ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
গুনাহ মাফের উপায় গুনাহ মাফের আমলগুলোর স্তরবিন্যাস শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল (রহ.)
[৫] এমন ‘আমল যা ব্যক্তির গুনাহগুলো সাধারণভাবে মাফ করিয়ে দেয় - ৫

৬৫. দান-সদাক্বাহ্ করা :

দান-সদাক্বাহ্ একদিকে যেমন আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার ও তাঁর ক্রোধ প্রশমনের মাধ্যম তেমনি তা দাতার গুনাহ মাফেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দান-খয়রাত করলে পাপ ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

‘‘তোমরা যদি সদাক্বাহ্ প্রকাশ কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপন কর এবং ফকীরদেরকে তা দাও, তাহলে তাও তোমাদের জন্য উত্তম এবং তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দেবেন। আর তোমরা যে ‘আমল কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’’[1]

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :

إِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ

‘‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।’’[2]

কা‘ব ইবন ‘উজরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :

الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ

‘‘সিয়াম হল ঢাল স্বরূপ। আর সদাক্বাহ্ গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে (নিশ্চিহ্ন) করে দেয়।’’[3]


৬৬. ইসলামী মজলিসে ও যিকরে বসা :

আমরা তো দুনিয়ার জীবনে কত শত রকমের সভা-সমাবেশে বসি। কিন্তু সেসব দুনিয়াকেন্দ্রিক সভা-সমাবেশে বসলে গুনাহ মাফ হওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টা গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর আলোচনা হয় এমন ইসলামী সভায় বসলে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহর নাম, গুণ, বাণী স্মরণ করা হয় যে মজলিসে সে মজলিসে যারা বসে এবং আল্লাহর কাছে মাফ চায় তাদের গুনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দেন। এমনকি কেউ যদি ঐ মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটু সময়ের জন্যও বসে তাহলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন :

إِنَّ لِلّٰهِ مَلَائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللهَ تَنَادَوْا هَلُمُّوا إِلٰى حَاجَتِكُمْ قَالَ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ مَا يَقُولُ عِبَادِي قَالُوا يَقُولُونَ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ قَالَ فَيَقُولُ هَلْ رَأَوْنِي قَالَ فَيَقُولُونَ لَا وَاللهِ مَا رَأَوْكَ قَالَ فَيَقُولُ وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي قَالَ يَقُولُونَ لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا وَتَحْمِيدًا وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا قَالَ يَقُولُ فَمَا يَسْأَلُونِي قَالَ يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَا وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً قَالَ فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ قَالَ يَقُولُونَ مِنَ النَّارِ قَالَ يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَا وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً قَالَ فَيَقُولُ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّىْ قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ قَالَ يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فِيهِمْ فُلَانٌ لَيْسَ مِنْهُمْ إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ هُمْ الْجُلَسَاءُ لَا يَشْقٰى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ

আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহর যিক্রে রত লোকেদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তারা কোথাও আল্লাহর যিক্রে রত লোকেদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকেদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত।

তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞেস করেন (অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাদের চাইতে তিনিই বেশি জানেন) আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলবেন : হে আমাদের রব, আপনার ক্বসম! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও বেশি আপনার ‘ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।

বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তারা বলবেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার ক্বসম হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন যদি তারা তা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো বেশি লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত।

আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কিসের থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দিবেন, আল্লাহর ক্বসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তারা এমন বৈঠকের সদস্য যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না।[4]

উল্লেখ্য যে, কোন মজলিসে কিছু লোক একত্রে বসে উচ্চ আওয়াজে সম্মিলিত জিকির করা সুন্নাহ্ দ্বারা সাব্যস্ত নয়।


৬৭. মজলিস শেষে নির্দিষ্ট দু‘আ পাঠ করা :

মজলিসে ও আলোচনার শেষে নির্দিষ্ট দু‘আ পড়লে গুনাহ মাফ হয়। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :

مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُه فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِه ذٰلِكَ سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ إِلَّا غُفِرَ لَه مَا كَانَ فِي مَجْلِسِه ذٰلِكَ

‘‘যে লোক মজলিসে বসলো এবং তাতে অতিরিক্ত কথাবার্তা হয়ে গেলো, সে উক্ত মজলিস হতে উঠে যাওয়ার আগে যদি বলে :

سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

উচ্চারণ : সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই, তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।

তাহলে উক্ত মজলিসে তার যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল তা ক্ষমা করে দেয়া হবে।’’[5]

আবূ বারযাহ্ আল আসলামী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ بِأَخَرَةٍ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ مِنَ الْمَجْلِسِ سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّكَ لَتَقُولُ قَوْلًا مَا كُنْتَ تَقُولُه فِيمَا مَضٰى. قَالَ كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِى الْمَجْلِسِ

