প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম ৫৬৩ টি
প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম ৫৬৩ টি
২.১৬ (খ) তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ - ৬৮. তাহিয়্যাতুল মসজিদের সালাত কাকে বলে? এটির হুকুম কি? কিভাবে পড়ব?

মসজিদে ঢুকলে না বসে আগে দু'রাকআত সালাত আদায় করা আবশ্যক। এ সালাতকে বলা হয় তাহিয়্যাতুল মসজিদ’। এটাকে ‘দুখুলুল মসজিদও বলা হয়। অধিকাংশ ফকীহর মতে, এ সালাত হলো সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। অন্যান্য সুন্নাত সালাত যেভাবে পড়া হয় এ সালাতও এভাবেই পড়তে হয়।

জামাত চলাকালীন সময় ছাড়া যখনই মসজিদে প্রবেশ করবে তখনই দু'রাকআত এ সালাত আগে আদায় করে পরে মসজিদে বসবে। কোন সালাত আদায় করা ছাড়া মসজিদে এমনিতেই বসে পড়া বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন,
“তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বেই দু'রাকআত সালাত আদায় করে।” (বুখারী: ৪৪, ইফা: ৪৩১, আধুনিক: ৪২৫)। কাউকে কাউকে দেখা যায় যে মসজিদে গিয়ে কোন সালাত আদায় ছাড়া এমনিতেই বসে পড়ে। এটা গর্হিত কাজ, সুন্নাত বিরোধী কাজ। এমনকি জুমু'আর খুৎবা শুনা যেখানে ওয়াজিব সেই খুৎবা চলাকালীন সময়েও কেউ মসজিদে ঢুকলে রাসূলুল্লাহ (স) তাকে আগে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ দু'রাকআত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (দেখুন বুখারী: ৯৩০, ৯৩১), এরপর মসজিদ বসবে।

৭০. নিষিদ্ধ সময়ে এ সালাত আদায় করা কি জায়েয?

হানাফী ও মালেকী ফকীহদের মতে সে সময় পড়া যাবে না। বিপরীতে শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণের মতে নিষিদ্ধ সময়েও মসজিদে ঢুকলে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়বে। কেউ যদি আসরের পর ও সূর্যাস্তের পূর্বে মসজিদে আবার প্রবেশ করে তাহলে একদল ফকীহর মতে তখনও ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়বে। আর আযান চলাকালীন সময়ে মসজিদে ঢুকলে দাঁড়িয়ে আযানের জওয়াব দিয়ে পরে 'তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়বে, এরপর বসবে।

৭১. নিজ কক্ষে ফজরের দু'রাকআত সুন্নাত পড়ে মসজিদে গিয়ে কি আবার তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে?

হা, তা পড়বে।

২.১৬ (গ) তাহিয়্যাতুল ওযু - ৭২. তাহিয়্যাতুল ওযূর সালাত কি উপলক্ষে এবং কখন ও কিভাবে পড়তে হয়?

ওযু এবং গোসলের পর এ সালাত আদায় করতে হয়। অন্যান্য নফল সুন্নাতের মতোই এ দু'রাকআত সালাত। যখনই ওযূ বা গোসল করবে ওযু-গোসল শেষে তখনই দু’রাকআত এ সালাত আদায় করা। আর এ সালাত দিনে ও রাতে যেকোন সময় আদায় করা যায়।

সুন্নাত।

(১) নবী (স) একদিন ফজরের সালাতের সময় বেলাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে বেলাল! ইসলাম গ্রহণের পর তুমি এমনকি আমল কর যা সর্বাধিক সন্তোষজনক? কেননা, আমাকে যখন (মিরাজের রাতে) জান্নাত দেখানো হলো তখন আমি সেখানে তোমার জুতা পায়ে দিয়ে হাঁটার আওয়াজ পেয়েছি। দিনে-রাতে তুমি এমন কি আমল কর (যা তোমাকে জান্নাতে যাওয়ার ব্যাপারে অধিকতর আশ্বস্ত করে?) উত্তরে বেলাল (রা) বললেন, রাতে বা দিনে যখনই আমি পবিত্রতা অর্জন (অর্থাৎ ওযু বা গোসল) করি তখনই দুই রাকআত (তাহিয়্যাতুল ওযূর) সালাত আদায় করি।(বুখারী: ১১৪৯)

(২) নবী (স) আরো বলেন, যে ব্যক্তি আমার মতো করে ওযু করে দু'রাকআত সালাত আদায় করবে, মনে অন্য কোন চিন্তা আনবে না, আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (বুখারী: ১৬৪)।

(৩) যেকোন মুসলিম সুন্দর করে ওযু করে অন্তর ও চেহারা পূর্ণ মনোনিবেশ করে দু'রাকআত (তাহিয়্যাতুল ওযূর) সালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।(মুসলিম, সলাতুল মুমিন পৃ. ১/৩৮৬)

৭৫. সূর্য উদয় অস্ত ও ঠিক দুপুরে কি এ দু'রাকআত সালাত পড়া যাবে?

