ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ অত্যাবশ্যক ইসলামহাউজ.কম ১১ টি
ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ অত্যাবশ্যক ইসলামহাউজ.কম ১১ টি

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবার ও সাথীগণের ওপর। আরো সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাদের ওপর যারা কিয়ামাত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের দ্বারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবেন।

অতঃপর অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অতি উত্তম নৈকট্যের কাজ হলো, পরস্পর উপদেশ দেওয়া, কল্যাণের দিকনির্দেশনা দেওয়া, পরস্পর সত্যের প্রতি আহ্বান করা এবং সত্যের দিকে আহ্বান করতে গিয়ে বিপদ আসলে তার ওপর ধৈর্য ধারণ করা। আর যা সত্য বিরোধী, আল্লাহকে রাগান্বিত করে ও তাঁর রাহমাত হতে দূরে ঠেলে দেয় তা হতে সতর্ক করা।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদের অন্তর ও কর্মকে ও সকল মুসলিমদেরকে সংশোধন করে দেন এবং তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর দীনের বুঝ ও তার ওপর দৃঢ়তা প্রদান করেন এবং তিনি যেন তাঁর দীনকে সাহায্য করেন, তাঁর কালেমাকে বুলন্দ করেন। আর তিনি যেন মুসলিম শাসকদেরকে সংশোধন করে দেন, তাদেরকে সকল কল্যাণের তাওফীক দান করেন, তাদের জন্য তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে সঠিক করে দেন, তিনি যেন তাদেরকে সাহায্য করেন সে সকল কাজ সম্পাদনের যাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ রয়েছে, তিনি যেন তাদেরকে দীনের বুঝ দান করেন এবং তিনি যেন তাদের বক্ষকে খুলে দেন তাঁর শরী‘আতকে শাসক বানানোর জন্যে এবং তার ওপর তাদেরকে স্থায়িত্ব প্রদান করেন। নিশ্চয় তিনি এর মালিক ও এর ওপর ক্ষমতাবান।

হে মুসলিমগণ! ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও গুরুত্ব পাবার দাবিদার, কারণ এর বাস্তবায়নের মাঝে নিহিত রয়েছে জাতির কল্যাণ ও তাদের মুক্তি এবং এটি পরিত্যাগের মাঝে রয়েছে মহাবিপদ ও বড় বিপর্যয়, মর্যাদার বিলুপ্তি ও হীনতার আগমন।

মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহাগ্রন্থে ইসলামের মাঝে এ কাজটির মান-মর্যাদা ও স্থান পরিষ্কার-ব্যাখ্যা করেছেন এবং নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করেছেন এর মহান স্থান; এমনকি তিনি কিছু আয়াতে একে ঈমানের আগে উল্লেখ করেছেন যা দীনের মূল ও ইসলামের ভিত্তি। যেমন তিনি বলেছেন:

﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ﴾ [ال عمران: ١١٠]

“তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি যাদেরকে লোকদের জন্যে বের করা হয়েছে, তোমরা ন্যায়ের আদেশ দিবে অন্যায়ের নিষেধ করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]

বস্তুত এ ওয়াজিব কাজটির মহত্ব প্রকাশ ও এর ওপর সকল মহা কল্যাণ নির্ভরশীল হওয়ার কারণেই আল্লাহ (এ আয়াতে) ঈমান আনার কথার আগে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের কথা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গায় শির্ক, বিদ‘আতের সয়লাব ও মা‘সিয়াত- আল্লাহর বিরোধিতা প্রকাশ পাওয়ার কারণে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধের দিকে আহ্বান জানানো মুসলিমদের প্রয়োজন ও জরুরত খুব বেশি হয়ে পড়েছে।

রাসূলের যুগে, সাহাবীগণের যুগে ও সালাফ সালেহীনের যুগে মুসলিমরা এ ওয়াজিবটির সম্মান করতো এবং খুব সুন্দরভাবে এটি বাস্তবায়ণ করতো। তাই অধিক মুর্খতা, জ্ঞানের স্বল্পতা ও অধিকাংশ মানুষের এ মহা ওয়াজিবটি হতে উদাসীন থাকার কারণে এ কাজটির প্রতি প্রয়োজন খুব বেশি ও বড় আকার ধারণ করেছে। যেমন জানা গেছে যে, অধিকাংশ দেশে অকল্যাণ ও বিপর্যয়ের প্রসার লাভ, বাতিলের দিকে আহ্বানকারীদের আধিক্য ও কল্যাণের দিকে আহ্বানকারীদের স্বল্পতার কারণে আমাদের এ বর্তমান সময়ে বিষয়টি আরো কঠিন আর বিপদটি আরো ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই আল্লাহ এর আদেশ দিয়েছেন এবং এর ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং একে সূরা আল ইমরানের আয়াতে ঈমানের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর সে আয়াতটি হলো:

﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ﴾ [ال عمران: ١١٠]

“তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে লোকদের জন্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [সূরা আলে ইমরান: আয়াত : ১১০]

অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাত। তারা আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বোত্তম উম্মাত। যেমন, সহীহ হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«أَنْتُمْ تُتِمُّونَ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ».

“তোমরা সত্তর উম্মাত পূর্ণ করবে (অর্থাৎ তোমরা সত্তরতম উম্মত), তাদের মধ্যে তোমরা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ও অধিক সম্মানিত উম্মাত।”[1]

>
[1] তিরমিযী, হাদীস নং ৩০০১।
আল্লাহ কেন রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন?

