান ইবনু ’আফ্ফান (রাযি.) উযূর পানি আনালেন। অতঃপর তিনি সে পাত্র হতে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর মাথা মাসহ(মাসেহ) করলেন। অতঃপর উভয় পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’যে ব্যক্তি আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করে দু’রাক’আত সালাত আদায় করবে এবং তার মধ্যে অন্য কোন চিন্তা মনে আনবে না, আল্লাহ্ তা’আলা তার পূর্বকৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।
صفة الوضوء وكماله
حَدِيْثُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا وَقَالَ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
পাত্রের বাইরে হাত ধোয়ার বিধান
পাত্রের বাইরে দু'হাতের উপর পানি ঢেলে হাত ধোয়ার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন হুকুম হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে মতভেদ পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার বিধান এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আবু হানীফা, মালিক ও শাফেয়ী রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন, অযুতে এ দু'টিই সুন্নাত। ইমাম আহমাদ ইবন আবী লাইলা ও দাউদ আয যাহেরী বলেন, দু'টোই ফরয। ইমাম আবু সাওর, আবূ উবাইদ ও আহলে যাহেরদের অপর গোষ্ঠীর নিকট কুলি করা সুন্নাত কিন্তু নাকে পানি নেয়া ফরয।
মাথা কতটুকু মাসেহ করবে?
মাথা মাসাহ করা ফরয হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের আলেমগণের ঐকমতা রয়েছে। অনুরূপভাবে পূর্ণ মাথা মাসাহ করা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারেও তাদের ঐকমত্য রয়েছে কিন্তু মাথার কতটুকু মাসাহ করা ফরয তা নির্ধারণে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক ও আহমাদ রাহিমাহুমাল্লাহার মতে পূর্ণ মাথা মাসাহ করাই ফরয।
ইমাম আবু হানীফা, শাফেয়ী, আওযায়ী, সাওরী বলেন, মাথার কিছু অংশ মাসাহ করলেই। ফরয আদায় হয়ে যাবে; এ কিছু অংশ নির্ধারণে তারা আবার মতভেদ করেছেন। আবু হানীফা বলেন, এক-চতুর্থাংশ এবং মালেকী মাযহাবের কারো কারো মতে এক-তৃতীয়াংশ। তবে ইমাম শাফেয়ী কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি। বরং তার নিকট মাসাহ বলতে যা বুঝায় তা হলেই হবে। তবে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে যে, পুরো মাথা মাসাহ করতে হবে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও মাথার কিছু অংশ মাসাহ করা যথেষ্ট মনে করেছেন তেমন প্রমাণ নেই। যেখানে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথার সামনের অংশ মাসাহ করেছেন সেখানেও এসেছে যে, তিনি বাকী মাথার মাসাহ করার জন্য পাগড়ীর উপর তা সম্পন্ন করেছেন। (আর পাগড়ীর ওপর মাসাহ তখনই হবে যখন তা মুহান্নাক বা গলার নিচ দিয়ে পেঁচ দিয়ে শক্ত করে মজবুতভাবে আটকে পাগড়ী বাঁধা হবে।)
অযুতে আবশ্যকীয় কাজ
"উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এ হাদীসটি অযুর বর্ণনার ক্ষেত্রে অনন্য। এ হাদীসটি যদি আমরা কুরআনুল কারীমের সূরা আল-মায়েদাহ'র ৬নং আয়াতের সাথে মিলিয়ে দেখি, তখন অযুতে কী কী করা অত্যাবশ্যক তা সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে। সে হিসেবে অযুতে নিম্নোক্ত কাজগুলো অত্যাবশ্যক
১. মুখমণ্ডল ধৌত করা, আর মুখ ও নাক মুখমণ্ডলেরই অংশ। যেমনটি এ হাদীসে এসেছে।
২. কনুইসহ দুহাত ধৌত করা।
৩. মাথা মাসাহ করা আর দু'কান মাথারই অংশ।
৪. দু'পা ধৌত করা।
তাছাড়া আরো যেগুলো বাস্তবেই এসে যায় কিন্তু কুরআনে শব্দ দিয়ে উল্লেখ করা হয়নি, তা হচ্ছে
৫. ধৌত অঙ্গের মধ্যে পরস্পর ক্রমবিন্যাস বজায় রাখা। কেননা আল্লাহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং দু'অঙ্গ ধোয়ার মধ্যে একটি মাসাহ করার বিষয় উল্লেখ করেছেন যা ক্রমবিন্যাস আবশ্যক হওয়া বুঝায়।
৬. অযু করার সময় এক অঙ্গ ধৌত করার সাথে সাথেই বিলম্ব না করে অন্য অঙ্গ ধৌত করা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে করেছেন।
অনুরূপভাবে আরো একটি কাজ রয়েছে যা করার আবশ্যকতা কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে:
৭. নিয়ত করা, অর্থাৎ অন্তরে সুদৃঢ়ভাবে নির্ধারণ করে সালাতে দাঁড়ানো।
হাদীসের শিক্ষা
১. অযুর পানির পাত্রে হাত ঢুকানোর পূর্বে তিনবার তা বাইরে ধুয়ে ফেলাই হচ্ছে বৈধ নিয়ম।
২. অযুর অঙ্গ ধোয়ার জন্য ডান হাত ব্যবহার করাই শরীআতসম্মত পদ্ধতি।
৩. কুলি, নাকে পানি নেয়া, নাকের পানি ঝাড়ার বিষয়টি এভাবে ক্রমান্বয়ে করা হবে।
৪. মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন পার্শ্ব দিক থেকে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত এবং লম্বায় মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে থুতনী পর্যন্ত পুরো জায়গায় সম্পন্ন হয়। আর তা তিনবার করা সুন্নাত। মনে রাখা দরকার নাক ও মুখ চেহারার অন্তর্ভুক্ত। কারণ, আরবদের নিকট চেহারা হচ্ছে যা দেখা করার সময় সামনে প্রতিভাত হয়ে থাকে।
৫. দু'হাত কনুই সমেত তিনবার ধৌত করাই শরীআতসম্মত। আগে হাত ধৌত করলেও এখন আবারও পূর্ণ হাত কনুই সমেত তিনবার ধৌত করা বিধিসম্মত।
৬. পুরো মাথা একবার মাসাহ করতে হবে। দু'হাত দিয়ে মাথার সামনের দিক থেকে পিছনে নিবে, তারপর পিছন দিক থেকে সামনে আসবে।
