যে কেউ কোনো জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে ভূমিকা ইসলামহাউজ.কম
গ্রন্থাকারের ভূমিকা

بسم الله الرحمن الرحيم

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি, আর আমাদের নফসের জন্য ক্ষতিকর এমন সকল খারাপি এবং আমাদের সকল প্রকার মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই আর যাকে তিনি পথহারা করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, যিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন:

﴿وَلَن تَرۡضَىٰ عَنكَ ٱلۡيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمۡۗ ﴾ [البقرة: ١٢٠]

“আর ইয়াহূদী ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাতের অনুসরণ করেন”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২০]

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি বলেছেন:

«لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع حتى لو دخلوا جُحرَ ضب لتبعتموهم , قلنا : يا رسول الله اليهود والنصارى؟ قال : فمن؟».

“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি পুরোপুরি অনুসরণ করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি গজে গজে। এমনকি তারা যদি ষাণ্ডার গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইয়াহূদী ও নাসারাদের কথা বলেছেন? জবাবে তিনি বললেন: তবে আর কার কথা বলছি”?[1]

যিনি আরও বলেছেন:

«من تشبه بقوم فهو منهم».

“যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে”।[2]

অতঃপর.......

হে সম্মানিত ভাইসব! কাফিরদের অনুকরণ, অনুসরণ ও তাদের সামঞ্জস্য বিধান করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে মারাত্মক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়, যা ইসলাম সীমাহীন গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি তার আমানত যথাযথভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণভাবে আদায় করেছেন এবং উম্মতের কল্যাণ কামনা করেছেন, তিনি উম্মতকে বহু হাদীসে এবং বিভিন্ন সময় ও সুযোগে কাফিরদের অনুকরণ করার ব্যাপারে কখনও সার্বিকভাবে আবার কখনও কখনও সবিস্তারে সতর্ক করে দিয়েছেন। অথচ এ উম্মতের মধ্য থেকে কতিপয় দল ও গোষ্ঠী এ অনুসরণ-অনুকরণ করার কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে, যদিও তাদের তাতে জড়িত হওয়ার পর্যায় ভিন্ন ভিন্ন স্তরের। আবার সময়ে সময়ে এ কাজের ভয়াবহতাও ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের, তবে সম্ভবত আমার পক্ষ থেকে বাড়িয়ে বলা হবে না যদি এটা বলি যে, এ যুগের মুসলিমগণ যে হারে কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণ করছে, তা অতীতের যে কোনো সময়ে (উম্মত কর্তৃক কাফিরদের) অনুসরণ-অনুকরণ করার চেয়ে অত্যধিক ভয়ঙ্কর পর্যায়ের।

এ বিষয়টির ভয়াবহতা সত্ত্বেও আমি দেখছি গুণীজন ও জ্ঞানী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে খুব কমই গুরুত্ব দিতে। তাই আমি মনে করি যে, মুসলিমগণের জন্য এখন তার বর্ণনা করাটা অতীব জরুরি, যা জ্ঞান অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিবর্গের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

এটাই বলতে চেয়েছি, অচিরেই আমি কাফিরদের অনুকরণ করার বিষয়টির কয়েকটি দিক আলোচনায় আনব। কারণ, বিষয়টি বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত ও প্রলম্বিত; কিন্তু আমাদের জন্য জরুরি হচ্ছে এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু অতীব প্রয়োজনীয় মূলনীতি ও জরুরি নিয়ম-কানূন অনুধাবন করা, যার জ্ঞান রাখা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কর্তব্য, যাতে সে আকীদা-বিশ্বাস অথবা ইবাদত অথবা আচার-আচরণ অথবা রীতি-নীতির ক্ষেত্রে কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণে লিপ্ত হওয়া থেকে সাবধান হতে পারে। সম্ভবত আমি সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সামান্য কিছু বিষয়ের মধ্যেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব।[3]

[1] হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন; ‘ফতহুল বারী’: ১৩/৩০০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৬৬৯।

[2] ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ: ২/৫০; আবু দাউদ রহ. বর্ণনা করেছে উৎকৃষ্ট সনদে, হাদীস নং-৪০৩১; আর আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, ‘সহীহ আল-জামে‘ আস-সাগীর’, হাদীস নং-৬০২৫।

[3] মূলত এ বিষয়টি ছিল একটি বক্তব্য, যা আমি রিয়াদস্থ ‘মাসজিদে না‘য়ীম’ এর মধ্যে পেশ করেছি; পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক শুভাকাঙ্খী তা বই আকারে প্রকাশ করার জন্য আমাকে পীড়াপীড়ি করল; ফলশ্রুতিতে কিছু টীকা সম্পাদন ও ঈষৎ পরিবর্তন করার পর আমি (তা প্রকাশ করতে) সম্মত হয়েছি।