পূর্ববর্তী উম্মাতের মাঝেও ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ বিদ্যমান ছিল। আল্লাহ এর কারণেই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। আর এর কারণেই কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আর ন্যায়ের মূল হলো আল্লাহর তাওহীদ বা একত্বতার কথা ঘোষণা করা, আর তাঁর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া। পক্ষান্তরে অন্যায়ের মূল হলো আল্লাহর সাথে শরীক করা ও তাঁকে ছাড়া অন্যের ইবাদত করা।

আল্লাহর একত্বতা ঘোষণা করা, যা সব চেয়ে বড় ন্যায় কাজ, এর দিকে মানুষকে আহ্বান করার জন্যে, আর আল্লাহর সাথে শির্ক করা যা জঘন্যতম অন্যায় কাজ, তা থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্যে সকল রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে। বণী ইসরাঈল, যারা এ ব্যাপারে শীথিলতা করেছিল ও একে বাস্তবায়ন করে নি, তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন:

﴿لُعِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ ٧٨﴾ [المائ‍دة: ٧٨]

“বাণী ইসরাঈলের কাফিরদের ওপর দাঊদ ও ঈসা আলাইহিস সালামের ভাষায় লা‘নত করা হয়েছে। কারণ তারা নাফরমানী করেছিল ও সীমালঙ্গন করেছিল।” [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৭৮]

তারপর আল্লাহ এ নাফরমানীর ব্যাখ্যা করেছেন এ বলে যে,

﴿كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوۡنَ عَن مُّنكَرٖ فَعَلُوهُۚ لَبِئۡسَ مَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ ٧٩﴾ [المائ‍دة: ٧٩]

“যে খারাপ কাজ তারা করতো তা থেকে পরস্পর পরস্পরকে বাধা প্রদান করতো না, এরা যাই করতো তা নিশ্চয় খুব খারাপ ছিল।” [সূরা আল-মায়িদা: আয়াত: ৭৯]

এভাবে পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত ‘কারণ তারা নাফরমানী করেছিল ও সীমালঙ্ঘন করেছিল।’ এর ব্যাখ্যা হিসেবে আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী উল্লেখ করলেন যে, “তারা যে সব খারাপ কাজ করতো তা থেকে পরস্পর পরস্পরকে বাধা প্রদান করতো না এরা যাই করতো তা নিশ্চয় খুব খারাপ ছিল।” [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৭৯] বস্তুত এ ওয়াজিব কাজটি ছেড়ে দেওয়ার পিছনে মহাবিপদ থাকায় এরূপ করা হয়েছে।

অথচ ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ যারা করত বনী ইসরাঈলের এক দলের প্রশংসা করে আল্লাহ তা‘আলা সূরা আলে ইমরানে বলেছেন:

﴿لَيۡسُواْ سَوَآءٗۗ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ أُمَّةٞ قَآئِمَةٞ يَتۡلُونَ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ ءَانَآءَ ٱلَّيۡلِ وَهُمۡ يَسۡجُدُونَ ١١٣ يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١١٤ وَمَا يَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلَن يُكۡفَرُوهُۗ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلۡمُتَّقِينَ ١١٥﴾ [ال عمران: ١١٣، ١١٥]

“আহলে কিতাবের এক দল (হক্বের ওপর) প্রতিষ্ঠিত ছিল যারা রাতের সময়েও আল্লাহ বাণী তিলাওয়াত করতো এবং সাজদাহতেও করতো। আল্লাহ ও কিয়ামতের দিনের ওপর ঈমানও রাখতো, ভালো কাজের হুকুম দিতো আর মন্দ কাজ হতে (মানুষকে) বিরত রাখতো, ভালো কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করতো। আর এরাই সৎ লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের কৃত কোনো ভাল কাজই অস্বীকার করা হবে না আর আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে খুব ভাল জানেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১৩-১১৫]

আহলে কিতাবের যারা এটি বাস্তবায়ন করেনি তাদের ওপর যে আযাব এসেছিল সে আযাব এ দলের ওপর আসে নি, তাই আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে তাদের প্রশংসা করেছেন।

আল্লাহর কিতাবের সূরা আত-তাওবার অপর এক আয়াতে আল্লাহ ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করাকে সালাত প্রতিষ্ঠা করা ও যাকাত আদায় করার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এটির গুরুত্বের কারণেই এরূপ করা হয়েছে। বস্তুত ন্যায়ের আদেশ করা ও অন্যায়ের নিষেধ করা ফরযে কিফায়াহ, তা সত্বেও এটিকে এ আয়াতে সালাত প্রতিষ্ঠা করা ও যাকাত আদায় করার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন ও বলেছেন:

﴿وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَيُطِيعُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓۚ أُوْلَٰٓئِكَ سَيَرۡحَمُهُمُ ٱللَّهُۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٧١﴾ [التوبة: ٧١]

“আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে; তারাই, যাদেরকে আল্লাহ্ অচিরেই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১]

আল্লাহ এখানে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করাকে সালাত প্রতিষ্ঠা করার আগে উল্লেখ করেছেন যে সালাত ইসলামের স্তম্ভ ও সাক্ষ্যদানদ্বয়ের পর সবচেয়ে বড় রুকন। তারপরও কোন অর্থের কারণে এ ওয়াজিবটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে?

নিঃসন্দেহে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের খুব প্রয়োজন ও তা বাস্তাবয়ন করা খুব বেশি জরুরি, তাই এটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে উম্মাত দুরস্ত ও সঠিক হবে এবং তাদের মাঝে কল্যাণ বৃদ্ধি পাবে, তাদের মাঝে মর্যাদা প্রকাশ পাবে, তাদের কাছ থেকে হীনতা চলে যাবে, জনগণ কল্যাণ সম্পাদনে সহযোগিতা করবে, পরস্পর উপদেশ দিবে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে, সকল কল্যাণ সম্পাদন করবে, আর সকল অকল্যাণ বর্জন করবে।

ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ ছেড়ে দিলে ও তার ব্যাপারে উদাসীন হলে মহাবিপদ আসবে ও সীমাহীন অকল্যাণ প্রকাশ পাবে, আর উম্মাত বিভক্ত হবে, হৃদয় কঠোর হবে বা মরে যাবে হীনতা প্রকাশ পাবে ও প্রচার হবে এবং মর্যাদা বিলোপ পাবে, আর যে গ্রামে, শহরে, দেশে ও যে স্থানে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করা হবে না সেখানে এটি অবশ্যই পতিত হবে। অবশ্যই সেখানে খারাপ প্রচার হবে, অন্যায়সমূহ প্রকাশ পাবে, বিপদ আপদ ছেয়ে যাবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর উপরই আমাদের ভরসা ও তাঁর কাছেই আমাদের শক্তি।

