মানহাজ (আল-আজবিবাতুল মুফীদাহ) নিত্য নতুন মানহাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উপকারী জবাব শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান
প্রশ্ন-১১৪ : বর্তমানে দাওয়াতী কাজে নিজেকে যুক্তকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে নির্ভরযোগ্য আলেমগণ সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যারা মুসলিম উম্মাহকে এবং উম্মাহর যুবকদেরকে হক মানহাজের দিকনির্দেশনা দিবেন। আপনি তন্মধ্যে কাদের নিকট থেকে উপকৃত হওয়া, কাদের দারস ও ক্যাসেট গ্রহণ করা এবং কাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করা ও বিভিন্ন ফিতনার সময় তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করার নছীহত করবেন?

উত্তর : আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। কল্যাণকর ‘ইলমের পরেই দীন মূলতঃ দাওয়াত ও জিহাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَالْعَصْرِ - إِنَّ الأِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ - إِلاَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিতে আছে। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়’। (সূরা আল আছর)

সুতরাং ঈমান হলো আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, তার সুন্দর সুন্দর নাম সমূহ সম্পর্কে জানা এবং  তার ইবাদত সম্পর্কে জানা। আমালে সলিহ হলো ‘ইলম এর শাখা। কেননা আমল ইলমের ভিত্তিতে হওয়া অত্যাবশ্যক। আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান করা, সৎ কাজের আদেশ প্রদান করা এবং মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা- এগুলোই মুসলিমদের থেকে কাম্য।

তবে প্রত্যেক মুসলিমই এ কাজের যোগ্য নয়। একমাত্র আহলে ‘ইলম এবং পরিপকব মতামতের অধিকারী ব্যক্তিই একমাত্র এ কাজের যোগ্য। এ বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুছীবতের বিষয় হলো বর্তমানে দাওয়াহ একটি প্রশস্ত ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকেই দাওয়াহর ক্ষেত্রে প্রবেশ করে এবং দাওয়াহর দিকে সম্বন্ধ করে থাকে। কখনও কখনও মূর্খ ব্যক্তি দাঈ সেজে তাড়াহুড়ো করে থাকে। ফলে তার দ্বারা কল্যাণ থেকে অকল্যাণই বেশি সাধিত হয়।[1]

তার কাজ থেকে নানাবিধ অনিষ্ট ছড়িয়ে পড়ে। অথচ সে সংশোধন করার চেষ্টাই করে না। বরং কখনও কখনও তো এমন হয় যে কতিপয় কথিত দাঈ দাওয়াতের নামে নিজের মনগড়া মত ও পথের দিকে আহবান করে এবং তারা এটাকেও দাওয়াত মনে করে দাওয়াতের নামে যুবকদের চিন্তা-চেতনা বিগড়ে দেয়। তারা চায় যেন যুবকেরা তাদের সমাজ, শাসকবর্গ এবং আলিম-উলামা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাই তারা প্রকাশ্য দাঈ সেজে গোপনে মুনাফিকের মতো কল্যাণের চেহারা নিয়ে মুসলিম জাতির অকল্যাণ সাধন করে।

এদের উদাহরণ হলো, মাসজিদে যিরারের অধিবাসীরা। তারা আকৃতিগতভাবে মাসজিদ নির্মাণ করেছিল। আর মাসজিদ নির্মাণ করাতো ভালো কাজ। তারা বাহ্যিকভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আবেদন করলো,  তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেন তাদের মাসজিদে গমন করে সালাত আদায় করেন তাহলে লোকজন ঐ মাসজিদে সালাত আদায়ে আগ্রহী হবে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তো তাদের অন্তরের খবর জানেন ‘তারা এর দ্বারা মুসলিমদের এবং ক্বুবাতে তাক্বওয়ার ভিত্তিতে নির্মিত প্রথম মাসজিদের ক্ষতি সাধন করতে চায়। আর তারা চায় মুসলিমদের জামাতের মাঝে ফাটল ধরাতে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাদের ষড়যন্ত্রের বর্ণনা প্রদান করলেন,

وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِداً ضِرَاراً وَكُفْراً وَتَفْرِيقاً بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادَاً لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِنْ قَبْلُ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلاّ الْحُسْنَى وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ - لا تَقُمْ فِيهِ أَبَداً لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