৭. দু'পা টাখনু সমেত তিনবার ধৌত করবেন।
৮. এসব কাজের মধ্যে তারতীব বা ক্রমধারা অনুসরণ করতে হবে; কারণ আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৌত করার বিষয়াবলির মাঝখানে মাসাহ করার জিনিস উল্লেখ করেছেন, যা দ্বারা বুঝা যায় এ তারতীব রক্ষা করা জরুরী।
৯. হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতিটিই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযু করার পূর্ণ পদ্ধতি।
১০. অযুর পরে দু'রাক'আত সালাত আদায় করা বিধিসম্মত।
১১. আল্লাহর সামনে হাযির হওয়া। তাছাড়া ইখলাসের সাথে তা পালন করা। যদি দুনিয়ার জিনিস তাতে ঘটে যায় তখন তা কবুল নাও হতে পারে। আর কারো সালাতের মধ্যে দুনিয়ার জিনিসের অনুপ্রবেশ ঘটলে সে যদি তা তাড়াতে সক্ষম হয় তবে সেটার জন্য তার সাওয়াব রয়েছে।
১২. পূর্ণ অযুর সাওয়াব অনেক। কারণ এর মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
১৩. হাদীসে উক্ত সাওয়াব পেতে হলে দু'টি জিনিস লাগবে- (ক) যেভাবে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু পূর্ণাঙ্গ অযু করে দেখিয়েছেন সে রকম অযু করা। (খ) তারপর দু' রাকআত সালাত পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করা। এ দু'টি মিলেই ক্ষমার ঘোষণা। তবে আলেমগণ বলেন, এ ক্ষমা কেবল ছোট ছোট গুনাহের জন্য। বড় বা কবীরা গুনাহের জন্য তাওবাহ লাগবে।
পরিচ্ছেদঃ ২/৭. নবী (ﷺ)-এর উযূ প্রসঙ্গে
১৩৬. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ (রাযি.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি এক পাত্র পানি আনালেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মত উযূ করলেন। তিনি পাত্র থেকে দু’হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দু’টি তিনবার ধুলেন। অতঃপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন খাবর পানি নিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দু’ হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাত্র মাথা মাসহ(মাসেহ) করলেন। তারপর দু’ পা টাখনু পর্যন্ত ধুলেন।
في وضوء النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدِيْثُ عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنْ التَّوْرِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ غَرَفَاتٍ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَمَسَحَ رَأْسَهُ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ২/৮. নাকে পানি দেয়া ও ঝাড়া এবং ইস্তিনজায় বেজোড় টিলা-পাথর ব্যবহার করা
১৩৭. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.)-হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উযূ করে সে যেন নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করে। আর যে শৌচকার্য করে সে যেন বিজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে।
الإيتار في الاستنثار والاستجمار
حَدِيْثُ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ
পরিচ্ছেদঃ ২/৮. নাকে পানি দেয়া ও ঝাড়া এবং ইস্তিনজায় বেজোড় টিলা-পাথর ব্যবহার করা
১৩৮. আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’তোমাদের কেউ যখন ঘুম হতে উঠল এবং উযূ করল তখন তার উচিত নাক তিনবার ঝেড়ে ফেলা। কারণ, শয়তান তার নাকের ছিদ্রে রাত কাটিয়েছে।’
الإيتار في الاستنثار والاستجمار
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أُرَاهُ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَتَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ ثَلَاثًا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/৯. পদদ্বয় পরিপূর্ণভাবে ধৌত করার আবশ্যকতা
১৩৯. আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পিছনে পড়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের নিকট পৌঁছলেন, এদিকে আমরা (’আসরের) সালাত আদায় করতে বিলম্ব করে ফেলেছিলাম এবং আমরা উযূ করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দ্বারা ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্চৈস্বঃরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুকনো থাকার) জন্য জাহান্নামের ’আযাব রয়েছে। তিনি দু’বার বা তিনবার এ কথা বললেন।
وجوب غسل الرجلين بكمالهما
حَدِيْثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ سَافَرْنَاهُ فَأَدْرَكَنَا وَقَدْ أَرْهَقْنَا الصَّلاَةَ صَلاَةَ الْعَصْرِ وَنَحْنُ نَتَوَضَّأُ فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবীগণ বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা থেকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করার পথে যখন রাস্তায় একটি পানির কূপের নিকট পৌঁছলাম, আমাদের মধ্যকার কতক লোক আসরের সময় তাড়াতাড়ি অযু করতে গেলেন এবং তাড়াহুড়া করে অযু করলেন। অতঃপর আমরা তাদের নিকট পৌঁছলাম ও দেখলাম তাদের পায়ের গোড়ালী শুষ্ক চকচক করছে, সেখানে পানি পৌঁছেনি, তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে সাবধান করেছেন।
হাদিস থেকে শিক্ষা
১. পা ধোয়া ফরয। আর এটিই কুরআন, হাদীস, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং তাবেয়ীগণের মত। এর ওপরই উম্মতের ইজমা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিয়াদের বিরোধিতা গ্রহণযোগ্য নয়।
