২৮। উল্লিখিত সব কিছুর ওপরই আমরা ঈমান এনেছি এবং দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করছি যে, এ (ভালো-মন্দ) সব কিছুই আল্লাহর তরফ থেকে আগত।
২৯। নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নির্বাচিত বান্দা, মনোনীত নবী এবং সন্তোষপ্রাপ্ত রাসূল।
৩০। তিনি নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ নবী, মুত্তাক্বীদের ইমাম, রাসূলগণের নেতা এবং সৃষ্টিকুলের রবের হাবীব (বন্ধু)।
৩১। আর তাঁর পরবর্তী যুগে নবুওয়াতের যে সব দাবী উত্থাপিত হয়েছে, তার সবগুলোই ভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ।
৩২। তিনি সত্য, হিদায়াত, নূর ও জ্যোতিসহকারে সকল জিন ও সমস্ত মাখলুকের প্রতি প্রেরিত।
৩৩। নিশ্চয় কুরআন আল্লাহর কালাম, যা আল্লাহর নিকট থেকে কথা হিসেবে শুরু হয়ে এসেছে, তবে এর কোনো ধরণ নির্ধারণ করা যাবে না[1]। এই কালামকে তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অহী হিসাবে নাযিল করেছেন আর ঈমানদারগণ তাঁকে এ ব্যাপারে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন। তারা দৃঢ় বিশ্বাস করেছেন যে, এটি সত্যিই আল্লাহর কথা বা কালাম, কোনো সৃষ্টির কথার মত সৃষ্টবস্তু নয়। অতএব, যে ব্যক্তি কুরআন শুনে তাকে মানুষের কালাম (কথা) বলে ধারণা করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। (যে কুরআনকে মানুষের কথা বলবে) আল্লাহ তা‘আলা তার নিন্দা করেছেন, তাকে দোষারোপ করেছেন এবং তাকে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করেছেন। যেমন, তিনি বলেছেন,
﴿سَأُصۡلِيهِ سَقَرَ ٢٦﴾ [المدثر: ٢٦]
‘‘শীঘ্রই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।’’ (সূরা মুদ্দাস্সির, আয়াত: ২৬) আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের এ ভীতি তো তাকে প্রদর্শন করিয়েছেন যে বলে,
﴿إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا قَوۡلُ ٱلۡبَشَرِ ٢٥﴾ [المدثر: ٢٥]
‘‘এটাতো মানুষের কথা বৈ আর কিছুই নয়’’। [সূরা মুদ্দাস্সির, আয়াত: ২৫] অতএব, আমরা জেনে নিলাম ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলাম যে, এ কুরআন মানুষের সৃষ্টিকর্তারই কালাম আর তা কোনো মানুষের কথার সাথে সাদৃশ্য রাখে না।
৩৪। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানবীয় কোনো গুণ আরোপ করবে, সে কাফির হয়ে যাবে। অতএব, যে ব্যক্তি এতে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে সে শিক্ষা নিতে সক্ষম হবে। আর (আল্লাহ সম্পর্কে) কাফিরদের মত নিরর্থক কথা বলা হতে বিরত থাকবে এবং সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর গুণাবলীতে মানুষের মতো নন।
৩৫। আর জান্নাতীদের জন্য আল্লাহকে দেখার বিষয়টি সত্য। তবে সে দেখা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ব করে নয়, আর তার পদ্ধতিও আমাদের অজানা। যেমনটি কুরআন ঘোষণা করে বলেছে,
﴿وُجُوهٞ يَوۡمَئِذٖ نَّاضِرَةٌ ٢٢ إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٞ ٢٣﴾ [القيامة: ٢٢، ٢٣]
‘‘সেদিন কতকগুলো মুখমণ্ডল আনন্দোজ্জল হবে, সেগুলো তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।’’ [সূরা আল-কিয়ামাহ, আয়াত: ২২] এ দেখার সঠিক ব্যাখ্যা একমাত্র আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেন এবং যেভাবে তিনি জানেন সে ভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।
আর এ সম্পর্কে যা কিছু সহীহ হাদীছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তা যেমনটি তিনি বলেছেন সেভাবে অবিকৃত অবস্থায় গৃহীত হবে আর সেগুলোর যে অর্থ তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন সেটাই ধর্তব্য হবে। এতে আমরা আমাদের মতের ওপর নির্ভর করে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা করব না, অনুরূপ কোনো প্রকার প্রবৃত্তির প্ররোচনায় নিপতিত হয়ে কোনো অযাচিত ধারণার বশবর্তী হবো না। কারণ, কোনো ব্যক্তি কেবল তখনই তার দীনকে (ভ্রষ্টতা ও বক্রতা থেকে) নিরাপদ রাখতে পারে, যখন সে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (নির্দেশনার) কাছে নিঃশর্তভাবে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পন করবে এবং সংশয়ের ব্যাপারসমূহকে যে সেটা জানে সে আল্লাহর দিকেই প্রর্ত্যাবর্তন করাবে।
৩৬। বশ্যতা স্বীকার আর আত্মসমর্পণ ছাড়া কারও পা ইসলামের ওপর দৃঢ় থাকতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন বিষয়ের জ্ঞান অর্জনের পিছনে লেগে থাকবে যা তার জ্ঞানের নাগালের বাইরে এবং যার বুঝ বশ্যতা স্বীকারে সন্তুষ্ট হবে না, তার সে ইচ্ছা তাকে নির্ভেজাল তাওহীদ, স্বচ্ছ মারেফাত ও বিশুদ্ধ ঈমান থেকে বঞ্চিত রাখবে। ফলে সে কুফরী ও ঈমান সত্য ও মিথ্যা, স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতি, সন্দেহ, দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অনিশ্চয়তার বেড়াজালে ঘুরপাক খেতে থাকবে। সে না সত্যবাদী মু’মিন হবে, আর না অস্বীকারকারী মিথ্যাবাদী হবে।
৩৭। যে ব্যক্তি জান্নাতীদের দ্বারা আল্লাহকে দেখতে পাওয়া সম্পর্কে কোনো ধারণার বশবর্তী হবে, (অথবা সেটাকে অনিশ্চিত বিষয় জ্ঞান করবে) অথবা নিজের বুঝ অনুসারে সে দেখার ভুল ব্যাখ্যা দিবে, তার ঈমান বিশুদ্ধ হবে না। কারণ, আল্লাহকে দেখার বিষয়টি, অনুরূপ রবের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় গুণাগুণের বিষয়ে প্রকৃত ব্যাখ্যা হচ্ছে- সে (তার ধরণ) সম্পর্কে কোনোরূপ ব্যাখ্যা দেয়ার অপচেষ্টা না করা এবং সেটাকে অবিকৃতভাবে মেনে নেওয়া (গ্রহণ করা)। এটাই হচ্ছে মুসলিমদের দীন (অনুসৃত নীতি)। যে ব্যক্তি (রবের সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাগুণকে) নফী (অস্বীকৃতি) এবং তাশবীহ (সাদৃশ্য) হতে রক্ষা করতে সক্ষম হবে না, তার নিশ্চিত পদস্খলন ঘটবে এবং সে সঠিকভাবে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণায় ব্যর্থ হবে। কারণ, আমাদের মহান রব একক ও নজীরবিহীন হওয়ার গুণে গুণান্বিত। মাখলুকের মধ্যে কেউ তাঁর গুণে ভূষিত নয়।