‘আর যারা মসজিদকে বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে। আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল ভাল চেয়েছি। কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচেছন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। তুমি সেখানে কখনো (সালাত কায়িম করতে না) দাঁড়িয়েও না। অবশ্যই যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাক্বওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে তা বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে সালাত কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ্ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন (সূরা আত-তাওবাহ আয়াত নং ১০৭-১০৮)।

এই ঘটনা দ্বারা এটা প্রতীয়মান হলো যে, বাহ্যিকভাবে কোন কাজকে আমালে সলিহ বা সৎ কাজ মনে হলেই যে তা সৎকাজ হবে এমনটি নয়। বরং কখনও কখনও প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীত উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। সুতরাং বর্তমানের দাঈ নামধারীদের মাঝে অনেক পথভ্রষ্টকারী আছে যারা যুবকদেরকে বিপথগামী করতে চায়। সাধারণ জনগণকে হক থেকে দূরে সরাতে চায়, মুসলিমদের জামাতকে বিভক্ত করতে চায় এবং ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি করতে চায়।


আল্লাহ তা‘আলা তাদের থেকে সতর্ক করে বলেন,

لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلاَّ خَبَالاً وَلأوْضَعُوا خِلالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ

‘যদি তারা তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তোমাদের মধ্যে ফাসাদই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মাঝে ছুটোছুটি করত, তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির অনুসন্ধানে। আর তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাদের কথা অধিক শ্রবণকারী। আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত (সূরা আত-তাওবাহ আয়াত নং ৪৭)।

কার সাথে সম্পৃক্ত হলো না কি নাম ধারণ করলো এটা কোন ধর্তব্য বিষয় নয়। বরং লÿণীয় বিষয় তাদের বাস্তব কাজ। কাজ অনুযায়ী পরিণাম হবে। দাঈ বলে পরিচিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে তদন্ত করা উচিত তারা কোথায় পড়াশোনা করেছে? কোথায় থেকে ইলম অর্জন করেছে? কোথায় বেড়ে উঠেছে? এবং তাদের আকীদা কী? আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أَمْ لَمْ يَعْرِفُوا رَسُولَهُمْ فَهُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ

‘নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করছে?’   (সূরা আল মুমিনুন আয়াত নং ৬৯)

আপনার জন্য অত্যাবশ্যক হলো, আপনি তাদের আমল, জনগণের উপর প্রভাব, কল্যাণমূলক কাজ ও তাদের কাজের ভালো গুণাবলি লক্ষ্য করবেন। সুতরাং আপনার করণীয় হলো, তাদের কথা ও বাহ্যিক কাজ দ্বারা ধোঁকাগ্রস্থ হওয়ার পূর্বেই তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে পড়াশোনা করবেন। এটা খুবই জরুরী কাজ, বিশেষত বর্তমানকালে যখন ফিতনার আহবায়কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার দাঈদের পরিচয় বর্ণনায় বলেছেন, তারা আমাদের মতোই বর্ণের, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে বলেন, (কিছু সংখ্যক) দাঈরা রয়েছে জাহান্নামের দরজায়, যারা তাদের আনুগত্য করবে, তারা তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।

তারা তাদেরকে দাঈ বলে নামকরণ করে। আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, আমরা যেন যাচাই-বাছাই ছাড়া সকলকে দাঈর কাতারে জমা না করি। যে ব্যক্তিই দাবি করলো আমি আল্লাহর পথে আহবান করি আর আমরা তাকে আল্লাহর পথের দাঈদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করব- বিষয়টা যেন এমন না হয়। অবশ্যই তাকে ব্যক্তিগত ও জামাতগতভাবে নিরীক্ষণ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা দাওয়াতের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, দাওয়াত হতে হবে তার দিকে ও তার পথে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ

‘বলো, এটা আমার পথ, আমি আল্লাহর পথে আহবান করি’। (সূরা ইউসুফ আয়াত নং ১০৮)

এর দ্বারা এটাও বুঝা যায় যে, কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর পথ ছাড়া অন্য পথে আহবান করে।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জানিয়েছেন যে, কাফিরেরা জাহান্নামের পথে আহবান করে। ইরশাদ হচ্ছে,

وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ

‘তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিনা দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে এবং মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস পুরুষ মুশরিকের চেয়ে উত্তম। যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহবান করে আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন’ (সূরা আল বাক্বারা ২:২২১)। সুতরাং দাঈদের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণ করা অত্যাবশ্যক।

শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব (রহ.), قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ ‘বল, এটা আমার পথ, আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই’ আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এতে ইখলাছ বিদ্যমান। কেননা অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর পথে না ডেকে তার নিজের পথে ডাকে।


[1]. ‘‘আম্মা বা‘দু’’ নামক পুস্তিকার লেখক উক্ত পুস্তকের ৩ নং পৃষ্ঠায় বলেন, ‘‘এই ‘আম্মা বা‘দু’ রিসালাহ দশ বছর যাবত চিন্তা-গবেষণা-অধ্যয়ন-অতীত সম্পর্কে পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের প্রস্ত্ততির পর প্রথম লেকচার। আমি দাওয়াহ, দাঈদের চিন্তা ও বৈশিষ্ট্য বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলাম।’’

আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এবং বিশেষত তাকে সালাফে সালেহীনের মানহাজের দিকে পথপ্রদর্শন করুন। এই ডক্টর দাওয়াহর প্রতি আগ্রহী এবং দাঈদেরকে শিক্ষা-নির্দেশনা প্রদানের প্রতি গুরুত্বারোপকারী। যদি দাঈগণ তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে পরিণাম কতই না খারাপ হবে। কবির ভাষায়,

‘গৃহকর্তাই যদি ঢোলক বাজায় *

তবে পরিবারের বাকি চরিত্র হবে নৃত্য করা।

উক্ত বক্তৃতার প্রথম ভাগে এবং পুস্তিকার ৯ নং পৃষ্ঠায় বলেন, হে তুমি, আমার জানা বিদ্যা অনুযায়ী আমার অন্তরের সবচেয়ে প্রিয় নাম.........।

আমি রিক্ত হস্তে বলছি। জেনে-বুঝে বলছি বিনয় বশত বলছি না: আমার জানা মতে ইতোপূর্বে সুফীরা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহ তা‘আলাকে ياأنت ‘হে তুমি’ বলে সম্বোধন করেনি। এখানে ফাতওয়ায়ে লাজনাহ দায়িমাহর একটি ফাতওয়া উল্লেখ করছি (ফাতওয়া নং ৩৮৬৭, খ. ০২ পৃ. ২০২.):

লাজনাহ দায়িমাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ‘আল্লাহকে ‘ইয়া হুয়া’ বলে সম্বোধন করা যাবে কী? অর্থাৎ অপ্রকাশ্য সর্বনাম হলো হুয়া-আল্লাহ।

উত্তর : না। কেননা উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ এবং নাম পুরুষ দ্বারা কিনায়াহ বা রূপকভাবে বলা এগুলো ভাষাগত অথবা শারঈ কোন দিক থেকেই আল্লাহর নামের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা নিজের সত্তাকে এ নামে নাম করণ করেননি। সুতরাং তাকে এ নামে ডাকা বা যিকির করা জায়েয নয়।

আল্লাহ তা‘আলার নামের ক্ষেত্রে কোন নতুন নামে ডাকা যে নামে তিনি নিজেকে নামকরণ করেননি এবং শরী‘আহতে যে নাম আসেনি তা ইলহাদ বা বিকৃতি ঘটানোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামের মাধ্যমে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরে তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। (সূরা আ‘রাফ আয়াত নং ১৮০)

আল্লাহই প্রকৃত তাওফিক দাতা। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরিবার বর্গ এবং সকল ছাহাবীর উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

এহেন কথা একমাত্র মূর্খ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারে না। আর বিলাদুল হারামাইনের সুন্নাহ বিষয়ক ডক্টরের এমন পদস্খলন ঘটে তাহলে অন্যদেরকে কিইবা বলার থাকে?

আর যদি এটা অসাবধানতা বিষয়ক ত্রুটিই হয় তাহলে ক্যাসেটের পর পুস্তিকাতেও কেন তার পুনরাবৃত্তি ঘটল?? সে তো পুস্তকে উক্ত কবিতা যুক্ত করেছে যা ক্যাসেটে ছিল না। যদি ব্যক্তির মাঝে মূর্খতা ও দুঃসাহসিকতা একত্রিত হয় তাহলে তার দ্বারা কল্যাণের অকল্যাণই বেশি সাধিত হয়। সুতরাং সকল মুসলিমের উপর ওয়াজিব হলো সহীহ ‘আকীদাকে সাহায্য করা তাওহীদ ও তাওহীদের বিরোধী বিষয়াবলি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করা এবং এরকম দাঈদের থেকে সজাগ থাকা।