নবী (সা.) এর ছলাত সম্পাদনের পদ্ধতি সালাত বিষয়ে বিস্তারিত মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দিন আলবানী (রহ.)
وجوب قراءة الفاتحة فى كل ركعة প্রত্যেক রাক’আতে সূরা ফাতিহা পাঠ ফরয

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছালাতে ক্ৰটিকারীকে প্রথম রাকাআতে সূরাহ ফাতিহাহ পাঠের নির্দেশ দেয়ার পর প্রত্যেক রাকাআতে তা পাঠ করার আদেশ দেন।[1] তিনি (তাকে প্রথম রাকাআতে এটা পাঠ করার আদেশ দিয়ে) বলেনঃ

ثم افعل ذلك في صلاتك كلها وفي رواية : في كل ركعة

অতঃপর তোমার পুরো ছালাতে এ রকম করবে।[2] অপর এক বর্ণনায় আছে- প্ৰত্যেক রাকাআতে এ রকম করবে।[3] তিনি মাঝে মধ্যে মুক্তাদীদেরকে আয়াত বিশেষ শুনাতেন।[4] ছাহাবাগণ কখনো রাসূলের কণ্ঠে “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা” (৮৭ : ১৯) ও ‘হাল আতা-কা হাদীছুল গাশিয়াহ' (৮৮ : ২৬) পাঠ এর গুন-গুনানি শব্দ শুনতে পেতেন।[5]

কখনো তিনি ‘ওয়াস্‌সামা-ই যাতিল বুরুজ” (৮৫ : ২২) বা ‘ওয়াস সামা-ই ওয়াতত্বারিক' (৮৬ : ১৭) কিংবা এ ধরনের অন্য সূরা পাঠ করতেন।[6] কখনো ‘ওয়াল্‌লাইলি ইযা ইয়াগশা’ (৯২ : ২১) বা অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন।[7]

৩। আছরের ছালাত (صلاة العصر)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম দুই রাকাআতে ‘সূরা ফাতিহা’ এবং অপর দু’টি সূরা পাঠ করতেন এবং প্রথম রাকাআতকে দ্বিতীয় রাকাআত অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করতেন।[8] ছাহাবাগণ ধারণা করতেন যে, তার এরূপ করার পিছনে উদ্দেশ্য এটাই ছিল যে, লোকজন যেন রাকাআতটি পেয়ে যায়।[9] তিনি উভয় রাকাআতে আনুমানিক পনের আয়াত তথা যহরে প্রথম দুরাকাআতের অর্ধেকের মত পাঠ করতেন। শেষ দুরাকাআতকে প্রথম দুরাকাআতের অর্ধেকের মত সংক্ষিপ্ত করতেন।[10]

আবার তিনি এই উভয় রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।[11] তিনি মাঝে মধ্যে ছাহাবাদেরকে আয়াত বিশেষ শুনাতেন।[12] যহরের ছালাতে উল্লেখিত সূরাগুলো তিনি এই ছালাতেও পাঠ করতেন।


৪। মাগরিবের ছালাত (صلاة المغرب)

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এ ছালাতে কখনো কখনো মুফাছছাল অংশের সংক্ষিপ্ত সূরাগুলো “কিসারে মুফাসসাল” পাঠ করতেন।[13] তাঁর সাথে ছালাত শেষ করে ফিরার পথে যে কোন লোক স্বীয় তীর নিক্ষেপের স্থান দেখতে পেত।[14]

তিনি কোন এক সফরে মাগরিবের দ্বিতীয় রাক’আতে ‘ওয়াততীনি ওয়াযযাইতুন’ (৯৫ : ৮) পাঠ করেন।[15] কখনো তিনি দীর্ঘ বিস্তীর্ণ (طوال المفصل) এবং নাতি দীর্ঘ (أوسط) সূরা পাঠ করতেন। কখনো তিনি (الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ) সূরা মুহাম্মাদ (৪৭ : ৩৮) পাঠ করতেন।[16] আবার কখনো ‘আত-তূর (৫২ : ৪৯)[17] এবং কখনো “আল মুরসালাত” (৭৭ : ৫০) পড়তেন। এই (শেষোক্ত) সূরাটি তাঁর জীবনের সর্বশেষ ছালাতে পাঠ করেন।[18] তিনি কখনো উভয় রাকাআতে সর্বাপেক্ষা দু’টি দীর্ঘ সূরার মধ্যে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সূরা[19] “আল-আরাফ' (৭ : ২০৬) উভয় রাকাআতে পাঠ করতেন।[20] আর কখনো কখনো উভয় রাকাআতে “আল-আনফাল” (৮ : ৭৫) পাঠ করতেন।[21]

[1] শক্তিশালী সনদে আবু দাউদ ও আহমাদ।

[2] বুখারী ও মুসলিম।

[3] উত্তম সনদে আহমাদ।

[4] বুখারী ও মুসলিম।

[5] ইবনু খুযাইমা স্বীয় “ছহীহ” গ্রন্থে (১/৬৭/২) এবং যিয়া আলমাকদিসী “আল-মুখতারাহ” গ্রন্থে ছহীহ সনদে।

[6] বুখারী জুযউল কিরা’আত গ্রন্থে ও তিরমিযী এবং তিনি একে ছহীহ বলেছেন।

[7] মুসলিম ও ত্বায়ালিসী।

[8] বুখারী ও মুসলিম।

[9] ছহীহ সনদে আবু দাউদ ও ইবনু খুযাইমাহ।

[10] আহমাদ ও মুসলিম।

[11] বুখারী ও মুসলিম।

[12] বুখারী ও মুসলিম।

[13] বুখারী ও মুসলিম।

[14] ছহীহ সনদে নাসাঈ ও আহমাদ।

[15] ছহীহ সনদে ত্বায়ালিসী ও আহমাদ।

[16] ইবনু খুযাইমা (১/১৬৬/২) ও ত্বাবারানী এবং মাকদিসী ছহীহ সনদে।

[17] বুখারী ও মুসলিম।

[18] বুখারী ও মুসলিম।

[19] এখানে طولى শব্দটি أطول এর স্ত্রী লিঙ্গ, আর الطولين শব্দটি হচ্ছে طولى শব্দের দ্বিবচন। দীর্ঘ দু'টি সূরা হচ্ছে “আল-আরাফ” ঐকমত্যে ও “আল-আনয়াম” সমধিক প্রাধান্য যোগ্য মতে। (ফতহুল বারী)

[20] বুখারী, আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমা (১/৬৮/১) আহমাদ, সাররাজ ও মুখাল্লিছ।

[21] ত্বাবারানী ছহীহ সনদে “আল কাবীর” গ্রন্থে।