আহলুর রাহমাহ বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত লোক

আল্লাহ সুবহানাহু বর্ণনা করেছেন যে, ন্যায়ের আদেশকারী ও অন্যায়ের নিষেধকারী, সালাত প্রতিষ্ঠাকারী, যাকাত আদায়কারী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকারী এরাই দয়া পাওয়ার হক্বদার। যেমন, আল্লাহ বলেছেন:

﴿أُوْلَٰٓئِكَ سَيَرۡحَمُهُمُ ٱللَّهُۗ ﴾ [التوبة: ٧١]

“এদের উপরই আল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি দয়া করবেন।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১]

এটি প্রমাণ করে যে, শুধু আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর শারী‘আতের অনুসরণের দ্বারাই রহমাত-দয়া অর্জন করা যায়। আর এর মধ্যে অন্যতম হলো ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ।

আশা আকাঙ্খা, নসবনামা-বংশ মর্যাদা যেমন কুরাইশ বা বনী হাশিম ও অমুক বংশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দ্বারা, পদসমূহ দ্বারা যেমন রাজা হওয়া বা প্রজাতন্ত্রের প্রধান হওয়া বা মন্ত্রী হওয়া বা এ ছাড়া আরো অন্যান্য পদের দ্বারাও রহমত-দয়া অর্জন করা যায় না। মালামাল ব্যবসা-বাণিজ্য অধিক কারখানা থাকা, এ ছাড়া মানুষের অন্যান্য কর্মের দ্বারাও রহমত-দয়া অর্জন করা যায় না। শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং তাঁর শারী‘আতের অনুসরণের মাধ্যমেই দয়া অর্জন করা যায়।

আর এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ন্যায়ের আদেশ দেওয়া ও অন্যায়ের নিষেধ করা, সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা এবং প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করা। সুতরাং এরাই দয়া পাবার হকদার এবং প্রকৃতপক্ষে এরাই আল্লাহর দয়ার প্রত্যাশী এবং এরাই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁকে কদর ও সম্মান করে। সুতরাং সে কত বড় যালিম যে তাঁর আদেশ মানে না এবং তাঁর নিষেধে পতিত হয় যদিও সে দাবি করে যে, সে তাঁকে ভয় পায় ও তাঁর দয়ার আশা করে। আর যে শুধু তাঁর আদেশ প্রতিষ্ঠা করে, তাঁর শরী‘আতের অনুসরণ করে, তাঁর রাস্তায় জিহাদ করে এবং ন্যায়ের আদেশ করে ও অন্যায়ের নিষেধ করে সেই সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে সম্মান করে, তাঁকে ভয় পায় ও তাঁর দয়ার প্রত্যাশা করে। যেমন, আল্লাহ বলেছেন:

﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أُوْلَٰٓئِكَ يَرۡجُونَ رَحۡمَتَ ٱللَّهِۚ﴾ [البقرة: ٢١٨]

“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা হিজরত করেছে এবং যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে এরাই আল্লাহর রাহমাতের আশা করে।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৮]

অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাঁর রহমতের প্রত্যাশী বানিয়েছেন যখন তারা ঈমান এনেছে, জিহাদ করেছে ও হিজরত করেছে তাদের ঈমান, হিজরত ও জিহাদ করার কারণে, তিনি বলেন নি যে, নিশ্চয় যারা প্রাসাদ তৈরি করেছে বা যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য মহত্ব বা বেশি হয়েছে বা যাদের কর্ম ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে বা যাদের বংশ মর্যাদা উচূঁ হয়েছে তারাই আল্লাহর রহমত পাবে, বরং তিনি বলেছেন:

﴿إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أُوْلَٰٓئِكَ يَرۡجُونَ رَحۡمَتَ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٢١٨﴾ [البقرة: ٢١٨]

“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা হিজরত করেছে এবং যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে এরাই আল্লাহর রাহমাতের আশা করে, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৮]

সুতরাং দয়ার প্রত্যাশা ও ‘আযাবের ভয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে হয়। ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ তা‘আলা অপর এক আয়াতে সফলতা লাভের বিষয়টিকে কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী, ন্যায়ের আদেশকারী ও অন্যায়ের নিষেধকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন:

﴿وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ١٠٤﴾ [ال عمران: ١٠٤]

“তোমাদের মধ্যে একটি দল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে এবং তারাই সফল। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪]

আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যারাই নিম্নের গুণে গুণাম্বিত: যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, ন্যায়ের আদেশ দেয় ও অন্যায়ের নিষেধ করে, এরাই সফল। এর অর্থ হলো এরাই পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ কামিয়াব ও সফল, যদিও এদের ছাড়া মুমিনদের অন্যরাও সফল ইসলামী ওযর থাকার কারণে এ গুণের কোনো একটি গুণ না থাকলেও। কিন্তু পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গরূপে তারাই সফল যারা কল্যাণের দিকে (মানুষকে) আহ্বান করে, ন্যায়ের আদেশ করে ও দ্রুত তা পালন করে এবং অন্যায়ের নিষেধ করে ও তা থেকে বিরত থাকে।

তবে যারা ন্যায়ের আদেশ করবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে অন্য উদ্দেশ্যেসমূহের কারণে, যেমন লোক দেখানোর জন্যে, লোক শুনানোর জন্যে বা পার্থিব কোনো স্বার্থ অর্জনের জন্যে বা আরো অন্যান্য কারণে ন্যায় সম্পাদন করা থেকে বিরত থাকবে ও অন্যায় সম্পাদন করবে, পরিণামে তারা সবচেয়ে জঘন্য ও খারাপ লোক। যেমন সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, উসামা ইবন যায়েদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«يؤتى بِالرَّجُلِ يَوْمَ القِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ، فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ فَيَقُولُونَ: أَيْ فُلاَنُ مَا شَأْنُكَ؟ أَلَيْسَ كُنْتَ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَانَا عَنِ المُنْكَرِ؟ قَالَ: كُنْتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ آتِيهِ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ المُنْكَرِ وَآتِيهِ»

“কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তার পেটের নাড়ী-ভুঁড়ি ঝুলে যাবে এবং সে জাহান্নামে পেষণযন্ত্রের চার পাশে গাঁধা ঘুরার মত ঘুরতে থাকবে, আর জাহান্নামবাসীরা তার কাছে জমা হবে, তারা (তাকে) বলবে, হে অমুক! তোমার কী হয়েছে? তুমি কি ন্যায়ের আদেশ দিতে না ও অন্যায়ের নিষেধ করতে না? বর্ণনাকারী বলেন: সে তাদেরকে বলবে: হ্যাঁ আমি তোমাদেরকে ন্যায়ের আদেশ দিতাম, কিন্তু আমি নিজে পালন করতাম না। আর আমি অন্যায়ের নিষেধ করতাম, কিন্তু নিজে অন্যায় করতাম।”

এটি তার অবস্থা যার কথা তার কাজের বিপরীত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! তার দ্বারা জাহান্নাম প্রজ্জলিত করা হবে, আর সকল সৃষ্টিজীবের সামনে তাকে অপমান করা হবে, জাহান্নামীরা তার দিকে তাকাবে ও আশ্চর্য হবে ও বলবে কিভাবে একে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে? সে জাহান্নামে পেষণযন্ত্রের চার পাশে গাঁধা ঘুরার মত ঘুরতে থাকবে, তার পেটের নাড়ী-ভূঁড়ি ঝুলে যাবে, সে তা টানতে থাকবে, (এটি) কেন? কারণ সে ন্যায়ের আদেশ করতো, কিন্তু সে তা পালন করতো না এবং অন্যায়ের নিষেধ করতো, কিন্তু সে নিজে অন্যায় করতো।

সুতরাং এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ন্যায় সম্পাদন সহ তার আদেশ করা আর অন্যায় বর্জনসহ তা থেকে (মানুষকে) নিষেধ করাই আয়াত ও হাদীসের ভাষ্যের উদ্দেশ্য। আর এটিই সকল মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। এ মহা ওয়াজিবের বিষয়টিকেই আল্লাহ তাঁর কুরআনে কারীমে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তা পালনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন, তা বর্জন করা হতে সতর্ক করেছেন, আর তা পরিত্যাগকারীকে লা‘নত করেছেন। সুতরাং সকল মুসলিমের ওপর রবের আনুগত্য, তাঁর আদেশ পালন ও তাঁর শাস্তি হতে সতর্কতা অবলম্বনার্থে এর কদর করা, একে দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং একে নিজেদের জন্যে অপরিহার্য মনে করা ওয়াজিব।

ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের স্তরসমূহ

অপরদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত এ বিষয়টিকে শক্তিশালী করেছে, এটিকে আরো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে ও তার ব্যাখ্যা দিয়েছে। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন:

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»

“তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় দেখবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে বাধা দেয়, আর যদি হাত দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়, আর যদি মুখ দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন অন্তর দিয়ে বাধা দেয়, আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের পরিচয়।”[1]

তিনি এখানে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন:

প্রথম স্তর:

শক্তি থাকলে হাত দিয়ে বাধা দেওয়া। যেমন, মদের পাত্র ঢেলে ফেলে দেওয়া, বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে ফেলা, শাসক ও শক্তিধরদের মধ্য হতে শাসকের মতো ব্যাক্তিদের সামর্থ্য থাকলে তাদের সে ব্যক্তিকে নিষেধ করা যে মানুষের প্রতি অন্যায় করতে চায় ও তাদের প্রতি নিজের ইচ্ছাকে ব্যাবহার করে যুলুম অত্যাচার করে। আরো যেমন সালাত, আল্লাহর অবশ্যই পালনীয় বিধান ও এ ছাড়া অন্যান্য আরো বিধিবিধান যা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন তা সামর্থ্যবান মানুষের ওপর করতে বাধ্য করে দেওয়া।

প্রত্যেক মুমিনের নিজ পরিবার ও ছেলেমেয়ের সাথে অনুরূপ অবস্থা। সে তাদের ওপর আল্লাহর বিধান চাপিয়ে দিবে এবং সে তাদেরকে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা থেকে হাত দ্বারা বাধা প্রদান করবে যদি তাদের ব্যাপারে তার কথা কাজে না লাগে। অনুরূপ অবস্থা তার যাকে কোনো পক্ষ থেকে শক্তি দেওয়া হয়েছে বা সে মুহতাসিব (যে বিনা বেতনে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের কাজে নিয়োজিত) বা গোত্রের শাইখ বা এরা ছাড়া অন্যরা যাদেরকে শাসকের পক্ষ থেকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বা (ইসলামী রাষ্ট্রের অবর্তমানে) গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শক্তি দেওয়া হয়েছে, (এদের) প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এ ওয়াজিবটিকে বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠা করবে। এ স্তর বাস্তবায়নে অক্ষম ও অপারগ হলে নিম্নের স্তরের দিকে অগ্রসর হবে।

দ্বিতীয় স্তর:

আরো তা হলো মুখ, জনগণকে মুখের দ্বারা আদেশ ও নিষেধ করবে, যেমন বলবে: হে জাতি আল্লাহকে ভয় কর, হে আমাদের ভাইয়েরা তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, সালাত আদায় কর, যাকাত দাও, এ অন্যায়টি ছেড়ে দাও, এ রকম কর, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়, তোমাদের মাতা-পিতার সাথে সৎ ব্যবহার কর, তোমাদের আত্মীয়তা বন্ধনকে বজায় রাখ, এ ছাড়া আরো অন্য বিধান পালন করার ও নিষেধ বর্জন করার আদেশ দিবে। মুখের দ্বারা তাদেরকে ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে এবং তাদেরকে ওয়ায-নসীহত করবে ও উপদেশ দিবে, তারা যা সম্পাদন করে তা খোঁজে বের করে তার ওপর তাদেরকে সতর্ক করবে।

আর তাদের সাথে নম্রতার সাথে উত্তম আচরণ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ».

“নিশ্চয় আল্লাহ সব ব্যাপারে কোমলতা পছন্দ করেন”।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন:

«إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ».