২. এ জন্যই অযুর জায়গায় যদি দৃশ্যমান প্রলেপ পড়ে এমন কিছু থাকে, যার কারণে শরীরের চামড়ায় পানি পৌঁছবে না এমন হয়ে যায়, তবে তা সরানো পর্যন্ত অযু হবে না। যেমন- নেইল পালিশ, প্রলেপ বিশিষ্ট রঙ, কড়া মেকআপ ইত্যাদি। অযু বা গোসল বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য তা অবশ্যই দূর করতে হবে।
৩. যারা অযু করার ক্ষেত্রে কসুর করবে তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২/৯. পদদ্বয় পরিপূর্ণভাবে ধৌত করার আবশ্যকতা
১৪০. মুহাম্মদ ইবনু যিয়াদ (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে উযূ করছিল। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে উযূ কর। কারণ আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালীগুলোর জন্য দোযখের ’আযাব রয়েছে।
وجوب غسل الرجلين بكمالهما
حَدِيْثُ أَبِيْ هُرَيْرَةَ وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا وَالنَّاسُ يَتَوَضَّئُونَ مِنَ الْمِطْهَرَةِ قَالَ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ فَإِنَّ أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ২/১২. উযূর ভেতর চমকানোর স্থানগুলো বৃদ্ধিকরা মুস্তাহাব এবং উযূর অঙ্গগুলো ঠিকভাবে ধৌত করা
১৪১. আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহবান করা হবে যে, উযূর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।
استحباب إطالة الغرة والتحجيل في الوضوء
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى ظَهْرِ الْمَسْجِدِ فَتَوَضَّأَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ فَمَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৫. মিসওয়াক
১৪২. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য বা তিনি বলেছেন, লোকেদের জন্য যদি কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক সালাতের সাথে তাদের মিস্ওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
السواك
أحَدِيْثُ بِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاَةٍ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৫. মিসওয়াক
১৪৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। তখন তাঁকে দেখলাম তিনি মিসওয়াক করছেন এবং মিসওয়াক মুখে দিয়ে তিনি উ’ উ’ শব্দ করছেন যেন তিনি বমি করছেন।
السواك
حَدِيْثُ أَبِي مُوسَى قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ يَسْتَنُّ بِسِوَاكٍ بِيَدِهِ يَقُولُ أُعْ أُعْ وَالسِّوَاكُ فِي فِيهِ كَأَنَّه يَتَهَوَّعُ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৫. মিসওয়াক
১৪৪. হুযায়ফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (সালাতের জন্য) উঠতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।
السواك
. حَدِيْثُ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৬. ফিতরাতের স্বভাব
১৪৫. আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ ফিতরাত (অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাব) পাঁচটিঃ খাত্না করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নীচে), বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।
خصال الفطرة
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رِوَايَةً الْفِطْرَةُ خَمْسٌ أَوْ خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ الْخِتَانُ وَالِاسْتِحْدَادُ وَنَتْفُ الْإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَقَصُّ الشَّارِبِ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৬. ফিতরাতের স্বভাব
১৪৬. ইবনু ’উমার (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাঁড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।
خصال الفطرة
حَدِيْثُ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ وَفِّرُوا اللِّحَى وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৬. ফিতরাতের স্বভাব
১৪৭. ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি বড় রাখবে।
خصال الفطرة
حَدِيْثُ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْهَكُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى
পরিচ্ছেদঃ ২/১৭. (পেশাব-পায়খানা করার সময় কাবার দিকে মুখ বা পিঠ না করার ব্যাপারে) সতর্কতা অবলম্বন করা।
১৪৮. আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা পায়খানা করতে যাও, তখন কিবলাহর দিকে মুখ করবে না কিংবা পিঠও দিবে না, বরং তোমরা পূর্ব দিকে অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বসবে।
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাযি.) বলেনঃ আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন পায়খানাগুলো কিবলামুখী বানানো পেলাম। আমরা কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহ তা’আলার নিকট তওবা ইসতেগফার করতাম।
الاستطابة
حَدِيْثُ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا أَتَيْتُمْ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا
قَالَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَدِمْنَا الشَّأْمَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ وَنَسْتَغْفِرُ اللهَ تَعَالَى
পরিচ্ছেদঃ ২/১৭. (পেশাব-পায়খানা করার সময় কাবার দিকে মুখ বা পিঠ না করার ব্যাপারে) সতর্কতা অবলম্বন করা।
১৪৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ’লোকে বলে পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলার দিকে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে বসবে না।’ ’আবদুল্লাহ্ ইবন ’উমার (রাযি.) বলেন, ’আমি একদা আমাদের ঘরের ছাদে উঠলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে দু’টি ইটের উপর স্বীয় প্রয়োজনে বসেছেন।
الاستطابة
حَدِيْثُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ إِذَا قَعَدْتَ عَلَى حَاجَتِكَ فَلاَ تَسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ وَلاَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَقَدْ ارْتَقَيْتُ يَوْمًا عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلًا بَيْتَ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৭. (পেশাব-পায়খানা করার সময় কাবার দিকে মুখ বা পিঠ না করার ব্যাপারে) সতর্কতা অবলম্বন করা।
১৫০. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আমি আমার বিশেষ এক প্রয়োজনে হাফসাহ (রাযি.)-এর ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন দেখলাম, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে শাম-এর দিকে মুখ করে তাঁর প্রয়োজনে বসেছেন।’
الاستطابة
حَدِيْثُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ ارْتَقَيْتُ فَوْقَ ظَهْرِ بَيْتِ حَفْصَةَ لِبَعْضِ حَاجَتِي فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْضِي حَاجَتَهُ مُسْتَدْبِرَ الْقِبْلَةِ مُسْتَقْبِلَ الشَّأْمِ
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে, বাধা দিবে না এমন হলে, কারো ঘরের ছাদে উঠা জায়েজ। প্রয়োজন বলতে হাদীসে পায়খানা সারার কথা বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, যা বলা অসুন্দর তা ভিন্নভাবে তুলে ধরাই শ্রেয়।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে উক্ত হাদীস দু'টিকে পরস্পর বিরোধী মনে হলেও আসলে তা পরস্পর বিরোধী নয়। এ ব্যাপারে আলেমগণের কয়েকটি মত পাওয়া যায়-
(১) আলেমগণের কেউ কেউ উভয় হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য সাধনে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের মধ্যে প্রাকৃতিক কাজ করছিলেন, আর পূর্বোক্ত হাদীসের নির্দেশনা হচ্ছে ঘরের বাইরের স্থানের জন্য।
(২) অপর দল বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এটা বিশেষ ব্যতিক্রম ছিল।
(৩) কেউ বলেছেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমার উপরোক্ত ঘটনাটি সম্ভবত নিষেধ করার পূর্বে ছিল।
পরিচ্ছেদঃ ২/১৮. ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা করা নিষিদ্ধ
১৫১. আবূ কাতাদাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন পান করে, তখন সে যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ছাড়ে। আর যখন শৌচাগারে যায় তখন তার পুরুষাঙ্গ যেন ডান হাত দিয়ে স্পর্শ না করে এবং ডান হাত দিয়ে যেন শৌচকার্য না করে।
النهي عن الاستنجاء باليمين
حَدِيْثُ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلاَ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلاَ يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/১৯. পবিত্রতা হাসিল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা
১৫২. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক হতে আরম্ভ করতে পছন্দ করতেন।
التيمن في الطهور وغيره
حَدِيْثُ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ فِي تَنَعُّلِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَطُهُورِهِ وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
ডান দিক যে কোনো ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করা সুন্নাতসম্মত। ইমাম সানাআনী বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কর্তৃক কোনো কিছু পছন্দ করার বিষয়টি বর্ণিত হলে সেটি নিদেনপক্ষে বৈধ হওয়া সাব্যস্ত করে; কারণ তা হয় ওয়াজিব হবে না হয় মুস্তাহাব হবে। ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ডান দিক ব্যবহারের এ নিয়ম থেকে বাথরুমে প্রবেশ করা, মসজিদ থেকে বের হওয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডগুলো ব্যতিক্রম ধরা হবে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১। প্রকৃত ইসলাম ধর্মের একটি স্থায়ী বিধান হলো এই যে, সম্মানিত ও সমাদৃত কাজে অথবা যে বিষয়টির দ্বারা সম্মান ও মর্যাদাদান করা হয়: যেমন জামাকাপড়, পাজামা, মোজা পরিধান করা। এবং মাসজিদে প্রবেশ, মেসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার করা, চোখে কাজল বা সুরমা লাগানো, নখ কাটা, মোচ ছাঁটা, চিরনির দ্বারা মাথার চুল আঁচড়াবার সময়, বগলের চুল উপড়ানো বা তুলে ফেলার সময়, মাথার চুল মুণ্ডন এবং নামাজ শেষে সালাম ফেরানো, পবিত্রতার্জন করার সময়, দেহের অঙ্গগুলি ধৌত করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা উত্তম। অনুরূপভাবে শৌচাগার বা টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময়, পানাহার ও মুসাফাহা করার সময় এবং হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় এবং আরো ইত্যাদি সেই সমস্ত কাজে ডান হাত কিংবা দিক থেকে আরম্ভ করা উত্তম বা মুস্তাহাব যে সমস্ত কাজে সম্মান ও মর্যাদাদান করা হয় ।