না, সে সময় পড়বে না ।

২.১৬ (ঘ) ইস্তিখারার সালাত প্র: ৭৬. ইস্তিখারার সালাত কাকে বলে?

ব্যবসা-বাণিজ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া, বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাই, ঘর-বাড়ি নির্মাণ, কোন জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়, কোন চাকরিতে যোগদান বা পদত্যাগ করা ইত্যাকার জায়েয বিষয়ে কোনটি করা সঠিক হবে এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনস্থির করার জন্য দু'রাকআত নফল সালাত আদায় করে নির্ধারিত দু'আ পড়া- এ সালাতকে ‘সলাতুল ইস্তিখারা' অর্থাৎ ইস্তিখারার সালাত বলা হয়। ইস্তিখারা অর্থ কল্যাণ কামনা। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মাঝে-মধ্যে মানুষ দ্বিধা-দ্বন্ধে ভােগে, কাজটি করবে কি করবে না, কোনটা করলে ভালো হয়, কারো পরামর্শ নিলে সেখানে ভুল ও থাকতে পারে বা কুমতলবে কেউ খারাপ পরামর্শও দিতে পারে- এসব অবস্থার সমাধানে সরাসরি আল্লাহ্‌র কাছ থেকে কল্যাণ প্রাপ্তির আশায় ইস্তিখারার' সালাত আদায় হলো সর্বোত্তম কাজ

‘ইস্তিখারার জন্য রাসূলুল্লাহ (স.) এত গুরুত্ব দিতেন যাতে মনে হতো যে, কুরআন শিক্ষার জন্য তিনি তালীম দিচ্ছেন। ইস্তিখারার পর মন যেদিকে টানবে, সেটাই করবে। আর এরই মধ্যে রয়েছে কল্যাণ ও রহমত ইনশা আল্লাহ। স্বপ্নের মাধ্যমে ইঙ্গিত প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করা লাগবে না। এ বিষয়ে স্বপ্ন দেখাও জরুরি নয়।

৭৭. ইস্তিখারার সালাত আদায়ের নিয়ম কি?

ওযু করে দিনে বা রাতে যেকোন সময় দু'রাকআত নফল বা তাহিয়্যাতুল ওযুর সালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে হামদ ও দুরূদ পাঠ করবে, অতঃপর নিম্নবর্ণিত দুআটি করবে দু'আর ভিতরে যেখানে "হাযাল আমর" শব্দ রয়েছে সেখানে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টির কথা বলবে। দু'আটি হলো:

‘‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফাযবলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমর (এখানে যে কাজের জন্য ইস্তেখারা করা হচ্ছে তা মনে মনে উল্লেখ করবে) খাইরুল লী ফী দ্বীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অয়্যাস্সিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শার্রুল লী ফী দ্বীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা আরযিবনী বিহ।’’

অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। তোমার শক্তির মাধ্যমে (সেটা অর্জন করার) শক্তি ভিক্ষা চাচ্ছি এবং আরো ভিক্ষা চাই তোমার অনুগ্রহ। কেননা, ক্ষমতা তুমিই রাখ; আমি তো তা রাখি না। তুমিই (সব) জানো আর আমি তো জানি না। সকল গায়েবী বিষয়ের একমাত্র তুমি মহাজ্ঞানী।”

হে আল্লাহ! তুমি যদি জান যে, এ কাজটি আমার দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম আমার বর্তমান ও পরপারের অনন্তকালের জন্য কল্যাণকর হবে, তাহলে এটা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও ও কাজটি সহজ করে দাও। অতঃপর এতে আমার জন্য বরকত নাযিল কর। আর যদি দেখ যে, এ কাজটি আমার জন্য ক্ষতিকর হবে আমার দ্বীন, জীবিকা ও আমার পরিণামে, আমার ইহকাল ও পরকালে, তাহলে এটা আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাও, আর আমাকেও এটা থেকে দূরে রাখ। আর যেখানে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে তাই আমার জন্য নির্ধারণ করে দাও। আর এরই উপর আমাকে সন্তুষ্ট রাখ। (বুখারী: ১১৬২, ইফা: ১০৯৩, আধুনিক: ১০৮৮)

দেখানো হচ্ছেঃ ২৩১ থেকে ২৪০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৪৬৬ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ « আগের পাতা 1 2 3 4 · · · 21 22 23 24 25 · · · 44 45 46 47 পরের পাতা »