“যার মধ্যেই নম্রতা থাকবে তা সুন্দর হবে আর যার মাঝেই নম্রতা থাকবে না তা অসুন্দর হবে।”[2]

«كَانَ اليَهُودُ يُسَلِّمُونَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُونَ: السَّامُ عَلَيْكَ، فَفَطِنَتْ عَائِشَةُ إِلَى قَوْلِهِمْ، فَقَالَتْ: عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَهْلًا يَا عَائِشَةُ، إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ» فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، أَوَلَمْ تَسْمَعْ مَا يَقُولُونَ؟ قَالَ: "أَوَلَمْ تَسْمَعِي أَنِّي أَرُدُّ ذَلِكِ عَلَيْهِمْ، فَأَقُولُ: وَعَلَيْكُمْ».

“ইয়াহূদীদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করে বললো: (আসসামু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদ) হে মুহাম্মাদ তোমার মৃত্যু হোক, তাদের উদ্দেশ্যে ছিল রাসূলের মৃত্যু কামনা করা, আসসালামু উদ্দেশ্য ছিল না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের কথাকে শুনতে পেয়ে বললো: (আলাইকুমুস সামু ওয়াল্ লা‘নাতু)। অন্য শব্দে এসেছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন, (ওয়া লা‘আনাকুমুল্লাহু ওয়া গাদিবা আলাইকুম) তোমাদের ওপর মৃত্যু ও লা‘নত হোক। অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তোমাদেরকে লা‘নত করুন ও তোমাদের ওপর রাগান্নিত হউন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে আয়েশা, থাম! আল্লাহ কোমল, প্রত্যেক বিষয়েই তিনি কোমলতাকে পছন্দ করেন। আয়েশা বললেন, আপনি কি শুনেছেন তারা কী বলেছে? রাসূল বললেন তুমি কী শুনেছ আমি তাদেরকে কী বলেছি? আমি তাদেরকে বলেছি: (ওয়া ‘আলাইকুম) তোমাদের ওপরও মৃত্যু হোক। কারণ, তাদের ব্যাপারে আমাদের দো‘আ গ্রহণ হবে। আমাদের ব্যাপারে তাদের দো‘আ গ্রহণ হবে না।”[3]

এ আচরণ, অথচ তারা ছিল ইয়াহূদী সম্প্রদায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে কোমল ব্যবহার করেছেন; যাতে তারা হিদায়াত পায়, আর যাতে তারা হক গ্রহণ করে। আর যাতে তারা ঈমানের আহ্বানকারীর আহবানে সাড়া দেয়।

অনুরূপ আল্লাহর তাওফীক প্রাপ্ত ন্যায়ের আদেশকারী ও অন্যায়ের নিষেধকারী ব্যক্তি নম্রস্বভাব, উপযুক্ত বাক্যসমূহ ও উত্তম শব্দসমূহ ব্যবহার করবে, যখন সে বৈঠক, রাস্তা ও কোনো স্থান দিয়ে এমন লোকদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যাদের এ ব্যাপারে ত্রুটি রয়েছে। সে তাদেরকে নম্রভাবে ও উত্তম বাণীর দ্বারা আহ্বান করবে এমনকি যদিও তারা তাদের নিকট অস্পষ্ট বিষয়ে তার সাথে তর্ক করে বা তারা সে বিষয়ে অহংকার করে (তা সত্ত্বেও) সে তাদের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক করবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ﴾ [النحل: ١٢٥]

“আপনি (তাদেরকে) হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আপনার রবের রাস্তার দিকে আহ্বান করুন এবং উত্তম পন্থায় তাদের সাথে তর্ক করুন।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন:

﴿وَلَا تُجَٰدِلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ ﴾ [العنكبوت: ٤٦]

“তোমরা কেবল উত্তম পন্থার মাধ্যমেই আহলে কিতাবদের সাথে তর্ক কর।” [সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ৪৬]

>
[1] হাদীসটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে (হাদীস নং ৪৯) বর্ণনা করেছেন।

[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৯৪।

[3] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৯৫।

তারা হলো ইয়াহূদী ও খৃষ্টান সম্প্রদায়, তারা কাফির, তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেন:

﴿وَلَا تُجَٰدِلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ إِلَّا بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنۡهُمۡۖ ﴾ [العنكبوت: ٤٦]

“তোমরা কেবল উত্তম পন্থার মাধ্যমেই আহলে কিতাবদের সাথে তর্ক কর। তবে তাদের মধ্যে যারা যালিম অত্যাচারি তাদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়াও তর্ক করতে পার।” [সূরা আল-‘আনকাবূত, আয়াত: ৪৬]

“তাদের মধ্যে যারা যুলম করবে, সীমালঙ্ঘন করবে ও মন্দ কথা বলবে তাদের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া অন্য চিকিৎসা বা অন্য পন্থা ব্যবহার করবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ وَجَزَٰٓؤُاْ سَيِّئَةٖ سَيِّئَةٞ مِّثۡلُهَاۖ﴾ [الشورى: ٤٠]

“আর মন্দের প্রতিদান অনুরূপ মন্দই হয়ে থাকে।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন:

﴿فَمَنِ ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡ فَٱعۡتَدُواْ عَلَيۡهِ بِمِثۡلِ مَا ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡۚ﴾ [البقرة: ١٩٤]

“যে তোমাদের ওপর যুলুম করবে তোমরাও তার ওপর যুলুম কর সে পরিমাণ, যে পরিমাণ তোমাদের ওপর যুলুম করেছে।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৪]

তবে ক্ষেত্র যেহেতু শিক্ষা, আহ্বান ও সত্য প্রকাশের ক্ষেত্র, তাই উত্তম পন্থাতেই হওয়া ভালো। কারণ, এটি কল্যাণের নিকটবর্তী।

সুফইয়ান আস সাওরী রহ. বলেছেন: ন্যায়ের আদেশকারী ও অন্যায়ের নিষেধকারীর জন্য সে যে ব্যাপারে আহ্বান করবে ও যা হতে নিষেধ করবে সে ব্যাপারে নম্র ভদ্র কোমল হওয়া উচিত, যে ব্যাপারে সে আহ্বান করবে ও যা থেকে সে নিষেধ করবে সে ব্যাপারে তাকে ন্যায়পরায়ণ হওয়া উচিৎ ও যে ব্যাপারে সে আহ্বান করবে ও যা হতে সে নিষেধ করবে সে ব্যাপারে তাকে জ্ঞানী হওয়া উচিত।

আর এটিই সালাফ রহ.-র কথার অর্থ যে, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও সম্যক জ্ঞানসহ নম্রতা ইখতিয়ার করা। শুধু ইলম-জ্ঞান দ্বারাই ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে মুর্খতার দ্বারা নয়। এটিসহ সে যার দিকে (মানুষকে) আহ্বান করবে তার প্রতি নম্র ও আমলকারী আর যা থেকে (মানুষকে) নিষেধ করবে তা বর্জনকারী হবে; যাতে তার অনুসরণ করা যায়।

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ، وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ، ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ، فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ».