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন কোন মজলিস থেকে উঠার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি এ দু‘আ পাঠ করতেন,

سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

‘‘সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।’’

তখন এক ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এমন দু‘আ পাঠ করলেন, যা ইতোপূর্বে আর কখনো পাঠ করেননি। নাবী (সা.) বলেন, এ দু‘আ হলো মজলিসের কথাবার্তার ভুল-ত্রুটির জন্য কাফফারাহ্ স্বরূপ।[6]

নাফি‘ ইবন জুবায়র ইবন মুত্‘ইম (রাঃ) তার পিতা (জুবায়র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :

مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِه سُبْحَانَكَ اَللهم وَ بِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ فَقَالَهَا فِىْ مَجْلِسِ ذِكْرٍ كَانَتْ كَالطَّابِعِ يَطْبَعُ عَلَيْهِ وَ مَنْ قَالَهَا فِىْ مَجْلِسِ لَغْوٍ كَانَتْ كَفَّارَةٌ لَه

‘‘যে ব্যক্তি ‘সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা’ কোন যিকরের মজলিসে পাঠ করবে তাহলে তা সিলমোহর হিসেবে গণ্য হবে আর কোন বেহুদা কথার মজলিসে পাঠ করলে তা মজলিসের কাফফারাহ্ হিসেবে গণ্য হবে। (অর্থাৎ এই দু‘আ মজলিস শেষে পাঠ করলে তা মজলিসে বেহুদা কথার মাধ্যমে অর্জিত গুনাহ মোচনের কারণ হবে।)’’[7]

বিখ্যাত তাবিঈ ‘আত্বা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন :

من جلس مجلس ذكر كفر الله عنه بذلك المجلس عشرة مجالس من مجالس الباطل

‘‘যে ব্যক্তি একটি যিকরের মজলিসে (কুরআন-সুন্নাহর আলোচনার মজলিসে) বসে তখন সেটি তার অন্যান্য দশটি বাতিল মজলিসে বসার গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যায়।’’[8]

[1] সূরা আল বাক্বারাহ্ ০২ : ২৭১।

[2] সূরা আত্ তাগা-বুন ৬৪ : ১৭।

[3]. সুনান আত্ তিরমিযী : ৬১৪, মুসনাদ আহমাদ : ১৫২৮৪, অনেকগুলো সূত্র ও শাহেদ থাকার কারণে সহীহ।

[4]. সহীহুল বুখারী : ৬৪০৮।

[5]. জামি‘ আত্ তিরমিযী : ৩৪৩৩, হাদীসটি হাসান সহীহ।

[6]. সুনান আবূ দাঊদ : ৪৮৬১।

[7]. আল মুসতাদরাক ‘আলাস্ সহীহায়ন : ১৯৭০, আল মু‘জামুল কাবীর : ১৫৮৬, ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীসটি সহীহ।

[8]. যিকরের মজলিস দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত জানতে নিম্নোক্ত আলোচনাটি দেখুন :

ويدل على ذلك ما ورد في كتاب (الحلية) لأبي نعيم الأصبهاني، بسنده إلى أبي هزان قال : سمعت عطاء بن أبي رباح يقول : من جلس مجلس ذكر كفر الله عنه بذلك المجلس عشرة مجالس من مجالس الباطل. قال أبو هزان : قلت لعطاء : ما مجلس الذكر ؟ قال : مجلس الحلال والحرام، وكيف تصلي، وكيف تصوم، وكيف تنكح، وكيف تطلق وتبيع وتشتري

وقال الحافظ ابن حجر : والمراد بالذكر : الإتيان بالألفاظ التي ورد الترغيب في قولها والإكثار منها، مثل : الباقيات الصالحات وهي : سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر، ونحو ذلك. والدعاء بخيري الدنيا والآخرة. ويطلق ذكر الله أيضاً، ويراد به : المواظبة على العمل بما أوجبه، أو ندب إليه : كتلاوة القرآن، وقراءة الحديث، ومدارسة العلم والتنفل بالصلاة

قال العلامة المباركفوري : المراد بالذكر - هنا - : الإتيان بالألفاظ التي ورد الترغيب في قولها، والإكثار منها مثل الباقيات الصالحات، وهي : سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، وما يلتحق بها من الحوقلة، والبسملة، والحسبلة، والاستغفار، ونحو ذلك، والدعاء بخيري الدنيا والآخرة. ويُطلق ذكر الله أيضاً ويُراد به المواظبة على العمل بما أوجبه، أو ندب إليه، كتلاوة القرآن، وقراءة الحديث، ومدارسة العلم، والتنفل بالصلاة.