২। তবে যে সমস্ত কাজে সম্মান ও মর্যাদা দান করা হয় না যেমন, শৌচাগার বা টয়লেটে প্রবেশ করা, মাসজিদ থেকে বের হওয়া, নাক পরিষ্কার করা, মলত্যাগের পর মলদ্বার ইত্যাদি পরিষ্কার করা, জামাকাপড়, পাজামা, মোজা ইত্যাদি খোলার কাজগুলি বাম দিক থেকে সম্পাদন করা উত্তম বা মুস্তাহাব। আর এই বিধানটির উদ্দেশ্য হলো ডান দিকের সম্মান ও মর্যাদা দান করা।
৩। প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির একটি অপরিহার্য বিষয় হলো এই যে, তারা যেন প্রকৃত ইসলাম ধর্মের কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সঠিক পন্থায় অনুসরণ করে।
পরিচ্ছেদঃ ২/২১. পেশাব-পায়খানায় পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা
১৫৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় যেতেন তখন আমি এবং একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ’আনাযাহ’ নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।
الاستنجاء بالماء من التبرز
حَدِيْثُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلَاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلَامٌ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَزَةً يَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ২/২১. পেশাব-পায়খানায় পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা
১৫৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হলে আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে যেতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচকার্য করতেন।
الاستنجاء بالماء من التبرز
حَدِيْثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَبَرَّزَ لِحَاجَتِهِ أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فَيَغْسِلُ بِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/২২. দু' মোজার উপর মাসহ করা
১৫৫. জারীর ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি পেশাব করলেন। অতঃপর উযূ করলেন আর উভয় মোজার উপরে মাসহ (মাসেহ) করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেও এরূপ করতে দেখেছি।
المسح على الخفين
حَدِيْثُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بَالَ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَسُئِلَ فَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَنَعَ مِثْلَ هَذَا
পরিচ্ছেদঃ ২/২২. দু' মোজার উপর মাসহ করা
১৫৬. হুযায়ফাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার স্মরণ আছে যে, একদা আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাথে চলছিলাম। তিনি দেয়ালের পিছনে মহল্লার একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এলেন। অতঃপর তোমাদের কেউ যেভাবে দাঁড়ায় সে ভাবে দাঁড়িয়ে তিনি পেশাব করলেন। এ সময় আমি তাঁর নিকট হতে সরে যাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে ইঙ্গিত করলেন। আমি এসে তাঁর পেশাব করা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে রইলাম।
المسح على الخفين
حَدِيْثُ حُذَيْفَةَ قَالَ رَأَيْتُنِي أَنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَتَمَاشَى فَأَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ خَلْفَ حَائِطٍ فَقَامَ كَمَا يَقُومُ أَحَدُكُمْ فَبَالَ فَانْتَبَذْتُ مِنْهُ فَأَشَارَ إِلَيَّ فَجِئْتُهُ فَقُمْتُ عِنْدَ عَقِبِهِ حَتَّى فَرَغَ
পরিচ্ছেদঃ ২/২২. দু' মোজার উপর মাসহ করা
১৫৭. মুগীরাহ ইব্নু শু’বা (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আল্লাহর রসূল ﷺ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলে তিনি (মুগীরাহ) পানিসহ একটি পাত্র নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল ﷺ প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করে এলে তিনি তাঁকে পানি ঢেলে দিলেন। আর তিনি ﷺ উযূ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন। (বুখারী পর্ব ৪ঃ /৪৮ হাঃ ২০৩, মুসলিম হাঃ )
المسح على الخفين
حَدِيْثُ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَرَجَ لِحَاجَتِهِ فَاتَّبَعَهُ الْمُغِيرَةُ بِإِدَاوَةٍ فِيهَا مَاءٌ فَصَبَّ عَلَيْهِ حِينَ فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ২/২২. দু' মোজার উপর মাসহ করা
১৫৮. মুগীরাহ ইবনু শু’বা (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে মুগীরাহ! বদনাটি নাও। আমি তা নিলাম। তিনি আমার দৃষ্টির অগোচরে গিয়ে প্রয়োজন সারলেন। তখন তাঁর শরীরে ছিল শামী জুব্বা। তিনি জুব্বার আস্তিন হতে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন সংকীর্ণ হবার ফলে তিনি নীচের দিক দিয়ে হাত বের করলেন। আমি পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। আর তাঁর উভয় চামড়ার মোজার উপর মাসহ(মাসেহ) করলেন ও পরে সালাত আদায় করলেন।
المسح على الخفين
حَدِيْثُ المُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَقَالَ يَا مُغِيرَةُ خُذْ الْإِدَاوَةَ فَأَخَذْتُهَا فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى تَوَارَى عَنِّي فَقَضَى حَاجَتَهُ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَأْمِيَّةٌ فَذَهَبَ لِيُخْرِجَ يَدَهُ مِنْ كُمِّهَا فَضَاقَتْ فَأَخْرَجَ يَدَهُ مِنْ أَسْفَلِهَا فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ فَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ صَلَّى
পরিচ্ছেদঃ ২/২২. দু' মোজার উপর মাসহ করা
১৫৯. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (তাবূক) সফরে এক রাত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সাথে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেঁটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের আঁধারে আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তাঁর (অযুর) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমণ্ডল ও দু’হাত ধৌত করলেন। তাঁর পরিধানে ছিল পশমের জামা। তিনি তা থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করলেন এবং দু’হাত ধৌত করলেন। অতঃপর মাথা মাসহ(মাসেহ) করলেন। অতঃপর আমি তাঁর মোজা দু’টি খুলতে ইচ্ছে করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় তা পরিধান করেছি। অতঃপর তিনি মোজাদ্বয়ের উপর মাসহ(মাসেহ) করেন।
المسح على الخفين
حَدِيْثُ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي سَفَرٍ فَقَالَ أَمَعَكَ مَاءٌ قُلْتُ نَعَمْ فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَمَشَى حَتَّى تَوَارَى عَنِّي فِي سَوَادِ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ الْإِدَاوَةَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُخْرِجَ ذِرَاعَيْهِ مِنْهَا حَتَّى أَخْرَجَهُمَا مِنْ أَسْفَلِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ أَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ فَقَالَ دَعْهُمَا فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
পরিচ্ছেদঃ ২/২৭. কুকুর কোন কিছু চাটলে তার হুকুম
১৬০. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তবে তা যেন সাতবার ধুয়ে নেয়।
حكم ولوغ الكلب
حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا
পরিচ্ছেদঃ ২/২৮. আবদ্ধ পানিতে পেশাব করা নিষিদ্ধ
১৬১. আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।
النهي عن البول في الماء الراكد
حَدِيْثُ حَدِيْثُ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لاَ يَجْرِي ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
পানি ও তার প্রকারভেদ
যা প্রবাহমান নয় এমন পানি হলো, টাঙ্কির পানি, ছোট জলাধারের পানি ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোতে ময়লা ফেলতে নিষেধ করেছেন যাতে করে তা দূষিত হয়ে না পড়ে। কারণ, এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। মারাত্মক রোগ ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। মানুষের মধ্যে এ জাতীয় পানি ব্যবহারে ঘৃণার জন্ম হতে পারে। পানি বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন রাখা, নষ্ট ও দূষিত না করা ঈমানের দাবি।
পানি তিন প্রকার
১. পবিত্র পানিঃ আর তা হলো পানি তার সৃষ্টিগত স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যমান থাকা। আর তা হলো- যে পানি দ্বারা অপবিত্রতা ও শরীরের পবিত্র অঙ্গের আপতিত নাজাসাত দূর করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “এবং আকাশ থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর যাতে এর মাধ্যমে তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করেন।” [সূরা আল ১১]
২. পবিত্র পানিঃ যে পানি নাজাসাত ছাড়াই রঙ বা স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এ ধরনের পানি নিজে পবিত্র; তবে এর যে কোনো একটি গুণ পরিবর্তন হওয়ার কারণে এর দ্বারা অপবিত্রতা দূর করা যাবে না।
৩. অপবিত্র পানি: যে পানি অল্প বা বেশি নাজাসাতের কারণে এর ৩টি গুণের যেকোনো একটি গুণ পরিবর্তন হয়ে গেছে।
- অপবিত্র পানি পবিত্র হয়ে যাবে, তার পরিবর্তনের কারণ নিজে নিজে দূর হলে বা উক্ত পানি শুকিয়ে ফেললে অথবা এর সাথে এতটুকু পরিমাণ পানি মিশানো; যাতে পরিবর্তনের কারণ দূরীভূত হয়ে যায়।
- যখন কোনো মুসলিম পানির অপবিত্রতা বা পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে তখন সে তার নিশ্চিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে পবিত্রতা অর্জন করবে। আর তা হলো, পবিত্র বস্তুসমূহের আসল হচ্ছে পবিত্র থাকা।
- যখন কোনো পানি, যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায় আর যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায় না এমন কোন পানির সাথে সন্দেহে নিপতিত করবে তখন তা বাদ দিয়ে তায়াম্মুম করবে।
- যখন কোনো পবিত্র কাপড়, অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সাথে একাকার হওয়ার কারণে সন্দেহে নিপতিত করবে, তখন ইয়াকীনের ওপর ভিত্তি করবে এবং সে কাপড় দ্বারা কেবল একটি সালাত আদায় করবে।
হাদিস থেকে শিক্ষা
১. বদ্ধ পানিতে পেশাব করা হারাম, পায়খানা করা আরো বড় হারাম।
২. এ নিষেধাজ্ঞা দ্বারা কি হারাম বুঝানো হয়েছে নাকি মাকরূহে তাহরীমী বুঝানো হয়েছে এ ব্যাপারে দু'টি মত রয়েছে: মালেকীরা বলেন, তা মাকরূহ, আর হাম্বলী ও যাহেরীরা বলেন, তা হারাম বুঝাবে। কোনো কোনো আলেম বলেন, অল্প পানির জন্য তা হারাম, আর বেশি পানির জন্য তা মাকরূহ। তবে হারাম হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।
৩. যদি পানিতে পেশাব করা হয় তবে তা কি নাপাক হয়ে যাবে? এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, যদি পেশাব দ্বারা সে পানি পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। পানি কম হোক কিংবা বেশি। আর যদি পানি এত বেশি হয় যে, তাতে পেশাব তেমন পরিবর্তন করতে পারেনি, তবে সকলের ঐকমত্যে তা পবিত্র। কিন্তু যদি অল্প পানি থাকে আর তা পেশাব বা পায়খানা দ্বারা পরিবর্তন না করে থাকে, তবে এ ব্যাপারে দু'টি মত রয়েছে- ইমাম মালিক, বুখারী ও দাউদ এর মতে তা পবিত্র থেকে যাবে। অন্য দিকে ইমাম আবু হানীফা, শাফোয়ী, আহমাদের মতে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। যদিও ইমাম মালিকের মতটি অনেক সত্যনিষ্ঠ আলেম, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ প্রমুখের মতে বেশি শক্তিশালী।
৪. এ হাদীস থেকে আরো বুঝা যায় যে, অপবিত্র অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বদ্ধ পানি অর্থাৎ টাঙ্কি বা পানির ছোট হাউজে ডুব দিয়ে গোসল করা একেবারেই নিষেধ; যদিও তাতে পেশাব না করা হয়। নিয়ম হচ্ছে সেখান থেকে হাত বা কোনো কিছু দিয়ে পানি নিয়ে পবিত্র হওয়া।
৫. সর্বাবস্থায় কষ্টদায়ক যাবতীয় কাজ ও সীমালঙ্ঘনকারী কোনো কিছু করা নিষেধ হওয়া।
পরিচ্ছেদঃ ২/৩০. মসজিদে পেশাব ও অন্যান্য অপবিত্র দ্রব্যাদি ধৌত করার অপরিহার্যতা এবং মাটি না খুঁড়ে পানির সাহায্যে পরিষ্কার হয়
১৬২. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করলো। লোকেরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তার প্রস্রাব করা বন্ধ করো না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং পানি প্রস্রাবের উপর ঢেলে দেয়া হলো।
وجوب غسل البول وغيره من النجاسات إِذَا حصلت فِي المسجد وأن الأرض تطهر بالماء من غير حاجة إلى حفرها
حَدِيْثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَعْرَابِيًّا بَالَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَامُوا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تُزْرِمُوهُ ثُمَّ دَعَا بِدَلْوٍ مِنْ مَاءٍ فَصُبَّ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩১. দুধপানকারী শিশুর পেশাবের বিধান এবং তা ধৌত করার পদ্ধতি
১৬৩. ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি তাঁদের জন্য দু’আ করতেন। একবার একটি শিশুকে আনা হলো। শিশুটি তাঁর কাপড়ের উপর পেশাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা তিনি কাপড়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন আর তিনি কাপড় ধুলেন না।
حكم بول الطفل الرضيع وكيفية غسله
حَدِيْثُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ فَيَدْعُو لَهُمْ فَأُتِيَ بِصَبِيٍّ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَأَتْبَعَهُ إِيَّاهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩১. দুধপানকারী শিশুর পেশাবের বিধান এবং তা ধৌত করার পদ্ধতি
১৬৪. উম্মু কায়স বিনত মিহসান (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর এমন একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন যে তখনো খাবার খেতে শিখেনি। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে এর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করলেন না।
حكم بول الطفل الرضيع وكيفية غسله
حَدِيْثُ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلْ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَجْلَسَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩২. কাপড় থেকে মনী ধৌত করা এবং তা রগড়ানো
১৬৫. আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি কাপড়ে লাগা বীর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড় হতে তা ধুয়ে ফেলতাম। তিনি কাপড় বোয়ার ভিজা দাগ নিয়ে সালাতে বের হতেন।
غسل المني في الثوب وفركه
حَدِيْثُ عَائِشَةَ سُئِلَتْ عَنِ الْمَنِيِّ يُصِيبُ الثَّوْبَ فَقَالَتْ كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَيَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ وَأَثَرُ الْغَسْلِ فِي ثَوْبِهِ بُقَعُ الْمَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩৩. রক্তের অপবিত্রতা এবং তা ধৌত করার পদ্ধতি
১৬৬. আসমা (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেনঃ (হে আল্লাহর রসূল!) বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লেগে গেলে সে কী করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। অতঃপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।
نجاسة الدم وكيفية غسله
حَدِيْثُ أَسْمَاءَ قَالَتْ جَاءَتْ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ أَرَأَيْتَ إِحْدَانَا تَحِيضُ فِي الثَّوْبِ كَيْفَ تَصْنَعُ قَالَ تَحُتُّهُ ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ وَتَنْضَحُهُ وَتُصَلِّي فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ ২/৩৪. পেশাব অপবিত্র হওয়ার দলীল আর তার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকার অপরিহার্য
১৬৭. ইবনু ’আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তিন বললেনঃ এদের ’আযাব দেয়া হচ্ছে, কোন গুরুতর অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব হতে সতর্ক থাকত না। আর অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াত। তারপর তিনি একখানি কাঁচা খেজুরের ডাল নিয়ে ভেঙ্গে দু’ভাগ করলেন এবং প্রত্যেক কবরের ওপর একখানি গেড়ে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কেন এমন করলেন?’ তিনি বললেনঃ আশা করা যেতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু’টি শুকিয়ে না যায় তাদের আযাব কিছুটা হালকা করা হবে।
الدليل على نجاسة البول ووجوب الاستبراء منه
حَدِيْثُ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَشَقَّهَا نِصْفَيْنِ فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ لَعَلَّهُ يُخَفِّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরকে কবরে আযাব দেওয়ার যে কারণ, তা ত্যাগ করা তাদের ওপর কঠিন ছিল না। বস্তুত কেউ যদি অন্যায় থেকে বাঁচার চেষ্টা করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ চেষ্টা করে না।
জীবিত মানুষের যেসব আমল মৃতদের কাজে লাগে
সর্বসম্মত মতে, জীবিত মানুষের পক্ষ থেকে দো'আ ঈমানদার মৃত মানুষের কাজে লাগে। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তা দো'আর সমতুল্য। সুতরাং সেটা কাজে লাগবে। কিন্তু অন্য কারো জন্য এ ধরনের গাছ ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারটি কোথাও বর্ণিত হয়নি। সুতরাং, বর্তমানে কারো জন্য গাছ ভেঙ্গে রোপন করলে সেটা কার্যকরী হবে বলা যায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত কাজটি তার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট, অন্য কারো সাথে তা কার্যকারী হওয়ার প্রমাণ নেই। কারণ, এ হাদীসেরই অপর বর্ণনায় যা সহীহ মুসলিমে এসেছে, “আমার সুপারিশের কারণে আল্লাহ তাদের শাস্তি গাছের ডালটি শুষ্ক হওয়া পর্যন্ত লাঘব করবেন।” [সহীহ মুসলিম ৩০০৬]
ইমাম খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এটা এর উপর ধরা হবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুই কবরবাসীর ‘আযাব লাঘবের জন্য দো'আ করেছেন; যতক্ষণ তা তরতাজা থাকবে। এটা নয় যে, আযাব বন্ধ করার ব্যাপারে গাছের ডালে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে বা কাঁচা ডালে কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শুকনো ডালে নেই। [আউনুল মাবুদ (১/২৫)]
অথচ আফসোসের বিষয় হচ্ছে, অনেক মুসলিমকে দেখা যায় তারা কবরের উপর ফুল দিচ্ছে, যা কখনও জয়েয নেই, প্রথমত: এটাতো নাসারাদের কাজ। দ্বিতীয়ত: যদি এ হাদীস দলীল হয় তবে এ হাদীস তো প্রমাণ করছে যে, এখানে মৃতব্যক্তির আযাব হচ্ছে, তারা যেখানে ফুল দিচ্ছে কিংবা খেজুর ডাল পুঁতে দিচ্ছে তাদের কাছে কি এসব কবরে আযাব হওয়ার বিষয়টির সংবাদ এসেছে?
হাদীসের শিক্ষা
১. কবরের আযাব হক্ব ও যথার্থ।
২. আরো বুঝা যায় যে, চোগলখুরী বা একের কথা অন্যের কাছে লাগানো হারাম ও কবীরা গুনাহ। এর মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করা আরো বড় হারাম।
৩. চোগলখুরী ও পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়া কবর আযাবের অন্যতম কারণ।
৪. আল্লাহ তা'আলা কখনও কখনও মানুষের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নিদর্শন প্রকাশ করে দেন; যাতে মানুষ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
৫. সালাতের বিষয়টি অত্যধিক মহৎ হওয়া; কারণ এর একটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় বান্দার ওপর শাস্তি হচ্ছে। যারা সালাত ত্যাগ করে তাদের পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে তা থেকেই অনুমেয়।
৬. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা; এমনকি তাদের মধ্যে যারা গুনাহগার তাদের নাজাতের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাতেন।
৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ কখনও কখনও কিছু সময়ের জন্য বা বড় কষ্ট থেকে ছোট কষ্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য হতে পারে; কারণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ "আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আশা করা যায় যতক্ষণ এ দু'টি ডাল শুষ্ক না হলে ততক্ষণ তাদের ওপর সে আযাব হালকা করা হবে।
৮. সাহাবায়ে কেরাম সর্বদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাজের কারণ ও হিকমত জানতে সচেষ্ট থাকতেন। এজন্য তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি এ কাজটি কেন করলেন?
৯. সাধারণ অপরাধী ও গুনাহগারদের অপমান না করে তাদেরকে গোপন করা জরুরী। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'জনের নাম বর্ণনা করেননি।