“আমার পূর্বে যে উম্মাতের কাছেই আল্লাহ নবী পাঠিয়েছিলেন তারই নিজ উম্মাতের মধ্য হতে সাহায্যকারী ও সাথী ছিল যারা তার সুন্নতকে গ্রহণ করতো ও তার আদেশের অনুসরণ করতো। আর তাদের (নবীদের) পর অনেক উত্তরসূরীদের জন্ম হবে তারা যা করবে না তা বলবে, যার আদেশ দিবে তা করবে না। সুতরাং যে তাদের বিরুদ্ধে হাত দিয়ে জিহাদ করবে সে মুমিন, আর যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ দিয়ে জিহাদ করবে সেও মুমিন এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অন্তর দিয়ে জিহাদ করবে সেও মুমিন তবে এর পর ঈমানের আর কোনো অংশ নেই।”[1]

এ হাদীসটি পূর্বে বর্ণিত আবু সা‘ঈদের হাদীসের মতো, যার মাঝে (অন্যায়কে) হাত, মুখ ও অন্তর দিয়ে অস্বীকার করার কথা রয়েছে। সুতরাং অসৎ উত্তরসূরী যারা নবীগণের পর জন্ম নিবে এটি তাদের বিধান তাদের উম্মাতের মাঝে, (তাদেরকে) ন্যায়ের আদেশ দেওয়া হবে, অন্যায় থেকে নিষেধ করা হবে, আল্লাহর বিধান শিক্ষা দেওয়া হবে এবং এ ব্যাপারে তাদের সাথে জিহাদ করা হবে, হাত, মুখ ও অন্তর এর মাধ্যমে।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের মাঝেও অনুরূপ আলিম, শাসক নির্ধারিত গোষ্ঠী ও ফকিহদের ওপর ওয়াজিব যে, তারা জনগণের কাছে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দান, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ, মুর্খদেরকে শিক্ষা দান পথভ্রষ্টদেরকে দিকনির্দেশনা, হদ ও শর‘ঈ শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে মানুষ ঠিক হয়ে যায় ও হককে গ্রহণ করে এবং তাদের ওপর শর‘ঈ হদ (শাস্তি) প্রতিষ্ঠা করবে আর আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাতে পতিত হওয়া হতে বাধা দিবে, যাতে তাদের কিছু সংখ্যক লোক অপর কিছু সংখ্যক লোকের ওপর যুলম না করে, আরো যাতে আল্লাহর সম্মান নষ্ট না করে।

আল-খালীফাতুর রাশেদ উসমান ইবন আফফান থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেছেন:

«إن الله ليزع بالسلطان مالا يزع بالقرآن»

“নিশ্চয় আল্লাহ শাসক দ্বারা এমন কিছু বাধা প্রদান করেন তা কুরআন দ্বারা হয় না।” আর তা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আর এটা সত্য যে, অনেক মানুষ আছে, আপনি যদি তার নিকট (কুরআনের) সবটি আয়াতসহ উপস্থিত হন তাও সে তা পালন করবে না, কিন্তু যখন তার কাছে শাসকের পক্ষ থেকে মারপিট, বন্দি ও অনুরূপ শাস্তি নিয়ে বাধা উপস্থিত হয় তখন সে তার অনুগত হয় এবং বাতিলকে ছেড়ে দেয়। (এটা) কেন? কারণ, তার অন্তর অসুস্থ্য। আরো কারণ হলো যে, সে দুর্বল ঈমানের অধিকারী বা তার মাঝে ঈমানই নাই। এ জন্যই সে আয়াত ও হাদীসসমূহের দ্বারা প্রভাবিত হয় না। কিন্তু যখন তাকে শাসকের ভয় দেখানো হয় তখন সে কেঁপে উঠে ও নিজ সীমায় দাঁড়িয়ে যায়। তাই শাসকের বাধা প্রদানকারীর এক বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ এ জন্যেই তাঁর বান্দাদের জন্য কিসাস, হুদূদ ও শাস্তির বিধান প্রবর্তন করেছেন; কারণ এটি তাদেরকে বাতিল ও সকল প্রকার যুলুম থেকে বিরত রাখবে। কারণ, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা হক প্রতিষ্ঠা করবেন। তাই শাসকদের ওপর ওয়াজিব এটিকে প্রতিষ্ঠা করা, (তাদের ওপর আরো ওয়াজিব হলো) যারা এটিকে প্রতিষ্ঠা করবে তাদেরকে সাহায্য করা, লোকদের প্রতি লক্ষ্য রাখা, তাদের ওপর হক্বের প্রতি আমল করাকে বাধ্য করে দেওয়া, তাদেরকে তাদের সীমানায় রুখে রাখা; যাতে তারা ধ্বংস না হয়ে যায়, বাতিলের স্রোতের সাথে যেন তারা ভেসে না যায় এবং তারা যেন আমাদের বিরুদ্ধে শয়তান ও তার সৈন্যদের সাহায্যকারী না হয়ে যায়।

তৃতীয় স্তর:

মুমিন ব্যক্তি যখন (অন্যায়কে) হাত ও মুখ দিয়ে বাধা দিতে অপারগ হবে তখন সে অন্তর দিয়ে বাধা দেওয়ার দিকে অগ্রসর হবে। অন্যায়কে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে ও তার সাথে বিদ্বেষ রাখবে, আর অন্যায়কারীদের সঙ্গী-সাথী হবে না। আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কিছু লোক তাঁকে বলেছিল:

«هَلَكْتُ إِنْ لَمْ آمُرْ بِالْمَعْرُوفِ , وَلَمْ أَنْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ , فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «هَلَكْتَ إِنْ لَمْ يَعْرِفْ قَلْبُكَ الْمَعْرُوفَ , وَيُنْكِرِ الْمُنْكَرَ».

