শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া ১৩ - আল্লাহ তাআলার জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টি সাব্যস্ত করা ডঃ সালেহ ফাওযান [অনুবাদ: শাইখ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী]
আল্লাহ তাআলার জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টি সাব্যস্ত করা

১৩- إثبات السمع والبصر لله تعالى

১৩- আল্লাহ তাআলার জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টি সাব্যস্ত করা:

আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ﴾

‘‘যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর নিকট অভিযোগ পেশ করছে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের কথা শুনেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা’’। (সূরা মুজাদালাহঃ ০১) আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের প্রতিবাদ করে বলেনঃ

﴿لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلَهُمْ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ﴾

‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে, আল্লাহ হচ্ছেন অভাবগ্রস্ত আর আমরা বিত্তবান। এখন আমি তাদের কথা এবং যেসব নবীকে তারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, তা লিখে রাখবো, অতঃপর বলবঃ ‘আস্বাদন কর জ্বলন্ত আগুনের আযাব। (সূরা আল-ইমরানঃ ১৮১) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ

﴿أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ﴾

‘‘তারা কি মনে করে যে আমি তাদের গোপন বিষয় এবং গোপন পরামর্শ শুনিনা? হ্যাঁ, শুনি। আমার প্রেরিত দূতগণ তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে’’। (যুখরুফঃ ৮০) আল্লাহ তাআলা মূসা ও তাঁর ভাই হারূন (আঃ)কে লক্ষ্য করে বলেনঃ ﴿لَا تَخَافَا إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى﴾ ‘‘তোমরা ভয় করোনা, আমি তোমাদের সাথে আছি। আমি শুনি ও দেখি। (সূরা তোহাঃ ৪৬) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ﴾ ﴿أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ‘‘সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখছেন?’’ (সূরা আলাকঃ ১৪) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ

﴿وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ﴾

‘‘আর সেই পরাক্রান্ত ও দয়াবানের উপর নির্ভর করো, যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি উঠো এবং সিজ্দাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা ও নড়া-চড়ার প্রতি দৃষ্টি রাখেন৷ তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’’। (সূরা শুআরাঃ ২১৮-২২০) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ

﴿وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَسَتُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ﴾

‘‘হে নবী! তাদেরকে বলে দাও, তোমরা আমল করতে থাকো৷ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ তোমাদের আমল দেখবেন৷ তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে এমন সত্তার দিকে, যিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত সবকিছুই জানেন এবং তোমরা কি করতে তা তিনি তোমাদের বলে দেবেন’’। (সূরা তাওবাঃ ১০৫)


ব্যাখ্যাঃ প্রথম আয়াতে খাওলা বিনতে ছা’লাবার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী! সে তোমার সাথে তার স্বামীর ব্যাপারে বারবার কথা বলছিল। খাওলার স্বামীর নাম ছিল আওস বিন সামেত। আর এটি ছিল ঐ সময়ের ঘটনা, যখন সে তার স্ত্রীর সাথে যিহার[1] করেছিল।

وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّه সে আল্লাহর নিকট অভিযোগ পেশ করছেঃ এই বাক্যটিকে تجادلك এর সাথে আতফ (যুক্ত) করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আওসের স্ত্রী খাওলাকে বললেনঃ তুমি তোমার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে গিয়েছো, তখন খাওলা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম! তিনি তো তালাক শব্দ উচ্চারণ করেন নি। অতঃপর খাওলা বলতে লাগলঃ আমি আল্লাহর কাছেই আমার অভাব-অনটনের অভিযোগ করছি এবং আমার নিঃসঙ্গের কথা তাঁকেই জানাচ্ছি। জেনে রাখুনঃ আমার রয়েছে আওসের পক্ষ হতে কয়েকটি শিশু সন্তান। আমি যদি সন্তানগুলোকে তার নিকট সোপর্দ করি, তাহলে তারা ধ্বংস হবে এবং আমার কাছে নিয়ে আসলেও ক্ষুধায় মরবে। এই বলে সে আকাশের দিকে মাথা উঠাচ্ছিল এবং বলছিলঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অভিযোগ করছি।

وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ আল্লাহ তোমাদের উভয়ের কথা শুনেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাঃ অর্থাৎ তিনি তোমাদের কথার পুনরাবৃত্তি শ্রবণ করেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। তিনি সব আওয়াজ শ্রবণ করেন এবং সব মাখলুকের প্রতিই রয়েছে তাঁর দৃষ্টি। এই মহিলাটি তোমার সাথে যেই বাদানুবাদ করছে এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি করছে, তাও আল্লাহর শ্রুত আওয়াজ সমূহের অন্তর্ভূক্ত।

وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ নিঃসন্দেহে আল্লাহ ঐসব লোকদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে, আল্লাহ হচ্ছেন অভাবগ্রস্ত আর আমরা বিত্তবানঃ এরা হচ্ছে ইহুদীদের একটি দল। আল্লাহ তাআলা যখন এই আয়াত নাযিল করলেনঃ

﴿مَّن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً ۚ وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ﴾

‘‘তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে করযে হাসানা[2] দিতে প্রস্ত্তত, যাতে আল্লাহ তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তাকে ফেরত দেবেন? মূলতঃ আল্লাহই কমান, আল্লাহই বাড়ান এবং তাঁরই দিকে তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে’’। (সূরা বাকারাঃ ২৪৫) তখন ইহুদীরা উপরোক্ত কথাটি বলেছিল। দুর্বল ও দরিদ্র লোকদের সাথে ছলনা করার জন্যই তারা উক্ত কথা বলেছিল। আসলে তারা বিশ্বাস করতোনা যে, আল্লাহ ফকীর আর তারা ধনী। কেননা তারা আসমানী কিতাবের অধিকারী ছিল। দ্বীন ইসলামের মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়ার জন্যই তারা এই ধরণের কথা বলেছিল।

وَنَجْوَاهُمْ أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ তারা কি মনে করে যে আমি তাদের গোপন বিষয় এবং গোপন পরামর্শ শুনিনা? তারা তাদের মনের মধ্যে যেই বিষয় গোপন করে অথবা নির্জন স্থানে একত্রিত হয়ে পরস্পর যেই আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা তা জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ونجواهم অর্থাৎ তিনি তাদের গোপন পরামর্শও জেনে ফেলেন। তারা নিজেদের পরস্পরের মধ্যে যেই গোপন পরামর্শ করে আল্লাহ তাআলা তাও জানেন। মানুষ তার ঘনিষ্ট বন্ধুর সাথে গোপনে যেই আলাপ করে এবং অন্যদের থেকে তা ছাপিয়ে রাখে, তাকেই নাজওয়া বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হ্যাঁ, আমি সেই গোপন আলাপ সম্পর্কে জানতে পারি এবং তা শুনে ফেলি।

وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ আমার প্রেরিত দূতগণ তাদের নিকটে থাকে ও লিপিবদ্ধ করেঃ অর্থাৎ সম্মানিত লেখকগণ তাদের নিকট অবস্থান করে তাদের থেকে যেসব কথা ও কাজ প্রকাশিত হয়, তার সবই লিখে ফেলেন।

إِنَّنِي مَعَكُمَا আমি তোমাদের সাথে আছিঃ আল্লাহ তাআলা যখন মুসা ও হারুন (আঃ) কে ফেরআউনের নিকট পাঠিয়েছিলেন তখন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমি তোমাদের সাথে আছি। এই কথার অর্থ হচ্ছে তোমাদেরকে হেফাযত করার মাধ্যমে এবং তোমাদেরকে সাহায্য করার মাধ্যমে তোমাদের সাথে আছি। আমি শুনি এবং দেখি। অর্থাৎ আমি তোমাদের উভয়ের কথা শুনছি এবং তোমাদের শত্রুর কথাও শুনছি। সেই সাথে তোমরা দুইজন যেই স্থানে অবস্থান করছো তা আমি দেখছি এবং তোমাদের শত্রু যেই স্থানে আছে, সেই স্থানও দেখছি। তোমরা দুইজন যা করছো এবং সে যা করছে, তাও দেখছি। সুতরাং এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা ভয় করোনা।

أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ সে কি জানেনা যে, আল্লাহ দেখছেন? এখানে আবু জাহেলের দিকে ইঙ্গিত করে এই কথা বলা হয়েছে।[3] সে যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাবার চত্বরে নামায পড়তে নিষেধ করেছিল তখন এই আয়াত নাযিল হয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ সে কি জানেনা যে, আল্লাহ তাআলা তাকে দেখছেন এবং তার কথা শুনছেন? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অচিরেই তাকে তার কাজের পূর্ণ সাজা দিবেন। এই প্রশ্নের মাধ্যমে তাকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং ধমক দেয়া হয়েছে।

الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ যিনি তোমাকে দেখতে থাকেন যখন তুমি উঠোঃ অর্থাৎ যখন তুমি একাকী নামাযের জন্য উঠো ও নামায পড়ো তখন আল্লাহ তাআলা তোমাকে দেখেন।

وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা এবং নড়া-চড়ার প্রতিও তিনি দৃষ্টি রাখেনঃ অর্থাৎ তুমি যখন জামাআতের সাথে নামায আদায় করার সময় রুকুতে থাকো কিংবা সাজদায় থাকো অথবা দাঁড়ানো থাকো, তখনো আল্লাহ তোমাকে দেখেন। তুমি যা বলো, তিনি অবশ্যই উহা শুনেন এবং তা জানতে পারেন।

وَقُلِ اعْمَلُوا হে নবী! তাদেরকে বলে দাও, তোমরা আমল করতে থাকোঃ আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, হে মুহাম্মাদ! তুমি এইসব মুনাফেকদেরকে বলে দাও যে, তোমরা যা ইচ্ছা আমল করতে থাকো এবং তোমরা তোমাদের বাতিল পথেই চলতে থাকো। কিন্তু তোমরা এই কথা মনে করোনা যে, তোমাদের আমলসমূহ গোপন থাকবে।

فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ তোমাদের কাজ দেখবেনঃ অর্থাৎ মানুষের সামনে তোমাদের আমলসমূহ প্রকাশিত হবে এবং দুনিয়াতেই তা দেখা যাবে। মৃত্যুর পর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে এমন এক সত্তার দিকে, যিনি প্রকাশ্য ও গুপ্ত সবকিছুই জানেন এবং তোমরা কি করতে তা তিনি তোমাদের বলে দেবেন। অতঃপর তিনি সেই আমলগুলোর বদলা দিবেন।

উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে প্রমাণ মিলে যে, তাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে শ্রবণ করা ও দেখা বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহ শ্রবণ করেন ও দেখেন। তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য যেভাবে শ্রবণ করা ও দেখা শোভনীয়, তিনি সেভাবেই দেখেন ও শুনেন। তবে তিনি সৃষ্টির সিফাতসমূহ থেকে এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য হওয়া থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

উপরের আয়াতগুলো আল্লাহর জন্য শ্রবণ করা এবং দেখা সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একদম সুস্পষ্ট। তাতে فعل ماضي তথা অতীত কালের জন্য তৈরী শব্দ قد سمع (অবশ্যই শুনেছেন)এর মাধ্যমে, فعل مضارع তথা বর্তমান-ভবিষ্যতের জন্য গঠিত শব্দ يسمع (শুনছেন)এর মাধ্যমে এবং اسم فاعل তথা কতৃবাচক বিশেষ্যের জন্য গঠিত শব্দ سميع (শ্রবণকারী)এর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য শ্রবণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। মোট কথা سمع, يسمع, سميع এই তিনটি শব্দ আল্লাহর জন্য শ্রবণ করা বিশেষণ অত্যন্ত জোরালোভাবেই সাব্যস্ত করেছে। যে বস্ত্ত বা প্রাণী শুনতে পায়না আরবদের ভাষায় তাকে শ্রবণকারী ও দ্রষ্টা বলা সঠিক নয়। যে প্রাণী বা বস্ত্ত শুনতে পায় এবং দেখতে পায়, শুধু তার ক্ষেত্রেই বলা হয় যে, يسمع ويبصر। এটিই হচ্ছে এ ক্ষেত্রে মূলনীতি। আরবীতে এ কথা বলা হয়না যে, الجبل سميع بصير পাহাড় শুনে ও দেখে। যে শুনে এবং দেখে তাকে ছাড়া অন্য কারো জন্য এই কথা বলা অসম্ভব।[4]


[1] - নিজের স্ত্রীকে মাহরাম অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম, তাদের কারো সাথে তুলনা করাকে যিহার বলা হয়। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য সূরা তাহরীমের প্রথম দিকের আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা পড়ার অনুরোধ করা হলো।

[2] - আমাদের সমাজের অনেকেই সুদহীন ঋণকে করযে হাসানা বলে থাকে। এটি ঠিক নয়; মূলত নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর রাস্তায় এবং গরীব-মিসকীনদের দান-খয়রাত করাকেই করযে হাসানা বলা হয়।

[3] - আবু জাহেলকে কেন্দ্র করে সূরা আলাকের এই আয়াত এবং তার আগের ও পরের কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে। সে যখন দেখল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের দারুন নাদওয়ার নিকটেই কাবা ঘরের আঙ্গিনায় প্রতিদিন নামায আদায় করেন, তখন সে বললঃ

لَئِنْ رَأَيْتُ مُحَمَّدًا يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ لأَطَأَنَّ عَلَى عُنُقِهِ. فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «لَوْ فَعَلَهُ لأَخَذَتْهُ الْمَلائِكَةُ

‘‘আমি যদি মুহাম্মাদকে কাবার নিকট নামায পড়তে দেখি তবে তার ঘাড় পদদলিত করবো। তার এই কথা জানতে পেরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ সে যদি তা করে তাহলে ফেরেশতাগণ তাকে পাকড়াও করবে’’।

[4] - অন্যান্য সিফাতের মতই আল্লাহর শ্রবণ ও দৃষ্টির ক্ষেত্রে একই মূলনীতি ঠিক রাখা জরুরী। তা এই যে, আল্লাহ তাআলার দেখা ও শুনা কোন সৃষ্টির দেখা ও শুনার মত নয়। তিনি যেমন তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণও তেমন। আমরা তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণকে মানুষের দেখা ও শুনার সাথে তুলনা করিনা। মানুষ যখন বন্ধ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে তখন সে বাহিরের কিছুই দেখতে পায়না এবং বাহিরের কথাও শুনতে পায়না। কিন্তু মহান আল্লাহ আরশের উপর থেকে মাখলুখের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবই দেখতে পান এবং তাদের সব কথাই শুনতে পান।