ইমেইল পাঠাতে লগইন করুন

স্পাম প্রতিরোধে এই ফিচারটি শুধুমাত্র লগইনকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য।

লগইন সাইনআপ
আল-ফিকহুল আকবর ইসমাতুল আম্বিয়া, সাহাবায়ে কেরাম, তাকফীর, সুন্নাত ও ইমামাত ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)
৫. ১. ঈমানের দাবিদারকে কাফির বলা

‘কুফর’ (الكُفْرُ) অর্থ আবৃত করা, অবিশ্বাস, অস্বীকার বা অকৃতজ্ঞতা (to disbelieve, to be ungrateful, to cover)। ইসলামী পরিভাষায় বিশ্বাসের অবিদ্যমানতাই কুফর বা অবিশ্বাস। আল্লাহ, তাঁর রাসূল বা ঈমানের রুকনগুলিতে বিশ্বাস না থাকা-ই ইসলামের পরিভাষায় ‘কুফর’ বলে গণ্য। অস্বীকার, সন্দেহ, দ্বিধা, হিংসা, অহঙ্কার, ইত্যাদি যে কোনো কারণে যদি কারো মধ্যে ‘ঈমান’ বা দৃঢ় প্রত্যয়ের বিশ্বাস অনুপস্থিত থাকে তবে তা ইসলামী পরিভাষায় ‘কুফর’ বলে গণ্য। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে তাঁর সমতুল্য বা সমকক্ষ বা তাঁর সাথে তুলনীয় বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ব ও অতুলনীয়ত্ব অস্বীকার করাও কুফর। এজন্য কুফর বলতে শিরক, সন্দেহ ও সকল প্রকার অবিশ্বাস বুঝানো হয়।

তাক্ফীর (التكفير) এবং ইক্ফার (الإكفار) অর্থ ‘‘কাফির বানানো’’। অর্থাৎ কাউকে কাফির বলা বা অবিশ্বাসী বলে অভিযুক্ত করা (to accuse of unbelief, charge with infidelity)। যে ব্যক্তি নিজেকে মুমিন বা বিশ্বাসী বলে দাবি করছেন তাকে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে আখ্যা দেওয়াকে সাধারণভাবে ‘‘তাকফীর’’ বলা হয়।

মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রকাশিত প্রথম বিভ্রান্তিগুলোর অন্যতম ছিল ‘‘তাকফীর’’ বা মুসলিমকে কাফির বলা। দ্বিতীয় হিজরী শতকে বিদ্যমান বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে মিল ছিল, তা হলো, নিজেদের ছাড়া অন্যান্য মুসলিমকে কাফির বলে গণ্য করা। এদের মধ্যে ‘‘খারিজী’’ ফিরকার আকীদার মূল ভিত্তিই ছিল ‘‘তাকফীর’’। অন্যান্য ফিরকাও পাপের কারণে বা মতভেদীয় বিষয়ে ভিন্নমতের কারণে মুসলিমদেরকে ঢালাওভাবে কাফির বলতে থাকে। ইমাম আবূ হানীফা (রাহ)-এর যুগে তাকফীর ছিল উম্মাতের অন্যতম ফিতনা ও বিভ্রান্তি। এ জন্য তিনি এ গ্রন্থে ও অন্যান্য পুস্তিকায় এ বিষয়টি আলোচনা ও ব্যাখ্যা করেছেন।