“আমি যদি ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ না করি তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাবো, তখন আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বলেছিলেন যে, তোমার অন্তর যদি ন্যায় জানতে না পারে অন্যায়কে অস্বীকার না করে তবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।”[2]

>
[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০।

[2] ইবন ওয়াদ্দাহ, হাদীস নং ২৭১।
(আল্লাহর কাছে) দো‘আ গ্রহণ না হওয়া ও (তাঁর কাছ থেকে) সাহায্য আসা বন্ধ হয়ে যাওয়া

আমাদের বিষয় ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের বিষয়ের সাথে সম্পর্ক রাখে ঐ বিষয়টিও যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

«يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَدْعُونِي فَلَا أُجِيبُكُمْ، وَتَسْأَلُونِي فَلَا أُعْطِيكُمْ، وَتَسْتَنْصِرُونِي، فَلَا أَنْصُرُكُمْ ».

“মহান আল্লাহ বলেন: হে মানবকুল, তোমরা আহ্বান করবে আর আমি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিবো না, তোমরা আমার কাছে চাইবে আমি তোমাদেরকে দিবো না, তোমরা আমার কাছে সাহায্য চাবে আর আমি তোমাদেরকে সাহায্য করবো না, তার আগেই তোমরা ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ কর।”[1]

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْ عِنْدِهِ، ثُمَّ لَتَدْعُنَّهُ فَلَا يَسْتَجِيبُ لَكُمْ».

“শপথ তার যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করবে, নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর ‘আযাব প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা তাকে ডাকবে, কিন্তু তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন না।”[2]

সুতরাং ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ করা মহা গুরুত্বপূর্ণ কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেমন পূর্বে তার আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। মুসনাদে ইমাম আহমাদ, আবু দাঊদ ও তিরমিযীতে আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ এর হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

«لَمَّا وَقَعَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِي المَعَاصِي فَنَهَتْهُمْ عُلَمَاؤُهُمْ فَلَمْ يَنْتَهُوا، فَجَالَسُوهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ وَوَاكَلُوهُمْ وَشَارَبُوهُمْ، فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ وَلَعَنَهُمْ ﴿عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُۥدَ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ﴾ [المائ‍دة: ٧٨]».

“যখন বানী ইসরাঈল নাফরমানীতে বা আল্লাহ বিরোধী কাজে লিপ্ত হলো তখন তাদের আলিমগণ তাদেরকে বাধা দিলো, কিন্তু তারা তাদের বাধা মানলো না, তারপরও তারা তাদের সাথে চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া ও পানাহার করতে থাকলো, আল্লাহ যখন তাদের মধ্যে এটি দেখলেন তখন তাদের পরস্পরের অন্তরে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিলেন, তারপর তাদের নবীগণ দাঊদ ও ঈসা ইবন মারইয়াম আলাইহিমাস সালামের ভাষায় তাদেরকে লা‘নত করলেন। কারণ, তারা নাফরমানী করেছিল ও সীমালঙ্গন করেছিল। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৬১][3]

এবং অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে:

«إِنَّ أَوَّلَ مَا دَخَلَ النَّقْصُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، كَانَ الرَّجُلُ يَلْقَى الرَّجُلَ، فَيَقُولُ: يَا هَذَا، اتَّقِ اللَّهَ وَدَعْ مَا تَصْنَعُ، فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ لَكَ، ثُمَّ يَلْقَاهُ مِنَ الْغَدِ، فَلَا يَمْنَعُهُ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَقَعِيدَهُ، فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ ضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ ثم لعنهم».

“নিশ্চয় প্রথম যখন বনী ইসরাঈলের মাঝে ত্রুটি প্রবেশ করেছিল তখন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করলে বলতো: হে অমুক! আল্লাহকে ভয় কর, আর যে অন্যায় করছো তা ছেড়ে দাও, তারপর সে যখন তার সাথে আবার সাক্ষাত করতো তখন তার মাঝে যে অন্যায় দেখেছিল তা তাকে তার খাওয়ার, পান করার ও বসার সাথী হওয়া হতে বাধা প্রদান করতো না। আল্লাহ যখন তাদের মধ্যে এটি দেখলেন তখন তাদের পরস্পরের অন্তরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দিলেন এবং তাদেরকে লা‘নত করলেন।”[4]

তাই আমাদের সতর্ক থাকা দরকার, যাতে যে বিপদ তাদের পৌঁছেছিল তা যেন আমাদের কাছে না পৌঁছে।

তাছাড়া কিছু হাদীসে এসেছে, নিশ্চয়ই এ ওয়াজিবটি পরিত্যাগ করা এবং এর (অর্থাৎ ন্যায় আদেশ ও অন্যায় নিষেধের ওয়াজিবটির) গুরুত্ব না দেওয়া দো‘আ গ্রহণ না হওয়া ও সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ; যেমন পূর্বে সেটার বর্ণনা অতিবাহিত হয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে এটি মহাবিপদ। এ ওয়াজিবটি ছেড়ে দেওয়ার শাস্তিসমূহ হলো: মুসলিমদের অপমাণ হওয়া, তাদের দলে দলে বিভক্ত হওয়া, তাদের ওপর তাদের শত্রুদের বিজয়ী হওয়া ও তাদের দো‘আ গ্রহণ না হওয়া। আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো শক্তি নেই আর তাঁর ওপর ভরসা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

>
[1] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫২৫৫।

[2] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৩৩০১।

[3] তিরমিযী, হাদীস নং ৩০৪৭।

[4] সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩৬।
ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের বিধান

কখনো কখনো এ ওয়াজিব কাজটি কিছু লোকের ওপর ফরযে ‘আইন হয়ে দাঁড়ায়, যখন সে অন্যায় দেখতে পাবে আর তার কাছে সে ছাড়া তা প্রতিহত করার কেউ থাকবে না, তখন তার ওপর তা প্রতিহত করা ওয়াজিব হবে সামর্থ্য অনুপাতে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে:

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ».

“তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় দেখবে সে যেন তা তার হাত দিয়ে বাধা দেয় আর যদি হাত দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়, আর যদি মুখ দিয়ে বাধা না দিতে পারে তবে যেন অন্তর দিয়ে বাধা দেয়, আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের পরিচয়।”[1]

আর যদি তারা কোনো শহরে, গ্রামে বা গোত্রে একদল হয় তবে তাদের ওপর (এটি) ফরযে কিফায়াহ হবে। তাদের মধ্যে যে এটি প্রতিহত করবে, আর যার দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জন হবে সে প্রতিদান অর্জন করে সফল হবে। আর তারা সবাই যদি এটিকে বর্জন করে তবে সবাই পাপী হবে, সকল ফরযে কিফায়ার ন্যায়।

আর যদি কোনো গ্রামে বা গোত্রে কেবল একজন আলেম থাকে, তবে তার ওপর মানুষকে শিক্ষা দেওয়া ও তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা ফরযে ‘আইন হয়ে যাবে। আর তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে, পূর্বে বর্ণিত হাদীসগুলোর কারণে ও নিম্নে বর্ণিত আল্লাহর তা‘আলার বাণীর কারণে:

﴿فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ﴾ [التغابن: ١٦]

“সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর তোমাদের শক্তি অনুপাতে।” [সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৬]

>
[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৯।
ধৈর্য ধারণ করা এবং প্রতিদানের আশা রাখা

আলেম, দা‘ঈ ও ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধকারীদের যাকে আল্লাহ ধৈর্যের, সাওয়াবের আশার ও আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতার তাওফীক দিয়েছেন, সে সফল হয়েছে, তাওফীক প্রাপ্ত হয়েছে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ তার দ্বারা উপকার প্রদান করেছেন, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ﴾ [الطلاق: ٢، ٣]

“এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ তার জন্য (বিপদ ও পরীক্ষা থেকে) বের হওয়ার রাস্তা সৃষ্টি করে দিবেন এবং তাকে রুযী প্রদান করবেন তার ধারণাতীত উৎস থেকে।” [সূরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ২-৩]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন:

﴿وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مِنۡ أَمۡرِهِۦ يُسۡرٗا ٤﴾ [الطلاق: ٤]

“আর যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ তার জন্য তার সকল কর্মকে সহজ করে দিবেন।” [সূরা ত্বালাক, আয়াত: ৪]

মহান আল্লাহ আরো বলেছেন:

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَنصُرُواْ ٱللَّهَ يَنصُرۡكُمۡ وَيُثَبِّتۡ أَقۡدَامَكُمۡ ٧﴾ [محمد: ٧]

“হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পাসমূহ (অবস্থান) সুদৃঢ় করবেন।” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৭]

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন:

﴿بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ وَٱلۡعَصۡرِ ١ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَفِي خُسۡرٍ ٢ إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ ٣﴾ [العصر: ١، 4]

“পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহুর নামে আরম্ভ করছি”। সময়ের শপথ, নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে তারা নয়। [সূরা আল-আসর, আয়াত: ১-৩]

অতঃপর দুনিয়া ও আখিরাত সফল লাভবান হলো মুমিনগণ, সৎকর্ম সম্পাদনকারীগণ, পরস্পর সত্যের উপদেশ দানকারী ও পরস্পর ধৈর্যের উপদেশ দানকারীগণ।

আর এটা জানা বিষয় যে, নিশ্চয় ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ, পরস্পর সত্যের প্রতি আহ্বান করা ও পরস্পর ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত, তারপরও আল্লাহ সুবহানাহু এর কথা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন এ বিষয়টি আরো পরিষ্কার ও এর দিকে (মানুষকে) উৎসাহ প্রদান করার জন্যে। উদ্দেশ্য হলো: নিশ্চয় যে ব্যক্তি ন্যায়ের আদেশ করবে, অন্যায়ের নিষেধ করবে সে ব্যক্তি এ মহা গুণগুলোর অধিকারী, পূর্ণলাভ ও চিরসুখ অর্জন করে উত্তীর্ণ হবে যখন তার এর ওপর মৃত্যু হবে। নিম্নে বর্ণিত আল্লাহর বাণী এ মহাগুণে গুণান্বিত হওয়ার আবশ্যিকতাকে আরো শক্তিশালী করে।

﴿وَتَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡبِرِّ وَٱلتَّقۡوَىٰۖ وَلَا تَعَاوَنُواْ عَلَى ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢ ﴾ [المائ‍دة: ٢]

“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতির কাজে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” [সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২]

অতঃপর হে দীনি ভাই! অবশ্যই আপনাকে দীনের ব্যাপারে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের দ্বারা ন্যায় জানতে হবে এবং অবশ্যই আপনাকে এর দ্বারা অন্যায়কে জানতে হবে। তারপর আপনাকে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের ওয়াজিব কাজটি করতে হবে। কারণ দীনের ব্যাপারে শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন করা এটি সৌভাগ্যের প্রতীক ও এ নিদর্শন যে আল্লাহ বান্দার কল্যাণ চান।

যেমন মু‘আওয়িয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

«مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ».

“আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দীনের ফিকহ বা গভীর জ্ঞান শিক্ষা দেন।”[1]

অতএব আপনি যখন কোনো ব্যক্তিকে ইলম অনুসন্ধানের বৈঠক অনুসরণ করতে দেখবেন এবং ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখবেন এবং তা শিখতে ও অর্জন করতে দেখবেন তখন মনে করে নিবেন যে আল্লাহ তার কল্যাণ চেয়েছেন এটি তারই নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সে যেন এটিকে অপরিহার্য মনে করে এবং এর জন্য চেষ্টা করে, কোনো ধরনের ক্লান্তি ও দুর্বলতা প্রকাশ না করে। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ».

“যে ব্যক্তি ইলম/জ্ঞান অর্জনের রাস্তায় চলবে, আল্লাহ তা‘আলা সে ব্যক্তির জন্যে জান্নাতের যাওয়ার রাস্তাকে সহজ করে দিবেন।”[2]অতএব, ইলম অনুসন্ধান করার মহা মর্যাদা রয়েছে। এটি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের শামিল, মুক্তির কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং কল্যাণের প্রতীকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৩৭।

[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯৯।
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ১১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »