ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
কুরআন ও হাদীছের আলোকে হজ্জ, উমরাহ ও মদীনা যিয়ারত নবম অধ্যায় শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
বিদায়ী তাওয়াফ সংক্রান্ত ভুল-ভ্রান্তি

ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেন, লোকদেরকে (নাবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে) নির্দেশ দেয়া হয় যে, তাদের শেষ সাক্ষাৎ যেন বায়তুল্লাহর সাথে হয়। (বিদায় তাওয়াফ যেন হাজ্জের শেষ কাজ হয়।) তবে ঋতুবতী মহিলার জন্য ছাড় দেয়া হয়েছে। (তার প্রতি বিদায় তাওয়াফ ওয়াজিব নয়।)[1]

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, লোকেরা হাজ্জের শেষে যে যেখান থেকে ইচ্ছা রওনা হয়ে যেত। তখন নাবী (সা.) বলেন:

لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ

তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন বায়তুল্লাহর শেষ সাক্ষাৎ (বিদায় তাওয়াফ) না করা পর্যন্ত হাজ্জ শেষে বিদায় না হয়।[2]

আর ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) এভাবে বর্ণনা করেন:

لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ الطَّوَافَ بِالْبَيْت

তোমাদের কোন ব্যক্তি (হাজ্জ সম্পাদনকারী ব্যক্তি) যেন সর্বশেষে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করা পর্যন্ত বিদায় না হয়।[3]

আরো উম্মি সালামা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী (সা.)-এর নিকট (হাজ্জ অবস্থায়) আমার অসুস্থতার অভিযোগ করলাম। তখন তিনি (সা.) বললেন, তুমি বাহনে সাওয়ার হয়ে পুরুষদের থেকে পৃথক হয়ে তাওয়াফ সম্পাদন কর। তাই আমি যখন তাওয়াফ করছিলাম তখন নাবী (সা.) বায়তুল্লাহর পার্শ্বে সলাতরত অবস্থায় সূরা আত্তূর পাঠ করছিলেন।[4]

আর উম্মি সালামা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমি বিদায় তাওয়াফ করিনি। তখন নাবী (সা.) বললেন: যখন সলাতের ইকামাত হয়ে যাবে তখন তুমি নিজ উঁটের উপর চেপে পুরুষদের থেকে পৃথক হয়ে তাওয়াফ সম্পাদন করে নিও।[5]

আর আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, নাবী (সা.) যুহর, আসর, মাগরিব ও এশা সলাত আদায় করে মুহাস্সাব নামক স্থানে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেন। অতঃপর বাহনে চেপে বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে এসে বিদায় তাওয়াফ সম্পাদন করেন।[6]

আরো আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, সাফিয়াহ্ (রা.)-এর তাওয়াফ ইফাযা সম্পাদন করার পরে মাসিক ঋতু শুরু হয়ে যায়। তখন নাবী (সা.) বলেন, তাহলে সে কি আমাদেরকে রওনা হতে বাঁধা সৃষ্টি করবে? লোকেরা বললেন, তিনি তো তাওয়াফ ইফাযা করে ফেলেছেন। তখন নাবী (সা.) বললেন, তাহলে সে যেতে পারবে।[7]

আর মুআত্তা হাদীস গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন উমার (রা.) হতে বর্ণিত যে, উমার (সা.) (তাঁর খেলাফাত আমলে) বলেন, কোন ব্যক্তি (বিদায়ী) তাওয়াফ না করা পর্যন্ত যেন হাজ্জ থেকে ফিরে না আসে। কারণ, হাজ্জের শেষ কাজ হচ্ছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা। তাতে ইয়াহয়া বিন সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, উমার (রা.) এক ব্যক্তিকে মাররুযযাহরান নামক স্থান থেকে তার বিদায় তাওয়াফ না করে চলে আসার কারণে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর সে ফিরে গিয়ে বিদায় করে আসে।

>
[1]. সহীহ বুখারী ১৭৫৫, সহীহ মুসলিম ১৩২৮।

[2]. সহীহ মুসলিম ১৩২৭, ইবনে মাজাহ ৩০৭০।

[3]. সহীহ: সুনানে আবূ দাউদ ২০০২।

[4]. সহীহ বুখারী ১৬৩৩, সহীহ মুসলিম ১২৭৬।

[5]. সহীহ লি গাইরিহী: নাসাঈ ২৯২৬।

[6]. সহীহ বুখারী ১৭৬৪।

[7]. সহীহ বুখারী ১৭৭১।