ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
ইমেইল পাঠাতে লগইন করুন

স্পাম প্রতিরোধে এই ফিচারটি শুধুমাত্র লগইনকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য।

লগইন সাইনআপ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলী ইমাম আবু জা‘ফর আহমাদ আত-ত্বহাবী রহ.
আল্লাহর আরো বিভিন্ন গুণাবলী

৬। তাঁর ক্ষয় নেই, ধ্বংস নেই।

৭। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না।

৮। কল্পনাসমূহ তাঁর (সম্পর্কে জানার জন্য) ধারে কাছে) পৌঁছুতে পারে না এবং বুঝ-জ্ঞান তাঁকে আয়ত্ব করতে পারে না।

৯। আর তিনি সৃষ্ট বস্তুর সদৃশ নন।

১০। তিনি চিরঞ্জীব, মারা যাবেন না, চির জাগ্রত, নিদ্রা যান না।

১১। তিনি (এমন) সৃষ্টিকর্তা (যার সৃষ্টির প্রতি) কোনো প্রয়োজন (সাহায্যের মুখাপেক্ষী হওয়া) ছাড়াই, তিনি কোনো প্রকার ক্লান্তি ছাড়াই (সবার) রিযিকদাতা।

১২। তিনি নির্ভয়ে প্রাণ সংহারকারী এবং বিনা ক্লেশে পুনরুত্থানকারী।

১৩। সৃষ্টির বহু পূর্ব থেকেই তিনি তাঁর অনাদি গুণাবলীসহ বিদ্যমান ছিলেন, আর সৃষ্টির কারণে তাঁর নতুন কোনো গুণের সংযোজন ঘটেনি এবং তিনি তাঁর গুণাবলীসহ যেমন অনাদি ছিলেন, তেমনি তিনি স্বীয় গুণাবলীসহ অনন্ত থাকবেন।

১৪। সৃষ্টির কারণে তাঁর গুণবাচক নাম ‘‘খালেক’’ (সৃষ্টিকর্তা) হয়নি অথবা বিশ্ব জাহান সৃষ্টির কারণে তাঁর গুণবাচক নাম ‘‘বারী’’ (উদ্ভাবক) হয়নি।

১৫। প্রতিপাল্যের অবিদ্যমানতায়ও তিনি ছিলেন ‘রব’ বা প্রতিপালক, আর মাখলুক সৃষ্টির পূর্বেও তিনি ছিলেন ‘খালেক’ বা সৃষ্টিকর্তা।

১৬। মৃতদেরকে জীবন দান করার ফলে যেমন তাঁকে ‘জীবনদানকারী’ বলা হয়ে থাকে তেমনিভাবে তাদেরকে জীবনদান করার পূর্বেও তিনি এই (জীবনদানকারী) নামের অধিকারী ছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি সৃষ্টিকুলের সৃজনের পূর্বেই ‘সৃষ্টিকর্তা’ নামের অধিকারী ছিলেন।

১৭। এটা এই জন্য যে, তিনি সবকিছুর উপর সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর অনুগ্রহ ভিখারী; আর সব কিছুই তাঁর জন্য সহজ। তিনি কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন। ‘‘তাঁর মত কিছুই নেই; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’’ [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]

১৮। তিনি স্বীয় জ্ঞানে সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেছেন।

১৯। এবং তাদের (সৃষ্ট বস্তুর) জন্য সব কিছুরই পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।

২০। এবং তাদের জন্য মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট করেছেন।

২১। সৃষ্ট জীবের সৃষ্টির পূর্বে কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন ছিল না। জীব জগতের সৃষ্টির পূর্বেই তাদের সৃষ্টির পরবর্তীকালের কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন।

২২। এবং তিনি তাদেরকে  তাঁর আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যচরণ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

২৩। আর সবকিছু তাঁর নির্ধারণ ও ইচ্ছা অনুসারে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাঁর ইচ্ছা কার্যকর হয়েই থাকে, তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত বান্দার কোনো ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয় না। অতএব তিনি বান্দাদের জন্য যা চান তাই হয়, আর যা চান না তা হয় না।

২৪। তিনি (আল্লাহ) অনুগ্রহ করে যাকে ইচ্ছা হিদায়েত, আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদান করেন। আর যাকে ইচ্ছা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন, অপমানিত করেন ও বিপদগ্রস্ত করেন।

২৫। আর সকলেই তাঁর (আল্লাহর) ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁরই এ অনুগ্রহ ও এ ন্যায়বিচারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে[1]।

২৬। তিনি কারও প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সমকক্ষ হওয়ার উর্ধ্বে।

২৭। তাঁর ফয়সালার কোনো পরিবর্তন নেই। কেউই তাঁর নির্দেশ বাতিল করার নেই এবং তাঁর নির্দেশকে পরাভূত করারও কেউ নেই।

[1] কারণ, মানুষ এ দু’টি কাজ তথা অনুগ্রহ ও ন্যায়বিচারের মধ্যেই সর্বদা থাকে। মানুষ হয় ঈমানদার, হিদায়াতপ্রাপ্ত যা আল্লাহর অনুগ্রহ, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দয়া ও নি‘আমত অথবা মানুষ পথভ্রষ্ট, কুফুরী বা ফাসেকীর মাধ্যমে বক্রতা অবলম্বনকারী যা মহান আল্লাহর ন্যায় বিচার, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং কেউই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না। [সম্পাদক]